খুঁজুন
                               
রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম: সমস্যা নয়, এক ব্যবস্থাগত বিপর্যয়

লে. কর্নেল খন্দকার মাহমুদ হোসেন, এসপিপি, ‍পিএসসি (অব.)
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম: সমস্যা নয়, এক ব্যবস্থাগত বিপর্যয়

ঢাকা মহানগরীর যানজট আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি এবং নগর ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে জটিল সমস্যাগুলোর একটি। এটি কেবল একটি ট্রাফিক সমস্যা নয়; বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সংকট, যা অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং নাগরিক জীবনের মানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। ঢাকা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে এটি এক গুরুতর পরিবহন সংকটে নিমজ্জিত। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ কর্মঘণ্টা হারাচ্ছে, জ্বালানির অপচয় হচ্ছে এবং পরিবেশদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ঢাকার যানজটের ইতিহাস প্রায় ছয় দশকব্যাপী একটি ধীর কিন্তু ধারাবাহিক অবনতির প্রতিচ্ছবি। ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে ঢাকা ছিল একটি সীমিত পরিসরের শহর, যেখানে জনসংখ্যা এবং যানবাহনের সংখ্যা উভয়ই কম ছিল। কিন্তু এই সময়েই ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার যে ভিত্তি স্থাপন করা প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি।

১৯৯০–২০১০ সময়কাল ঢাকার যানজট সমস্যার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু সড়ক অবকাঠামো সেই হারে বাড়েনি। ফলে একটি সুস্পষ্ট demand–supply imbalance তৈরি হয়। ২০১০ সালের পর ঢাকা একটি পূর্ণাঙ্গ মেগাসিটিতে পরিণত হলে এই সমস্যা জাতীয় সংকটে রূপ নেয়। বর্তমানে ঢাকার মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ এবং বৃহত্তর ঢাকা অঞ্চল (গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ) মিলিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ, যা জনঘনত্বের বিচারে বিশ্বের সর্বোচ্চ নগর অঞ্চলগুলোর একটি। এই বিপুল জনসংখ্যা প্রতিদিন বিশাল পরিবহন চাহিদা তৈরি করছে, যা বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

একই সঙ্গে ঢাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যাগত চাপ এই সমস্যাকে আরও জটিল করেছে। নদীবেষ্টিত হওয়ায় শহরের সম্প্রসারণ সীমিত এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার রাস্তার সংখ্যাও কম। একই সঙ্গে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ও যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করে, যা শহরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এই “inbound–outbound traffic pressure” ঢাকার যানজটকে একটি আঞ্চলিক সমস্যায় পরিণত করেছে। শহরের চারপাশে কার্যকর রিং রোড বা বাইপাস না থাকায় এসব যানবাহন শহরের ভেতর দিয়েই চলাচল করে, যা যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে।

ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামের মূল কারণসমূহ

ঢাকার যানজট কেবল রাস্তার সংখ্যা কম হওয়ার কারণে নয়; বরং রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, বিমানবন্দর, নদীসেতু, অসমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্ক, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অপর্যাপ্ত গণপরিবহন—সব মিলিয়ে এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এসব উপাদান সম্মিলিতভাবে ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

১. রেলওয়ে স্টেশনসমূহ ও ট্রাফিক জ্যাম

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন দেশের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম রেলস্টেশন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এখানে আসা-যাওয়া করে। স্টেশন ঘিরে অতিরিক্ত রিকশা, সিএনজি, বাস ও প্রাইভেট কারের জমায়েত হয়। যাত্রী ওঠানামার জন্য রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করানো হয়। ফলে আশপাশের সড়ক—যেমন মতিঝিল, আরামবাগ ও কমলাপুর এলাকায় যানবাহনের গতি কমে যায়।

ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ঢাকার দ্বিতীয় ব্যস্ততম স্টেশন, যা আন্তঃনগর, লোকাল ও কমিউটার ট্রেনসেবা প্রদান করে। বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই যানজট থাকে। ট্রেনযাত্রী, বিমানযাত্রী, কর্মজীবী ও অফিসগামী মানুষের চাপ একই করিডোরে পড়ে। এ ছাড়া এয়ারপোর্ট রোডে বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের মিশ্র চলাচল জট সৃষ্টি করে।

ঢাকার বহু এলাকায় রাস্তা কার্যত পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তার এক পাশ দখল করে পার্কিং করার ফলে দুই লেনের রাস্তা এক লেনে নেমে আসে। অনেক বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে শপিংমল, হাসপাতাল ও অফিসের গাড়ি বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি চলে না গিয়ে সড়কেই অপেক্ষা করে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে তোলে।

গেন্ডারিয়া রেলওয়ে স্টেশন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর লাইনের সঙ্গে যুক্ত। এটি পুরান ঢাকার সরু ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। যাত্রী ও পণ্য পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় স্থানীয় যানজট আরও বৃদ্ধি পায়।

তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন লোকাল ট্রেন ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সেখানে ট্রাক, লরি ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল বেশি। একই এলাকায় অফিসগামী ও মালবাহী যানবাহনের চাপ একত্রে পড়লে সড়ক অচল হয়ে পড়ে এবং তার প্রভাব শহরের অন্যান্য সড়কেও বিস্তার লাভ করে।

২. বাস টার্মিনালসমূহ ও ট্রাফিক জ্যাম

সায়েদাবাদ, মহাখালী এবং গাবতলী বাস টার্মিনাল যথাক্রমে ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান সংযোগকেন্দ্র। এসব এলাকায় আন্তঃজেলা বাস শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রবেশ করে। যাত্রী ওঠানামা, টিকিটিং, বাস পার্কিং, হকারদের দখল এবং অনিয়মিত লেন ব্যবহারের কারণে যানজট বাড়ে। দূরপাল্লার বাস শহরের ভেতরে প্রবেশ করে স্থানীয় যানবাহনের সঙ্গে মিশে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া ফুলবাড়িয়া ও বাবুবাজার টার্মিনাল পুরান ঢাকার সংকীর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ট্রাফিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এসব টার্মিনালকে মূল শহরের বাইরে স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।

৩. অসমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্ক

ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা হলো পরিকল্পিত সড়ক কাঠামোর অভাব। শহরের সরু ও বিচ্ছিন্ন রাস্তা, জরুরি যানবাহনের প্রবেশে সমস্যা, বড় সড়কের সঙ্গে পর্যাপ্ত ফিডার রোডের অভাব এবং রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সব যানবাহন একই সড়কে জমা হয়। বিকল্প রুট কম থাকায় কোনো এক স্থানে দুর্ঘটনা ঘটলে পুরো এলাকা অচল হয়ে পড়ে, যা “chain effect” সৃষ্টি করে। সীমিত সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে আবার প্রায় ৮৫ শতাংশ রাস্তা দ্বিমুখী চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়।

৪. সেতুসমূহ ও যানজট

ঢাকা শহরে পোস্তাগোলা, বাবুবাজার ও বাসিলা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু রয়েছে, যা রাজধানীকে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করেছে। দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় প্রবেশকারী বিপুল সংখ্যক যানবাহন এসব সেতু ব্যবহার করে। ফলে সেতুর দুই প্রান্তে ট্রাফিকের “bottleneck” তৈরি হয় এবং যানজট বৃদ্ধি পায়।

৫. বিমানবন্দরকেন্দ্রিক যানজট

ঢাকা বিমানবন্দর সড়ক সবসময়ই চাপপূর্ণ থাকে। এই সড়ক একাধারে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ এবং উত্তরাঞ্চলের প্রধান সড়ক করিডোর। বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার কারণে যাত্রীবাহী গাড়ি, ট্যাক্সি, রাইডশেয়ার, কর্মচারী পরিবহন ও মালবাহী যানবাহন একই করিডোর ব্যবহার করে। ভিআইপি চলাচল ও নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধও অনেক সময় যান চলাচলে বিলম্ব সৃষ্টি করে।

৬. স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যানজট

ঢাকা শহরের অনেক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান সড়কের পাশে বা আবাসিক এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এসব এলাকায় পিক আওয়ারে তীব্র যানজট তৈরি হয়। প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একই সময়ে শুরু ও ছুটি হওয়ায় সকালে নির্দিষ্ট সময়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবক একসঙ্গে প্রবেশ ও বের হন।

অনেক অভিভাবক সন্তানকে ব্যক্তিগত গাড়িতে আনা-নেওয়া করেন। একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ফলে রাস্তার কার্যকর ধারণক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। অনেক গাড়ি স্কুলগেট বা আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকে, ফলে কার্যত একটি লেন অচল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া স্কুলভ্যান, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও রিকশার মিশ্র চলাচল পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তোলে।

৭. শহর ও রাস্তা-কেন্দ্রিক বাজার

ঢাকার অনেক বাজার ও বাণিজ্যকেন্দ্র প্রধান সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে। ফলে ক্রেতা ও পণ্যবাহী যানবাহনের ওঠানামার কারণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। রাস্তা ও ফুটপথের ওপর দোকান সম্প্রসারণের ফলে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়। ঢাকার অধিকাংশ ফুটপথই ব্যবহার অনুপযোগী। এ ছাড়া রাস্তায় দোকানের পণ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে লোডিং-আনলোডিং করার কারণেও যানজট বৃদ্ধি পায়।

৮. যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়ানো ও অবৈধ পার্কিং

ঢাকার বহু এলাকায় রাস্তা কার্যত পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তার এক পাশ দখল করে পার্কিং করার ফলে দুই লেনের রাস্তা এক লেনে নেমে আসে। অনেক বাণিজ্যিক ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ফলে শপিংমল, হাসপাতাল ও অফিসের গাড়ি বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে গাড়ি চলে না গিয়ে সড়কেই অপেক্ষা করে, যা যানজট আরও বাড়িয়ে তোলে।

(ধারাবাহিক চলবে)

লেখক: আরবান ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, রেজিস্ট্রার ও খণ্ডকালীন ফ্যাকাল্টি, BAIUST।

মুফতি আমির হামজাকে গ্রেফতার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ আদালতের

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
মুফতি আমির হামজাকে গ্রেফতার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ আদালতের

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামী বিদ্বেষ মন্তব্য করার অভিযোগে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ জারি করেছেন আদালত।

রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টায় সিরাজগঞ্জের চৌহালী আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার এই নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে গত ২ এপ্রিল মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়। ওই দিনই আদালত আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করে ২১ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

আজ রোববার আদালতে আমির হামজার ফের হাজির হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আদালতে আসেননি। এজন্যই তাকে গ্রেফতার করতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে পরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তাকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ডুয়েট

গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ডুয়েট

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

রোববার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে। প্রজ্ঞাপন জারির পর রাত সাড়ে ৯টা থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

এরই অংশ হিসেবে রোববার চতুর্থ দিনের মতো সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে নবনিযুক্ত ভিসির ক্যাম্পাসে আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা দেন।

এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ডুয়েট। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নবনিযুক্ত ভিসির পক্ষে কিছু বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সংঘর্ষ তীব্র হয়। এ সময় ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বেশ কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এর একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন। একই দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নেতারাও।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ডুয়েটের ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আজ দু’পক্ষের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে স্পিকারের শোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে স্পিকারের শোক

Oplus_131072

সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

রোববার ( ১৭ মে ) এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

গত শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমান সিনহা ইন্তেকাল করেন। তার পিতা ছিলেন বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ ও একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হামিদুর রহমান সিনহা।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ (টঙ্গিবাড়ী-লৌহজং) আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তাকে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

কালের আলো/এসএকে