এশিয়ার নোবেলখ্যাত ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন রুনা খান
সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। এ পুরস্কারকে এশিয়ার নোবেলখ্যাত সম্মান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
রুনা খানের সঙ্গে এ বছর আরও দুজন এই সম্মান পেয়েছেন। তারা হলেন সিঙ্গাপুরের কূটনীতিক, আইনজীবী, অধ্যাপক ও লেখক টমি কোহ এবং মিয়ানমারের মানবাধিকারকর্মী বো চি।
র্যামন ম্যাগসাইসাই ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, মানবসেবা ও জনকল্যাণের মূল্যবোধকে স্মরণ করে তাঁর নামে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৫৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর একই বছর র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
প্রতিবছর ৩১ আগস্ট ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছর তাঁর ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৬ সালের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে ৬৮তম র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে বিজয়ীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের এমন কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, যা মানুষের সেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরা গড়ে তুলতে সহায়তার মতো মূল্যবোধকে ধারণ করে।
উল্লেখ্য, রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংস্থাটি দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। দারিদ্র্য, বৈষম্য, পরিবেশগত সংকট ও সামাজিক অবিচারের মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
রুনা খানের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের সমাজসেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কালের আলো/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array