খুঁজুন
                               
, ,
           

ঠাকুরগাঁওয়ে ঐতিহ্য আর সুরের মূর্ছনায় বাংলা নববর্ষ বরণ

ঠাকুরগাঁও প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে ঐতিহ্য আর সুরের মূর্ছনায় বাংলা নববর্ষ বরণ

বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে বইছে প্রাণের উচ্ছ্বাস; লাল-সাদার রঙে সেজেছে চারপাশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বর্ষবরণের মূল আয়োজন শুরু হয় শহরের আদালত চত্বরের বটতলায়, নিক্বণ সংগীত বিদ্যালয়ের সুরের মূর্ছনায়। দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালন করে আসা এই সংগঠনটি আয়োজন করে আসছে প্রভাতি অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানকে ঘিরে বটতলা সাজানো হয় বর্ণিল সাজে, আর ছায়ানটের আদলে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন মঞ্চ।

ভোরে নতুন বছরের প্রথম সূর্যকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে ও রাগ ভৈরবীর সুরে শুরু হয় বর্ষবরণ। এরপর পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত হয় সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক আয়োজন। কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অতুলপ্রসাদ সেন ও রজনিকান্ত সেন— এই পঞ্চকবির গান পরিবেশনের পাশাপাশি থাকবে আবৃত্তি, তবলা, সেতার ও সরোদের মনোমুগ্ধকর যন্ত্রসংগীত।

এছাড়া লালন সংগীত, লোকগান ও ভাওয়াইয়া পরিবেশনা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলে।

নিক্বণের এই ঐতিহ্যবাহী প্রভাতি অনুষ্ঠান শেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে বের হবে একটি বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ। গ্রামীণ ঐতিহ্য, মুখোশ ও রঙিন ব্যানারে শোভাযাত্রা হয়ে উঠবে বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ।

এছাড়া দিনব্যাপী চলবে বৈশাখি মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন আয়োজন। শহরের বিভিন্ন স্থানে বসবে লোকজ পণ্যের দোকান, খাবারের স্টল এবং শিশু-কিশোরদের জন্য থাকবে নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম।

সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

আয়োজকরা জানান, নববর্ষ শুধু উৎসব নয়— এটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐতিহ্য ও নতুন আশার প্রতীক। আনন্দ, সম্প্রীতি ও নতুন স্বপ্নের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসী বরণ করে নিচ্ছে নতুন বছর— ‘শুভ নববর্ষ ১৪৩৩’।

কালের আলো/ এসাআর/এএএন 

মেট্রোরেলে সংরক্ষিত আসনে বসা নিশ্চিত করল ভ্রাম্যমাণ আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
মেট্রোরেলে সংরক্ষিত আসনে বসা নিশ্চিত করল ভ্রাম্যমাণ আদালত

রাজধানীর মেট্রোরেলে প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত আসনে তাদের বসা নিশ্চিত করতে তদারকি চালিয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে আগারগাঁও ও শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় যাত্রীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমটিসিএলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে।

সংরক্ষিত আসনে বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত
অভিযানের অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের কোচে প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ‘অগ্রাধিকার আসন’ বা প্রায়োরিটি সিট তদারকি করা হয়। এসব আসনে নির্ধারিত যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রোরেলের প্রতিটি কোচে শুরু থেকেই প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুবিধার্থে অগ্রাধিকার আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন করতে প্রতিটি স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা প্রচার করা হয়।

আগারগাঁওয়ে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ
আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত ও আশপাশের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকানপাট এবং বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থাপনার কারণে যাত্রীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে।

অভিযানের মাধ্যমে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শাহবাগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
এদিকে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায়ও পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ডিএমটিসিএলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে যাত্রীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ভাসমান দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষিত আসন ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে ডিএমটিসিএলের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

জামায়াতকে হারিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিজয়ী ফয়সল

ঠাকুরগাঁও,সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
জামায়াতকে হারিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিজয়ী ফয়সল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন মির্জা ফয়সল আমীন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মির্জা ফয়সল আমীন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেনের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার চিত্র তুলে ধরেছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গণনা করা হয়। পরে ১৮৫টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পাঁচ প্রার্থী
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন ছাড়াও নির্বাচনে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। প্রার্থীদের প্রতীক ছিল যথাক্রমে বটগাছ, হাতপাখা ও ডাব। ১৮৫টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তবে এটি বেসরকারি ফলাফল; চূড়ান্ত সরকারি ফলাফল নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

খাদ্যগুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
খাদ্যগুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো নির্মাণে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং খাদ্যশস্য দীর্ঘ সময় নিরাপদে সংরক্ষণের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেশি হয়, সেসব এলাকায় গুদাম নির্মাণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান পুরোনো গুদামগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর বক্তব্য দেন। তাঁরা খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা, গুদামের মান উন্নয়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ খাদ্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুদামের আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি