খুঁজুন
                               
, ,
           

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির বড় পরীক্ষা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের আস্থা ধরে রাখাই বিএনপির বড় পরীক্ষা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সমর্থন বিএনপির বিজয়ে ভূমিকা রেখেছে—এমন মূল্যায়ন করছেন দলটির নেতাদের অনেকে। তাদের মতে, অতীতে যে সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য ভোটভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। এই সমর্থন ভবিষ্যতেও ধরে রাখা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি।

এই প্রেক্ষাপটে শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতা-কর্মীদের বিশেষভাবে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূজার আয়োজনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর জোর দিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।

  • ভোটের মাঠে বদলে যাওয়া সমীকরণ ধরে রাখার লক্ষ্য
  • নির্বাচনী সমর্থনকে দীর্ঘমেয়াদি ভরসায় রূপ দিতে চায় ক্ষমতাসীন দল
  • দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিতে এমপি-মন্ত্রীদের মাঠে থাকার নির্দেশ তারেক রহমানের

ভোটের সমীকরণে নতুন বাস্তবতা
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটকে আওয়ামী লীগের সমর্থনভিত্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশের ভোটের হিসাব-নিকাশে নতুন বাস্তবতা তৈরি করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলকে বিএনপির নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন।

দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অংশ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখেছেন। তবে এই সমর্থনের ব্যাপ্তি বা ভোটের পরিসংখ্যান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া পুরো সম্প্রদায়কে একটি দলের সমর্থক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিএনপি এখন এই সমর্থনকে কেবল নির্বাচনী সাফল্যের অংশ হিসেবে দেখছে না; বরং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবেও ধরে রাখতে চাইছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের সময় তৈরি হওয়া আস্থাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তারেক রহমানের নির্দেশনায় নিরাপত্তা ও আস্থার বার্তা
সরকার গঠনের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত ১১ অক্টোবরের বৈঠকে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, নিরাপদ মনে করায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবার বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের।

দলীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে—নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে। দুর্গাপূজায় নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় নির্দেশনার লক্ষ্য শুধু উৎসবের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নয়; বরং সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি জোরদার করা।

দুর্গাপূজাকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা
দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির আমলে এটিই প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা। ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুক্রবার সারা দেশে শুরু হওয়া এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

বিএনপির আশঙ্কা, রাজনৈতিকভাবে পরাজিত কোনো পক্ষ কিংবা অন্য কোনো মহল দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে দলীয় ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং স্থানীয় নেতাদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীদেরও নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই সতর্কতার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলার ওপর। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, অপ্রীতিকর ঘটনার দ্রুত প্রতিক্রিয়া, গুজব প্রতিরোধ এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ওপর জোর
নেত্রকোণা-২ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য ও দলের জেলা সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসারে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন তারা। উৎসব যাতে আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেটিই তাদের প্রধান প্রত্যাশা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিএনপির গঠিত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের ভাষ্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সরকার ও দল সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তারেক রহমান আগেই সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রশাসক, দলীয় নেতা ও বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ইউনিট পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুও বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে তাদের পাশে থাকতে হবে। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, নাকি দীর্ঘমেয়াদি আস্থার পরীক্ষা?
বিএনপির সামনে এখন দুটি বিষয় সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দুর্গাপূজাসহ ধর্মীয় উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনের বাইরেও হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রাখা। শুধু উৎসবের সময় নেতাদের উপস্থিতি কিংবা নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জন করা কঠিন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির তৈরি করতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের একটি অভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে না দেখে তাদের স্বতন্ত্র মতামত, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক পছন্দকে সম্মান করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনো সম্প্রদায়ের সমর্থন স্থায়ীভাবে কোনো দলের একক সম্পদ নয়। সেই সমর্থন নির্ভর করে রাজনৈতিক আচরণ, সুশাসন ও জনগণের অভিজ্ঞতার ওপর। হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থন ধরে রাখার রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকতেই পারে। কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর পথ হবে নাগরিক হিসেবে তাদের সমান মর্যাদা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা। বিএনপি যদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে নিয়মিত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও জবাবদিহির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে বর্তমান উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি আস্থার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/জেএন/এমকে

শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট নয়, ৬জিতে বদলে যেতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট নয়, ৬জিতে বদলে যেতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা

মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তিতে ৫জির বিস্তার এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ষষ্ঠ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ৬জি নিয়ে গবেষণা ও প্রস্তুতি। প্রযুক্তিটি কবে চালু হবে, কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং ৫জির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়—এসব প্রশ্ন নিয়ে প্রযুক্তি খাতে আগ্রহ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালকে সামনে রেখে ৬জির আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নির্ধারণের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এর আগেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে।

৬জি প্রযুক্তি কী?

৬জি হলো মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তির ষষ্ঠ প্রজন্ম। ৩জি, ৪জি ও ৫জির ধারাবাহিকতায় এ প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে। তবে ৬জি কেবল ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও ব্যবহারক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ৬জিকে ‘আইএমটি-২০৩০’ নামে অভিহিত করেছে। প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য কার্যক্ষমতা, বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ এখনো চলমান। ফলে ৬জির চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে সবকিছু বলা সম্ভব নয়।

কেন এখন থেকেই ৬জি নিয়ে প্রস্তুতি?

নতুন প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তি তৈরি করতে গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। এ কারণে ৫জির বিস্তার পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ৬জি নিয়ে কাজ শুরু করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো।

ভবিষ্যতে মুঠোফোনের পাশাপাশি গাড়ি, বাসাবাড়ির স্মার্ট যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে। এসব যন্ত্রকে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত রাখার ক্ষেত্রে ৬জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক দিয়েই শনাক্ত করা যাবে আশপাশের পরিবেশ?

৬জির সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগের পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা। নেটওয়ার্কের বেতার সংকেত কাজে লাগিয়ে আশপাশে মানুষ বা গাড়ির উপস্থিতি শনাক্ত করার মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের সক্ষমতা ভবিষ্যতে স্মার্ট শহর, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং বিভিন্ন বুদ্ধিমান ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে। তবে এসব সুবিধা কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির চূড়ান্ত নকশা, মান নির্ধারণ এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

কবে চালু হবে ৬জি?

প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টি-মোবাইল ২০২৯ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা করছে।

তবে কোনো প্রযুক্তির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়া এবং সেটি সব দেশে সহজলভ্য হওয়া এক বিষয় নয়। ৪জি ও ৫জির মতো ৬জিও ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে উপযুক্ত অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক স্থাপন, সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তুতি।

৫জি থাকা অবস্থায় ৬জির গুরুত্ব কতটা?

৫জি প্রযুক্তি উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত সংযোগের সুযোগ তৈরি করলেও ৬জির লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। ভবিষ্যতের বিপুলসংখ্যক সংযুক্ত যন্ত্র, উন্নত ডিজিটাল সেবা এবং যোগাযোগ ও পরিবেশ শনাক্তকরণের সমন্বিত ব্যবহারের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা চলছে।

সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালকে কেন্দ্র করে ৬জির আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ এগোচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ২০২৯ সাল থেকে বাণিজ্যিক সেবা চালুর পরিকল্পনা করলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা কবে থেকে ব্যাপকভাবে এ প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে গবেষণার অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশভিত্তিক বাস্তবায়নের ওপর।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এসএ

 

পাকিস্তানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল তিন জেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল তিন জেলা

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর ফলে খুজদারসহ আশপাশের তিন জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়নি।

খুজদারের কাছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল

পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তরের সিসমিক শাখার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তানের খুজদার জেলা থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র অগভীর হওয়ায় খুজদার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী খারান ও কালাত জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। আকস্মিক এ কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্ক প্রশাসন

বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা কিংবা ভবন ধসে পড়ার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে খুজদারের আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

অগভীর ভূমিকম্প কেন বেশি বিপজ্জনক?

ভূমিকম্পের মাত্রার পাশাপাশি এর উৎপত্তিস্থলের গভীরতাও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের কম গভীরতায় সংঘটিত ভূমিকম্পকে অগভীর ভূমিকম্প বলা হয়। এ ধরনের ভূমিকম্পের কম্পন ভূপৃষ্ঠে তুলনামূলক বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায়।

বেলুচিস্তানের ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ফলে উৎপত্তিস্থলের আশপাশে মাটির তৈরি বাড়িঘর ও দুর্বল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে ভূমিকম্পের তীব্রতা, স্থানীয় মাটির বৈশিষ্ট্য এবং ভবনগুলোর নির্মাণমানের ওপর।

তিন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেলুচিস্তান

প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বেলুচিস্তান ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় একটি অঞ্চলে অবস্থিত। ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও অ্যারাবিয়ান টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক গতিবিধি এ অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণতার অন্যতম কারণ।

প্লেটগুলোর নড়াচড়া ও ভূত্বকের বিভিন্ন চ্যুতির কারণে বেলুচিস্তানে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে। ৫ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পও এ অঞ্চলে মাঝেমধ্যে অনুভূত হয়।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এসএ

বিয়ে ভাঙার সুযোগ নেই, দ্বিতীয় বিয়েও কঠিন—বিশ্বের দুই ব্যতিক্রমী দেশ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
বিয়ে ভাঙার সুযোগ নেই, দ্বিতীয় বিয়েও কঠিন—বিশ্বের দুই ব্যতিক্রমী দেশ
বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রয়েছে। তবে এমন দুটি দেশ আছে, যেখানে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই—ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটি। দেশ দুটির আইন ও ধর্মীয় বিধানের কারণে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেলেও আইনগতভাবে বৈবাহিক বন্ধন থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইনি বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল কিংবা বিয়েকে অবৈধ ঘোষণার সুযোগ রয়েছে।

ফিলিপাইন: আলাদা থাকা যায়, কিন্তু বিয়ে ভাঙা কঠিন

ফিলিপাইনে অধিকাংশ বিবাহিত দম্পতির জন্য সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের আইন নেই। তবে সেখানে আইনি বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল এবং বিয়েকে শুরু থেকেই অবৈধ ঘোষণার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

আইনি বিচ্ছেদের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকার অনুমতি পেতে পারেন। শারীরিক নির্যাতন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক কিংবা সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতে আবেদন করা যায়। তবে আদালত আলাদা থাকার অনুমতি দিলেও বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে। ফলে তাঁরা সাধারণত নতুন করে বিয়ে করতে পারেন না।

বিয়ে বাতিল আর অবৈধ ঘোষণা এক নয়

ফিলিপাইনে বিয়ে বাতিলের ক্ষেত্রে আদালত নির্ধারণ করে, বিয়েটি আইনগতভাবে বাতিলযোগ্য কি না। অন্যদিকে বিয়েকে শুরু থেকেই অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিবাহের সময় প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা বিবেচনা করা হয়। শুধু দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেছে—এ কারণে বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না।

এসব আইনি প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে। ফলে বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই আলাদা থাকা অনেক দম্পতির জন্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন করে বিয়ে করতে চাইলে তাঁদের জন্য আইনি বাধা আরও বড় হয়ে ওঠে।

মুসলিমদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা

ফিলিপাইনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক পারিবারিক আইন রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই আইনের আওতায় তালাক, খুলা কিংবা আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে দেশটির সব নাগরিকের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম এক নয়।

এ ছাড়া বিদেশে সম্পন্ন কিছু বিবাহবিচ্ছেদ নির্দিষ্ট আইনি শর্তে ফিলিপাইনে স্বীকৃতি পেতে পারে। তবে এর জন্য প্রযোজ্য আইন ও আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই বিদেশে গিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিলিপাইনে কার্যকর হবে, এমন নয়।

ভ্যাটিকান সিটি: বিয়ে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন

ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় আইন বিবাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্যাথলিক ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বৈধ ও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন বিয়েকে সাধারণভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এ কারণেই সেখানে প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই।

তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিয়েটি সম্পন্ন হওয়ার সময় ধর্মীয় আইনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হয়। দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়া মাত্রই বিয়েটি অবৈধ হয়ে যায় না।

আলাদা থাকা সম্ভব, কিন্তু দ্বিতীয় বিয়েতে বাধা

ভ্যাটিকানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে পারেন। কিন্তু আলাদা থাকলেই তাঁদের বৈবাহিক বন্ধনের অবসান ঘটে না। ফলে প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন করে বিয়ে করার সুযোগ থাকে না বললেই চলে।

কোনো বিয়েকে অবৈধ ঘোষণার আবেদন করা হলে তা ধর্মীয় আইন অনুযায়ী যাচাই করা হয়। প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে এবং এর ফল নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মামলার পরিস্থিতির ওপর। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেই প্রথম বিয়ে বাতিল হয়ে যায় না; বিদেশে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং আগের বিয়ের আইনগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দুই দেশের নিয়মে মূল পার্থক্য কোথায়?

ফিলিপাইনে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ না থাকলেও আইনি বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল এবং মুসলিমদের জন্য পৃথক বিবাহবিচ্ছেদব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বৈধ ও পরিপূর্ণ বিয়েকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া এবং আইনগতভাবে বৈবাহিক বন্ধন শেষ হওয়া এক বিষয় নয়।

দেশ দুটির উদাহরণ দেখায়, বিবাহবিচ্ছেদ কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, ধর্মীয় বিধান ও সামাজিক কাঠামোও জড়িয়ে থাকে।

সূত্র: এমএসএন

কালের আলো/এএইচ/এসএ