শরীয়তপুরে কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। এর মধ্যে গত দুই বছর ধরে সেতু দুটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে জরাজীর্ণ পুরোনো সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহনকে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী, চালক ও সাধারণ মানুষ। শরীয়তপুর সদর উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় একটি এবং সেখান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট এলাকায় অন্য সেতুটি নির্মাণাধীন। শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, এ পথে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করেন।
জরাজীর্ণ সেতুতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর শহর থেকে জাজিরার নাওডোবা পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটির দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। দুই লেনের চেয়েও কম প্রশস্ত এই সড়কটি একসময় পদ্মা নদী পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম পথ ছিল। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পরও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এর ওপর থাকা পুরোনো সেতু দুটির গুরুত্বও বেড়েছে।
১৯৯১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রেমতলায় ১১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের একটি সেতু নির্মাণ করে। একই সময়ে জাজিরার কাজীরহাট এলাকায় নির্মাণ করা হয় ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের আরেকটি সেতু। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ব্যবহারের ফলে সেতু দুটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও সেতুর মেঝে ও রেলিং থেকে রড বেরিয়ে এসেছে। সরু সেতুতে এক পাশ দিয়ে যানবাহন উঠলে বিপরীত দিক থেকে অন্য যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং প্রায়ই দেখা দেয় যানজট।
কাজীরহাট সেতুতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট যানজট
পুরোনো সেতুর কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন কাজীরহাট এলাকার পথ ব্যবহারকারীরা। শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের চালক লোকমান হোসেন জানান, প্রতিদিন তিনি একবার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যান এবং পরে ঢাকা থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসেন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শরীয়তপুর থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগার কথা। কিন্তু কাজীরহাট এলাকায় যানজটের কারণে তাঁর প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। লোকমান হোসেন বলেন, কাজীরহাটের পুরোনো সেতু এলাকায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর্যন্ত যানজটে বসে থাকতে হয়। এতে যাত্রীরা বিরক্ত হন এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। গোসাইরহাট সদরের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন সপ্তাহে দুই দিন ব্যবসার কাজে ঢাকায় যান। তাঁর অভিজ্ঞতাও একই রকম। তিনি বলেন, ‘ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে উঠলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটে জাজিরার নাওডোবায় পৌঁছানো যায়। তবে কাজীরহাটের পুরোনো সেতু এলাকায় যানজটে অতিরিক্ত ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যয় হয়। অবশ্য প্রেমতলা সেতু এলাকায় সাধারণত যানজট হয় না।’
শরীয়তপুর শহর থেকে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে ২০২০ সালে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। ওই প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সেতু দুটির স্থলে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সওজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রেমতলায় ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের এবং কাজীরহাটে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের দুটি সেতু নির্মাণের কথা। সেতু দুটির জন্য ব্যয় ধরা হয় ৫৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১ এপ্রিল জামিল ইকবাল লিমিটেড ও মোজাহারুল এন্টারপ্রাইজকে যৌথভাবে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সেতু দুটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাজীরহাট সেতুর প্রায় ৬০ শতাংশ এবং প্রেমতলা সেতুর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা তিনবার বাড়ানো হয়েছে।

চতুর্থবার সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার সরেজমিনে কাজীরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির নির্মাণকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। নদীর মধ্যে সেতুর কিছু অংশ নির্মিত হলেও বাকি কাজ এগোয়নি। সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী নির্মাণসামগ্রী পাহারা দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে প্রেমতলা সেতুর মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সেতুতে ওঠার সংযোগ সড়ক, রেলিং এবং বিভিন্ন সার্ভিস লাইনের কাজ এখনো বাকি। এসব কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন সেতুটি যান চলাচলের জন্য চালু করা যাচ্ছে না।
ভূমি অধিগ্রহণ ও ব্যয়বৃদ্ধির কারণ দেখাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত কাজের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে চুক্তিমূল্যের বাইরে আরও ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ৫৮ কোটি টাকার চুক্তিমূল্যের বিপরীতে যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ৪৪ কোটি ৮২ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়েছে। তবে বাকি কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী কিংশুক মণ্ডল জানান, করোনাকালে কাজটি তাঁরা পেয়েছিলেন। কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। এরপর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। কিংশুক মণ্ডল আরও জানান, সেতু দুটিতে কিছু অতিরিক্ত কাজ করতে হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক দফায় নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে। এসব কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সওজের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে বাকি কাজ শেষ করে সেতু দুটি সওজের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দ্রুত কাজ শেষের অপেক্ষায় যাত্রীরা
কীর্তিনাশা নদীর ওপর নতুন সেতু দুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং শরীয়তপুর-জাজিরা সড়কে যান চলাচল সহজ করতে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সেই সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। বর্তমানে পুরোনো সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানজট নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কাজীরহাট এলাকায় সরু সেতুর কারণে সময় নষ্ট হচ্ছে ঢাকাগামী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের।
কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি
কোথাও স্বস্তি, কোথাও শঙ্কা—দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক চিত্র যেন দুই বিপরীত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। খুন, ডাকাতি, দস্যুতা ও দাঙ্গার মতো অপরাধ কমেছে। কিন্তু সেই স্বস্তির ছবিকে ম্লান করছে ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত অপরাধ ও চুরির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বিশেষ করে ধর্ষণ ও মাদকের ক্ষেত্রে মামলার সংখ্যা যে হারে বেড়েছে, তা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৯৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ১৩ হাজার ৭৯০টি। শতকরা হিসাবে বৃদ্ধির হার প্রায় ১০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানের একদিকে রয়েছে কয়েকটি অপরাধ কমে আসার ইতিবাচক বার্তা, অন্যদিকে রয়েছে এমন কিছু অপরাধের বিস্তার, যেগুলো মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
- কমেছে খুন, ডাকাতি ও দাঙ্গা
- ঊর্ধ্বমুখী ধর্ষণ, মাদক ও চুরির ঘটনা
- প্রশ্নের মুখে জননিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ
জাতীয় সংসদ ভবনে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গত বছরের সঙ্গে চলতি বছরের অপরাধ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
কমেছে খুন, ডাকাতি ও দাঙ্গা
অপরাধের পরিসংখ্যানে স্বস্তির জায়গাটি মূলত সহিংসতা ও কয়েকটি গুরুতর অপরাধের হ্রাস। গত বছরের প্রথম নয় মাসে দেশে ২ হাজার ৯১৩টি খুনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯টিতে। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ড কমেছে ২৫৪টি। ডাকাতির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছরের ৫৩৮টি ঘটনার বিপরীতে চলতি বছরে নথিভুক্ত হয়েছে ৩৮৭টি। দস্যুতার সংখ্যা ১ হাজার ৪৮৩ থেকে কমে হয়েছে ১ হাজার ৩৭৪টি। আর দাঙ্গার ঘটনা ৬২টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭টিতে।
অপহরণের ঘটনাও ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টিতে নেমেছে। বিস্ফোরকদ্রব্য-সংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যা ২৮৬ থেকে কমে ১৮৮ হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনের আওতাভুক্ত অপরাধও ৭৪৩টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯৫টিতে। এসব পরিসংখ্যান অপরাধের কয়েকটি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই উন্নতির পাশাপাশি অন্য অপরাধগুলোর দ্রুত বৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে সামগ্রিকভাবে স্বস্তিদায়ক বলার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে।
ধর্ষণের পরিসংখ্যানে বড় ধাক্কা
নয় মাসের অপরাধচিত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি। গত বছরের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের মামলা ছিল ৪ হাজার ১১০টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৩৮১টি। এক বছরে মামলা বেড়েছে ১ হাজার ২৭১টি, বৃদ্ধির হার প্রায় ৩১ শতাংশ।
তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব আরও উদ্বেগজনক। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা গত বছরের ১ হাজার ৩৭০টি থেকে বেড়ে চলতি বছরে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২৯টিতে। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে বেড়েছে ৭৫৯টি ঘটনা। এই প্রবণতা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে এসেছে। অপরাধের পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার হিসাব নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা, মানসিক ক্ষতি এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্ন।
অন্যদিকে, নারী নির্যাতনের মামলা পুরো নয় মাসের হিসাবে কমেছে। গত বছরের ৯ হাজার ২৬২টি থেকে এ বছর তা নেমে এসেছে ৮ হাজার ১৭৮টিতে। শিশু নির্যাতনের ঘটনাও ৩ হাজার ৫৯১টি থেকে কমে ৩ হাজার ১৫১টিতে দাঁড়িয়েছে। তবে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা চারটি থেকে বেড়ে পাঁচটি হয়েছে।
