খুঁজুন
                               
, ,
           

গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে নিহত ১৬, ধ্বংসস্তূপে আটকা শতাধিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন ধসে নিহত ১৬, ধ্বংসস্তূপে আটকা শতাধিক

গাজা সিটিতে যুদ্ধের আগে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সাততলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ১৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সিভিল ডিফেন্স জানায়, মঙ্গলবার রাতে ভবনটি ধসে পড়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।

আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশু ও অন্যদের জীবিত অবস্থায় বের করে আনছেন। আহতদের পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তবে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটের কারণে তাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ইসরায়েলি হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। হামলার পর ভবনটিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে বলে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘদিনের সংঘাতে গাজার বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। নির্মাণ ও মেরামতের উপকরণ প্রবেশে নানা বিধিনিষেধ থাকায় এসব ভবনের অনেকগুলো সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে অনেক ফিলিস্তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এসএ

ইব্রাহিমি মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করল ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ইব্রাহিমি মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ বন্ধ করল ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের হেবরন শহরের ইব্রাহিমি মসজিদ মুসলিমদের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মসজিদটিতে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ইহুদি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্ম মন্ত্রণালয়। মসজিদটির বিরুদ্ধে কথিত ‘পদ্ধতিগত লঙ্ঘন’ বন্ধে আন্তর্জাতিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে তারা। একই সঙ্গে মুসলিমদের মসজিদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মোতাসেম আবু স্নেইনেহ অভিযোগ করে বলেন, মসজিদ বন্ধের এই পদক্ষেপ চলমান উত্তেজনা এবং মসজিদের অবশিষ্ট অংশ দখলের প্রচেষ্টার অংশ। তাঁর দাবি, মসজিদের সব কক্ষ ও প্রাঙ্গণই ইসলামী স্থাপনা ও পবিত্র স্থান।

মসজিদ বন্ধের পাশাপাশি এর আশপাশে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। মসজিদে যাওয়ার পথে কয়েকটি চেকপয়েন্ট ও ইলেকট্রনিক গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে আশপাশের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মীদের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

হেবরনের পুরোনো শহরে অবস্থিত ইব্রাহিমি মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি বিরোধের অন্যতম স্পর্শকাতর স্থান। ১৯৯৪ সালের এক হত্যাকাণ্ডের পর মসজিদটি মুসলিম ও ইহুদি উপাসকদের জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কালের আলো/এসএ

দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় ইসলামের শিক্ষা

জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাগুলোর একটি হলো মানসিক চাপ। জীবনের নানা উত্থান-পতন, দুঃখ-কষ্ট, অপ্রাপ্তি ও বেদনা মানুষের মনে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের প্রভাব ব্যক্তির আচরণ ও দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে পারে।

মানসিক চাপের সময় অনেকেই নিজের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেন। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে এবং বিষণ্নতা ও অবসাদের অনুভূতি বাড়তে পারে। কেউ কেউ অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন বা অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করেন।

তাই মানসিক চাপ কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। বিভিন্ন গবেষণায় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে মানুষের মানসিক সুস্থতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের মানসিক ও সামগ্রিক সুস্থতার বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে ব্যক্তিভেদে এর প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

ইসলামি বিশ্বাসেও মানসিক সংকট মোকাবিলায় আল্লাহর ওপর আস্থা, ধৈর্য ও আত্মসংযমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বিপদ-আপদের সময় আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সূরা আল-বাকারার ১৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, বিপদে ধৈর্যশীলরা বলেন—‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব।’

ইসলামি শিক্ষায় ভয় ও দুশ্চিন্তার সময় আল্লাহর স্মরণ, দোয়া, নামাজ ও ধৈর্য ধারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সৎকাজ করা এবং অন্যের কল্যাণে এগিয়ে যাওয়াকেও মানসিক প্রশান্তির একটি পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তির কথাও বলা হয়েছে। সূরা আর-রাদের ২৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’

মানসিক চাপের সময় নিজের প্রতি ইতিবাচক থাকা, প্রয়োজন হলে পরিবার ও কাছের মানুষের সহায়তা নেওয়া এবং পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় অনুশীলনের পাশাপাশি এসব বাস্তব পদক্ষেপ একজন মানুষকে কঠিন সময় মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।

আল্লাহর ওপর বিশ্বাস, দোয়া, নামাজ, ধৈর্য ও মানুষের সেবার মতো মূল্যবোধ একজন ব্যক্তির মনে আশা ও স্থিরতা তৈরি করতে পারে—এমন বিশ্বাস ইসলামি শিক্ষায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

কালের আলো/এসএ

অপরাধ দমনে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
অপরাধ দমনে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বেশির ভাগ অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়া চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গঠনে ক্রাইম রিপোর্টারদের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলে গেছে। বর্তমানে অনেক অপরাধ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। তাই অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে আধুনিক আইনি কাঠামোর পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল এবং বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, অপরাধ কেবল একটি বাহ্যিক উপসর্গ। এর মূল কারণ খুঁজে বের করে গোড়ায় আঘাত করতে হবে। বিভিন্ন অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মাদক ও জুয়া অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত সাংবাদিকদের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে সাংবাদিকদের সনদ দেওয়ার বিষয়টিও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যুগের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুরোনো আইন আধুনিকায়ন প্রয়োজন। অনলাইন জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলায় ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬’ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্বল আইনের সুযোগ নিয়ে যাতে অপরাধীরা পার পেয়ে যেতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও নতুন আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে।

ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ।

কালের আলো/এম/এসআইপি