খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম

বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হিসাব-নিকাশের মধ্যেই শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) মূল্যবান ধাতুটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এদিন স্পট সোনার দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬১ ডলারে উঠেছে। এর আগের দিনও সোনার দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল।

বৃহস্পতিবার ডলারের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদহার কিছুটা কমে আসায় সোনার দামে দ্রুত উত্থান দেখা যায়।

এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ০.২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করেছে। তিন বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল ফেডের প্রথম সুদ বৃদ্ধি। সামনে আরও সুদ বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।

সাধারণত সুদের হার ও বন্ডের মুনাফা বাড়লে সোনার দামের ওপর চাপ তৈরি হয়। কারণ সোনা থেকে নিয়মিত কোনো সুদ পাওয়া যায় না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার সপ্তাহের শুরুতে ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। শুক্রবার তা কমে প্রায় ৪.৯৪ শতাংশে নেমে আসে। এতে সোনার দামের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

২৫ হাজার টাকার জন্য স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখেছিলেন কাজী হায়াৎ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
২৫ হাজার টাকার জন্য স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখেছিলেন কাজী হায়াৎ

১৯৭৯ সাল থেকে চলচ্চিত্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বর্ষীয়ান নির্মাতা ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৫২টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি। পরিচালক ও লেখক হিসেবে পেয়েছেন ৯টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নিজের পরিচালিত প্রতিটি সিনেমার চিত্রনাট্যও তিনি নিজেই লিখেছেন।

সম্প্রতি জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে অতিথি হয়ে নিজের চলচ্চিত্রজীবনের নানা অজানা গল্প জানিয়েছেন কাজী হায়াৎ।

রুম্মান রশীদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটির এই পর্ব প্রচার হবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় মাছরাঙা টেলিভিশন ও রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএম-এ।

পডকাস্টে কাজী হায়াৎ জানান, ১৯৭৯ সালে মাত্র ২৫ হাজার টাকার জন্য তাঁর প্রথম সিনেমা মুক্তি দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীর গহনা বন্ধক রেখে প্রযোজককে টাকা দেন তিনি। পরে মুক্তি পায় তাঁর সিনেমা ‘দ্য ফাদার’, যা এখনো দর্শকদের কাছে স্মরণীয়।

নিজের সিনেমায় অভিনয় করা শিল্পীদের মধ্যে নায়ক আলমগীরকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কাজী হায়াৎ। অভিনেতা হিসেবে আলমগীরকে তিনি দিয়েছেন ১০-এর মধ্যে ১০।

শৈশবের স্মৃতিও পডকাস্টে তুলে ধরেন এই নির্মাতা। তাঁর মা তালপাতা কেটে সিদ্ধ করে তার ওপর অক্ষর এঁকে পেরেক দিয়ে দিতেন। সেই তালপাতার ওপর বাঁশের কঞ্চির কলম দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বর্ণমালা শিখেছেন তিনি।

ক্লাস ফোরে মামার সঙ্গে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত ‘সাগরিকা’ সিনেমা দেখেছিলেন কাজী হায়াৎ। সেই সময় থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি তাঁর ভালোবাসা তৈরি হয় বলে জানান তিনি।

‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’ প্রযোজনা করছেন জেড আই ফয়সাল।

কালের আলো/এসএ

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপনটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন কাঠামোয় বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ পাবেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে।

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামোয় নির্ধারিত বাড়তি মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।

নতুন বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া বেতনও পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর অন্যান্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতন কাঠামোয় ১ম থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। আনুপাতিক হারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়ানো হবে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে আজ (শনিবার) প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটিই নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পরিত্যক্ত তুঁতবাগান, পড়ে আছে ভবন—নিভু নিভু ঝিনাইদহের রেশম শিল্প

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
পরিত্যক্ত তুঁতবাগান, পড়ে আছে ভবন—নিভু নিভু ঝিনাইদহের রেশম শিল্প

ঝিনাইদহের হলিধানী রেশম উন্নয়ন বোর্ডে একসময় ছিল কর্মচাঞ্চল্য। প্রতি মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার রেশম পোকার ডিম নিয়ে চলত উৎপাদন কার্যক্রম। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল তুঁতবাগান। রেশম পোকা পালনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হতো তিনটি ভবনে। তবে সময়ের সঙ্গে অব্যবস্থাপনা, তদারকির অভাব ও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার সংকটে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে সেখানে মাত্র ২০০ রেশম পোকার ডিমের চাষ হচ্ছে। বড় একটি অংশের তুঁতবাগান পরিত্যক্ত পড়ে আছে। রেশম চাষের জন্য নির্মিত একাধিক ভবনও দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।

ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা মহাসড়কের পাশে ৭২ বিঘা জমির ওপর ১৯৮৩ সালে হলিধানী রেশম উন্নয়ন বোর্ড গড়ে ওঠে। রেশম চাষ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন ছিল প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। এর মধ্যে ৫৪ বিঘা জমি ছিল চাষযোগ্য। একসময় পুরো জমিতেই রেশম পোকার প্রধান খাদ্য তুঁতগাছের বাগান ছিল।

২০১৬ সালে একই স্থানে রেশম বীজাগার কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পরবর্তী সময়ে রেশম চাষের পরিধি কমতে থাকে। বর্তমানে একটি ভবনে সীমিত পরিসরে মৌসুমি রেশম পোকার চাষ চলছে। বাকি অবকাঠামোর অধিকাংশই পড়ে আছে।

স্থানীয় কৃষক মিজান মিয়া বলেন, সরকার তুঁত চাষ ও রেশম পালনে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতের নিশ্চয়তা দিলে অনেকে আবার এ চাষে ফিরতে আগ্রহী হবেন। এতে পতিত জমি কাজে লাগার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা বজলুর রহমান বলেন, এত বড় জায়গা ও অবকাঠামো থাকার পরও কার্যক্রম সীমিত থাকা সম্পদের অপচয়। রেশম চাষের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় যুবক মনি মিয়া বলেন, সরকারি সহযোগিতা ও নিয়মিত তদারকি থাকলে তুঁতবাগান আবারও গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে রেশম পোকার ডিম ও সুতা উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রেশম শিল্প টিকিয়ে রাখতে পর্যাপ্ত তুঁতবাগান, উন্নত জাতের রেশম পোকার ডিম, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পরিত্যক্ত বাগান পুনরায় চাষের আওতায় আনা, অব্যবহৃত ভবন সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ প্রয়োজন।

তবে সংকটের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। আগে যেখানে ৮ জন শ্রমিক কাজ করতেন, সেখানে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী নিয়মিত ১৮ জন শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পাবেন।

হলিধানী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ফার্ম ম্যানেজার মো. স্বপন মিয়া বলেন, আগে এখানে বড় পরিসরে রেশম চাষ ও পলুপালন হতো। বর্তমানে কার্যক্রম সীমিত থাকলেও সরকার নতুন করে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন জনবল যুক্ত হলে আগের মতো বড় পরিসরে রেশম চাষের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩৯৬ জন শ্রমিক ফার্মের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে রেশম চাষের কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও আরও বাড়বে।

কালের আলো/এমএসআইপি