মাদক মামলায় ১৪ হাজারের বেশি বৃদ্ধি
অপরাধের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগত বৃদ্ধি ঘটেছে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলায়। গত বছরের প্রথম নয় মাসে এ ধরনের মামলা ছিল ৩৯ হাজার ৫০টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৭২টিতে। অর্থাৎ এক বছরে বেড়েছে ১৪ হাজার ২২২টি মামলা, যা প্রায় ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
তৃতীয় প্রান্তিকেও এই প্রবণতার পরিবর্তন হয়নি। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে মাদকসংক্রান্ত মামলা ছিল ১৪ হাজার ১০৩টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৬৫১টি। মাত্র তিন মাসে মামলার সংখ্যা বেড়েছে ৬ হাজার ৫৪৮টি।
এই পরিসংখ্যান মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। তবে মামলা বৃদ্ধির অর্থ মাদকের প্রকৃত বিস্তার একই হারে বেড়েছে, এমনটি বলা যাবে না। অভিযান ও শনাক্তকরণ বৃদ্ধি কিংবা মামলা দায়েরের পরিবর্তনও এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
চুরির ঘটনাও বাড়ছে
সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত চুরির ঘটনাতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। গত বছরের প্রথম নয় মাসে সিঁধেল চুরির মামলা ছিল ২ হাজার ২৫৫টি। চলতি বছরে তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪৪৫টি। সাধারণ চুরির ঘটনাও ৭ হাজার ২৭৩টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩৪০টিতে। সংখ্যাগত বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এ ধরনের অপরাধ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদ, বাসস্থান ও দৈনন্দিন নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, দায়িত্ব পালনকালে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা গত বছরের ৪৬৩ থেকে কমে চলতি বছরে ৪৪১ হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।
তৃতীয় প্রান্তিকের চিত্র আরও তাৎপর্যপূর্ণ
পুরো নয় মাসের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের হিসাবও অপরাধের প্রবণতা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে দেশে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪টি মামলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে হয়েছিল ৪৬ হাজার ৪৭৯টি। তিন মাসে মামলা বেড়েছে ৮ হাজার ৯৭৫টি, অর্থাৎ প্রায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ।
এই সময়ে খুনের ঘটনা ৯৮০টি থেকে কমে ৮৮১টিতে নেমেছে। বিপরীতে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ১ হাজার ৩৭০টি থেকে ২ হাজার ১২৯টিতে। নারী নির্যাতনের ঘটনা ৩ হাজার ১২৫টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ২৩৬টি। মাদকসংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনাও তৃতীয় প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে নয় মাসের পরিসংখ্যানে যে উদ্বেগ দেখা গেছে, বছরের শেষ তিন মাসের আগের হিসাবেও তার প্রতিফলন রয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির চিত্রে সন্তোষ
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র থাকায় সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জাতীয় সংসদের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বৈঠকে মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ সময়োপযোগী। তথ্য বিশ্লেষণ, অপরাধপ্রবণ এলাকা শনাক্তকরণ, ডিজিটাল নজরদারি এবং দ্রুত তদন্তের ক্ষেত্রে প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রযুক্তি নিজে অপরাধের সমাধান নয়; এর কার্যকারিতা নির্ভর করে সঠিক প্রয়োগ, দক্ষ জনবল, নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির ওপর। ধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণ, চুরি প্রতিরোধ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ এবং বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কালের আলো/আরআই/এমকে
শীতের আমেজ শুরু হতেই অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠছে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি চলনবিল। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের উপস্থিতি বাড়ায় খাবারের সন্ধানে আসছে নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি। কিন্তু প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে না সব পাখি। একশ্রেণির শিকারির পাতা ফাঁদে ঝাঁকে ঝাঁকে আটকা পড়ছে তারা। কোথাও জাল, কোথাও কলাপাতা ও খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি বিশেষ ঘর, আবার কোথাও বিষটোপ ব্যবহার করে চলছে পাখি শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিকার করা পাখির একটি অংশ নিজেদের খাবারের জন্য রাখা হলেও বাকিগুলো বিক্রি করা হয় বিভিন্ন হাট-বাজারে। এমনকি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে আইন ও প্রশাসনিক অভিযান থাকলেও নিয়মিত শিকার ঠেকানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।
মাছের খোঁজে চলনবিলে অতিথি পাখি
পরিবেশবাদীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় চলনবিলের বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে পুঁটি, খলসে ও দারকে মাছের দেখা মিলছে। এসব মাছের আকর্ষণে সাদা বক, বালিহাঁস, মাছরাঙা, সারস ও পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলাঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছে। খাবারের সন্ধানে পাখিগুলো এক বিল থেকে আরেক বিলে উড়ে বেড়ায়। বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও ফসলের মাঠে তাদের অবাধ বিচরণে প্রাণ ফিরে পায় প্রকৃতি। কিন্তু পাখির এই আগমনকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন শিকারিরা। বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদ পেতে পাখি ধরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলাপাতা ও খেজুরের ডালে তৈরি বিশেষ ফাঁদ
চলনবিল অঞ্চলে পাখি শিকারের অন্যতম প্রচলিত কৌশল হলো বাঁশের খুঁটি, কলাপাতা, খেজুরের ডাল ও বেতের পাতা দিয়ে তৈরি বিশেষ ঘর বা ফাঁদ। প্রায় ৬ থেকে ৭ ফুট উঁচু এই ফাঁদ এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখির ঝাঁক সহজেই সেখানে বসে পড়ে। ফাঁদের সামনে বাঁশের মগডালে রাখা হয় একটি পোষা বক। আকাশে বকের ঝাঁক দেখা গেলে শিকারি পোষা বকটিকে নাচাতে থাকেন। একপর্যায়ে বকটি ডাকাডাকি শুরু করলে আশপাশের বকেরা ফাঁদের ওপর বসে। তখন ফাঁদের ভেতরে থাকা শিকারিরা একে একে পাখিগুলো ধরে খাঁচায় ভরেন। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের ফাঁদকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। চলনবিলাঞ্চলে এই কৌশলের প্রচলন বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বড়শি, বিষটোপ ও জালেও আটকা পড়ছে পাখি
শুধু বিশেষ ঘর তৈরি করেই নয়, আরও নানা উপায়ে পাখি শিকার করা হচ্ছে। বড়শির মুখে মাছ গেঁথে পাখিকে আকৃষ্ট করা হয়। কোথাও খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বিষটোপ দেওয়া হচ্ছে। আবার বিলের ভেতরে ধানখেতে আড়াআড়িভাবে জাল পেতে রাখা হয়, যেখানে খাবারের সন্ধানে আসা পাখি আটকা পড়ে। এসব ফাঁদের কারণে পাখি আহত বা মারা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিষটোপের ব্যবহার শুধু লক্ষ্য করা পাখির জন্যই নয়, অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে। ফলে পাখি শিকার বন্ধের পাশাপাশি বিষটোপ ও অবৈধ ফাঁদ অপসারণের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা।
রাতের অন্ধকারেও চলে শিকার, হাটে বিক্রি
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে বন্দুক ব্যবহার করেও পাখি শিকার করেন। শিকার করা পাখি নিজেদের খাওয়ার পাশাপাশি বস্তায় ভরে বিক্রি করা হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়িতে খাবারের জন্য পাখি পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিকারি জানান, তাঁরা বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে খুঁটি পুঁতে কলাপাতা ও খেজুরের ডাল দিয়ে ফাঁদ তৈরি করেন। পাশাপাশি বিষটোপ ব্যবহার করেও পাখি শিকার করেন। ভোরে দল বেঁধে বিলে গিয়ে শিকার করা হয়। একেকজন শিকারি ১০টি থেকে শুরু করে শতাধিক পাখিও ধরেন বলে তাঁদের ভাষ্য। শিকারিদের কেউ কেউ জানান, এসব পাখির ক্রেতা রয়েছে এবং বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাঁদের অনেকেই পাখি শিকার যে অপরাধ, সে বিষয়ে সচেতন নন বলেও দাবি করেছেন।
দুই শতাধিক কোয়েল পাখি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল হাটে
সরেজমিনে গিয়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে শিকারিদের জালে বন্দি প্রায় দুই শতাধিক কোয়েল পাখি দেখা যায়। রাতের শেষ প্রহর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব পাখি শিকার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে সেগুলো বিক্রির জন্য হাটে নেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বাজারে শিকার করা পাখির দামও প্রজাতিভেদে আলাদা। বক বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। বালিহাঁসের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর চাকলা পাখি বিক্রি হচ্ছে জোড়া ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া কেউ কেউ হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরেও পাখি বিক্রি করেন। প্রকাশ্যে এভাবে পাখি বিক্রির ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও শিকার নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পরিবেশবাদীদের মতে, শিকারিদের পাশাপাশি পাখি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ,পাখি শিকার বন্ধে চলনবিলের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়মিত কাজ করছে। তারা শিকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ফাঁদ থেকে পাখি উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি।
সংগঠনটির সদস্যদের সহায়তায় শনিবার ভোরে নাটোরের সিংড়ায় পোষা বক ব্যবহার করে বক শিকারের অভিযোগে তিন শিকারির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। অভিযান চলাকালে চলনবিলের আগমুরশন, বামিহাল, কাকিয়ান ও পূর্বভেংড়ী বিল এলাকা থেকে বক শিকারের কাজে ব্যবহৃত অর্ধশত পোষা ও শিকার করা বক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ধানখেতে তৈরি ১০টি ‘কিল্লা ঘর’ নামের ফাঁদ ধ্বংস করা হয়। পরে সিংড়ার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) উপস্থিতিতে উদ্ধার করা পাখিগুলো মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, চলনবিলের ধানখেতে ফাঁদ পেতে নিয়মিত পাখি শিকার করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়। পরিবেশকর্মীদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে পাখি শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। শিকারিদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ ফাঁদ অপসারণ এবং শিকার করা পাখির বেচাকেনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শীতের মৌসুমে চলনবিল পরিযায়ী পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। এসব পাখি জলাভূমির খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]