খুঁজুন
                               
, ,
           

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের পরিচয় নয়, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সনাতন সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁকে পূজায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি, নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, মানুষ হিসেবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করব’

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাঁকে মানুষের জন্য কাজ করার একটি সুযোগ দিয়েছেন। নিজের অবস্থান থেকে তিনি চেষ্টা করবেন, ধর্মের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে তাঁর ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু সম্ভব নিরাপত্তা দিতে।

তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার রয়েছে এবং যা তাঁর প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে সেই অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করাই তাঁর দায়িত্ব। নাগরিকদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কাজ হয়েছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। আরও কিছু বিষয়ে সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে। এসব উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে ছিলেন

দেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। জাতির সংকটময় সময়ে মানুষ যখন ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা করে দেখেননি, তখন অন্যান্য ক্ষেত্রেও ধর্মের ভিত্তিতে পার্থক্য করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশ স্বাধীন করার সংগ্রামে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে ছিলেন। তাই নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।

নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মী

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মীরাও নির্যাতিত হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য ছিল না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমানের বক্তব্যে নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোয় ধন্যবাদ

মতবিনিময় সভায় সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন।

তাঁরা আরও জানান, বিএনপিকে ভোট দিয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি বলে তাঁদের মনে হচ্ছে। ভবিষ্যতেও সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তাঁরা।

  • বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

মতবিনিময় সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্যসহ সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও সভায় অংশ নেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারই গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে না বিএনপি: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে না বিএনপি: রিজভী

বিএনপির নেতাকর্মীদের অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের আচরণের পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বিএনপি এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়াবে না, যা মানুষকে অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কথা মনে করিয়ে দেয়। নেতাকর্মীদের সহনশীল, দায়িত্বশীল এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাজনীতি করতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দখল-লুটপাট নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান

রিজভী বলেন, রাজনীতি করে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার চিন্তা করা উচিত নয়। সারের ডিলারশিপ কিংবা ঠিকাদারি পাওয়ার মতো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আদর্শ বিসর্জন দেওয়া যাবে না।

বিএনপির নেতাকর্মীদের এমন আচরণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের সহনশীল ও দায়িত্বশীল হিসেবে দেখতে পায়। অতীতে মানুষের জায়গা-জমি দখল, অর্থ লুটপাট ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি করবে না।

দলের লক্ষ্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বলে উল্লেখ করেন রিজভী। এ লক্ষ্য অর্জনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সংকট মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান

রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। তবে বর্তমান সময়ে সরকারকে নানা ধরনের সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ডিজেল আমদানি ব্যাহত হওয়ায় কৃষি ও শিল্প খাতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

রিজভীর দাবি, ধীরে ধীরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে এবং রান্নার গ্যাসের সংকটও কাটতে শুরু করেছে। দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

হান্নান শাহ ছিলেন সাহস ও সততার প্রতীক

স্মরণসভায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, হান্নান শাহ ছিলেন সাহস, সততা ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতীক। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের পর রাজনীতিতে এসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলার সুযোগ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, দলের দুঃসময়ে হান্নান শাহ পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার রয়েছে।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সহযোগিতার নির্দেশনা

আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, পূজা উদ্‌যাপনে যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় সহযোগিতা করতে হবে।

এ দায়িত্ব পালনে নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। ধর্মীয় উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা।

স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান, বিএনপির গাজীপুর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপি নেতা মো. জেড খান রিয়াজ উদ্দিন নসু, অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, হুমায়ুন কবীর খান ও ওমর ফারুক সাফিনসহ অনেকে।

স্মরণসভায় হান্নান শাহর রাজনৈতিক আদর্শ ও অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ভেঙে রাশিয়ার হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের জ্বালানি যুদ্ধবিরতি ভেঙে রাশিয়ার হামলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোয় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রুশ বাহিনী দেশটির একাধিক জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চুক্তি কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখতে একটি বিশেষ ‘এনার্জি যুদ্ধবিরতি’তে সম্মত হয়েছে। তবে জেলেনস্কির অভিযোগ, ঘোষণার পরও রুশ হামলা অব্যাহত থাকায় এই সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

কিয়েভের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও খারকিভের গ্যাস স্থাপনায় হামলা

ওয়ারশ সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার একটি ড্রোন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া খারকিভ অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফটোগাজের একটি গ্যাস উৎপাদন স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ, গ্যাস উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শীতের আগে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হলে সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

রাশিয়া হামলা বন্ধ করলে পাল্টা আক্রমণ থামাবে ইউক্রেন

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখে, তাহলে কিয়েভও রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে পাল্টা হামলা বন্ধ রাখতে প্রস্তুত। এ বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা দিতেও ইউক্রেন রাজি বলে জানান তিনি।

দুই পক্ষের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ হলে যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের উত্তেজনা কমতে পারে। তবে এ ধরনের সমঝোতা কার্যকর রাখতে উভয় পক্ষের সম্মতি, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইউক্রেনের অবস্থান অনুযায়ী, শুধু যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যথেষ্ট নয়; বাস্তবে হামলা বন্ধ হচ্ছে কি না, সেটিই হবে চুক্তির কার্যকারিতা নির্ধারণের প্রধান বিষয়।

চুক্তি কার্যকরে ওয়াশিংটনের সরাসরি ভূমিকা চান জেলেনস্কি

জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সরাসরি উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে বাধ্য করলেই এ সমঝোতা কার্যকর হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের উদ্যোগ সফল হলে তা বৃহত্তর যুদ্ধ বন্ধের পথেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ট্রাম্পের ঘোষিত সমঝোতা নিয়ে ইউক্রেন ও ইউরোপের মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ চাপের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার বিষয়ে তাঁর ঘোষিত একটি চুক্তিও ইউক্রেনের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের ঘোষণাকে বাস্তবে কার্যকর করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষ হামলা বন্ধ রাখে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা নেয়, তার ওপর এই উদ্যোগের পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে।

কালের আলো/এসএ

লিটনের সেঞ্চুরির পর ইনিংস ঘোষণা, আফগানিস্তানের লক্ষ্য ৪৭৯

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
লিটনের সেঞ্চুরির পর ইনিংস ঘোষণা, আফগানিস্তানের লক্ষ্য ৪৭৯

অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন লিটন দাস। তাঁর দুর্দান্ত শতকের পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭৮ রানের লিড নিয়ে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন লিটন দাস। তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে ১১৭ বল খেলেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাঁর ১০২ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৪টি চারে।

লিটনের সেঞ্চুরি পূর্ণ হওয়ার পরই ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দলের বড় লিড গড়ে তোলার পথে তাঁর এই ইনিংস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লিটনের পাশাপাশি রান পেয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। শান্ত ১৯১ বলে ৮২ রান করেন। অন্যদিকে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১৪৮ বলে ৮১ রান।

দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত ভিত দেয়। বড় লিড নেওয়ার লক্ষ্য পূরণে তাঁদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

দলের রান বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংস ঘোষণার সময় ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

এ ছাড়া তানজিদ হাসান করেন ৩১ রান। সাদমান ইসলাম ১৩, মুমিনুল হক ৭ এবং হাসান মাহমুদ ১ রান করেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৭২ রান তুলে বাংলাদেশ ৪৭৮ রানের সামগ্রিক লিড নিশ্চিত করে। ফলে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। এতে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় শান্তর দল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটারদের সম্মিলিত অবদানে সেই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। লিটনের সেঞ্চুরি, শান্ত ও মুশফিকের বড় ইনিংস এবং মিরাজের অপরাজিত অর্ধশতকে ভর করে আফগানিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে দলটি।

এখন ম্যাচের শেষ ইনিংসে আফগানিস্তান কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাদের ব্যাটারদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি