খুঁজুন
                               
, ,
           

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

ঘরের মাঠে প্রায় ১০ দিনের ক্যাম্প। এর মধ্যে খেলেছে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। এশিয়ান গেমসের আগে নিজেদের প্রস্তুতিটা বেশ ভালোভাবেই সেরে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রস্তুতি নিয়ে দলের মধ্যে রয়েছে সন্তুষ্টিও। এবার সেই প্রস্তুতির পরীক্ষা দেওয়ার পালা।

আগামী পরশু মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নিজেদের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি ঘিরে দলের প্রত্যাশা যেমন রয়েছে, তেমনি প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে চাইছে না বাংলাদেশ।

২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসেও কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল মালয়েশিয়া। সেবার সাইফ হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলকে জিততে বেশ কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। শেষ বল পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচে মাত্র ২ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

এবার অবশ্য তুলনামূলক শক্তিশালী দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে গেছে বাংলাদেশ। তার ওপর কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দল মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে ৫০ ওভারের সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় পেয়েছে।

তবুও অতীতের ফল বা সাম্প্রতিক সাফল্যকে সামনে রেখে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।

‘আগেই জিতে যাওয়া উচিত নয়’

জাপানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহউদ্দীন জানান, এ ধরনের টুর্নামেন্টে যেকোনো দলই অপ্রত্যাশিত ফল করতে পারে। তাই প্রতিপক্ষকে নিয়ে আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চান না তিনি।

সালাহউদ্দীন বলেন, এ ধরনের টুর্নামেন্টে আপসেট হতেই পারে। একই উইকেটে বারবার খেলার কারণে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এমনকি টসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠে নামার আগেই জয় নিশ্চিত ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ম্যাচ খেলে নিজেদের সামর্থ্য দিয়েই জয় নিশ্চিত করতে হবে।

বৃষ্টির বাধা নিয়েও ভাবনা

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত একাধিক ম্যাচে বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালও বৃষ্টিতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হলে র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ।

তবে এমনভাবে পরের রাউন্ডে যেতে চান না সালাহউদ্দীন। তাঁর পছন্দ ম্যাচ খেলে জয় পাওয়া।

কোচের মতে, ম্যাচ না খেলে সরাসরি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে খেলতে গেলে ছন্দ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। কয়েক দিন ম্যাচের বাইরে থাকার পর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সরাসরি মাঠে নামার বিষয়টি খেলোয়াড়দের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তাই প্রথম ম্যাচটি খেলা এবং নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটি শেষ করাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরের ম্যাচের চিন্তা না করে আপাতত মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়েই মনোযোগ রাখতে হবে।

প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট দল

এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশে প্রায় ১০ দিন ক্যাম্প করেছে দল। এই সময়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। ফলে জাপানে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে ক্রিকেটাররা।

প্রস্তুতি পর্বে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় দলের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। এখন সেই প্রস্তুতিকে মূল প্রতিযোগিতায় কাজে লাগানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের।

ক্রিকেটে দেশের প্রত্যাশা বেশি

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ওপর প্রত্যাশাটাও তুলনামূলক বেশি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন বলতে উশুতে একটি ব্রোঞ্জ পদক। মেয়েদের ক্রিকেট দলও প্রত্যাশা জাগালেও পদক এনে দিতে পারেনি।

এ কারণে ছেলেদের ক্রিকেট দলের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। কোচ ও অধিনায়কও দেশ ছাড়ার আগে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন।

সালাহউদ্দীনের কথাতেও সেই প্রত্যাশার চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজে মূলত ক্রিকেটসংশ্লিষ্টরাই বেশি মনোযোগ দেন। কিন্তু এশিয়ান গেমসের মতো আসরে পুরো দেশের মানুষ ফলের দিকে তাকিয়ে থাকে।

‘পদকের গুরুত্ব আমরা জানি’

দেশের মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কে দলের খেলোয়াড়েরাও সচেতন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দীন। তাঁর মতে, একটি পদক জয়ের আকাঙ্ক্ষা দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে মোটিভেশন তৈরি করেছে।

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে শুধু নিজেদের পারফরম্যান্স নয়, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিও ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করছে। তাই বাড়তি প্রত্যাশার চাপ থাকলেও সেটিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চান তাঁরা।

বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম লক্ষ্য মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই মাঠে নামতে চায় দল। বৃষ্টি বা অন্য কোনো সমীকরণের ওপর নির্ভর না করে ম্যাচ খেলেই জয় তুলে নেওয়া—এটাই আপাতত বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা।

কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে সামনে থাকবে সেমিফাইনাল। তবে সালাহউদ্দীনের পরিকল্পনা পরিষ্কার—দূরের হিসাব নয়, আগে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। আর সেই ম্যাচ থেকেই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক-স্বপ্নের পথচলা শুরু হবে।

কালের আলো/এসএ

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহম্মেদ অনি (৩২) আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, গতরাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অনির নাম রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওশেল আহম্মেদ অনি ময়মনসিংহ নগরীর পিয়নপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ন কবীরের ছেলে। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যায়-অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারির সঙ্গে জড়িত নন।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রকৃত নেতাকর্মীরাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে কারও কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সমালোচনার সুযোগ তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে প্রকৃত সৈনিক, শহীদ জিয়ার কর্মী, দেশনেত্রীর কর্মী, তারেক রহমানের কর্মী, সে অপরাধী হতে পারে না। সে চাঁদাবাজ হতে পারে না, সে দখলবাজ হতে পারে না, সে সন্ত্রাসী হতে পারে না। যদি কেউ হয়, সে বিএনপি নয়।’

দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ—এমন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অস্থিরতার কারণে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি