খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো: প্রধানমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জনপ্রশাসন সভা কক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি অধীর আগ্রহে তাদের বক্তব্য শুনেছেন।

উপ-প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে, আগামীতে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

সুজন মাহমুদ জানান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে দেশের অবিচ্ছেদ অংশ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি এবং তার সরকার এমন একটা দেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন যেখানে কোনো জাতি-গোষ্ঠীর বৈষম্য থাকবে না। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একসাথে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। কাউকে আলাদা মনে করেন না।

বৈঠকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা সমস্যা সমাধানে ভূমি কমিশন গঠন, আদিবাসী অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য জাতীয় কনভেনশন অনুষ্ঠান, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শব্দের পরিবর্তে গোত্র ভিত্তিক পরিচয় প্রদান, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার, বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রিজার্ভ বনাঞ্চল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসতি উচ্ছেদ বন্ধ করা এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ঋণ সুবিধা প্রদানের দাবি উপস্থাপন করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান, দেশের অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে গেছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হতো। এভাবে যদি অর্থ পাচার না হতো তাহলে আপনাদের (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যেতো।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার পর্যায়ক্রমে যেগুলো সমাধানযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করার চেষ্টা করছে।

দেশের বিরাজমান সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশে এত এত সমস্যা এখনো বিরাজমান দেখে এখনো বিস্মিত হই। কেননা ১৭ বছর তো এগুলো এড্রেস হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো যদি এড্রেস করা হতো, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো।

তিনি বলেছেন, আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ টা এসেছে আমাদের সরকারের ওপরে। এই সরকারের ওপরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধবংস করে দিয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেছেন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওরা একটা জেনারেশকে ধবংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার সময়ে ৩১ বেডের হাসপাতাল স্থাপিত হয়েছে। তারপর আমাদের সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে ততবারই সেটার উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটা ৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১০১ বেডে উন্নীত করার। অথচ আগের সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলো। কিন্তু সেগুলোর কোন কার্যক্রম নেই।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধিসহ কিডনি ডায়ালাইসিস ও হার্টের রিং প্রভৃতি জরুরি মেডিকেল যন্ত্রাংশের ওপরে আরোপিত কর হ্রাস করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতি কর্মী সঞ্জিব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে নির্যাতন করা হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকেও আয়নাঘরে নির্যাতন করা হয়েছে: চিফ প্রসিকিউটর

এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা ‘জেআইসি সেল’-তে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (৮ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি, প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রাজধানীর কচুক্ষেতে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বিচারের একটি অংশ হিসেবে আজকে তিনজন বিচারপতি, সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী, আমাদের প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা ডিজিএফআই কমপ্লেক্সের ভেতরে গোপন বন্দিশালা জেআইসি পরিদর্শন করেন। এটি টর্চার সেল ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত।

 ডিফেন্স টিমের আইনজীবী বন্ধুরাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, জেআইসি মানুষকে ধরে এনে বন্দি রেখে তাদের ওপর অত্যাচার এবং নির্যাতন করার একটা সেল।

সেখানে কী অমানবিকভাবে বন্দিদের ধরে এনে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রাখা হয়েছে; সেই নির্মম চিত্র আজকে এই পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে কিছুটা অনুভব করা গেছে। ব্রিগেডিয়ার আজমীসহ বন্দিদের এই জেআইসিতে রাখা হয়েছে।

দিনের পর দিন তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে।

এই গোপন বন্দিশালায় তারেক রহমানকেও নির্যাতন করা হয়েছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এক-এগারোর সময় আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই জেআইসি সেলের কোনো একটি কামরায় আনা হয়েছিল এবং তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছিল। তদন্তে বিভিন্ন সাক্ষীদের বর্ণনায় সেই তথ্য পাওয়া গেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি অমানবিক রাষ্ট্র কায়েম করেছিল। যেখানে কিছুসংখ্যক অতি উৎসাহী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই আয়নাঘর নামে টর্চার সেলগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিল।

সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ইসলামিক সংগঠনের নেতা, ভিন্ন মতের ব্যক্তিত্ব তাদের ধরে আনা হয়েছিল। অনেক মানুষকে এখান থেকে পরে গুম করা হয়েছে। অনেক ভিকটিমদের এখন পর্যন্ত কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ডিজিএফআই এবং জেআইসি সেলের সম্পৃক্ত যেসব কর্মকর্তা ছিল, তাদের অনেককেই বিচারের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের বিচার চলছে। ভবিষ্যতেও যাদের সংশ্লিষ্টতা এভাবে পাওয়া যাবে, তাদেরও বিচারের সম্মুখীন করা হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, তাকেও কিন্তু এই জেআইসি সেলে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তিনি কতদিন বন্দি ছিলেন, তার নিজের হাতের একটা লেখা ছিল ‘এইচ কিউ সি’। সেটি পরে সাদা রং করে প্লাস্টার করে দিয়েছে।

প্লাস্টারের পরেও তার এই লেখাটা কিন্তু এখনো জেআইসি সেলের একটি রুমে আছে। আমরা এগুলো সিলগালা করে রেখেছি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলো আমাদের কাস্টডিতে থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে ৮৯ রানে জিতল বাংলাদেশ এইচপি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়াকে উড়িয়ে ৮৯ রানে জিতল বাংলাদেশ এইচপি

জয় এসেছে বড় ব্যবধানেই। তবে ৮৯ রানের এই জয়েও ব্যাটিং নিয়ে পুরোপুরি স্বস্তি পাওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের। মিরপুরে মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে ২০ ওভারে ১৫৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এরপর বোলারদের দাপটে মালয়েশিয়াকে মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৮৯ রানের জয় পেয়েছে স্বাগতিকেরা।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাজে শটে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতাই ছিল বেশি। শেষ দিকে মেহরব হাসান ও আবদুল গাফফার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে না তুললে দলের সংগ্রহ আরও কম হতে পারত।

মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু পায়নি বাংলাদেশ। ওপেনার জিসান আলম সাত বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। আরিফ উল্লাহর অফ স্টাম্পের বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে ৩০ গজের ভেতর ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

অন্য ওপেনার জাওয়াদ আবরার অবশ্য শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার পাশাপাশি তিনটি চার মেরে ১৮ বলে ২৮ রান করেন তিনি।

এরপর আরিফুল ইসলাম, সাব্বির রহমান ও প্রিতম কুমারও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। আরিফুল ১২ বলে ১৫, সাব্বির ১২ বলে ১৪ এবং প্রিতম ৭ বলে ৪ রান করে ফেরেন।

পঞ্চম উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংস কিছুটা সামাল দেন মেহরব হাসান ও আবদুল গাফফার। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৫৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়।

মেহরব ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ২২ বলে তিনটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪০ রান করেন তিনি। গাফফার ২৬ বলে করেন ৩২ রান।

তবে এই জুটি ভাঙার পর আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। শেষ পাঁচ উইকেট মাত্র ৩২ রানের মধ্যে হারিয়ে ২০ ওভারে ১৫৮ রানে থামে তাদের ইনিংস।

১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের সামনে কোনো সময়ই স্বস্তিতে ছিল না মালয়েশিয়া। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৬ ওভারেই ৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।

মালয়েশিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন আহমেদ আকিল ওয়াহেদ। ২৫ বলের ইনিংসে ছিল তাঁর লড়াইয়ের চেষ্টা। এ ছাড়া মোহাম্মদ আমির ২২ বলে ১৫ এবং বিজয় উন্নি ১৫ বলে ১৪ রান করেন। দলের আর কোনো ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মোহাম্মদ রুবেল ও রাকিবুল হাসান। দুজনই নেন দুটি করে উইকেট। এ ছাড়া আবু হায়দার, আবদুল গাফফার, মেহরব হাসান ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী একটি করে উইকেট পেয়েছেন।

ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স না এলেও বোলারদের দাপটে শেষ পর্যন্ত বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ এইচপি।

কালের আলো/এসএ

‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আবার বন্ধুত্বও চাইবেন—এভাবে সম্পর্ক হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, আবার বন্ধুত্বও চাইবেন—এভাবে সম্পর্ক হয় না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একদিকে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবেন-এ দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, ভারতের মুখপাত্র বলছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেওয়াকে সমর্থন করে? এভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না।

তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রাখব।

আমাদের এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে আন্তনির্ভরশীলতা আছে এবং এই আন্তনির্ভরশীলতাকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।

তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না।

বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে, পারস্পরিক মর্যাদা ও সম্মান এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই নয়, আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটি পরস্পরবিরোধী। আশা করি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন বলা হচ্ছে, তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাহউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারেন, তাহলে হাসিনার দোষ কী? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে। আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে করতে জোরপূর্বক নির্বাসিত হয়েছি। এটাই হাসিনার সঙ্গে আমাদের ব্যবধান।

তিনি আরও বলেন, হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিয়েছেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গেছেন এবং হিন্দন বিমানবন্দরে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম। আর আমাদের বস্তাবন্দি করে, হাত-পা ও চোখ বেঁধে বস্তাসহ সেখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সেখানে নারী ও শিশুর হার ছিল ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ। আকাশ থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে এ দেশের মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

এরপরও কি তাকে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি? এই প্রশ্ন আমার রইল।

এ সময় আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরাও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলছি। সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে সেই আইন করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টেও সেটা আছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে স্থগিত হবে কি না-এসব বিধান সেখানে দেওয়া আছে। তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কি না, সেটাও ওই আইনে বলা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তদন্ত হচ্ছে। আমরা আশা করব, সেই তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলোর ক্ষেত্রে ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম চলবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নেই। বাংলাদেশের মানুষের সামনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, তবে একটা বিষয় তিনি খুব ভালো জানেন। তিনি বলেন, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপতৎপরতা ও মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হলে, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি