খুঁজুন
                               
, ,
           

জুনে কমলো রেমিট্যান্সের গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
জুনে কমলো রেমিট্যান্সের গতি

টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর সদ্য বিদায়ী জুন মাসে সেই ধারা ভেঙেছে। এ মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ২.৮১ বিলিয়ন ডলার)। আগের মাস মে মাসের তুলনায় যা ৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার কম। এছাড়া এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার কম।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার (৩.৪২ বিলিয়ন ডলার)। ২০২৫ সালের জুন মাসে এসেছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স।

টানা ৬ মাস পর কমলো গতি
টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসার পর জুনে কমেছে গতি। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস ডিসেম্বরে দেশে আসে ৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স। এরপর অর্থবছরের সপ্তম মাস ও চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে আসে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার, মার্চে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার, এপ্রিলে ৩ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার এবং মে মাসে আসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স নেমে এসেছে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। এর ফলে টানা ছয় মাস পর ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এলো প্রবাসী আয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ২৮২ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু কেন ক্ষমতায় নেতানিয়াহু?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৩ অপরাহ্ণ
নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু কেন ক্ষমতায় নেতানিয়াহু?

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো পক্ষই। বুথফেরত জরিপের ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫২টি আসন। অথচ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১২০ আসনের পার্লামেন্টে অন্তত ৬১টি। ফলে নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়লেও আপাতত প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকছেন নেতানিয়াহু। নতুন সরকার গঠনের সমীকরণ মেলাতে এখন শুরু হবে জোটের দর-কষাকষি।

নির্বাচনের ফলাফলে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এসেছে। নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের পাশাপাশি আরব দলগুলোও সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের মূলধারার ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর একাংশ আরব দলগুলোর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগিতে অনীহা দেখালেও এবার তাদের সমর্থন সরকার গঠনের হিসাব বদলে দিতে পারে।

সরকার গঠনে কঠিন সমীকরণ
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি আসন পেতে পারে বলে বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হলে তাঁকে আরও অন্তত ৯টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের কোনো দলকে নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু। আলোচনায় সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন ‘টুগেদার’ দল। দলটি ১২ থেকে ১৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের সমর্থন পেলে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।

তবে বেনেটের দলকে সহজে নেতানিয়াহুর শিবিরে টেনে আনা সম্ভব হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর লক্ষ্যেই বেনেট ও ইয়ার লাপিদ বিরোধী রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলেছেন। ফলে এই দুই শিবিরের মধ্যে সমঝোতা হবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন।

বিরোধীদের সামনে আরব দলগুলোর সমর্থনের প্রশ্ন
নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের জন্যও সরকার গঠন সহজ নয়। নির্বাচনী প্রচারে বিরোধী জোটের নেতারা বারবার আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট করার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে নাফতালি বেনেট এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে আরব দলগুলোর নেতারা সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এখন আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিরোধী শিবিরের অবস্থান কতটা বদলায়, তার ওপরও সরকার গঠনের সম্ভাবনা নির্ভর করছে। নির্বাচনী প্রচারে যেসব দলকে রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে, তারাই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিরোধী শিবিরের আরেক নেতা অ্যাভিগদর লিবারম্যান সংখ্যালঘু সরকারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে নতুন নির্বাচনই হতে পারে বিকল্প পথ। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে নেতানিয়াহুর নিজ দলের কিছু প্রবীণ রাজনীতিকও ভিন্ন সমীকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ নেতানিয়াহুকে ছেড়ে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্টের হাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। আগামী কয়েক সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে কোন পক্ষ সরকার গঠনের সুযোগ পাবে, তা নির্ধারিত হতে পারে।

তবে সমঝোতা দ্রুত না হলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও অন্তর্বর্তী সময়ে তাঁর ক্ষমতায় থাকার সুযোগ থাকবে।

বুথফেরত জরিপের ফল প্রকাশের পর বেনেট দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরেছেন এবং তাঁর সরকারের বিদায়ের সময় হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনে রাজনৈতিক ধাক্কা খাওয়া আর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ছাড়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণই নির্ধারণ করবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

ক্ষমতা ধরে রাখতে যুদ্ধের আশঙ্কা?
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও আলোচনায় এসেছে। উদ্বেগ রয়েছে, ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে নেতানিয়াহু ইরান কিংবা প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়াতে পারেন, অথবা চলমান সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই; বিষয়টি আপাতত আশঙ্কা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের পর্যায়ে রয়েছে।

সংঘাত বাড়লে সরকার গঠনের আলোচনা প্রভাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের দাবিও জোরালো হতে পারে। এমন সরকার গঠিত হলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যদিও এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি প্রয়োজন হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চান, ইসরায়েলে দ্রুত একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরকার গঠিত হোক বলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সরকারের কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও এখনই ক্ষমতা ছাড়তে হচ্ছে না নেতানিয়াহুকে। বিরোধী দলগুলোর পারস্পরিক দূরত্ব, আরব দলগুলোর সম্ভাব্য ভূমিকা এবং জোট গঠনের দর-কষাকষিই ঠিক করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে। সমঝোতা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের পথও খুলে যেতে পারে। তত দিন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সুযোগ থাকছে নেতানিয়াহুর।

কালের আলো/এমডিএইচ/জেএন

পলি-দখলে মরে যাচ্ছে শিবচরের একসময়ের খরস্রোতা নদী

মাদারীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
পলি-দখলে মরে যাচ্ছে শিবচরের একসময়ের খরস্রোতা নদী

একসময় যে নদী দিয়ে চলাচল করত লঞ্চ, ট্রলার ও পণ্যবাহী নৌযান, সেই নদীর বুকেই এখন কোথাও ফসলের চাষ হচ্ছে, কোথাও জেগে উঠেছে বিস্তীর্ণ চর। বর্ষায় পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে অনেক অংশ শুকিয়ে যাচ্ছে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ, ময়নাকাটা ও বিলপদ্মাসহ বিভিন্ন নদ-নদী নাব্য সংকট, পলি জমে ভরাট হওয়া এবং তীর দখলের চাপে অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীগুলো খনন না করা, নদীর তীর দখল এবং বিভিন্ন স্থানে ভরাটের কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে একদিকে নৌযোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নদী ভরাট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, নদীগুলোর প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে।

নাব্য সংকটে সংকুচিত হচ্ছে নদীপথ
উন্নয়ন বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের পাঁচটি উপজেলায় নথিভুক্ত নদ-নদীর সংখ্যা ১৭টি। পদ্মা, পালরদী ও ময়নাকাটাসহ বিভিন্ন নদ-নদী প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবাহিত। তবে এসব নদ-নদীর মধ্যে দৃশ্যমান রয়েছে ১০টি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় জেলার কয়েকটি নদী নাব্যতা হারিয়েছে। কোনো কোনো নদীর গতিপথেও পরিবর্তন এসেছে। শিবচর উপজেলার শিরুয়াইল, নিলখী, বাঁশকান্দি, শিবচর পৌর এলাকা, পাচ্চর ও দ্বিতীয়াখণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় নদীগুলোর সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কোথাও নদীর তলদেশে পলি জমে প্রবাহপথ সংকুচিত হয়েছে, কোথাও শুকনো মৌসুমে পানি কমে গিয়ে চর জেগে উঠছে। এভাবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় নৌপথের ব্যবহারও সীমিত হয়ে পড়ছে।

মরা আড়িয়াল খাঁয় বর্ষায় পানি, শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ
শিবচরের শিরুয়াইল থেকে নিলখী হয়ে প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে ‘মরা আড়িয়াল খাঁ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হওয়ায় নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষায় কোথাও কোথাও পানি জমলেও শুকনো মৌসুমে বিস্তীর্ণ অংশ শুকিয়ে যায়। নদীর ভেতরের কোনো কোনো স্থানে ফসলের চাষও হচ্ছে। শিরুয়াইল এলাকার বাসিন্দা রানা হামিদ বলেন, ‘আমাদের শিরুয়াইল বাজারের পাশের নদীটি এখন আর নদী নাই! এটা আড়িয়াল খাঁ নদেরই একটি অংশ। একসময় এটাই বড় নদী ছিল। এখন এর কোনো গতিপথই নেই। নদীর মাঝে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে। শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়। নদীর মধ্যে এখন ফসল ফলানো হয়।’ স্থানীয়দের মতে, একসময়ের প্রবহমান নদীর এমন পরিবর্তন শুধু নৌযোগাযোগের সংকট নয়, এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলপ্রবাহের জন্যও উদ্বেগজনক। নদীটির প্রকৃত গতিপথ চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার ও খননের ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।

ময়নাকাটার বুকে চর, বন্ধ হওয়ার পথে পানিপ্রবাহ
শিবচর পৌর এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ময়নাকাটা নদীও নাব্য সংকটে অস্তিত্বের হুমকিতে রয়েছে। বর্ষায় নদীটি পানিতে ভরে উঠলেও শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি শুকিয়ে যায়। তলদেশে পলি জমে প্রবাহপথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি দুই তীরের বিভিন্ন স্থানে ভরাট ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। একসময় ময়নাকাটা নদী দিয়ে বর্ষাকালে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করত। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে পলি ও কাদা জমে নদীটির নাব্যতা কমেছে। শুকনো মৌসুমে নদীর বুকে চর জেগে ওঠায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহও ব্যাহত হচ্ছে।

শিবচরের বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবুল গোমস্তা বলেন, ‘আমরা পরিকল্পিত শিবচর চাই। ময়নাকাটা নদীকে আমাদের অস্তিত্বের জন্য রক্ষা করতে হবে। ময়নাকাটা নদীকে রক্ষা করতে পারলে পরিকল্পিত শিবচর গড়ে তোলা সম্ভব।’ তাঁর বক্তব্যে নদীটির গুরুত্বের পাশাপাশি পরিকল্পিত নগরায়ণ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও উঠে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, ময়নাকাটা নদীকে রক্ষা করতে হলে দখল ও ভরাট বন্ধের পাশাপাশি নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

বিলপদ্মা নদীতেও নাব্য সংকট
শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের বিলপদ্মা নদীও দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা সংকটে ভুগছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীটির দুই তীরে চর জেগে উঠেছে এবং ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে প্রবাহপথ। অথচ একসময় এ নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করত। বাঁশকান্দি ইউনিয়নের শুম্ভুক গ্রামের বাসিন্দা জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বাড়ির কাছে বিলপদ্মা নদী। কালের বিবর্তনে এখন অনেকটাই শুকিয়ে গেছে। এই নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ চলছে, ট্রলার চলছে। এখন চর পড়ে শুকিয়ে গেছে।’ স্থানীয়দের মতে, নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত খনন জরুরি। তা না হলে নৌপথের স্বাভাবিক ব্যবহার আরও সীমিত হয়ে পড়বে। নদীর বর্তমান অবস্থা নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

পদ্মা-সংলগ্ন এলাকাতেও জেগে উঠছে চর
পদ্মার সঙ্গে সংযুক্ত শিবচরের দ্বিতীয়াখণ্ড ও কুতুবপুর এলাকায় ভরাট হয়ে যাওয়া নদী এবং পুরোনো প্রবাহপথ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমা ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এসব নদীর অনেক অংশ সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে, পদ্মা-সংলগ্ন মাদবরেরচরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুকনো মৌসুমে চর জেগে ওঠে। পদ্মা সেতুর আশপাশেও বিস্তীর্ণ চর দেখা যায়। তবে এসব চর জেগে ওঠার কারণ এবং নদীর প্রবাহে এর প্রভাব নির্ধারণে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সমীক্ষা ছাড়া নদীর পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রভাব নির্ধারণ করা কঠিন। তাই নদীগুলোর প্রবাহ, পলি জমার পরিমাণ, গতিপথ এবং দখলের পরিস্থিতি যাচাই করে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

নদী রক্ষায় পরিকল্পনা করছে উপজেলা প্রশাসন
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানিয়েছেন, উপজেলার নদ-নদীগুলো রক্ষায় পরিকল্পনা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। তবে বিআরএস নকশা ও পর্চা অনুযায়ী নদীগুলোর সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে উপজেলার প্রতিটি নদী ও খালের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের পর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নদীর প্রকৃত সীমানা ও অবস্থান নির্ধারণ করা গেলে দখল ও ভরাটের পরিস্থিতি চিহ্নিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।

খনন প্রকল্প নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাতে
মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সাদত মো. হাসান কবির জানিয়েছেন, শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা ময়নাকাটা নদীর অনেক স্থানে দখল ও নাব্য সংকটের কারণে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার পথে। তবে বর্তমানে নদীটি খনন ও পুনরুদ্ধারের কোনো প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাতে নেই বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নদীটি পুনরুদ্ধার ও খননের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। শিবচরের নদ-নদীগুলোর বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখল ও ভরাট বন্ধ এবং বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে খননকাজের পরিকল্পনা করা হবে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে একসময়ের প্রবহমান নদীগুলোর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিদ্যুৎখাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎখাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি রিজভীর

বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতেই আওয়ামী লীগ সরকার দায়মুক্তির আইন পাস করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি খাত ও প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের প্রতিটি কাজের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে; কোনো খাতই এর বাইরে থাকতে পারে না।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক গণসংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদ আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল ‘রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও শৈলকুপা পৌরসভা এলাকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্ভাব্যতা যাচাই ও লাইফলাইন গ্রাহক সমীক্ষা: ফলাফল ও বাস্তবায়ন’।

বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির তাগিদ
রিজভী বলেন, বিদ্যুৎ খাতে অতীতের অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহি জনগণের কাছে থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো খাতে অনিয়মের সুযোগ থাকলে তা দূর করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

শতভাগ বিদ্যুতের দাবি, তবু বঞ্চিত অনেক মানুষ
দেশে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চল ও চরাঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, অনেক দরিদ্র পরিবারকে বিদ্যুৎ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। ফলে শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দিয়ে হতদরিদ্র মানুষের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নিরূপণ করতে হলে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকা এবং পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা এক বিষয় নয়—তাই তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মানুষের প্রকৃত জীবনযাত্রার পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

গবেষণার ফল যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব
বিদ্যুৎ ব্যবহার ও দারিদ্র্য নিরূপণ নিয়ে আয়োজকদের গবেষণাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রিজভী। তাঁর মতে, গবেষণার মাধ্যমে নতুন ধারণা ও প্রশ্ন সামনে আসা প্রয়োজন। কোনো পরিসংখ্যানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে না নিয়ে তা যাচাই-বাছাই করা জরুরি। তিনি বলেন, গবেষণার ফলাফল মূল্যায়নের সময় মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং মানুষের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে নীতিনির্ধারণে আরও বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ রয়েছে। এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আগ্রহ আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলতে পারে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হলে সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, বিকল্প উৎসের ওপর জোর
রিজভী বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। তবে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহসহ সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি এ পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান। দেশ এগিয়ে যাবে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কেটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

গণসংলাপে ক্যাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসংলাপে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম। এ ছাড়া গবেষণার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আলোচনায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের বাস্তব চিত্র, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিদ্যুৎপ্রাপ্তি, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা এবং বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি