খুঁজুন
                               
, ,
           

বিনিয়োগে টাকা নেই, সংসারে ঋণের ভরসা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগে টাকা নেই, সংসারে ঋণের ভরসা

ব্যবসা-বিনিয়োগে ব্যাংকঋণের চাহিদা কমছে, অথচ বাড়ছে ভোক্তাঋণ। উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোক্তারা যেখানে নতুন ঋণ নিচ্ছেন না, সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে ব্যাংকের দ্বারস্থ হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এপ্রিল-জুন—এই তিন মাসেই ভোক্তাঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। এতে স্পষ্ট হচ্ছে অর্থনীতির এক অস্বস্তিকর চিত্র—উৎপাদন ও বিনিয়োগে ঋণের গতি থমকে গেলেও সংসারের ব্যয় মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

  • বিনিয়োগে অনীহা, ব্যয় মেটাতে ঋণনির্ভরতা
  • ৯ মাসে ভোক্তাঋণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা
  • বিনিয়োগে ব্যাংকঋণের চাহিদা দুর্বল

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে ভোক্তাঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। মার্চ শেষে ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ কোটি। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে এ ঋণ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র নয় মাসে ভোক্তাঋণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা।

মূল্যস্ফীতির চাপে ঋণের আশ্রয়
ভোক্তাঋণ বাড়ার অর্থ সবটাই বিলাসী ব্যয়—এমন নয়। বরং মূল্যস্ফীতির চাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতেই অনেক পরিবার ঋণ নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ভোক্তাঋণের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখাচ্ছে, অনেক পরিবার বাড়তি জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করছে।

মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসনের মতো খরচেও ঋণ নিতে হচ্ছে। ব্যাংকারদের তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তাঋণের মধ্যে বাড়ি বা ফ্ল্যাট, গাড়ি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ক্রেডিট কার্ডসহ নানা ধরনের ঋণ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাস শেষে অনেক পরিবারের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ থাকছে না। ফলে বড় ব্যয় তো বটেই, কিছু ক্ষেত্রে দৈনন্দিন প্রয়োজনও ঋণের মাধ্যমে মেটাতে হচ্ছে।

বিনিয়োগে থমকে গেছে ব্যাংকঋণ
ভোক্তাঋণের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে। মার্চ থেকে জুন—তিন মাসে শিল্প খাতে ব্যাংকঋণ বেড়েছে মাত্র ৫৫২ কোটি টাকা। মার্চ শেষে শিল্পঋণের স্থিতি ছিল ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। জুনে তা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ২১৪ কোটি টাকা।

নির্মাণ খাতে একই সময়ে ঋণের স্থিতি কমেছে ৩ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। পরিবহন খাতেও কমেছে ঋণ। অর্থাৎ উৎপাদন, অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত খাতে অর্থের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শিল্প খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি না হওয়া উদ্বেগের বিষয়। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের সমাধান না হলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে যাবেন না। উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন ঋণের চাহিদাও বাড়বে না।

ব্যাংকের নজর এখন খুচরা ঋণে
বড় শিল্প ও করপোরেট ঋণের বাজারে স্থবিরতার মধ্যেই ব্যাংকগুলো ঝুঁকছে রিটেইল ব্যাংকিংয়ের দিকে। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসানের মতে, বড় করপোরেট ঋণে খেলাপি বাড়ায় অনেক ব্যাংক ব্যবসার কৌশল বদলাচ্ছে। ছোট ঋণ ও ভোক্তাঋণে খেলাপির হার তুলনামূলক কম হওয়ায় এ খাতে আগ্রহ বাড়ছে।

অর্থাৎ ভোক্তাঋণের বাড়তি চাহিদার সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবসায়িক কৌশলেরও মিল তৈরি হয়েছে। একদিকে মানুষের ব্যক্তিগত ঋণের প্রয়োজন বাড়ছে, অন্যদিকে বড় ঋণের ঝুঁকি এড়িয়ে ব্যাংকগুলো খুচরা ঋণের বাজারে বিস্তার চাইছে।

এর মধ্যেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশে। ব্যবসা ও বিনিয়োগে ঋণের গতি যখন এতটা কম, তখন ভোক্তাঋণের দ্রুত বৃদ্ধি অর্থনীতির ভেতরের চাপের দিকটিও সামনে আনছে।

আজকের ঋণ, কালকের দায়
চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষক হেলাল আহমেদ জনির মতে, ভোক্তাঋণ বৃদ্ধিকে শুধু ব্যাংকঋণের চাহিদা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে মানুষের আয় ও ব্যয়ের সম্পর্ক সরাসরি যুক্ত। আয় না বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ঋণনির্ভরতা বাড়লে ভবিষ্যতে পরিশোধের চাপও বাড়বে।

একই আশঙ্কা ড. মাসরুর রিয়াজেরও। তাঁর মতে, স্বল্প মেয়াদে ভোক্তাঋণ পরিবারের ব্যয় সামলাতে সহায়তা করলেও আয় একই হারে না বাড়লে তা ভবিষ্যতে পরিবারের ঋণের বোঝা ও আর্থিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি তাই ঋণের অঙ্কে নয়, ঋণের ব্যবহারে। শিল্পে নতুন বিনিয়োগের জন্য ৫৫২ কোটি টাকার ঋণ বাড়ার বিপরীতে তিন মাসে ভোক্তাঋণ বেড়েছে ৫ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা। একদিকে অর্থনীতি নতুন উৎপাদন ও বিনিয়োগের জন্য ঋণ টানছে না, অন্যদিকে পরিবারগুলো বাড়তি ব্যয় সামলাতে ঋণ নিচ্ছে। আয় ও ব্যয়ের এই ফারাক কমানো না গেলে আজকের ভোক্তাঋণই আগামী দিনের পারিবারিক আর্থিক চাপের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/টিই/এমকে

বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাবি-বুয়েটের জায়গা ১২০০-এর পর

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাবি-বুয়েটের জায়গা ১২০০-এর পর

যুক্তরাজ্যভিত্তিক শিক্ষা সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) প্রকাশ করেছে ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং ২০২৭’। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এবারের তালিকায় বিশ্বের ১১৮টি দেশ ও অঞ্চলের ২ হাজার ২৯৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে এবার মোট ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় মূল র‍্যাঙ্কিংয়ে জায়গা পেয়েছে। এর মধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৮০১-১০০০ ব্যান্ডে নেই। দুটিই ১০০১-১২০০ ব্যান্ডে রয়েছে।

৮০১-১০০০ ব্যান্ডে চার বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৮০১ থেকে ১০০০ ব্যান্ডে যৌথভাবে রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠান—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)।

এর পরের ১০০১-১২০০ ব্যান্ডে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, আইইউবিএটি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

THE-এর পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় পেজেও ২০২৭ সালের র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যান্ড দেখানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১২০১-১৪০০ ব্যান্ডে রয়েছে।

১২০০-এর পর আরও ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়

১২০১ থেকে ১৪০০ ব্যান্ডে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

১৪০১ থেকে ১৬০০ ব্যান্ডে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া ১৮০১ থেকে ২০০০ ব্যান্ডে রয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ‘রিপোর্টার’ তালিকায়

র‍্যাঙ্কিংয়ে অংশ নিলেও মূল র‍্যাঙ্ক পাওয়ার প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় বাংলাদেশের আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় মূল তালিকায় র‍্যাঙ্ক পায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

THE-এর পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ না করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূল র‍্যাঙ্কিংয়ের বাইরে ‘রিপোর্টার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।

যে সূচকে মূল্যায়ন

টাইমস হায়ার এডুকেশনের ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংয়ে শিক্ষাদান, গবেষণার পরিবেশ, গবেষণার মান, শিল্পখাতের সঙ্গে সংযোগ এবং আন্তর্জাতিক সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়। ২০২৭ সালের সংস্করণে নতুন ও আরও বিস্তারিত র‍্যাঙ্কিং ব্যান্ড ব্যবহার করা হয়েছে।

এবারের বৈশ্বিক তালিকায় যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় টানা ১১তমবারের মতো প্রথম অবস্থান ধরে রেখেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি।

কালের আলো/এসএ

কানাডা থেকে ফেরত ৩৪০ বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
কানাডা থেকে ফেরত ৩৪০ বাংলাদেশি

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে কানাডা থেকে ৩৪০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে আরও ১ হাজার ৩৬৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রাখা হয়েছে।

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ)-এর ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

ফেরত পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে ভারত

সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলতি বছরে কানাডা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ১৪ হাজার ৮৯৭ জন বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। দেশভিত্তিক তালিকায় সবচেয়ে বেশি নাগরিক ফেরত পাঠানো হয়েছে ভারতের—৪ হাজার ২২৭ জন।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো। দেশটির ২ হাজার ২৮২ জন নাগরিককে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬০১ জন, কলম্বিয়ার ৫৮০ জন, হাইতির ৫৩৫ জন এবং রোমানিয়ার ৪৩৩ জন নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রথম ছয় মাসে ২২৭ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর তথ্য ছিল। তখন দেশভিত্তিক হিসাবে বাংলাদেশ সপ্তম অবস্থানে ছিল। আগস্ট শেষে বাংলাদেশি নাগরিক ফেরত পাঠানোর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪০ জনে।

আরও ১ হাজার ৩৬৮ বাংলাদেশি অপসারণ প্রক্রিয়ায়

কানাডা থেকে অপসারণের প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের তালিকাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ৫৩৬ জন বিদেশি নাগরিক অপসারণ প্রক্রিয়ায় ছিলেন।

এ তালিকায় ভারতের নাগরিক ১০ হাজার ২৯৫ জন এবং মেক্সিকোর ৬ হাজার ১০২ জন। বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন ১ হাজার ৩৬৮ জন, যা দেশভিত্তিক তালিকায় অষ্টম অবস্থান।

সিবিএসএর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কানাডায় যাদের অপসারণের আদেশ দেওয়া হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর অপসারণ কার্যকর করা হয়। বিভিন্ন ধরনের রিমুভাল অর্ডারের মধ্যে ডিপোর্টেশন, ডিপারচার ও এক্সক্লুশন অর্ডার রয়েছে।

অভিবাসন আইন ভঙ্গ প্রধান কারণ

সিবিএসএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের অপসারণের ক্ষেত্রে অভিবাসন আইন না মানার বিষয়টি অন্যতম প্রধান কারণ। আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন—এমন ১২ হাজার ৫ জনকে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ ছাড়া আশ্রয়প্রার্থী নন, এমন আরও ১ হাজার ৭৯৪ জনের ক্ষেত্রেও অভিবাসনসংক্রান্ত আইন ভঙ্গকে অপসারণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ৮৯৭ জন এবং ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার কারণে ৮৮ জনকে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

কানাডা সরকার জানিয়েছে, দেশটির সীমান্ত ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় যাদের কানাডায় থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাদের অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে সিবিএসএ ২২ হাজার ৫০০-এর বেশি অযোগ্য বা অননুমোদিত বিদেশি নাগরিককে কানাডা থেকে অপসারণ করেছিল।

কালের আলো/এসএ

ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন, কার্যকর রাত ১২টা থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন, কার্যকর রাত ১২টা থেকে

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভারী শিল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফার্নেস অয়েলের নতুন দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি জানিয়েছে বিইআরসি।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের জন্য ফার্নেস অয়েলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ৩০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৯৬ টাকা ৮৬ পয়সা। নতুন দাম কার্যকর হলে প্রতি লিটারে ১১ টাকা ৯২ পয়সা বেড়ে তা ১০৮ টাকা ৭৮ পয়সায় দাঁড়াবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি