খুঁজুন
                               
, ,
           

পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, বন্ধুত্বে বাঁধা দুই সম্প্রদায়

রাজশাহী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, বন্ধুত্বে বাঁধা দুই সম্প্রদায়

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির। একদিকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে শোনা যায় শঙ্খধ্বনি। মসজিদে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা, আর মন্দিরে পূজা-অর্চনায় মগ্ন হন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দুই ধর্মের মানুষের উপাসনালয় পাশাপাশি হলেও সেখানে নেই বিরোধের ছায়া। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়ে উঠেছে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পশ্চিম ঝিকরা গ্রামের এই চিত্র যেন ধর্মীয় সহাবস্থানের জীবন্ত উদাহরণ। বড়াল নদের পাড়ঘেঁষা এই জনপদে ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও মানুষের সামাজিক বন্ধন দৃঢ়। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।

পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, নেই বিরোধ

গ্রামের কর্মকারপাড়ায় প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৫-০৬ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি কালীমন্দির। এরপর থেকে সেখানে কালীপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন হয়ে আসছে। পরে ২০২১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে মন্দিরের পাশেই নির্মাণ করা হয় পশ্চিম ঝিকরা জামে মসজিদ। একই আঙিনায় দুই ধর্মের উপাসনালয় গড়ে ওঠার পর শুরুতে কারও কারও মনে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আজান, নামাজ, পূজা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালনের সময় কোনো ধরনের সমস্যা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে গত পাঁচ বছরে সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

মন্দির ও মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনায় একে অপরের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়। ধর্মীয় আচার পালনের সময় শব্দ ও পরিবেশের বিষয়েও সচেতন থাকেন সংশ্লিষ্টরা। এভাবেই দৈনন্দিন জীবনে সম্প্রীতির চর্চা করছেন গ্রামের মানুষ। মন্দিরের সভাপতি উত্তম কর্মকার বলেন, এই মন্দিরে দুই দশকের বেশি সময় ধরে পূজা হয়ে আসছে। পাশে মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দিকে কোনো সমস্যা হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরাও ভেবেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এই মন্দিরে দুই দশকের বেশি সময় ধরে পূজা হচ্ছে। পাশে মসজিদ হওয়ার পর ভেবেছিলাম, কোনো সমস্যা হবে কি না। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। আজানের সময় আমরা মাইকের শব্দ বন্ধ রাখি। পূজার সময়ও পারস্পরিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হয়। মুসলমান ভাইদের সঙ্গে আমাদের কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি।’

উত্তম কর্মকারের বক্তব্যে উঠে আসে, ধর্মীয় পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের ধর্মীয় কার্যক্রমের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ টিকে আছে।

মসজিদ ও মন্দিরের সভাপতির মধ্যে বন্ধুত্ব

পশ্চিম ঝিকরার সম্প্রীতির গল্পে বিশেষভাবে উঠে আসে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মুশফিকুর রহমান ও মন্দিরের সভাপতি উত্তম কর্মকারের বন্ধুত্ব। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আন্তরিক। একে অপরের বাড়িতে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া এবং বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়া তাঁদের নিয়মিত জীবনের অংশ। মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি মসজিদের সভাপতি, আর আমার বন্ধু অপু মন্দিরের সভাপতি। আমরা ভিন্ন ধর্মের মানুষ হলেও একসঙ্গে আড্ডা দিই। একে অপরের দাওয়াতে যাই। ঈদে তারা আমাদের বাড়িতে আসে, পূজায় আমরাও যাই। দিন শেষে আমরা সবাই একই গ্রামের মানুষ। এটাই আমাদের বড় পরিচয়।’ তাঁদের এই বন্ধুত্ব শুধু দুই ব্যক্তির সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং গ্রামের অন্য বাসিন্দাদের মধ্যেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরের পাশে থাকার বিষয়টিই এখানে বেশি গুরুত্ব পায়।

ঈদ-পূজায় একে অপরের পাশে দাঁড়ান গ্রামবাসী

পশ্চিম ঝিকরার সম্প্রীতি ধর্মীয় উৎসবগুলোতেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুর্গাপূজার সময় মুসলিম যুবকেরা মন্দিরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে ঈদের সময় হিন্দু যুবকেরাও মসজিদসংলগ্ন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করেন। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করা, প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে মসজিদ ও মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান তাঁদের কাছে কেবল দুটি উপাসনালয়ের সহাবস্থান নয়; এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও মানবিকতার প্রতীক। গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন আচরণেও এই সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায়। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সামাজিক ও পারিবারিক নানা প্রয়োজনে তাঁরা একে অপরের সহযোগিতা নেন। একই জনপদের মানুষ হিসেবে পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট রাখার বিষয়টিকেই তাঁরা গুরুত্ব দেন।

‘সারা বাংলাদেশের জন্য উদাহরণ’

