খুঁজুন
                               
, ,
           

শরতে ঘুরে আসুন বরিশালের নদী-খাল, বন আর সাগর

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
শরতে ঘুরে আসুন বরিশালের নদী-খাল, বন আর সাগর

সমুদ্র, নদী-নালা, খাল-বিল আর সবুজে ঘেরা বরিশাল অঞ্চল। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি প্রকৃতির বৈচিত্র্যও এই দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। বর্ষা শেষে শরতের সময়ে নদী ও সাগর তুলনামূলক শান্ত থাকায় এ সময় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখার সুযোগও থাকে।

ঢাকা থেকে সড়কপথে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় যাওয়া সহজ হয়েছে পদ্মা সেতু চালুর পর। তবে নদীনির্ভর এই অঞ্চলের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে নৌপথের অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে। রাতের লঞ্চে সদরঘাট থেকে রওনা হয়ে সকালে পৌঁছে শুরু করা যায় দিনের ভ্রমণ।

ছবি>সংগৃহীত

১. রাতের লঞ্চযাত্রা

বরিশাল ভ্রমণের শুরুটাই হতে পারে লঞ্চে। সদরঘাট থেকে রাতের লঞ্চে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ঝালকাঠি কিংবা বরগুনার উদ্দেশে রওনা হওয়া যায়।

রাতভর নদীপথে চলার পর সকালে গন্তব্যে পৌঁছে শুরু করা যায় ঘোরাঘুরি। নদীঘেরা জনপদের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি নৌযাত্রার আলাদা অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়।

ছবি>সংগৃহীত

২. সাতলার শাপলার বিল ও ভাসমান বাজার

শরৎ এলেই বরিশালের উজিরপুরের সাতলা বিল লাল শাপলায় ভরে ওঠে। বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে ফুটে থাকা শাপলা এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। এক দিনের ভ্রমণেও ঘুরে আসা যায় সাতলা থেকে।

শুধু শাপলার বিল নয়, ঝালকাঠির ভিমরুলি এবং পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান ও ভাসমান বাজারের জন্য পরিচিত। বর্ষায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বছরজুড়েই এসব এলাকায় ভাসমান বাজার বসে।

সরু খাল দিয়ে নৌকায় করে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এসে বাজারে বিক্রি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজার নয়, বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন জলপথেই এমন ভাসমান বাজারের দেখা মেলে।

জলপথনির্ভর মানুষের জীবনযাত্রা কাছ থেকে দেখতে চাইলে এসব এলাকা হতে পারে ভ্রমণের আকর্ষণীয় গন্তব্য।

ছবি>সংগৃহীত

৩. ইতিহাস-ঐতিহ্যের খোঁজে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বরিশাল শহর ও আশপাশে রয়েছে বহু পুরোনো স্থাপনা। শহরের অক্সফোর্ড মিশন এপিফ্যানি চার্চ ঔপনিবেশিক সময়ের স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন।

এর বাইরে রয়েছে লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি, কড়াপুর মিয়াবাড়ি মসজিদ ও মোগল ব্রিজ। ঝালকাঠির রাজাপুরের সাতুরিয়া জমিদারবাড়ি, কীর্তিপাশা জমিদারবাড়ি, নলছিটির সুজাবাদ কেল্লা, বেতাগীর বিবিচিনি মসজিদ এবং পিরোজপুরের রায়েরকাঠি জমিদারবাড়িও ইতিহাসপ্রেমীদের আকর্ষণ করতে পারে।

এ ছাড়া বরিশালের দুর্গাসাগর, গজনীর দিঘিসহ বিভিন্ন পুরোনো দিঘি ও স্থাপনায় ছড়িয়ে আছে দক্ষিণাঞ্চলের ইতিহাসের নানা অধ্যায়।

ছবি>সংগৃহীত

৪. ভোলার দূর দ্বীপ ও চর

ভোলা, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলজুড়ে রয়েছে অসংখ্য চর ও ছোট-বড় দ্বীপ। মনপুরা ও রাঙ্গাবালির মতো পরিচিত এলাকার বাইরেও অনেক জায়গায় এখনো জনবসতি তুলনামূলক কম।

বর্ষা শেষে সাগর ও নদী কিছুটা শান্ত থাকায় এ সময় এসব চর ও দ্বীপ ঘুরে দেখার সুযোগ থাকে। ঢাকা থেকে লঞ্চে ভোলা বা পটুয়াখালী গিয়ে সেখান থেকে স্থানীয় নৌযানে চরফ্যাশন, রাঙ্গাবালি, চর মন্তাজসহ বিভিন্ন এলাকায় যাওয়া যায়।

চর কুকরি-মুকরি, চর মন্তাজ, ঢালচর ও মনপুরায় থাকার কিছু ব্যবস্থাও রয়েছে। যেখানে থাকার ব্যবস্থা নেই, সেখানে দলবদ্ধভাবে তাঁবু নিয়ে ক্যাম্পিংয়ের পরিকল্পনা করা যায়। তবে চর ও উপকূলীয় এলাকায় যাওয়ার আগে স্থানীয় আবহাওয়া, নৌযান ও থাকার সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।

ছবি>সংগৃহীত

৫. বরগুনার বন

দক্ষিণাঞ্চলে শুধু সুন্দরবনই নয়, রয়েছে আরও বেশ কিছু উপকূলীয় বন। বরগুনার তালতলী থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত বিস্তৃত টেংরাগিরি বা ফাতরার বন এর অন্যতম।

বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা এই শ্বাসমূলীয় বন একসময় সুন্দরবনের অংশ ছিল। বরগুনার পাথরঘাটায় রয়েছে হরিণঘাটা সংরক্ষিত বন। এ ছাড়া ভোলার চর কুকরি-মুকরিসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় দেখা মেলে উপকূলীয় বনাঞ্চলের।

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ঘোরার পাশাপাশি নির্দিষ্ট জায়গায় ক্যাম্পিংয়ের সুযোগও রয়েছে।

ছবি>সংগৃহীত

৬. সমুদ্র দেখতে কুয়াকাটা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা দেশের অন্যতম পরিচিত সমুদ্রসৈকত। এই সৈকতের বিশেষ আকর্ষণ হলো একই জায়গা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ।

তবে সমুদ্র দেখার জন্য দক্ষিণাঞ্চলে শুধু কুয়াকাটার ওপর নির্ভর করতে হবে না। বরগুনার তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত, পাথরঘাটার লালদিয়া সমুদ্রসৈকত এবং ভোলার চরফ্যাশনের তারুয়া সমুদ্রসৈকতেও যেতে পারেন।

তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এসব সৈকতও ভ্রমণতালিকায় রাখা যেতে পারে।

ছবি>সংগৃহীত

৭. উৎসব-মেলায় দক্ষিণাঞ্চল

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে আছে নানা স্থানীয় উৎসব ও মেলা। বছরের বিভিন্ন সময়ে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বসে গ্রামীণ মেলা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন।

ছবি>সংগৃহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রামে দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে হয়ে আসছে মার্বেল মেলা। আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষও এতে অংশ নেন।

ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে এসব আয়োজনের সময়সূচি সম্পর্কে খোঁজ নিলে ভ্রমণের সঙ্গে কোনো স্থানীয় উৎসব বা মেলার অভিজ্ঞতাও যোগ করা সম্ভব। এতে শুধু দর্শনীয় স্থান দেখা নয়, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কাছ থেকে জানার সুযোগও মিলবে।

প্রকৃতি, ইতিহাস, নদী আর সমুদ্র—সব মিলিয়ে বরিশাল অঞ্চল তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট মৌসুমের গন্তব্য নয়। বছরের বিভিন্ন সময়েই দক্ষিণাঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন রূপ উপভোগ করা যায়।

কালের আলো/এসএ

জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত নিয়ে বিএনপিকে সতর্ক করলেন ফজলুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করলে বিএনপি ভুল করবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে জামায়াতের বিষয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আপনার গলায় আপনি সাপ পেঁচিয়ে রাখছেন, বিএনপি। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, যারা আমাদের মা-বোনের ইজ্জত নিয়েছিল এবং সোনার বাংলাকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল, যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল—আপনারা যদি আবার সেই জামায়াতে ইসলামকে বিশ্বাস করেন, তবে ভুল করবেন।’

জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা যখন সংসদে যায়, তখন এক ধরনের অবস্থান নেয়; আবার সংসদ থেকে বের হয়ে ভিন্ন ধরনের বক্তব্য দেয়। এমনকি এক দফার মাধ্যমে বিএনপিকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথাও তারা বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ফজলুর রহমান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সবচেয়ে বেশি খর্ব করা হয়েছে। ছাত্রদের নেতৃত্বে দেশের মানুষ রাজপথে নেমে আসার পর শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের দেশ ছাড়তে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফজলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে দিকনির্দেশনা নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে সহজে বিএনপিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
শান্তি চাই, তবে নিরাপত্তায় আপস নয়: রাজনাথ

ভারত যুদ্ধ চায় না, শান্তিতে বিশ্বাস করে। তবে শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দেশটির সামরিক কর্মকর্তা ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

রাজনাথ সিং বলেন, ভারত শান্তি চায়, তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো অভিযান চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভারত সংলাপে বিশ্বাসী। তবে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে সেই সংলাপ সেখানেই শেষ হবে। ভারত সহযোগিতা চায়, কিন্তু জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং ‘প্রতিবেশী দেশ’ বলতে পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করেছেন।

যুদ্ধের ধরন বদলাচ্ছে

সম্মেলনে ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি সরাসরি লড়াইয়ের সময় কমিয়ে আনলেও পুরো যুদ্ধের মেয়াদ কমছে না।

তার মতে, যুদ্ধ জয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হলো ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ। ভূখণ্ড দখলে রাখা, সুরক্ষিত করা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিহার্য।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে নানা তথ্য ও বিশ্লেষণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি অনেক সময় আড়ালে পড়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন জেনারেল ধীরাজ। তার ভাষায়, বর্তমান সময়ের যুদ্ধকে অনেক ক্ষেত্রে ‘বিরতি দিয়ে চলা যুদ্ধ’ হিসেবে দেখা যায়। সংঘাতের বিরতিও সামরিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আত্মনির্ভরতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি নিজস্ব সক্ষমতা ও সম্পদের ওপর নির্ভরতা পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: পানিসম্পদমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
নদী রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: পানিসম্পদমন্ত্রী

নদী রক্ষা ও সংরক্ষণে সরকার, জনগণ, গবেষক ও পরিবেশবিদদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পান্থপথে পানি ভবন মিলনায়তনে বিশ্ব নদী দিবস ও মার্ক এ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নদী দখল ও দূষণ রোধের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। নদীকে শুধু পানি প্রবাহের মাধ্যম হিসেবে দেখলে হবে না; দেশের পরিবেশ, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও নদীকে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নদী ও জলাভূমি সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। নদীকে কেন্দ্র করে টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদীকে নিরাপদ ও জীবন্ত রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

নদী সংরক্ষণে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, মার্ক এ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড নদী ও জলসম্পদ সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ ধরনের সম্মাননা অন্যদেরও নদী রক্ষায় উৎসাহিত করবে।

নদীর প্রতি দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাঁচ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পেল রিভার অ্যাওয়ার্ড

নদী রক্ষা ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে পাঁচ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মার্ক এ্যাঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ দেওয়া হয়।

লেখক ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন সেভ দ্য রিভার মুভমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল কবির সিদ্দিকী। গবেষণা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন নদী গবেষক ও রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন।

সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সাজ্জাদ পারভেজ এবং দৈনিক বণিক বার্তার নিজস্ব প্রতিবেদক মো. আল ফাতাহ। সংগঠন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে নোঙর ট্রাস্ট। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সুমন শামস পুরস্কার গ্রহণ করেন।

প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোলায়মান হায়দার এবং বাংলাদেশ রিভার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মনির হোসেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি