খুঁজুন
                               
, ,
           

ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ধর্মকে পুঁজি করে বিভেদ সৃষ্টি কিংবা সামাজিক অশান্তি তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, যারা ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতির মাধ্যমে দেশে বিভাজন তৈরি কিংবা সমাজে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তারা যে ধর্মের বিশ্বাসী বা যে রাজনৈতিক দর্শনের অনুসারীই হোক না কেন—রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাদের প্রতিরোধ করা হবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে যশোর জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত র‌্যালিপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যশোরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধর্ম মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে অনৈতিক সুবিধা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করা উচিত নয়।

আজকের এই দিনটি কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জীবিত দিন। দ্বাপর যুগে অন্ধকারাচ্ছন পাপাচারময় সময়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। মথুরার কংসের কারাগারে বন্দিদশার সেই কঠিন সময় তার জন্ম আমাদের এই বার্তায় দেয়, রাতের অন্ধকার যত গভীর হোক না কেন, ন্যায়ের পথ ধরে আসে মুক্তির আলো এটাই পরম সত্য।

তাই সমাজ থেকে সত্য বিশ্বাস হারিয়ে গেলেও সমাজ টিকে থাকবে আশার আলো নিয়ে। সেই আশার আলো হচ্ছে আবারও সমাজে সত্য উন্মোচিত এবং পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন ও ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। যার মাধ্যমে ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারব। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেই শিক্ষা দিয়েছে।

তিনি বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদ জিয়া মহান সংসদে বলেছিলেন, কারও ধর্ম বিশ্বাস কিংবা রাজনৈতিক দর্শন বিবেচ্য বিষয় নয়, বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে বসবাসকারী আমাদের সকলের একটি পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। তাই আপনাদের (সনাতন ধর্মাবলম্বী) দুর্বল ভাবার কোনো কারণ নেই। সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই যশোরের মাটিতে আমার যতখানি অধিকার রয়েছে, আপনাদের (সনাতন ধর্মাবলম্বী) ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাড. দেবাশীষ দাস, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ঘোষ, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রতন আচার্য্য, নির্বাহী সদস্য বাবু হালদার প্রমুখ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে নানা সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। তবে ভারত সফরের দিন-তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংকট সমাধানে কাজ করছে। এ খাতে অতীতে দুর্নীতির চিত্রও তুলে ধরেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বোয়িং কিনতেই হবে—এমন কোনো চাপ নেই। দেশের প্রয়োজন ও চাহিদার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান কেনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আগের সরকারের সময়কার সিন্ডিকেটের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার সুযোগ না পাওয়া বা রাস্তায় রাত কাটানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারে নতুন বিধিনিষেধ, নিষিদ্ধ মিছিল-পোস্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনের প্রচারে নতুন বিধিনিষেধ, নিষিদ্ধ মিছিল-পোস্টার

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের ধরন ও পরিধিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধি অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারে মিছিল ও পোস্টার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় প্রার্থীদের প্রচারে সরকারি সুবিধা ব্যবহার, মাইক, বিলবোর্ড ও নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও ইসিকে দেওয়া হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে ২০১৬ সালের বিধিমালা বাতিল করে নতুন আচরণবিধি প্রণয়ন করা হচ্ছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, সেতু, ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী লাগানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিলও করা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে কঠোর বিধান। ব্যক্তিগত কুৎসা, অপমানজনক বক্তব্য, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এমন বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও করা যাবে না।

নির্বাচনী প্রচারে মাইক ব্যবহারের সময়ও নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসি। দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক ব্যবহার করা যাবে না। শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে এবং একটি ওয়ার্ডে একটির বেশি মাইক ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রার্থীর পক্ষে সরকারি যানবাহন বা সরকারি কোনো সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

বিলবোর্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আয়তন ১৬ ফুট বাই ৮ ফুট হতে পারবে এবং প্রতি ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না।

নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান বা ট্রেন ব্যবহার করে মিছিল কিংবা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটের দিন ভোটার আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহার করা যাবে না।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসি।

আগামী নভেম্বরের শেষার্ধ থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল একই পরিবারের ৫৫ জনের মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
গাজার ধ্বংসস্তূপে মিলল একই পরিবারের ৫৫ জনের মরদেহ

গাজা সিটির জয়তুন এলাকায় একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একই পরিবারের ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা সবাই মালকা পরিবারের সদস্য বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মালকা পরিবারের ৬০ জনের বেশি সদস্যের সন্ধানে টানা ৭২ ঘণ্টা ধরে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেশির ভাগ সদস্যের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রায় দুই বছর আগে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের সময় মালকা পরিবারের সদস্যরা ওই ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলায় ভবনটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের বহু সদস্য নিখোঁজ ছিলেন।

ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালান। একপর্যায়ে সেখান থেকে ৫৫ জনের মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মালকা পরিবারের সদস্যদের স্মরণে আগামী সপ্তাহের শুরুতে একটি যৌথ জানাজার আয়োজন করা হবে।

কালের আলো/এসএ