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস পশ্চিম ঝিকরার এই সম্প্রীতির প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা উৎসবকে আরও সুন্দর করে তোলে। তিনি বলেন, ‘পশ্চিম ঝিকরার এই চিত্র সারা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ। উৎসব সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। এখানকার মানুষ তা প্রমাণ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সম্প্রীতি অটুট রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস স্থানীয়দের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সামাজিক বন্ধন

গ্রামের প্রবীণদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিভেদ সমাজে দূরত্ব তৈরি করলেও পশ্চিম ঝিকরায় ধর্মীয় পরিচয় মানুষের সম্পর্কের মধ্যে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়নি। এক সম্প্রদায়ের আনন্দে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও শামিল হন। একইভাবে বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর চর্চাও রয়েছে। এই গ্রামের অভিজ্ঞতা দেখায়, ধর্মীয় সম্প্রীতি কেবল বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিষয় নয়; দৈনন্দিন জীবনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই তা ধরে রাখা সম্ভব। প্রতিবেশীর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানানো এবং মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্ক অটুট রাখার মানসিকতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ফিরেছে ৮০ শতাংশ, তবু কাটেনি বিশ্ববাজারের সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ফিরেছে ৮০ শতাংশ, তবু কাটেনি বিশ্ববাজারের সংকট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে পরিমাণ তেল পরিবহন হতো, তার প্রায় ৮০ শতাংশে ফিরে এসেছে সরবরাহ। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে প্রতিদিন ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তবে তেল পরিবহন বাড়লেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। অপরিশোধিত তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও বিভিন্ন দেশে জমা থাকা মজুত সহায়ক ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন।

হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন বেড়েছে, ফিরেছে আগের মাত্রার ৮০ শতাংশ
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতিদিন এ প্রণালি দিয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনে এ নৌপথের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে পরিবহন ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ, মূল্য এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।

যুদ্ধের কারণে এ পথে তেল পরিবহনে বিঘ্ন তৈরি হলেও সরবরাহ আগের মাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসার বিষয়টি বিশ্ববাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত। তবে পরিবহন এখনো যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

অতিরিক্ত উৎপাদন ও মজুতে সামাল দেওয়া হচ্ছে তেলের সংকট
সাক্ষাৎকারে ক্রিস রাইট বলেন, সরবরাহে বাধা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা এবং বিভিন্ন দেশের বড় জ্বালানি মজুতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে গেলে সাধারণত দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ এবং মজুত থেকে তেল সরবরাহ করার সক্ষমতা বাজারের ঘাটতি সামাল দিতে সহায়তা করে। হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী।

তবে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি বলে সতর্ক করেছেন তিনি। অর্থাৎ, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা এখনো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য উদ্বেগের কারণ।

ডিজেলের মজুত বাজারে ছাড়তে ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা
অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। ক্রিস রাইট জানান, বড় পরিমাণ ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে ওয়াশিংটন। তবে এ বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে ধীরগতিতে।

ডিজেল পরিবহন, পণ্য সরবরাহ, কৃষিকাজ এবং শিল্প উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়। ফলে এ জ্বালানির সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হলে শুধু পরিবহন ব্যয়ই নয়, পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ধীরগতির কারণে এ উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি ও বাজারে এর প্রভাব এখনো অনিশ্চিত।

রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করল যুক্তরাষ্ট্র
জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় বিশ্ববাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মস্কো।

ক্রিস রাইট স্পষ্ট করেছেন, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত শুধু ডিজেল রপ্তানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, এ সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে রাশিয়ার এই প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ঘোষিত পরিমাণের জ্বালানি কখন এবং কীভাবে বাজারে পৌঁছাবে, তার ওপরই সরবরাহ পরিস্থিতিতে উদ্যোগটির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে।

জ্বালানির দাম কমানোই ট্রাম্পের উদ্যোগের লক্ষ্য
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি নিয়ে নেওয়া উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি জ্বালানি সরবরাহ করা নয়। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়িয়ে জ্বালানির দাম কমানোই এর মূল লক্ষ্য।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়লে দাম বৃদ্ধির চাপ কমতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিবহন ব্যাহত হলে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে সরবরাহ বৃদ্ধি কতটা দ্রুত হবে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নির্ভর করবে উৎপাদন, পরিবহন ও চাহিদার সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ের প্রায় ৮০ শতাংশে ফিরে আসা এবং রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ বিশ্ববাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় জ্বালানি বাজারের ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

একদিকে হরমুজ প্রণালিতে পরিবহন পরিস্থিতি, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মজুত ব্যবস্থাপনা এবং রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি—সবকিছুই জ্বালানির ভবিষ্যৎ দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সরবরাহ বাড়ার ইতিবাচক খবর এলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও স্থিতিশীলতা নিয়ে এখনই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। সূত্র: শাফাক নিউজ

কালের আলো/এএইচ/এসএ

ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি, পদত্যাগপত্র দিয়েও দায়িত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি, পদত্যাগপত্র দিয়েও দায়িত্বে থাকছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পদত্যাগের প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেননি তিনি। বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সংকট মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে যেসব দুর্বলতা ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নিতে বলেছেন তিনি।

পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান, দায়িত্বে থাকছেন নুনেজ
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এলিসি প্রাসাদের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার, ১৮ অক্টোবর, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে দেশের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্ব অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি মাখোঁ।

ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ গ্রহণ না করে তাঁকে দায়িত্বে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সরকারের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আপাতত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান নেতৃত্বের ওপরই আস্থা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা খতিয়ে দেখার নির্দেশ
বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যেসব ব্যর্থতা ছিল, সেগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন মাখোঁ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

সহিংসতা প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতি, গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ ব্যবহার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ের বিষয়গুলো এখন সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোথায় দুর্বলতা ছিল, কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

অক্টোবরের শুরু থেকে বিক্ষোভ, রাজপথে লাখো মানুষ
অক্টোবরের শুরু থেকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ চলছে। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। অন্যদিকে আন্দোলনের আয়োজকদের দাবি, ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাব ও আয়োজকদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকলেও উভয় হিসাবেই বিক্ষোভের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন কীভাবে দেশজুড়ে বিস্তৃত হলো এবং এর সঙ্গে সহিংসতা কীভাবে যুক্ত হলো, তা নিয়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভের ব্যাপকতা সরকারের জন্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্দোলন মোকাবিলার কৌশল নিয়েও নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে।

বিক্ষোভে গ্রেপ্তার প্রায় ২ হাজার ৪০০, আহত নিরাপত্তাকর্মী ৯৯৭
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৯৯৭ সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের আঘাত গুরুতর বলে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং লুটপাটের মতো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাহিনীগুলোকে ব্যাপক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সংখ্যা ও নিরাপত্তাকর্মীদের হতাহতের হিসাব সামনে আসার পর সহিংসতার দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাইকে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে এক করে দেখার বিরোধিতা করেছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ।

বৈধ আন্দোলন ও ধ্বংসযজ্ঞে জড়িতদের আলাদা করে দেখার আহ্বান
রোববার, ১৮ অক্টোবর, টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, আন্দোলনকারীদের বৈধ দাবি এবং ভাঙচুর, লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে আলাদা করে দেখতে হবে। তাঁর বক্তব্যে আন্দোলনের পেছনে থাকা দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অবস্থান তুলে ধরা হয়।

মাখোঁ বলেন, যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের শাস্তি পেতে হবে। নজিরবিহীন সহিংসতার কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে বৈধ দাবি নিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ
ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন সরকারের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, সহিংসতা ও লুটপাট নিয়ন্ত্রণ করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকারীদের বৈধ দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি আরও অবনতির হাত থেকে রক্ষা করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করে মাখোঁ আপাতত বিদ্যমান নেতৃত্বের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যর্থতার বিষয়গুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পরিবর্তন আনা না গেলে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত, সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিক্ষোভের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশে নির্ভর করবে। সূত্র: শাফাক নিউজ

কালের আলো/এএএন/এসএ 

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন জরুরি, বিরোধীদের সহযোগিতা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন জরুরি, বিরোধীদের সহযোগিতা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। এ জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, এ বিষয়ে সরকারকে সহযোগিতা করছে না বিরোধী দল। তবে সরকার চায়, বিরোধী দল সরকারকে নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করুক।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাইকে ধারণ না করলে জাতীয় প্রত্যাশা পূরণ হবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে গেলে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া দুটোই দরকার। এক্ষেত্রে তো সংবিধান সংশোধন করতে হবে।’ তিনি বলেন, বিরোধী দল চাইলে বিষয়টিকে সংবিধান সংস্কারের অংশ হিসেবেও দেখতে পারত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা সরকারকে সহযোগিতা করছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অথচ তারা সেটাকে সংবিধান সংস্কারও হিসেবেও দেখতে পারতো। বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন তারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন না। তবে আমরা চাই তারা ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করুন।’

জুলাই স্মৃতিফলক উন্মোচনকে জাতীয় অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো এক দিনের ঘটনা নয়; এর পেছনে দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন ও সংগ্রাম রয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই স্মৃতিফলক উন্মোচন আমাদের জাতীয় অনুপ্রেরণা। জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিনে হয়নি। এর জন্য ২০০৯ থেকে ২৪ পর্যন্ত আমাদেরকে ধারাবাহিক আন্দোলন করতে হয়েছে। তাই জাতীয় জীবনে এটি জাগরুক থাকুক।’ জুলাইয়ের স্মৃতি ও চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে নাটক ও সংস্কৃতিতে জুলাইয়ের প্রতিফলন থাকতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী সেই পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছেন। জুলাই আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার কাজের মাধ্যমেই তার প্রমাণ দেবে। সালাহ উদ্দিন আহমদের বক্তব্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধন এবং গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি