খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

‘গুজব’ ছড়ানোর হাতিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
‘গুজব’ ছড়ানোর হাতিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে দীর্ঘদিন ধরে ‘গুজব’ ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলে কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সম্মানহানি করা যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে অনেক সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠীতে কিংবা এলাকাভিত্তিক দাঙ্গা বেধে যায়। ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়। মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে।

প্রতিনিয়তই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ গুজবের শিকার হচ্ছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশে এবং দেশের বাইরে বসে একটি চক্র এটা করছে। এছাড়া কিছু সংবাদমাধ্যমে তথ্য যাচাই না করে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ পাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের আদলে কার্ড বানিয়ে ভুয়া তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কয়েকদিন আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজের সঙ্গে সাক্ষাতে তথ্যমন্ত্রী ইউনেস্কোর কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে অপতথ্য, ভুল তথ্যের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি কার্যকর ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ২৭ এপ্রিল সকালে সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অপতথ্য ও ভুল তথ্য সরকারের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এটি এখন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও নানা গুজব ছাড়ানোর ঘটনা নতুন কিছু নয়। টিকা রোগ প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়। গুজবের কারণে ঝুঁকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। গুজবের শিকার হয়ে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন। ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও। ইসলামে গুজব একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি বলা হলেও ইসলামি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গুজবে লিপ্ত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

মনোশিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, গুজব ছড়ানো এক ধরনের অপরাধ। যারা গুজব ছড়ান তারা অপরাধ করেন। সব ধর্মেও এ বিষয়ে নিষেধ আছে। যারা গুজব ছড়ায় তারা যে শুধু ‘অ্যান্টিসোস্যাল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার’-এর রোগী শুধু তাই নয়। তবে ‘অ্যান্টিসোশ্যাল পারসোনালিটি ডিজঅর্ডার’ রোগীদের মধ্যে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেশি থাকে। তাদের মধ্যে যে রকম নির্মমতা নিষ্ঠুরতা বেশি থাকে তেমনি গুজব ছড়ানোর প্রবণতাও বেশি থাকে। গুজব সরিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চায়।

কালের আলো/এম/এএইচ

ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে ২৮ জুন, লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪০ লাখ শিশু

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারাদেশে একযোগে এই ক্যাম্পেইন চলবে। তবে কোনো শিশু যদি ওইদিন বাদ পড়ে, তবে পরদিনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরের চারদিনও এই ক্যাপসুল বিতরণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাতকানা রোগসহ শিশু অন্ধত্বের বড় কারণ ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। এই অভাব দূরীকরণে ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি তুলে ধরে ড. এমএ মুহিত বলেন, শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য দেশজুড়ে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাতকানা রোগ থেকে শুরু করে শিশু অন্ধত্বের একটা প্রধান কারণ হচ্ছে ভিটামিন ‘এ’-র অভাব। বাংলাদেশে দুই দশক আগেও অপুষ্টিজনিত কারণে শিশুদের অন্ধ হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যেতো। তবে নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ চালু হওয়ার পর এই হার অত্যন্ত দ্রুত কমে এসেছে। আজকাল ভিটামিনের অভাবজনিত কারণে অন্ধত্ব বরণ করা শিশু খুব কমই দেখা যায়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফ থেকে ক্যাপসুলগুলো ক্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ লাখ নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ক্যাপসুল। এরই মধ্যে ক্যাপসুলগুলো সারাদেশে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল ২৬ জুনের মধ্যে সব বিতরণ কেন্দ্রে এগুলো পৌঁছে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

তিস্তাসহ বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের ঐকমত্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
তিস্তাসহ বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-চীনের ঐকমত্য

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) চীনের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং-এর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ঐকমত্য হয়।

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বাংলাদেশে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদের যথাযথ ব্যবহারের লক্ষ্যে চলমান নদী খনন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে দেশের নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নৌ-নেভিগেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীন সরকারের কারিগরি সহায়তা প্রত্যাশা করেন। জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং ইতিবাচক সাড়া দেন এবং বাংলাদেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দেশটির সরকারের উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

তিনি বলেন, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর।

২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং গত বছর চীনের পানি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে লি গোওইং বলেন, পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারে। এই খাতের দক্ষতা উন্নয়নে তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আহ্বান জানান।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ৭০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার, আহত ৭০০

দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ এক বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে দিকে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। দুই ভূমিকম্পের মাঝখানে সময়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড ছিল বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইউএসজিএস।

প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ ইতোমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের জিওলোকেশন করা একাধিক ভিডিওতে ভেনিজুয়েলা জুড়ে ভবন ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মারও রয়েছে। সেখানে একটি পাহাড়ের ঢালে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাদের প্রিয়জন ও পোষা প্রাণীসহ ভবনগুলো থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।

ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল ছিল এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার। ওই অঞ্চলে দেশটির বেশ কয়েকটি তেল শোধানারগার আছে।

বুধবার ছিল দেশটিতে সরকারি ছুটির দিন। স্পেনের এক সময়ের উপনিবেশ ভেনেজুয়েলায় প্রতি বছরের ২৪ জুনে সেইন্ট জন ব্যাপটিস্টের জন্মদিবস এবং জাতীয় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। ছুটি থাকায় এ দিনে অধিকাংশ লোকজন নিজেদের কিংবা বন্ধু-স্বজনদের বাড়িতে সময় কাটায়।

মার্কিন ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) তার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্যোগ সামনে আরও ব্যাপক আকার নেবে।

ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ও বাড়িঘর ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তি অনুসরণে তৈরি করা হয়নি। দেশটির যোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী কারাকাস সহ বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইতোমধ্যে বেশ কিছু ভবন-বাড়িঘর ধসে পড়েছে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও বহুসংখ্যক ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকার কারণে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

রাজধানী কারাকাসের বহু এলাকা এবং ভেনেজুয়েলার অনেক গ্রাম-শহর ভূমিকম্পের পর থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় আছে। কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি