খুঁজুন
                               
, ,
           

মোবাইল-মাদকের ঝুঁকি এড়াতে বইমুখী শেরপুরের তরুণেরা

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল-মাদকের ঝুঁকি এড়াতে বইমুখী শেরপুরের তরুণেরা

স্মার্টফোন, অনলাইন গেম ও মাদকের ঝুঁকি থেকে শিশু-কিশোর ও তরুণদের দূরে রেখে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে কাজ করছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেটখৈর গ্রামের ‘শেখ নূর মুহাম্মাদ স্মৃতি পাঠাগার’। স্থানীয় শিক্ষক ও তরুণদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পাঠাগার এখন গ্রামের নতুন প্রজন্মের জ্ঞানচর্চা ও অবসর কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন বিকেল গড়ালেই পাঠাগারে ভিড় করেন শিশু-কিশোর ও তরুণেরা। কেউ পড়ে রূপকথা, গল্প ও উপন্যাস, কেউবা ইতিহাস, বিজ্ঞান, চিকিৎসা কিংবা ধর্মীয় বই। পাঠ্যবইয়ের বাইরে নানা বিষয়ে জানার সুযোগ পেয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে বই পড়ার আগ্রহ।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সিমাবাড়ী ইউনিয়নের এই গ্রামীণ পাঠাগারে বর্তমানে রয়েছে চার হাজারের বেশি বই। প্রত্যন্ত এলাকায় জ্ঞানচর্চার এমন পরিবেশ স্থানীয় শিশু-কিশোরদের সময় কাটানোর ধরনেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে।

৫০০ বই দিয়ে যাত্রা, এখন সংগ্রহ চার হাজারের বেশি

২০২২ সালে স্থানীয় শিক্ষক কাজী মুহাম্মাদ আলমগীর হোসাইনের উদ্যোগে পাঠাগারটির যাত্রা শুরু হয়। কয়েকজন উদ্যমী তরুণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে পাঠাগারের জন্য জায়গার ব্যবস্থা করেন। সরকারি গ্রন্থাগার দপ্তরের পরামর্শে প্রাথমিকভাবে ৫০০ বই নিয়ে শুরু হয় কার্যক্রম।

পরে বিভিন্ন সুধীজন, প্রকাশনা সংস্থা ও একুশে বইমেলা থেকে বই সংগ্রহের মাধ্যমে পাঠাগারের সংগ্রহ সমৃদ্ধ করা হয়। বর্তমানে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠাগারটি পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। দৈনিক গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন পাঠক এখানে বই পড়তে আসেন।

পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানচর্চার সুযোগ

পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা কাজী মুহাম্মাদ আলমগীর হোসাইন বলেন, আকাশসংস্কৃতির এই যুগে পাঠ্যবইয়ের বাইরেও মানুষের জানার পরিধি বিস্তৃত হওয়া জরুরি। তরুণ ও শিশুদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাঁদের এই প্রচেষ্টা।

তাঁর মতে, বইয়ের সঙ্গে শিশু-কিশোরদের নিয়মিত যোগাযোগ তৈরি হলে তাদের চিন্তার জগৎ প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে অবসর সময়কে জ্ঞান অর্জনের কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

শুধু বই পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় পাঠাগারটির কার্যক্রম। জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনও করা হয় এখানে। সম্প্রতি নজরুলজয়ন্তী উৎসবে উপস্থিত হয়ে পাঠাগারের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু। তিনি পাঠাগারটির জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করেন।

  • বাবার চাপে এসে এখন বই পড়তেই ভালো লাগে

পাঠাগারে নিয়মিত আসা খুদে পাঠক তামিমের অভিজ্ঞতাও বদলে যাওয়ার গল্প বলে। শুরুতে বাবার চাপে পাঠাগারে এলেও এখন বই পড়ার আনন্দই তাকে সেখানে টেনে আনে। মোবাইল ফোনের পরিবর্তে বইয়ের পাতায় সে খুঁজে পেয়েছে নতুন আকর্ষণ।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমাইজিদের মতে, পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিশুদের এমন আগ্রহ পাঠাগারটির উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। তবে পাঠকসংখ্যা ও বইয়ের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও সামনে আসছে।

প্রয়োজন আরও বই, আলমারি ও সৌরবিদ্যুৎ

আয়োজকদের মতে, পাঠকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পাঠাগারটিতে অন্তত ১০ হাজার বই প্রয়োজন। পাশাপাশি বই সংরক্ষণের জন্য আরও আলমারি ও র‍্যাক দরকার। বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও জরুরি হয়ে পড়েছে।

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ভবিষ্যতে নিজ অর্থায়নে বহুতল ভবন নির্মাণ করে সেখানে পাঠাগারের জন্য স্থায়ী কক্ষ বরাদ্দের পরিকল্পনা করছেন। এতে বই সংরক্ষণ, পাঠকদের বসার জায়গা এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিটি ইউনিয়নে পাঠাগার গড়ার পরিকল্পনা

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, বর্তমান সময়ে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার ফলে তরুণ সমাজে অবক্ষয় ও মাদকাসক্তি বাড়ছে। তরুণদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদে ছোট পরিসরে হলেও পাঠাগার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেটখৈর গ্রামের শেখ নূর মুহাম্মাদ স্মৃতি পাঠাগার দেখাচ্ছে, স্থানীয় উদ্যোগে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকাতেও শিশু-কিশোর ও তরুণদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। তবে এই উদ্যোগকে দীর্ঘস্থায়ী করতে বইয়ের সংগ্রহ বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নিয়মিত পাঠক তৈরির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে আসছে নতুন কাঠামো

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে আসছে নতুন কাঠামো

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মেয়াদ আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি, প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ছয় গুণ বাড়িয়ে বছরে ৪২ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনার কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বাসসের বরাতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নিয়োগ ও পদোন্নতি, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন প্রশিক্ষণ কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষকেরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাসের আবাসিক প্রশিক্ষণ নেবেন। এরপর শ্রেণিকক্ষে ফিরে গিয়ে নির্ধারিত সিলেবাস ও মডিউল অনুযায়ী বাকি প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করবেন। পুরো প্রক্রিয়া আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বর্তমানে নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরির কাজ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। এই মডিউল অনুযায়ী, প্রথম দুই মাস পিটিআইতে প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করবেন। বাকি ১০ মাসের প্রশিক্ষণ অনলাইন ও অফলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে পিটিআইগুলোর বার্ষিক প্রশিক্ষণ সক্ষমতা প্রায় সাত হাজার। তা বাড়িয়ে ৪২ হাজারে নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগগুলোকে এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে স্থায়ীভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের দায়িত্বে রাখা হবে না।

২০২৭ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিলের লক্ষ্য

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াতে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু আছে। অন্য উপজেলাগুলোতে কার্যক্রম সম্প্রসারণে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে।

শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ

‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও স্মার্ট ক্লাসরুম উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, গুগলসহ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুর্গম এলাকার যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌরবিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করার কাজও চলছে।

প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রায় ৩৬ হাজার ৯৬০টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আদালতের রায়ের চূড়ান্ত সার্টিফায়েড কপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পদোন্নতি কার্যক্রম। এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত কপি পাওয়া গেলে পদোন্নতি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত বইয়ের চাপ কমানো, গল্পের মাধ্যমে শেখানো এবং গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের মতো কার্যক্রম যুক্ত করতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অসুবিধা কমাতে আবাসিক বিদ্যালয় চালুর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের মৃত্যুতে শোক জানালেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের মৃত্যুতে শোক জানালেন তারেক রহমান

সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

শোকবার্তায় তারেক রহমান বলেন, সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের একজন লড়াকু সৈনিক ও অকুতোভয় নেতা ছিলেন। দলের দুঃসময়ে তিনি সাহস, নিষ্ঠা ও দৃঢ়তার সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও দলীয় কর্মকাণ্ড বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ ও দলের প্রতি সালাহউদ্দিন আহমেদের অবদান বিএনপি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর মৃত্যুতে দল একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে হারিয়েছে, যা দলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার শক্তি ও ধৈর্য ধারণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পদ্মায় বিলীন ২০০ ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি হারিয়ে দিশাহারা মানুষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
পদ্মায় বিলীন ২০০ ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি হারিয়ে দিশাহারা মানুষ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে ভয়াবহ ভাঙনে গত পাঁচ দিনে শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের বাদশাহপাড়া ও নামো জগন্নাথপুর এলাকায় অন্তত ২০০ বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বহু পরিবার। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে, কেউ খোলা জায়গায় ত্রিপল টাঙিয়ে দিন পার করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উজানের ঢল ও নদীর তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে গত তিন দিনে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জের নামো জগন্নাথপুর, ফিল্ডের হাট, বাদশাহপাড়া, বিশরশিয়া ও মনোহরপুর এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছর সদর ও শিবগঞ্জের নদীতীরবর্তী এলাকায় ছয় শতাধিক বাড়িঘর এবং শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নদীভাঙনের শিকার ৭০ বছর বয়সী মোস্তফা আলী এক দশকে চারবার বসতভিটা হারিয়েছেন। এবার তাঁর ১৪ বিঘা জমি ও ইটের পাকা বাড়িও পদ্মায় বিলীন হয়েছে। প্রতিবন্ধী ছেলেসহ সাত সন্তান নিয়ে এখন অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁর।

একইভাবে বসতবাড়ি ও তিন বিঘা জমি হারিয়েছেন রাজমিস্ত্রি মেরাজুল ইসলাম। কর্মস্থলে ভবন থেকে পড়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে যাওয়ার পর এখন তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে ত্রিপল টাঙিয়ে বসবাস করছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পরিবার নিয়ে দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে।

নামো জগন্নাথপুরের বাসিন্দা রাজু আলী বলেন, তাঁরা ত্রাণের চেয়ে স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ চান। তাঁর পরিবারেরও বিপুল পরিমাণ জমি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। আগে নিজেদের জমিতে কাজ করে সংসার চললেও এখন অন্যের জমিতে দিনমজুরি করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর থেকে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আগে ভাঙন বাড়লে জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও এবার তেমন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে ক্ষোভ বাড়ছে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিজিবি ক্যাম্পও।

দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আযম জানান, তাঁর ইউনিয়নের অন্তত চারটি এলাকায় ভাঙন চলছে। এসব এলাকায় ৫০ পরিবারের বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে ৪০টি পরিবারের তালিকা দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাঁদের সহায়তা করা হবে।

শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, বন্যার সময় সাধ্যমতো ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। নদীর পানি নেমে গেলে স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নদীভাঙন প্রতিরোধে ৭৪৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। কয়েকটি প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। তবে নদীতে পানির স্রোত বেশি থাকায় এখন কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পানি কমলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

ভিটেমাটি ও জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় থাকা পদ্মাপাড়ের মানুষের দাবি, অস্থায়ী উদ্যোগের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী ও শক্তিশালী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তাঁদের মতে, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি