খুঁজুন
                               
, ,
           

সম্মানজনক বিদায় চান মো. সাহাবুদ্দিন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ
সম্মানজনক বিদায় চান মো. সাহাবুদ্দিন, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে?

তিন সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করছেন গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।বিভিন্ন সময় তার পদত্যাগ বা অপসারণ নিয়ে বেশ গুঞ্জন ছিল।

তবে এবার সেই গুঞ্জন সত্যি হতে চলেছে। পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যে থাকছেন না সেটি নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা। তিনি  জানান, রাষ্ট্রপতি সম্মানজনক বিদায় নিয়ে চলে যেতে চান।

বঙ্গভবনের এই কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপতির শরীররটা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ওপেন হার্ট সার্জারি করিয়েছেন।

উনি সুন্দরভাবে, সম্মানজনক ভাবে চলে যেতে চান, উনি সব সময় এটা চেয়েছেন। সরকার হয়তো সেটা বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। সে অনুযায়ী এগোবে। আর রাজনৈতিক সরকার তো রাজনৈতিক পরিকল্পনা করবে।

শারীরিক সমস্যার কারণ দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানান বঙ্গভবনের এই কর্মকর্তা। তিনি জানান, রাষ্টপতি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে ১২ মে রাষ্ট্রপতির হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়। গণঅভ্যুন্থানের পর এটাই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর।

এদিকে বিএনপি ও সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, পদত্যাগ করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ২০২৩ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। সাহাবুদ্দিন চুপ্পুই একমাত্র ব্যক্তি যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শীর্ষ কোনো সাংবিধানিক পদে এখনও বহাল আছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংসদবিহীন অবস্থায় প্রয়োজনীয় আইনগুলো রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছিল।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির অপসারণ নিয়ে বেশ আন্দোলন ও আলোচনা ছিল। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন থাকাকালে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কিংবা অপসারণ নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছিল। আবারও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা বেশ জোরালো হয়েছে।

কে হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বুধবার প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোন শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

বিএনপি সূত্র বলছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ছাড়াও বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ দলটির শীর্ষ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। আলোচনায় আছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্প শিগগিরই শুরু: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্প শিগগিরই শুরু: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে টেকনিক্যাল কমিটি কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকেও পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নদ-নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে চিলমারী বন্দর এলাকায় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। আমাদের কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করব।

কুড়িগ্রামের নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চিলমারী বন্দরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। কুড়িগ্রামে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোন মানুষের ঘরবাড়ি, হাট-বাজার, মসজিদ, মন্দির কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন নদীতে বিলীন হয়ে না যায়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে আমরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করছি।

নদীভাঙন রোধে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। ইতোমধ্যে কুড়িগ্রামের প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। যেখানে আরও কাজের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে। পরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী গাইবান্ধায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান দুটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবু এবং জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসএকে

‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’: রিজভীর বক্তব্যে চটলেন শাবনূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’: রিজভীর বক্তব্যে চটলেন শাবনূর

রিজভী আহমেদ নামের এক ব্যক্তির সাম্প্রতিক কয়েকটি সাক্ষাৎকারের বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। রিজভী দাবি করেছেন, তিনি শাবনূরকে ভালোবাসতেন এবং একসময় তাঁদের বিয়েও হয়েছিল। তবে শাবনূরের দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ বানোয়াট। এমনকি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, বাস্তবে বিয়ে না হয়ে হয়তো তাঁদের ‘স্বপ্নের বাসর’ই হয়েছিল।

শাবনূর তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে রিজভীর বক্তব্যের বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আরজে নীরবকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী বলেছেন, শাবনূরের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা কখনো প্রকাশ করতে পারেননি। তবে মনে মনে তাঁকে এতটাই ভালোবাসতেন যে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন এবং এখনো চান।

অন্যদিকে, একই সময়ের কাছাকাছি সময় টিভিকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে রিজভী দাবি করেছেন, শাবনূর তাঁর সাবেক প্রেমিকা ছিলেন।

রিজভীর বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালে শাবনূরের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং দুই বছর পর, ২০১৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছেন শাবনূর। তাঁর প্রশ্ন, রিজভী যদি ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে থাকেন এবং ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে না এসে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিয়ে কোথায় এবং কীভাবে হয়েছিল?

শাবনূর আরও জানান, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে যাননি। তাঁর দাবি, ওই সময়ের অনেক আগেই তিনি বিবাহিত ছিলেন। রিজভীর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাঁকে তিনি কখনো দেখেছেন বা চিনেছেন বলেও মনে করতে পারেন না।

এ প্রসঙ্গেই রসিকতার সুরে শাবনূর লিখেছেন, রিজভীর বক্তব্য শুনে তাঁর মনে হচ্ছে, তাঁদের বাস্তবে কোনো বিয়ে হয়নি; হয়তো হয়েছিল শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’।

রিজভীর বক্তব্যের আরেকটি অংশ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শাবনূর। তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে জানান তিনি। এমনকি সালমান শাহর মৃত্যুর জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাবনূর।

এই অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শাবনূরের ভাষ্য, রিজভীর নাম তিনি প্রথম শোনেন সালমান শাহর মৃত্যুর পর। তখন সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকে রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল।

শাবনূরের প্রশ্ন, যদি রিজভীকে তিনি আগে চিনতেনই না, তাহলে কীভাবে তিনি দাবি করছেন যে শাবনূর সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতেন?

শাবনূরের বিরুদ্ধে সালমান শাহ ও তাঁর স্ত্রী সামিরার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরির জন্য একে অন্যের কথা পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। শাবনূরের দাবি, চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কেউ কখনো বলতে পারবেন না যে তিনি কারও সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেছেন।

নিজের পরিবার থেকেও এমন আচরণের শিক্ষা পাননি বলে উল্লেখ করে শাবনূর বলেন, চলচ্চিত্রজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে এ ধরনের কাজ করার সময়ও তাঁর ছিল না।

নিজের পোস্টে রিজভীর অতীতের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন শাবনূর। তাঁর দাবি, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ একসময় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। শাবনূরের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন।

সেই সময় তাঁর বক্তব্য ছিল, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অর্থের বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি আরও কয়েকজনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান বলে শাবনূর তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

তবে দীর্ঘ সময় পর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারগুলোতে রিজভী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেন শাবনূর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন রিজভী সালমান শাহর মৃত্যুকে হত্যা নয়, আত্মহত্যা বলে দাবি করছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকেও দায়ী করেছেন তিনি।

শাবনূরের দাবি, সাম্প্রতিক এসব বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তাঁকেও সালমান শাহর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।

শাবনূরের পোস্টের পর তাঁর ভক্ত ও অনুসারীদের অনেকে মন্তব্যে সমর্থন জানিয়েছেন। কেউ সত্য তুলে ধরার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ লিখেছেন, সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পায়।

রিজভী আহমেদের বক্তব্য এবং শাবনূরের পাল্টা বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই আপাতত বিতর্ক সীমাবদ্ধ রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

থম্পসনের ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
থম্পসনের ৮ উইকেটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে ক্যাম্পবেল থম্পসন এখনো বড় কোনো পরিচিত নাম নন। জাতীয় দলে তো খেলেনইনি, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তাঁর অভিজ্ঞতা মাত্র একটি ম্যাচের। অথচ এই অনভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসারই ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে একাই হয়ে উঠলেন বড় আতঙ্ক।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ২৫ রান খরচ করে ৮ উইকেট নিয়েছেন ২২ বছর বয়সী থম্পসন। তাঁর দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ও ৩৮ রানে হেরেছে বাংলাদেশ।

থম্পসন খুব দ্রুতগতির পেসার নন। তবে তাঁর শক্তি হলো নিখুঁত লাইন-লেন্থ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করার দক্ষতা। নতুন বলে সুইং করানোর পাশাপাশি স্টাম্প বরাবর আক্রমণাত্মক বোলিং করতে পারেন তিনি।

ডারউইনের কন্ডিশনে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে এই কৌশলই দারুণভাবে কাজে দিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে অমিত হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ছাড়া বাংলাদেশের সব ব্যাটসম্যানই থম্পসনের শিকার হয়েছেন।

সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম কিংবা নাজমুল হোসেন—কেউই তাঁকে সামলাতে পারেননি। বাংলাদেশের হয়ে দুই অঙ্কের রান করতে পেরেছেন শুধু তানজিদ হাসান। ওপেনার করেন ২২ রান।

থম্পসনের সঙ্গে কোরি রোচিচ্চিওলি দুটি উইকেট না নিলে তাঁর শিকারসংখ্যা আরও বাড়তে পারত।

এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও থম্পসন নিজের কৃতিত্বকে খুব বড় করে দেখেননি। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, এদিন ভাগ্যও তাঁর পক্ষে ছিল।

তবে তাঁর বোলিং যে কেবল ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল না, সেটিও স্পষ্ট তাঁর কথায়। ম্যাচের সকালে বোলিং পরিকল্পনা ঠিক করে নিয়েছিলেন তাঁরা। নতুন বল কাজে লাগানো, সুইং করানো এবং স্টাম্পে আঘাত করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।

সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে দেয়।

গত মৌসুমে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় থম্পসনের। তার আগে প্রাইম মিনিস্টার্স একাদশের হয়ে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।

দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে কাপ ও শেফিল্ড শিল্ডেও খেলেছেন এই তরুণ। শেফিল্ড শিল্ডে উসমান খাজার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকেও চাপে ফেলেছিলেন তিনি।

তবে গত মৌসুমের শেষটা ভালোভাবে করতে পারেননি থম্পসন। ওয়ানডে কাপের একটি ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় প্রায় এক মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাঁকে। এরপর পুনর্বাসন শেষে প্রাক্-মৌসুমের প্রস্তুতিতে ফেরেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি দূরের পরিকল্পনা করছেন না তিনি। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চান এই তরুণ পেসার।

থম্পসনের ৮ উইকেট বাংলাদেশের জন্য শুধু প্রস্তুতি ম্যাচের একটি দুঃস্বপ্ন নয়, বরং টেস্ট সিরিজের আগেও বড় সতর্কবার্তা।

১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে অপেক্ষা করছে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো বিশ্বমানের পেস আক্রমণ।

প্রস্তুতি ম্যাচে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ এক পেসারের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটিং যেখানে মাত্র ৫৪ রানে ভেঙে পড়েছে, সেখানে অস্ট্রেলিয়ার মূল পেস আক্রমণের সামনে কাজটি যে আরও কঠিন হবে, তা বলাই যায়। টেস্টের আগে তাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাজ হবে ব্যাটিংয়ের ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নেওয়া।

কালের আলো/এসএ