খুঁজুন
                               
, ,
           

এখনও পলাতক ৯০০ বন্দি, স্থবির পদোন্নতিতে গতিশীলতা আনতে চান কারা মহাপরিদর্শক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
এখনও পলাতক ৯০০ বন্দি, স্থবির পদোন্নতিতে গতিশীলতা আনতে চান কারা মহাপরিদর্শক

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশের কারাগারগুলোতে শুরু হয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। অনেক কারাগারে বন্দি আসামিরা বিদ্রোহ করে। অরাজক পরিস্থিতিতে কারাগার থেকে পালিয়ে যান ২ হাজারের অধিক বন্দি। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া বন্দিসহ বিচারাধীন মামলার আসামিরা ছিলেন। এখন পর্যন্ত ৯০০ বন্দি পলাতক রয়েছে। হামলায় কারাগার থেকে লুট হয়েছিল ৯৪টি অস্ত্র। অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যেই ৬৫টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও উদ্ধারের বাকী রয়েছে আরও ২৯টি অস্ত্র। হামলা ও ভাঙচুরের মুখে পড়ে মোট ১৭টি কারাগার। তবে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় কারা বিভাগ অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে দেশের অন্যান্য কারাগারগুলো সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়।

কঠিন বাস্তবতায় কারাগারে শৃঙ্খলা ফেরাতে কারা মহাপরিদর্শক পদে পরিবর্তন আনার পর এবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের কারাগারসমূহ। কারা নিরাপত্তার হালহকিকত ও নানাবিধ গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সামগ্রিক বিষয়াদি নিয়ে কথা বলেছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বকশিবাজারের কারা অধিদপ্তওে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।

  • কারাগারকে সেবাগ্রহণকারীদের আস্থাভাজন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়
  • যারা রেয়াত পাওয়ার যোগ্য, তাদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে
  • এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জন জঙ্গি পলাতক
  • কারাগারে নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা চিহ্নিত
  • মাদকাসক্ত কেউ কারা বিভাগে চাকরি করতে পারবে না
  • ৩৭ জন এমপি-মন্ত্রী কারাগারে, ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন ৯ জন

এর আগে গত রবিবার (১১ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চৌকস কর্মকর্তা সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। প্রথমেই তিনি দেশের কারাগারগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মনোনিবেশ করেন। বিপুল প্রত্যাশাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেন এবং কারাগারগুলোকে প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগারে রূপান্তরিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে জোর দেন। প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা প্রণয়নসহ দক্ষতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়নে গ্রহণ করেন নানামুখী পদক্ষেপ। গণমাধ্যমের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আলাপে তিনি উপস্থাপন করেন যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত। সোজা-সাপ্টা জবাব দিয়েছেন নানা প্রশ্নেরও।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ জন এমপি-মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে রয়েছেন। এদের মধ্যে ৯ জনকে কারাগারে ডিভিশন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর এখন পর্যন্ত কারাগার থেকে সাধারণ মানুষসহ কতজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বের হয়ে এসেছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এ রকম আলোচিত মোট ৪৩ জন বন্দি এখন পর্যন্ত কারাগার থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল শেখ সুজাউর রহমান, কারা উপ মহাপরিদর্শক মনির আহমেদসহ উর্ধ্বতন কারা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৯০০ বন্দি এখনও পলাতক
ব্রিফিংয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার পরে দেশের কয়েকটি কারাগারে বিশৃঙ্খলা-বিদ্রোহ করে বন্দিরা। বিভিন্ন কারাগারসহ কোনো কোনোটিতে হামলা চালানো হয় বাইরে থেকে। এ পরিস্থিতিতে ২ হাজারের বেশি বন্দি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া বন্দিসহ বিচারাধীন মামলার আসামিরা রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৯০০ বন্দি পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের পট পরিবর্তনের সময়কালে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। বাংলাদেশের কারা অধিদপ্তর এর ব্যতিক্রম ছিল না। বেশ কয়েকটি কারাগারে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং প্রায় দুই হাজারের অধিক বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত অনেক বন্দিদের গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি দুই একজন আসামি ফিরেও এসেছে। ৯০০ বন্দি এখনও পলাতক রয়েছে।

আইজি প্রিজন্স বলেন, কয়েকটি কারাগার থেকে গোলা-বারুদ লুটের ঘটনাও ঘটে এবং কয়েকটি কারাগারে পালানোর সময় কয়েকজন বন্দির মৃত্যুসহ অনেক কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষী গুরুতর আহত হন। অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ফলে দুটি কারাগারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। অনেক কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসস্থলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় কারা বিভাগ অদম্য সাহসিকতার সঙ্গে অন্যান্য কারাগারগুলো সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, পরবর্তী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া অধিকাংশ বন্দিকেই কারাগারে ফেরত নিয়ে আসা সম্ভব হয়। এর মধ্যে কিছু বন্দি নিজ ইচ্ছায় এবং বাকিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে কারাগারের লুট হওয়ায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের উল্লেখযোগ্য অংশও উদ্ধার করা হয়েছে, অবশিষ্টগুলো উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কারাগারকে সেবাগ্রহণকারীদের আস্থাভাজন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়
কারাগারকে সেবাগ্রহণকারীদের আস্থাভাজন হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কারাগারকে প্রকৃত সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা প্রণয়নসহ দক্ষতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পদায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন পূর্বক স্থবির পদোন্নতির ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনায়নসহ জনবল বৃদ্ধির ন্যায় ন্যায্য দাবিগুলোর বিষয়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে কারা বিভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করছে যে, এখন থেকে কারা বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুততার সঙ্গে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কারাগারে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে আমরাও আমাদের মতো করে তদন্ত করছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই বিষয়ে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

যারা রেয়াত পাওয়ার যোগ্য, তাদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব বন্দিরা সাজাভোগ করেছেন, তারা রেয়াত পেতে পেতে মুক্তি পেতে পারেন। যখন তারা মুক্তির আওতায় চলে আসেন, তখন তারা মুক্তি পেতে পারেন। যারা মুক্তির আওতায় চলে আসেন, তাদের বিষয়ে প্রস্তাবনা আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠাই। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বেটিংয়ের পর চূড়ান্তভাবে যদি মাফ করতে হয় সেটি রাষ্ট্রপতি করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে মাফ করার অধিকার রাষ্ট্রপতির। তবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রধান উপদেষ্টাও পারেন। এ রকম অনেক বন্দিদের বিষয়ে প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আছে। এই বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করছি। এই বিষয়ে অতি শিগগিরই একটি বৈঠকের প্রস্তাবনা আছে। যারা অক্ষম চলাফেরা করতে পারে না, অথবা যারা রেয়াত পাওয়ার যোগ্য, তাদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে।

এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জন জঙ্গি পলাতক রয়েছে
পলাতক বন্দিদের মধ্যে জঙ্গি কতজন রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত নয়জন জঙ্গি পালিয়েছে। এছাড়া, বিচারাধীন মামলার অনেক জঙ্গি পালিয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৭০ জন জঙ্গি পলাতক রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক বন্দিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে কারা মহাপরিদর্শক আরও বলেন, সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি পালিয়ে ছিল মোট ৯৮ জন। এদের মধ্যে অনেককে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কারাগারে ধারণক্ষমতা ৪২ হাজার, বন্দি ৫০ হাজারেরও বেশি
বর্তমানে দেশের সব কারাগারের ধারণক্ষমতা কত ও বর্তমানে কতজন বন্দি রয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহের হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের সব কারাগারের ধারণক্ষমতা ৪২ হাজারেরও কিছু বেশি। এই মুহূর্তে আমাদের কারাগারে আছে ৫০ হাজারেরও বেশি বন্দি।

কারাগারে নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা চিহ্নিত, চলছে অভ্যন্তরীণ তদন্ত
কারাগারে নিয়মবহির্ভূত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক। তিনি এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মোটা দাগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে আমি অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা নিচ্ছি। এ বিষয়ে কিছু ব্যবস্থা শিগগিরই দেখা যাবে। দুর্নীতি প্রতিরোধে সৎ কর্মকর্তাদের আমরা পদায়ন করছি। লম্বা সময় ধরে কিছু লোক একই জায়গায় কাজ করছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’

ক্ষোভের বহি:প্রকাশেই কারাগারে হামলা
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন কারাগারে হামলা হয়েছে। এ সময় সাধারণ মানুষদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। এরা আসলে কারা ছিল? কারা কর্তৃপক্ষ তাদের চিহ্নিত করেছে কিনা, এমনটি জানতে চাওয়া হয় কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন এর কাছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘তাদের শনাক্ত করার জন্য আমরা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি। ৫ আগস্টের পরে যারা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অনেক সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতেও হামলা হয়েছিল। কারাগার যেহেতু একটি ক্ষোভের জায়গা ছিল, এরই বহিঃপ্রকাশ এসব হামলা। তিনি আরও বলেন, যেসব কারাগারে বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, আমরা প্রতিটিতেই মামলা করেছি। মামলায় আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে আসামি করতে পারিনি। কারণ পরিস্থিতি যেহেতু ভিন্ন ছিল। অজ্ঞাতনামা আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে মূলত মামলা করা হয়েছে। ৮টি কারাগারে বিশৃঙ্খলার দায়ে মোট ৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। আমাদের ৫টি কারাগার থেকে বন্দিরা পালিয়েছে, সে সংক্রান্ত ৫টি মামলা হয়েছে। সবমিলিয়ে আমাদের ১৭টি কারাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

মাদকাসক্ত কেউ কারা বিভাগে চাকরি করতে পারবে না
গণমাধ্যমের প্রশ্নে ওঠে আসে কারাগারের কর্মকর্তাদের ডোপ টেস্টের বিষয়টিও। এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক সাফ সাফ জানিয়ে দেন, মাদকাসক্ত কেউ কারা বিভাগে চাকরিরত অবস্থায় থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘আমি যোগদান করার পর মাদকের বিষয়ে ব্যাপক অভিযোগ পাচ্ছি। আসলে এই বিষয়ে আমরা শঙ্কিত। মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ বন্দিদের বিষয়ে যেমন পাচ্ছি, তেমনি কারারক্ষী এবং কারা কর্মকর্তাদের বিষয়েও পাচ্ছি। এই বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে আশঙ্কার জায়গাটি হলো যে, এটিকে আমরা খুঁজে কীভাবে বের করব। কারাগারে যেন মাদক না ঢুকতে পারে, সেই বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।’

জুলাই ও আগস্টে আন্দোলনের ঘটনায় কোন বন্দি নেই
জুলাই ও আগস্টে আন্দোলন চলাকালে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল, তাদের মধ্যে কতজন বন্দি এখনো কারাগারে আছে, আর কতজন জামিন পেয়েছে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আন্দোলন চলার সময় যেই ধরনের মামলা হয়েছিল এবং গ্রেপ্তার হয়েছিল এ ধরনের বন্দি এখন আমাদের কাছে নেই। সবাই জামিন প্রাপ্ত হয়ে গেছেন এবং জামিনে বের হয়েছেন। আন্দোলনের কতজন বন্দি জামিনে বের হয়ে গেছে তার সঠিক সংখ্যাটা বলা মুশকিল। তবে, সেই সময় আমাদের বন্দি সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার, এখন তা ৫৫ হাজার। তাহলে বলা যায় ওই সময় এসব মামলায় গ্রেপ্তার প্রায় ১৫ হাজার বন্দি ধীরে ধীরে জামিন পেয়ে বের হয়েছেন।’

কারাগারে মোট বিদেশি বন্দি ১৪৩
বিভিন্ন সময় দেখা যায়, বিদেশি বন্দিরা সাজা ভোগ করার পরও অনেকে কারাগারে থেকে যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘বিদেশি বন্দিদের সাজা শেষ হয়ে গেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পরে আমরা তাদের ডি-পোর্ট করি। এখন আমাদের কারাগারে মোট ১৪৩ জন বিদেশি বন্দি রয়েছে। আমরা যদি ক্লিয়ারেন্স পাই, তাহলে আমরা তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করব।’

২৮ মন্ত্রী-এমপি’র ডিভিশনের বিষয়ে পর্যালোচনা
গত ৫ আগস্টের পরে যেসব মন্ত্রী এবং এমপিরা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তারা কারাগারে কোনো ডিভিশন পাচ্ছেন কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি গেজেটেড অফিসাররা কারাগারে আসলে ডিভিশন পেয়ে যান। বাকি যারা বিশিষ্ট ব্যক্তি বা এমপি-মন্ত্রী আছেন, তারা আবেদন করবেন অথবা এ বিষয়ে আদালত বললে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর যাদের বিষয়ে আদালত বলবে না, তারা যদি আবেদন করেন, তখন সে আবেদনটি আমরা ডিসির কাছে পাঠাবো। ডিসি যদি অনুমতি দেন তাহলে আমরা তাদের ডিভিশন দিতে পারব। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের কাছে বিশেষ বন্দি (এমপি-মন্ত্রী) মোট ৩৭ জন… তাদের মধ্যে নয়জন ডিভিশন পাচ্ছেন। আর বাকী ২৮ জনের বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

একটি শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরকে তার বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ে শিশু দ্রুত শেখে, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং তার বেশির ভাগ সময় কাটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ফলে শিশুর জীবনে ঘরই হয়ে ওঠে প্রথম পাঠশালা, আর মা-বাবাই হয়ে ওঠেন তার প্রথম শিক্ষক।

শৈশবের এই সময়টিতে শিশুর মানসিকতা, আচরণ, মূল্যবোধ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে শুরু করে। পরিবারের পরিবেশ, মা-বাবার আচরণ এবং শিশুর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ—সবকিছুই তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবারের পরিবেশেই মূল্যবোধের শুরু

বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় অনেক পরিবারেই মা-বাবা দুজনকেই কাজের প্রয়োজনে দিনের বড় একটি সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ফলে অনেক শিশু প্লে-স্কুল, ডে-কেয়ার কিংবা অন্য স্বজনের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে।

তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ও মনোবিশ্লেষকদের মতে, শিশুর বিকাশে শুধু কতক্ষণ সময় দেওয়া হচ্ছে তা নয়, সেই সময়ের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার মনোযোগ, কথা বলা, শিশুর কথা শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।

পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত ও ইতিবাচক যোগাযোগের মাধ্যমে শিশু ধীরে ধীরে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য আর কোনটি অনুচিত—তা বুঝতে শেখে। এর মাধ্যমে তার আচরণগত নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠতে পারে।

মায়ের আচরণ থেকেই শেখে শিশু

প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকুক বা না থাকুক, শিশুর প্রাথমিক নৈতিক শিক্ষা তৈরিতে মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের পরিবেশেই শিশু ভালোবাসা, যত্ন, সহানুভূতি, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মতো বিষয়গুলো প্রথম শেখে।

শিশু শুধু মা-বাবার কাছ থেকে সরাসরি বলা কথাই শেখে না; তাঁদের দৈনন্দিন আচরণও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। মা-বাবা একে অপরের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, অন্যদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেন, সমস্যা হলে কীভাবে তা সামাল দেন—এসব দেখেও শিশু নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনবোধ তৈরি করতে থাকে।

সময় কম হলেও সচেতন উপস্থিতি জরুরি

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেক মা-বাবার পক্ষেই সন্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো সম্ভব হয় না। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে সন্তানের জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে শিশুর সঙ্গে অল্প সময় কাটালেও তা যদি মনোযোগী ও আন্তরিক হয়, তার ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, তার দিনের অভিজ্ঞতা শোনা, খেলায় অংশ নেওয়া কিংবা কোনো সমস্যায় পাশে থাকা—এসব ছোট ছোট বিষয় শিশুর চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে কিছু শিশু ছোট বয়স থেকেই একা থাকার বা নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস তৈরি করে। এর ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দক্ষতাও তৈরি হতে পারে।

তাহলে সমাজে অপরাধ বা বৈষম্য কেন?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—মা যদি শিশুর প্রথম শিক্ষক হন এবং পরিবার যদি তার প্রথম শিক্ষার জায়গা হয়, তাহলে বড় হয়ে মানুষ অপরাধ, সহিংসতা বা বৈষম্যমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ে কেন?

এর উত্তর শুধু পারিবারিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবার ছাড়াও বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি এবং বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর প্রভাব থাকে।

শৈশবে পরিবার ইতিবাচক মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি নতুন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসে এবং নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। এসব বাহ্যিক প্রভাব তার চিন্তা ও আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষাও জরুরি

একটি শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবারের শিক্ষা ও পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল শিশুকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়; আর পরিবার তার আচরণ, মূল্যবোধ, সম্পর্কবোধ ও সামাজিকতার প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে শিশুর জীবনের প্রথম বছরগুলোতে মা-বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, যত্ন, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে পরিবার শিশুর ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনে শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

তাই শিশুর লালন-পালনকে শুধু খাবার, পোশাক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানো এবং ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

৫ অক্টোবর ২০২৬, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, তাঁদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।

জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ১০০ শিক্ষককে

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর জাতীয় সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

কোন স্তরে কতজন শিক্ষক

এবার প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষক সম্মাননা পেয়েছেন। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ জন, মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে।

যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষকরা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পৃথক সার্চ কমিটি শিক্ষকদের একটি প্যানেল তৈরি করে। পরে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সেই প্যানেল থেকে ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে।

যেভাবে শুরু বিশ্ব শিক্ষক দিবস

বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর, ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইউনেসকোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

কালের আলো/এসএ

ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন কিংবা কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখবেন—ভ্রমণের আগে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এত দিন গুগল সার্চ, ট্রাভেল ব্লগ কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ভ্রমণ পরিকল্পনার নতুন সহকারী।

ভ্রমণকারীর পছন্দ, বাজেট ও প্রয়োজন বুঝে গন্তব্য নির্বাচন থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনাও করে দিতে পারছে এআই। ফলে একজন ভ্রমণকারীকে আলাদা করে অসংখ্য ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে না। বরং এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই তৈরি করা সম্ভব হতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা।

এআইয়ের মাধ্যমে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যও পর্যটনে প্রযুক্তি ও এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে—‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম’। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বুকিং ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লেন ফোগল বলেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে এআই বিপুল পরিমাণ তথ্যকে মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলছে।

তাঁর মতে, ভবিষ্যতে একজন ভ্রমণকারী এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই পুরো ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। শুধু বিমান ও হোটেল বুকিং নয়, রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করা কিংবা গলফ খেলার সময় নির্ধারণের মতো কাজও একই ব্যবস্থার মাধ্যমে করা সম্ভব হতে পারে।

পুরোনো ট্রাভেল এজেন্টের আধুনিক বিকল্প

এ ব্যবস্থাকে পুরোনো দিনের ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন গ্লেন ফোগল। তবে তাঁর মতে, বড় পার্থক্য হলো তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতায়।

একজন ট্রাভেল এজেন্ট সাধারণত সীমিত কিছু তথ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করতেন। বিপরীতে এআই একই সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ভ্রমণকারীর পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প সাজিয়ে দিতে পারে।

এমনকি ভ্রমণের কোনো একটি অংশে পরিবর্তন এলে পুরো পরিকল্পনাটিও নতুন করে সাজিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে সময়, বাজেট কিংবা গন্তব্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করাও সহজ হবে।

তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্নও

তবে পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এআই কোন গন্তব্যগুলোকে ভ্রমণকারীদের সামনে বেশি তুলে ধরবে—এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অর্থের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য, হোটেল বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এআইয়ের পরামর্শে বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুবিধা পেতে পারে। এতে পর্যটকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা প্রভাবিত হবে, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ ভবিষ্যতের পর্যটনে শুধু তথ্য পাওয়ার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সেই তথ্য কে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কোন তথ্য ভ্রমণকারীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে

পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। গ্লেন ফোগলের মতে, এআই গ্রাহকসেবা দ্রুত ও সহজ করতে পারলেও এর ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা কিছু চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি ও কল সেন্টারের মতো কিছু কাজ এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন ধরনের দক্ষতা তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও জরুরি হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ

পর্যটনে এআইয়ের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণকারীরা যখন গন্তব্য খুঁজতে এআইনির্ভর ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভর করবেন, তখন বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য এসব এআই ব্যবস্থায় থাকা জরুরি হয়ে উঠবে।

কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য, ছবি, যোগাযোগব্যবস্থা, থাকার জায়গা ও পর্যটন সুবিধার তথ্য সহজলভ্য করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের গন্তব্যগুলো আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

তাই এআই শুধু ভ্রমণকারীর পরিকল্পনাকে সহজ করছে না, একই সঙ্গে কোন দেশ বা গন্তব্য বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে কতটা দৃশ্যমান হবে, সেই প্রতিযোগিতাকেও নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

কালের আলো/এসএ