খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

৩০ বছর পর ধলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

মোঃ শামসুল আলম খান, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
৩০ বছর পর ধলা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধলায় অবস্থিত সরকারি ভবঘুরে ও পুনর্বাসন আশ্রয়কেন্দ্র দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও সেবামূলক সংকটসহ নানা অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন। দীর্ঘ তিন দশক পর কোনো মন্ত্রী সরেজমিনে পরিদর্শন করায় প্রশংসায় ভাসছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (৫ জুন) সমাজকল্যাণমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অবস্থানরত শিশু-কিশোর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে তিনি কেন্দ্রের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও জরুরি চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিশালের ধলায় অবস্থিত এই সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, পানির লাইন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থার মতো মৌলিক সেবাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই পুরোনো ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি আবাসন ও প্রশাসনিক ভবনের অবস্থাও জরাজীর্ণ হওয়ায় দৈনন্দিন কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা একাধিক নিবাসী জানান, দীর্ঘ সময় পর কোনো মন্ত্রীর আগমন করায় আমরা ব্যাপক খুশি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা অনেক সমস্যার মধ্যে আছি।”

পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আজকে এই অবহেলিত আশ্রয় কেন্দ্রটিতে পরিদর্শনে এসেছি। আশ্রয় কেন্দ্রটির বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাজু আহমেদ, ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূইয়া, আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মকর্তাসহ প্রমুখ।

কালের আলো/এম/এএইচ

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরএমপি কমিশনারের মতবিনিময়

রাজশাহী মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে মতবিনিময় সভা করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

শনিবার বেলা ১২টায় আরএমপি সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সভায় মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধ প্রতিরোধ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বর্তমান পুলিশিং কার্যক্রমে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত করারও আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আরএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর), উপ-পুলিশ কমিশনার (ফোর্স), বিশেষ পুলিশ সুপার (সিটিএসবি), আরএমপি’র মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড সিটিটিসি), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) এবং রাজশাহীর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা।

সভা শেষে ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

রাত পোহালেই বিসিবি নির্বাচন

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
রাত পোহালেই বিসিবি নির্বাচন

রাত পোহালেই বিসিবি নির্বাচন। আগামীকাল রোববার মিরপুর শেরে-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। সকাল দশটা থেকে শুরু হয়ে যা চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এরপর সন্ধ্যায় জানা যাবে ফলাফল। যদিও নির্বাচন নিয়ে খুব একটা উত্তাপ দেখা যাচ্ছে না।

গেল ২৫ মে জানা গিয়েছিল নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকাও। যেখানে জেলা ও বিভাগীয় থেকে প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন, নির্বাচিত হবেন ১০ জন। চট্টগ্রাম থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হতে যাচ্ছেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এবং মঈন উদ্দিন।

বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ থেকে এক জন করে পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এই ৩ বিভাগ থেকে মনোনয়ন দাখিলই করেছেন এক জন করে। ঢাকা বিভাগ থেকে ২ জনের বিপরীতে ৩ জন মনোনয়ন দাখিল করলেও যাচাই বাছাইয়ে বাদ পড়েন একজন। ফলে ঢাকা বিভাগের দুই পরিচালকও নির্ধারিত হয়ে গেছে।

জেলা বিভাগ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন- সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরি, বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, ঠাঁকুরগাও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মির্জা ফয়সল আমীন। ঢাকা বিভাগ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন- সাইদ বিন জামান এবং এস এম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ।

খুলনা বিভাগ থেকে নির্বাচনে লড়বেন শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম এবং আব্দুস সালাম। এই বিভাগ থেকে নির্বাচিত হবেন ২ জন, যেখানে এগিয়ে শফিকুল এবং শান্তনু। বরিশাল থেকে নির্বাচনে লড়বেন ২ জন- মিজানুর রহমান, মুনতাসির আলম চৌধুরি। নির্বাচিত হবেন একজন, এগিয়ে এখানে মিজানুর।

ক্যাটাগরি-৩ থেকে একাই মনোনয়ন দাখিল এবং বৈধতা নিয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন সিরাজউদ্দিন মোঃ আলমগীর।

এ দিকে ঢাকার ক্লাব থেকে মনোনয়ন তোলা ও মনোনয়ন প্রত্যাহার শেষে ১৬ জনের প্রার্থীতা বহাল রয়েছেন। তারা হলেন- তামিম ইকবাল (ওল্ডডিওএইচএস), ফাহিম সিনহা (আবাহনী), মাসুদুজ্জামান (মোহামেডান), রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র), সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স), ইসরাফিল খসরু (এক্সিয়ম ক্রিকেটার্স), মীর্জা ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং), শানিয়ান তানিম (মেরিনার্স ইয়াংস), আমজাদ হোসেন (ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স), সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁ ক্রিকেট একাডেমি), সাকিফ আহমেদ সালাম (পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব), আসিফ রাব্বানী (শাইনপুকুর), ফায়াজুর রহমান মিতু (উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব) অধ্যাপক ড. সরকার মাহবুব হোসেন শামিম (ঢাকা ওয়ান্ডরার্স ক্লাব), মেজর ইমরোজ (কাঠালবাগান ক্রিসেন্ট ক্লাব), ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক (ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব)।

এই ক্যাটাগরিতে এগিয়ে রয়েছেন তামিম ইকবাল, মাসুদুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইয়াসির আব্বাস, ইসরাফিল খসরু, সাঈদ ইব্রাহিম, শাহনিয়ান তানিম, ফাহিম সিনহা, ইয়াসির ফয়সাল, আসিফ রাব্বানি, ডা: মাহবুব শামীম, ফায়াজুর রহমান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে ভোগান্তি বন্ধ করা জরুরি

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার: প্রযুক্তিগত অগ্রগতির নামে ভোগান্তি বন্ধ করা জরুরি

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ ছিল প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার। সরকারের দাবি ছিল, এই ব্যবস্থা বিদ্যুৎ বিলিংয়ে স্বচ্ছতা আনবে, বকেয়া কমাবে, অপচয় রোধ করবে এবং গ্রাহকদের নিজেদের ব্যবহারের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের বহু অঞ্চলে এই প্রিপেইড মিটার এখন সুবিধার চেয়ে ভোগান্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। জনগণের একটি বড় অংশের কাছে এটি এখন “ডিজিটাল উন্নয়ন” নয়, বরং “ডিজিটাল বিড়ম্বনা”র আরেক নাম।

প্রশ্ন হলো, যে প্রযুক্তি মানুষের জীবন সহজ করার কথা ছিল, সেটি কেন আজ অসংখ্য মানুষের ক্ষোভ, হতাশা এবং অবিশ্বাসের কারণ হয়ে উঠেছে?

রিচার্জের পরই টাকা কমে যাওয়ার অভিযোগ: স্বচ্ছতা কোথায়?
প্রিপেইড মিটার নিয়ে সবচেয়ে বেশি শোনা যায় একটি অভিযোগ—রিচার্জ করা অর্থের পুরোটা ব্যালেন্সে দেখা যায় না। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, ১,০০০ টাকা রিচার্জ করার পর ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম পাওয়া যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, ভ্যাট, ডিমান্ড চার্জ, পূর্ববর্তী সমন্বয় অথবা অন্যান্য অনুমোদিত খাতে এই অর্থ কেটে নেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি সব কর্তন বৈধ ও নিয়মতান্ত্রিক হয়, তাহলে প্রতিটি টাকার বিস্তারিত হিসাব কেন গ্রাহককে পরিষ্কারভাবে দেখানো হয় না? একটি আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হওয়ার কথা স্বচ্ছতা। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, মানুষ টাকা হারানোর অনুভূতি নিয়ে রিচার্জ করছে কিন্তু কোথায় কত টাকা গেল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাচ্ছে না। ফলে সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং ক্ষোভ জন্ম নেওয়াই স্বাভাবিক।

কেন হঠাৎ বিল বেড়ে যাচ্ছে?
দেশের বহু পরিবার দাবি করছে, অ্যানালগ বা পোস্টপেইড মিটারের সময় যেখানে মাসিক বিল ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে প্রিপেইড মিটার চালুর পর একই ব্যবহারেও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে নতুন মিটারের বেশি নির্ভুলতা, ট্যারিফ স্ল্যাব, ব্যবহারগত পরিবর্তন কিংবা প্রযুক্তিগত কনফিগারেশনের বিষয় থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তব প্রশ্ন হচ্ছে—যদি সবকিছুই এত স্বাভাবিক হয়, তাহলে কেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠছে? জনমনে এই সংশয় দূর করার একমাত্র উপায় হলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি অডিট। কারণ কোনো প্রযুক্তি সম্পর্কে আস্থা তৈরি হয় তথ্যের মাধ্যমে, ব্যাখ্যার মাধ্যমে নয়।

“ভুতুড়ে বিল” বিতর্ক কেন থামছে না?
বাংলাদেশে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে কয়েক হাজার, কয়েক দশ হাজার এমনকি কয়েক লক্ষ টাকার বিলের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সাধারণত এসব ঘটনাকে ডেটা এন্ট্রি ভুল, মিটার রিডিং ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—একই ধরনের ভুল কেন বারবার ঘটছে? একজন গ্রাহকের ভুল বিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে। কিন্তু যখন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে একই ধরনের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকে, তখন সেটি শুধু বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; বরং ব্যবস্থাগত দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। প্রতিটি অস্বাভাবিক বিলের ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এখন সময়ের দাবি।

ডিজিটাল সুবিধা নয়, ডিজিটাল বিড়ম্বনা
প্রিপেইড মিটারকে আধুনিক প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এটি গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ সমন্বয়ের সময় অনেক গ্রাহকের কাছে অস্বাভাবিক দীর্ঘ টোকেন নম্বর পাঠানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ১৫০ থেকে ২০০ ডিজিটেরও বেশি কোড ইনপুট দিতে হয়েছে।

প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ কিংবা বয়স্ক মানুষের জন্য এটি কার্যত এক ধরনের দুর্ভোগ। একটি সংখ্যা ভুল হলেই পুরো প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায় না।
ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্দেশ্য যদি মানুষের জীবন সহজ করা হয়, তাহলে শত শত ডিজিটের কোড টাইপ করানো কোন ধরনের আধুনিকতা?

গ্রাহক ভোগান্তির বাস্তবতা
প্রিপেইড মিটারের আরেকটি বড় সমস্যা হলো হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। পোস্টপেইড ব্যবস্থায় বিল পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেও সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। কিন্তু প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স শেষ হলেই ঘর অন্ধকার হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় মিটারের ব্যাটারি সমস্যা, টোকেন ত্রুটি, কার্ডের জটিলতা অথবা সফটওয়্যারজনিত কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিঘ্নিত হয়। রাতে, ছুটির দিনে বা জরুরি পরিস্থিতিতে এসব সমস্যার সমাধান পেতে গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জামনির্ভর পরিবারের জন্য এটি শুধু অসুবিধা নয়, অনেক ক্ষেত্রে মানবিক সংকটও সৃষ্টি করতে পারে।

মিটার ক্রয় ও সরবরাহ নিয়ে বিতর্ক
প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহৃত মিটারের মান, মূল্য এবং ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক দরপত্র, সরবরাহকারী নির্বাচন এবং প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছিল না। মিটারের প্রকৃত মূল্য এবং জনগণের ওপর আরোপিত ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের অভিযোগও বহুবার সামনে এসেছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সব প্রকল্প সরকারি ক্রয়বিধি মেনেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু জনআস্থার প্রশ্নে শুধু সরকারি ব্যাখ্যা যথেষ্ট নয়। স্বাধীন নিরীক্ষা এবং চুক্তিপত্রের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করাই হতে পারে আস্থা পুনর্গঠনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রযুক্তি কি জনগণের জন্য, নাকি শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য?
উন্নত দেশগুলোতে প্রিপেইড মিটার মূলত গ্রাহকসেবা উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক গ্রাহকের ধারণা, এই ব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি রাজস্ব আদায়কেন্দ্রিক কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
যখন একজন গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাবই স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন না, যখন রিচার্জের পর টাকা কমে যাওয়ার ব্যাখ্যা খুঁজে পান না, যখন অভিযোগ করেও কার্যকর প্রতিকার পান না—তখন প্রযুক্তির প্রতি আস্থা তৈরি হওয়ার বদলে অবিশ্বাসই বাড়ে।

সমাধানের পথ কী?
প্রিপেইড মিটারকে ঘিরে তৈরি হওয়া জনঅসন্তোষ আর বিচ্ছিন্ন অভিযোগের বিষয় নয়; এটি এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন। তাই অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থার স্বাধীন কারিগরি ও আর্থিক অডিট করতে হবে। বিলিং সফটওয়্যার, চার্জ কাঠামো এবং ইউনিট গণনার পদ্ধতি নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করে ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

প্রতিটি রিচার্জের ক্ষেত্রে কোন খাতে কত টাকা কাটা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে দেখানো বাধ্যতামূলক করতে হবে। অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন, মিটার ক্রয় ও সরবরাহ সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে বর্তমান ব্যবস্থা গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাহলে পুরো প্রিপেইড পদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করতেও দ্বিধা করা যাবে না।

পরিশেষে বলা যায়,প্রিপেইড মিটার কোনো খারাপ প্রযুক্তি নয়; বরং সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এটি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রযুক্তির চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বাসের সংকট। যখন একজন গ্রাহক বুঝতে পারেন না তার রিচার্জ করা টাকার কত অংশ কোথায় গেল, যখন বিদ্যুৎ ব্যবহার অপরিবর্তিত থাকার পরও বিল বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যখন অস্বাভাবিক বিল, দীর্ঘ টোকেন নম্বর কিংবা আকস্মিক সংযোগ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা বারবার ঘটে, তখন সমস্যাটি আর শুধু প্রযুক্তিগত থাকে না; এটি জনআস্থা ও সুশাসনের প্রশ্নে পরিণত হয়। সুতরাং রাষ্ট্রের মনে রাখা উচিত, উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড নতুন প্রযুক্তি স্থাপন নয়; বরং সেই প্রযুক্তি জনগণের জীবন কতটা সহজ, ন্যায্য ও স্বস্তিদায়ক করেছে। তাই প্রিপেইড মিটার নিয়ে বাড়তে থাকা ক্ষোভকে উপেক্ষা না করে সত্য উদঘাটন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। কারণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির নামে মানুষের ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।