খুঁজুন
                               
, ,
           

অপরাধের ঢেউ, পুলিশের ভেতরে নতুন হিসাব

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
অপরাধের ঢেউ, পুলিশের ভেতরে নতুন হিসাব

অপরাধীর চোখে পুলিশের ভয় কমেছে। আর সাধারণ মানুষের চোখে কমেছে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক চিত্র পর্যালোচনা করতে গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মর্নিং মিটিংয়ে এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাঁদের আলোচনায় উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, মাদক, সন্ত্রাস, জমি দখল, কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে একের পর এক সহিংস ঘটনার চিত্র। একই সঙ্গে উঠে এসেছে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরানোর তাগিদ।

  • সদর দপ্তরের বৈঠকে সাম্প্রতিক অপরাধের চিত্র নিয়ে তীব্র উদ্বেগ
  • চাঁদাবাজি-মাদক-সন্ত্রাস ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের আলোচনা
  • ডিটেনশন ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ে জোর

মঙ্গলবারের (২৯ সেপ্টেম্বর) ওই বৈঠকে অপরাধ দমনে বিদ্যমান আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। ‘ক্রসফায়ার’ না থাকায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়ার প্রস্তাব আসে। দ্রুত জামিন পাওয়া আসামিদের ক্ষেত্রে তদন্তের দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা বাড়ানোর পরামর্শও দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশের গোপনীয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। উপস্থিত ছিলেন সব অতিরিক্ত আইজিপি, বিভিন্ন ইউনিটপ্রধান, ডিআইজি (ক্রাইম), ডিআইজি (প্রশাসন)সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকের টেবিলে উঠে এল ‘ডিটেনশন’ প্রস্তাব
অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে কীভাবে আরও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, আলোচনার একটি বড় অংশজুড়ে ছিল সেই প্রশ্ন। অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ‘ক্রসফায়ার’ নেই। তাই বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় অপরাধীদের ডিটেনশনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

তবে ঢালাও আটকের বদলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দেন রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িত থাকার নির্ভরযোগ্য তথ্যের ডেটাবেজ তৈরি করে আইন অনুযায়ী ডিটেনশন দেওয়া উচিত। সিআইডিপ্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনও ডিটেনশনকে কার্যকর একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনার কথা বলেন।

গ্রেফতারের পরও কেন ফিরে আসে আসামি
পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক আসামি জামিনে বেরিয়ে আসছেন—বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ পায়। তবে আলোচনায় উঠে আসে এর ভেতরের আইনি ও তদন্তগত বাস্তবতাও। এক অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতার পাশাপাশি তদন্তে দুর্বলতার কারণেও আসামিরা দ্রুত জামিন পাচ্ছেন। অর্থাৎ শুধু গ্রেফতার বাড়ালেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না; মামলার তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ ও চার্জশিটের মানও বাড়াতে হবে।

রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা বা বিচার শেষ না হলে আসামির জামিনের সুযোগ তৈরি হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সেশন কোর্টে বিচার শেষ করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমাও বাস্তবে নানা কারণে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

মাদক নিয়ে পুলিশের ভেতরেই নতুন ভাবনা
অপরাধের নেপথ্যে মাদকের ভূমিকা নিয়ে প্রায় একমত ছিলেন কর্মকর্তারা। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাদক থেকেই বহু অপরাধের জন্ম হচ্ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রেলওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে পুলিশের প্রত্যক্ষ কমান্ড বা অধীনে আনার প্রস্তাব দেন। তাঁর পরামর্শ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একজন অতিরিক্ত আইজিপিকে ডিএনসির মহাপরিচালক করা যেতে পারে। প্রস্তাবটির মূল যুক্তি—মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মাঠপর্যায়ে যে অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা নিয়ে কাজ করে, সেটিকে আরও সমন্বিতভাবে কাজে লাগানো।

বাইরে চাপ, ভেতরেও ‘কনফিউশন’
প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনীকে ঘিরে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তির কথাও বৈঠকে উঠে আসে। এক অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, নানা বিষয়ে সদস্যদের মধ্যে দ্বিধা বা ‘কনফিউশন’ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অডিও-ভিডিও প্রচার, নানা গুঞ্জন এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের প্রভাব পড়ছে বাহিনীর মনোবলেও।

তাঁর মতে, পুরো পুলিশ বাহিনীকে ‘স্ট্রিমলাইনিং’ বা সুসংগঠিত করা এখন জরুরি। একদিনে অলৌকিক পরিবর্তন আসবে না। স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নীতিগত সংস্কার প্রয়োজন। এই বক্তব্যে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও মনোবলকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

যে ঘটনাগুলো নাড়া দিয়েছে সদর দপ্তরকে
মর্নিং মিটিংয়ে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনাও সামনে আনা হয়। রাড্ডা ম্যাটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড হেলথ-ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারে হামলা, মোহাম্মদপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র মব হামলা, দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রোপার্টিজে হামলা, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর এবং আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা—এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় ২৫ মামলার আসামি মাদক কারবারি ‘পিচ্চি রাজা’র প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া, চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষ, লালমাইয়ে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা, মিরপুরে চলন্ত বাসে অগ্নিসংযোগ এবং ময়মনসিংহ ও নাটোরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ। ঘটনাগুলো আলাদা হলেও কর্মকর্তাদের আলোচনায় একটি অভিন্ন প্রশ্নই সামনে আসে—মাঠপর্যায়ে পুলিশের প্রতিরোধমূলক উপস্থিতি কতটা কার্যকর?

সংখ্যার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মানুষের আস্থা
বৈঠকে কর্মকর্তারা মনে করেন, শুধু ছিনতাই-ডাকাতির সংখ্যা কিংবা গ্রেফতারের হিসাব দিয়ে পুলিশের সাফল্য মাপলে বাস্তব চিত্র ধরা পড়বে না। এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশি সেবার মূল ভিত্তি জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক। মানুষের অসন্তোষ বা ভুল বোঝাবুঝি কমাতে হলে সরাসরি জনসংযোগ বাড়াতে হবে। পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা বাড়লে এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হলে জনমনে স্বস্তিও ফিরবে। এই জায়গাটিই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোর একটি—আইনশৃঙ্খলা শুধু অপরাধী ধরার বিষয় নয়; নাগরিকের মনে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করাও পুলিশের দায়িত্বের অংশ।

আইজিপির বার্তা—পরিচয় নয়, অপরাধই বিবেচ্য
মর্নিং মিটিংয়ের পর অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা বা ক্রাইম কনফারেন্সেও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীর দলীয় পরিচয় বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই। অপরাধীর একমাত্র পরিচয়—সে অপরাধী। কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত আইজি সাইদুর রহমান কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ছায়া আছে কি না, তা খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সামনে শুধু অপরাধী নয়, আস্থার লড়াইও
পুলিশ সদর দপ্তরের বৈঠকের আলোচনায় যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জটি একমাত্র অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তদন্তের দুর্বলতা কাটানো, আইনি প্রক্রিয়াকে কার্যকর করা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাহিনীর ভেতরের সমন্বয় এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুকেই একই সূত্রে আনতে হবে।

অপরাধীর কাছে পুলিশের ভয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ওপর আস্থা—দুটিই আইনশৃঙ্খলার নেপথ্য শক্তি। এই দুই জায়গায় ঘাটতি তৈরি হলে অপরাধের বিস্তার ঠেকানো যেমন কঠিন হয়, তেমনি পুলিশের প্রতিটি পদক্ষেপও পড়ে জনআস্থার কঠিন পরীক্ষায়। সদর দপ্তরের টেবিলে সেই পরীক্ষার কথাই এবার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে

শিলিগুড়ির এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, আদালতকক্ষে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
শিলিগুড়ির এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, আদালতকক্ষে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের এজলাসে হিজাব পরা এক নারী বিচারককে দেখে এক অভিযুক্ত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নম্বর এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে আদালতকক্ষে বিতর্ক তৈরি হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একটি মামলায় অভিযুক্তদের উপস্থিতি নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ওই মামলার সূত্রপাত একটি আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে। সে সময় ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। পরে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়।

নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন বিচারকের পোশাক দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ বলেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে আদালতকক্ষে আলোচনা শুরু হলে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা চান।

শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আদালতকক্ষে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয় এবং আদালত চাইলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাও করতে পারত।

অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায়ও আদালতকক্ষে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্য, আদালত নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জায়গা।

এদিকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের আইনজীবী ও পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য অলকেশ চক্রবর্তী বলেন, আদালতে বিচারক বা বিচারপ্রার্থীর পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা যায় না। পোশাক দেখে ওই স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, স্লোগানটি বিচারককে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি। নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন না বুঝেই ওই কথা বলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, অনেকে সম্ভাষণের সময় ‘জয় শ্রীরাম’ বা এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন। এরপরও ঘটনার জন্য আদালতকক্ষেই তিনি ও তার পক্ষের অন্যরা ক্ষমা চেয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে বিচারকের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য বা আদালতের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত আইনি পদক্ষেপের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিসের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিসের

বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর একসঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম (এসআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে গঠন করা হয়েছে ২০ সদস্যের পৃথক বিশেষ রেসকিউ টিম। ঢাকার আশপাশের আরও ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

  • ৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম
  • পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম
  • ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ ফায়ার স্টেশন

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই জনবল, সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক জায়গায় সব সরঞ্জাম নয়

ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে থাকা বিপুল পরিমাণ উদ্ধার সরঞ্জামও আটকে পড়তে পারে। এতে পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হয়েছে। ফলে কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাছাকাছি অন্য স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হবে।

পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম

বড় ভূমিকম্পে সাধারণ ফায়ার স্টেশনের জনবল দিয়ে একসঙ্গে সব এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হতে পারে। এ জন্য পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি স্পেশাল রেসকিউ টিম (এসআরটি) মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিভিন্ন স্টেশন থেকে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়ে ২০ সদস্যের করে এসআরটি গঠন করা হয়েছে। এসব দলকে ধসে পড়া ভবনে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ স্টেশন

ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে ‘এয়ারমার্ক’ করা হয়েছে। রাজধানীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হলে এসব স্টেশন থেকে দ্রুত জনবল ও সরঞ্জাম এনে ঢাকার উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হবে।

তবে বড় ভূমিকম্পে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কীভাবে এসব জনবল ও সরঞ্জাম ঢাকায় আনা হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে রেসকিউ টিম ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের বিষয়ে বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পে কমান্ড সচল রাখার প্রস্তুতি

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রমে কমান্ড ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুরান ঢাকার সদর দপ্তর কোনো বড় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে নেতৃত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল থাকে, সে অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মিরপুরে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর

পুরান ঢাকার সদর দপ্তরের ঝুঁকি বিবেচনায় মিরপুর-১০-এ নির্মাণ করা হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের নতুন বহুতল সদর দপ্তর। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন ভবনটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটির মাধ্যমে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়া থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিচ্ছিন্ন হলেও সচল থাকবে যোগাযোগ

বড় ভূমিকম্পে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক, মোবাইল টাওয়ার ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ ঝুঁকি বিবেচনায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করেছে ফায়ার সার্ভিস। অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় আয়োজিত ওই মহড়ায় বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ডফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে বিকল্প ব্যবস্থায় ফায়ার স্টেশনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখার অনুশীলন করা হয়।

বড় চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে বহু বিপর্যয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষ্য, ভবনধসের পাশাপাশি গ্যাসলাইন থেকে আগুন, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও মানুষের আটকে পড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ঢাকার সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও সমস্যা হতে পারে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকারীদের প্রবেশ করানোও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি দ্রুত মূল্যায়ন, আটকে পড়াদের শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়, প্রস্তুতিই ভরসা

ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের মতে, বড় ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় আগে থেকে জানানোর মতো প্রযুক্তি এখনো নেই। তাই ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মহড়ার বিকল্প নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে; বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। তার মতে, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

বড় ভূমিকম্প উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকেও বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।

সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ

ভূমিকম্প ও বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম বাড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে ফায়ার সার্ভিস। এসব বৈঠকে মেগা ডিজাস্টার মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সক্ষমতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নতুন সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, বড় ভূমিকম্প কখন হবে তা আগাম বলা সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই একক সদর দপ্তরনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে জনবল, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও কমান্ড কাঠামোকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

সিইসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ  দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, মন্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাঁদনি চকসহ ১১টি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। কয়েকটি স্টেশনে অবশ্য আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা চালু ছিল।

যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্য মোতায়েন করা হয়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ দিল্লি জেলায় প্রায় ৫ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। এএপি নেতা অতিশী ও সঞ্জীব ঝাকেও আটকের খবর পাওয়া যায়। সৌরভ ভরদ্বাজ দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হওয়া সত্ত্বেও তাদের আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের অন্যতম বিষয় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসআইআরের আওতায় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নির্বাচন কমিশন তাদের ভোটার-তালিকা ব্যবস্থার সফটওয়্যার পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।

এদিকে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, এসআইআর বাতিল এবং ভোটপ্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছে। আম আদমি পার্টি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের শুক্রবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও বিক্ষোভের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সেখানে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোট ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ঘেরাও এবং বিভিন্ন শহরে জনসভার কর্মসূচিও রয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এসব কর্মসূচির মধ্যে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি