খুঁজুন
                               
, ,
           

হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছে জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে ভারতে আছে জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে বা কী প্রক্রিয়ায় সেখানে আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বিচার প্রক্রিয়ায় দণ্ডপ্রাপ্ত উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে ইতোমধ্যে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে নিয়ে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে—এমন খবর প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম বলেন, সংবাদমাধ্যমটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন কি না বা ঠিক কী স্ট্যাটাসে সেখানে অবস্থান করছেন। তাই ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে জানে না শেখ হাসিনা ভারতে কোন স্ট্যাটাসে আছেন। ফলে ভারতীয় আদালতের অনুমতি সংক্রান্ত বিষয়টি কী অর্থে বলা হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার নয়।

এ সময় সাংবাদিকরা ভারতের মেঘালয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের অবস্থান এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কি না জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি জানান, সালাহউদ্দিন আহমেদকে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে ভারতের শিলংয়ে তাকে পাওয়া যায় এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় তিনি খালাস পান। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

এছাড়া জুলাই আন্দোলনে ভূমিকার অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের ভূমিকার কারণে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব অপরাধের দায় আসামিদের নিতে হবে এবং ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘প্রযুক্তি গ্রাম’ দেশের ৯০ হাজার গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে: এমরান সালেহ প্রিন্স

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
‘প্রযুক্তি গ্রাম’ দেশের ৯০ হাজার গ্রামে ছড়িয়ে পড়বে: এমরান সালেহ প্রিন্স

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চক নজুরে প্রযুক্তি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ময়মনসিংহ স্যাটেলাইট স্টেশনের তত্ত্বাবধানে চক নজুর গ্রামকে ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ ঘোষণা করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় গ্রামের কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। এই গ্রামে প্রযুক্তির মাধ্যমে ধানের বীজ রোপণ করা হচ্ছে। এসব সহযোগিতার কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমেছে এবং আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মঙ্গলবার পরিদর্শনকালে প্রিন্স গ্রামের কৃষিজমিতে রোপণ করা বিভিন্ন জাতের ধানের উৎপাদন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং ধানের ফলন, জাতভিত্তিক বৈশিষ্ট্য ও কৃষকদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ময়মনসিংহ স্যাটেলাইট স্টেশন ‌‘প্রযুক্তি গ্রাম’ এর সার্বিক কার্যক্রম অবহিতকরণ, কৃষক-কৃষাণিদের সাথে মতবিনিময়, ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ কর্মসূচির আওতায় গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ ও কৃষকদের মাঝে বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে এমরান সালেহ প্রিন্স ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে দেশের ৯০ হাজার গ্রামে প্রযুক্তি গ্রাম ছড়িয়ে পড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ, খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, তারেক রহমান কৃষি ও কৃষক বান্ধব প্রধানমন্ত্রী। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। শুধু বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন হবে না, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থ সামাজিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন।

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, ফলন বাড়ানো এবং কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। ‘প্রযুক্তি গ্রাম’ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি উন্নত জাত, প্রযুক্তি ও কৃষি উপকরণের সুবিধা পাওয়ায় এর সুফল আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্যাটেলাইট স্টেশন, ময়মনসিংহের উপকেন্দ্র পরিচালক ও প্রধান ড. আফছানা আনছারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কৃষক ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষির উন্নয়নকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে বৃক্ষরোপণ, স্থানীয় উপযোগী ধানের জাত সংরক্ষণ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এমরান সালেহ প্রিন্স শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা গাছ ও কৃষকদের মাঝে বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ করেন এবং অনুষ্ঠানস্থলে নিম গাছের চারা রোপণ করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

পলাতক ৬৯০ কারাবন্দি এখনো অধরা, ১৬৬ জনের কোনো তথ্য নেই: কারা মহাপরিদর্শক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
পলাতক ৬৯০ কারাবন্দি এখনো অধরা, ১৬৬ জনের কোনো তথ্য নেই: কারা মহাপরিদর্শক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন কারাগার থেকে ২ হাজার ২৪৭ জন পালিয়েছিল। তার মধ্যে ১ হাজার ৫৫৭ জনকে গ্রেফতার করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখনো বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো ৬৯০ জন বন্দি পলাতক রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র নরসিংদী কারাগার থেকে ৮২৬ জন পালালেও ১৬৬ জনের কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পুরান ঢাকায় কারা অধিদফতরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কারা অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন।

কারাগারে মাদক ঢুকে এবং কারারক্ষীরা এসব কাজে সহায়তা করেন এমন প্রশ্নে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহার হোসেন বলেন, ‘মাদক এবং আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে আমা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। মাদকসংক্রান্ত অপরাধে কেউ যদি জড়িয়ে পড়ে তাহলে তাদের জন্য আমরা অত্যন্ত কঠোর ছিলাম। গত দুই বছরে আমাদের ২১ জনকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৮২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ৮৭০ জনের বিরুদ্ধে নানামুখে বিভাগীয় মামলা ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ছোটখাটো অপরাধের কারণে আমাদের ৩০৩ জনকে প্রশাসনিক কারণে বিভিন্ন বিভাগের বাইরে প্রেরণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদক সংক্রান্ত অপরাধে আমাদের কোনো কারারক্ষী যদি জড়িয়ে পড়ে তাকে আমরা ফৌজদারি মামলা দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৬৯০ জন পলাতক রয়েছে। এদের মধ্যে ১৬৬ জনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ত তাদের তথ্য পেতে আমরা আদালতে আবেদন করেছি।’

কতজন জঙ্গি পলাতক রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারাবন্দি তালিকাভুক্ত ৯ জন জঙ্গি পালিয়েছিলেন এর মধ্যে ছয়জনকে পুনরায় গ্রেফতার করে কারাগারে নেওয়া হয় তবে তিনজন এখনো পলাতক। এই ছয়জনের মধ্যে সম্প্রতি এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেফতার জুয়েল ওরফে জুয়েল ওস্তাদও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

কারাগারে বন্দিদের খাবার নিয়ে তিনি বলেন, ‘কারাগারে অটোমেটিক রুটি মেকিং মেশিন আমরা বসাচ্ছি এবং যাতে আসলে সময় যেমন সাশ্রয় হয় এবং কোয়ালিটি এবং প্রতিটা অটোমেটেড পদ্ধতিতে একদম আটা তৈরি থেকে শুরু করে রুটি গরম করা পর্যন্ত পুরোটা জিনিস অটোমেটেড পর্যন্ত হয় এবং এতে আমাদের রাতের বেলা অনেক বন্দিকে বাইরে রাখার যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল এটা আমরা নিরসন করতে পেরেছি।’

কারাগারে মোবাইল ব্যবহার হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মোবাইলে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কারাগারে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আছে। আমরা কাউকে এক্সেস দিচ্ছে না। আগে ৩ হাজারের অধিক নম্বর ছিল। সেটা কমিয়ে আনা হচ্ছে। আমরা নজরদারি রাখছি।

মাদক মামলার আসামিদের পৃথক রাখার জন্য দুটি কারাগারে কার্যক্রম চালু হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘মাদল মামলার আসামিদের পৃথক কারাগারে রাখার প্রস্তুতি চলছে। একটি ফেনী আরেকটি কিশোরগঞ্জ কারাগারে।’

কারাগারে এখন কতজন বিদেশি কারাবন্দি রয়েছে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কারাগারে ৩৭৯ জন বন্দি রয়েছে। এর মধ্যে ১৭০ জনকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
এনবিআর ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন প্রতিষ্ঠান দুটির মাধ্যমে একদিকে করনীতি প্রণয়ন, অন্যদিকে রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ দেওয়া বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কাঠামোয় রাজস্ব নীতি বিভাগ সরকারের ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, গবেষক এবং শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো প্রণয়ন করবে। আর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ হবে ‘অ্যাকশন টিম’, যারা কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। রাজস্ব ব্যবস্থায় এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে করদাতাকে অপ্রয়োজনে কর্মকর্তাদের কাছে যেতে না হয়। এ জন্য এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আমির খসরু বলেন, অর্থনীতির আকার বাড়লেও সে অনুযায়ী রাষ্ট্রের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়েনি। এ ব্যবধান কমাতে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর শুধু বাড়তি করের বোঝা চাপানো যাবে না। করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর অব্যাহতি যৌক্তিক করতে হবে, কর ফাঁকি ও কর পরিহার বন্ধ করতে হবে এবং অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতাদের কর পরিপালন বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়ন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। উন্নয়নের অর্থায়ন নিজেদের সম্পদ থেকেই করতে হবে।

রাজস্ব প্রশাসনকে আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য সম্পূর্ণ যোগাযোগমুক্ত ও কর্মকর্তানির্ভরতা কম এমন রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলা।

দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হিসেবে কম কর-জিডিপি অনুপাতের কথা উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের ছিল মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

মন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্ব সম্মেলন’ শুধু রাজস্ব আদায়ের হিসাব-নিকাশের বিষয় নয়। এটি জাতীয় ঐকমত্য গঠনেরও একটি প্ল্যাটফর্ম। নিজস্ব অর্থায়নে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ নির্ধারণে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