খুঁজুন
                               
, ,
           

ডিএনসিসির পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ডিএনসিসির পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করা হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পার্ক ও খেলার মাঠ উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অভিযানের মাধ্যমে খেলার মাঠ ও পার্কগুলোর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় মোট ১৮৯টি পার্ক, খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি ডিএনসিসির নিজস্ব মালিকানাধীন (২৪টি পার্ক, ৬টি খেলার মাঠ, ৪টি শিশু পার্ক ও ৪টি ঈদগাহ)। এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, বৈদ্যুতিক বাতি লাগানো এবং নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২০টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠসহ মোট ২৮টি স্থাপনার উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫১টি স্থান যা রাজউক ও গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।

সংসদকে জানানো হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব ও অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন মোট ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফুটপাত ও খেলার মাঠ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ডিএসসিসি সর্বদা তৎপর। বর্তমানে মালিটোলা পার্ক, শহীদ মতিউর রহমান পার্ক (গুলিস্তান), ওসমানী উদ্যান, নবাবগঞ্জ পার্ক ও বাসাবো খেলার মাঠসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বর্তমানে মাঠের সংখ্যা কম থাকলেও ৮টি জোনে ৮টি এবং ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ ও বরিশালসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও পার্ক ও মাঠ দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশে খেলাধুলার মান বেড়েছে। শিশুরা যাতে পর্যাপ্ত খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে পারে, সেজন্য প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত মাঠ নিশ্চিত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এসএকে

মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে ৮৯ রানে জিতল বাংলাদেশ এইচপি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে ৮৯ রানে জিতল বাংলাদেশ এইচপি

জয় এসেছে বড় ব্যবধানেই। তবে ৮৯ রানের এই জয়েও ব্যাটিং নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের। মিরপুরে মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে ২০ ওভারে ১৫৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এরপর বোলারদের দাপটে মালয়েশিয়াকে মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮৯ রানের জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই ছিল বেশি। শেষ দিকে মেহরব হাসান ও আবদুল গাফফার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে না তুললে দলের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত।

মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু পায়নি বাংলাদেশ। ওপেনার জিসান আলম সাত বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। আরিফ উল্লাহর অফ স্টাম্পের বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে ৩০ গজের ভেতর ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

অন্য ওপেনার জাওয়াদ আবরার অবশ্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার পাশাপাশি তিনটি চার মেরে ১৮ বলে ২৮ রান করেন তিনি।

এরপর আরিফুল ইসলাম, সাব্বির রহমান ও প্রিতম কুমারও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। আরিফুল ১২ বলে ১৫, সাব্বির ১২ বলে ১৪ এবং প্রিতম ৭ বলে ৪ রান করে ফেরেন।

পঞ্চম উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা সামাল দেন মেহরব হাসান ও আবদুল গাফফার। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৫৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়।

মেহরব ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ২২ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪০ রান করেন তিনি। গাফফার ২৬ বলে করেন ৩২ রান।

তবে এই জুটি ভাঙার পর আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ৩২ রানের মধ্যে হারিয়ে ২০ ওভারে ১৫৮ রানে থামে তাদের ইনিংস।

১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে কোনো সময়ই স্বস্তিতে ছিল না মালয়েশিয়া। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৬ ওভারেই ৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

মালয়েশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন আহমেদ আকিল ওয়াহেদ। ২৫ বলের ইনিংসে ছিল তাঁর লড়াইয়ের চেষ্টা। এ ছাড়া মোহাম্মদ আমির ২২ বলে ১৫ এবং বিজয় উন্নি ১৫ বলে ১৪ রান করেন। দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মোহাম্মদ রুবেল ও রাকিবুল হাসান। দুজনই নেন দুটি করে উইকেট। এ ছাড়া আবু হায়দার, আবদুল গাফফার, মেহরব হাসান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী একটি করে উইকেট পেয়েছেন।

ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স না এলেও বোলারদের দাপটে শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ এইচপি।

কালের আলো/এসএ

‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আবার বন্ধুত্বও চাইবেন—এভাবে সম্পর্ক হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আবার বন্ধুত্বও চাইবেন—এভাবে সম্পর্ক হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবেন-এ দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, ভারতের মুখপাত্র বলছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াকে সমর্থন করে? এভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।

তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রাখব।

আমাদের এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে আন্তনির্ভরশীলতা আছে এবং এই আন্তনির্ভরশীলতাকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।

তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।

বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই নয়, আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটি পরস্পরবিরোধী। আশা করি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা হচ্ছে, তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাহউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারেন, তাহলে হাসিনার দোষ কী? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে। আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে করতে জোরপূর্বক নির্বাসিত হয়েছি। এটাই হাসিনার সঙ্গে আমাদের ব্যবধান।

তিনি আরও বলেন, হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিয়েছেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গেছেন এবং হিন্দন বিমানবন্দরে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম। আর আমাদের বস্তাবন্দি করে, হাত-পা ও চোখ বেঁধে বস্তাসহ সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুর হার ছিল ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে এ দেশের মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি? এই প্রশ্ন আমার রইল।

এ সময় আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরাও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলছি। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে সেই আইন করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টেও সেটা আছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে স্থগিত হবে কি না-এসব বিধান সেখানে দেওয়া আছে। তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কি না, সেটাও ওই আইনে বলা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তদন্ত হচ্ছে। আমরা আশা করব, সেই তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলোর ক্ষেত্রে ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নেই। বাংলাদেশের মানুষের সামনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, তবে একটা বিষয় তিনি খুব ভালো জানেন। তিনি বলেন, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপতৎপরতা ও মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হলে, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জ্বালানিসহ প্রতিটি সেক্টরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং স্বনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি, যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের নিবেদিত না রাখেন তাহলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নতি দিয়ে সফলতা আসবে না।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। বর্তমান সরকার মনে করে, মানুষকে যদি শুরুতেই রোগের উৎপত্তির কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায় তাহলে সহজেই অনেক রোগের নিরাময় সম্ভব। সে কারণে বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান সরকার নতুন করে আরো এক লাখ হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে।

যারা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন করবেন। তবে হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কি না কিংবা কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা রয়েছে। এর পক্ষে বিপক্ষে নানা মতও রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে।

সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।

তবে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

এ সময় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চিকিৎসকদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য একদিকে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অপরদিকে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরি করে। এক্ষেত্রে জনগণ ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হবে না।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি