খুঁজুন
                               
, ,
           

পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, বন্ধুত্বে বাঁধা দুই সম্প্রদায়

রাজশাহী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, বন্ধুত্বে বাঁধা দুই সম্প্রদায়

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির। একদিকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি, অন্যদিকে শোনা যায় শঙ্খধ্বনি। মসজিদে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা, আর মন্দিরে পূজা-অর্চনায় মগ্ন হন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। দুই ধর্মের মানুষের উপাসনালয় পাশাপাশি হলেও সেখানে নেই বিরোধের ছায়া। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে গড়ে উঠেছে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পশ্চিম ঝিকরা গ্রামের এই চিত্র যেন ধর্মীয় সহাবস্থানের জীবন্ত উদাহরণ। বড়াল নদের পাড়ঘেঁষা এই জনপদে ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও মানুষের সামাজিক বন্ধন দৃঢ়। একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।

পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, নেই বিরোধ

গ্রামের কর্মকারপাড়ায় প্রায় দুই দশক আগে, ২০০৫-০৬ সালের দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি কালীমন্দির। এরপর থেকে সেখানে কালীপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন হয়ে আসছে। পরে ২০২১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে মন্দিরের পাশেই নির্মাণ করা হয় পশ্চিম ঝিকরা জামে মসজিদ। একই আঙিনায় দুই ধর্মের উপাসনালয় গড়ে ওঠার পর শুরুতে কারও কারও মনে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আজান, নামাজ, পূজা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় আচার পালনের সময় কোনো ধরনের সমস্যা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তবে গত পাঁচ বছরে সেই আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

মন্দির ও মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনায় একে অপরের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়। ধর্মীয় আচার পালনের সময় শব্দ ও পরিবেশের বিষয়েও সচেতন থাকেন সংশ্লিষ্টরা। এভাবেই দৈনন্দিন জীবনে সম্প্রীতির চর্চা করছেন গ্রামের মানুষ। মন্দিরের সভাপতি উত্তম কর্মকার বলেন, এই মন্দিরে দুই দশকের বেশি সময় ধরে পূজা হয়ে আসছে। পাশে মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দিকে কোনো সমস্যা হবে কি না, তা নিয়ে তাঁরাও ভেবেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি বলেন, ‘এই মন্দিরে দুই দশকের বেশি সময় ধরে পূজা হচ্ছে। পাশে মসজিদ হওয়ার পর ভেবেছিলাম, কোনো সমস্যা হবে কি না। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। আজানের সময় আমরা মাইকের শব্দ বন্ধ রাখি। পূজার সময়ও পারস্পরিক বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা হয়। মুসলমান ভাইদের সঙ্গে আমাদের কখনো দ্বন্দ্ব হয়নি।’

উত্তম কর্মকারের বক্তব্যে উঠে আসে, ধর্মীয় পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের ধর্মীয় কার্যক্রমের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ টিকে আছে।

মসজিদ ও মন্দিরের সভাপতির মধ্যে বন্ধুত্ব

পশ্চিম ঝিকরার সম্প্রীতির গল্পে বিশেষভাবে উঠে আসে মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মুশফিকুর রহমান ও মন্দিরের সভাপতি উত্তম কর্মকারের বন্ধুত্ব। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আন্তরিক। একে অপরের বাড়িতে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া এবং বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়া তাঁদের নিয়মিত জীবনের অংশ। মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি মসজিদের সভাপতি, আর আমার বন্ধু অপু মন্দিরের সভাপতি। আমরা ভিন্ন ধর্মের মানুষ হলেও একসঙ্গে আড্ডা দিই। একে অপরের দাওয়াতে যাই। ঈদে তারা আমাদের বাড়িতে আসে, পূজায় আমরাও যাই। দিন শেষে আমরা সবাই একই গ্রামের মানুষ। এটাই আমাদের বড় পরিচয়।’ তাঁদের এই বন্ধুত্ব শুধু দুই ব্যক্তির সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং গ্রামের অন্য বাসিন্দাদের মধ্যেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে। ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রতিবেশী হিসেবে একে অপরের পাশে থাকার বিষয়টিই এখানে বেশি গুরুত্ব পায়।

ঈদ-পূজায় একে অপরের পাশে দাঁড়ান গ্রামবাসী

পশ্চিম ঝিকরার সম্প্রীতি ধর্মীয় উৎসবগুলোতেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুর্গাপূজার সময় মুসলিম যুবকেরা মন্দিরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন। অন্যদিকে ঈদের সময় হিন্দু যুবকেরাও মসজিদসংলগ্ন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করেন। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করা, প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে মসজিদ ও মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান তাঁদের কাছে কেবল দুটি উপাসনালয়ের সহাবস্থান নয়; এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও মানবিকতার প্রতীক। গ্রামের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন আচরণেও এই সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায়। ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সামাজিক ও পারিবারিক নানা প্রয়োজনে তাঁরা একে অপরের সহযোগিতা নেন। একই জনপদের মানুষ হিসেবে পারস্পরিক সম্পর্ক অটুট রাখার বিষয়টিকেই তাঁরা গুরুত্ব দেন।

‘সারা বাংলাদেশের জন্য উদাহরণ’

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস পশ্চিম ঝিকরার এই সম্প্রীতির প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা উৎসবকে আরও সুন্দর করে তোলে। তিনি বলেন, ‘পশ্চিম ঝিকরার এই চিত্র সারা বাংলাদেশের জন্য একটি উদাহরণ। উৎসব সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। এখানকার মানুষ তা প্রমাণ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সম্প্রীতি অটুট রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহযোগিতার আশ্বাস স্থানীয়দের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সামাজিক বন্ধন

গ্রামের প্রবীণদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিভেদ সমাজে দূরত্ব তৈরি করলেও পশ্চিম ঝিকরায় ধর্মীয় পরিচয় মানুষের সম্পর্কের মধ্যে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়নি। এক সম্প্রদায়ের আনন্দে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষও শামিল হন। একইভাবে বিপদে-আপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর চর্চাও রয়েছে। এই গ্রামের অভিজ্ঞতা দেখায়, ধর্মীয় সম্প্রীতি কেবল বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক আয়োজনের বিষয় নয়; দৈনন্দিন জীবনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই তা ধরে রাখা সম্ভব। প্রতিবেশীর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানানো এবং মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্ক অটুট রাখার মানসিকতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

যাদের আত্মত্যাগে বিরোধী দলে, তাদের অনুষ্ঠানেই নেই: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
যাদের আত্মত্যাগে বিরোধী দলে, তাদের অনুষ্ঠানেই নেই: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের নেতারা আজ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন উল্লেখ করে তাদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কেবল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচারকে আবার ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করে দিলে তা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ইদানীং আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিরোধী দল শুধু বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে।’ তিনি বলেন, দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যদি সেই পুরোনো কালচারেই থেকে যাই, তাহলে দেশ সামনে এগোবে কীভাবে? বিরোধী দল অবশ্যই বিরোধিতা করবে কিন্তু সেটি গঠনমূলক হতে হবে। বিরোধিতা করতে গিয়ে আপনারা যদি স্বৈরাচারকে আবার আসার পথ উন্মুক্ত করে দেন তবে সেটি দেশের জন্য ভালো পরিণাম বয়ে আনবে না। সেটি যেমন জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি হবে, একইভাবে ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গেও গাদ্দারি হবে।’

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আপনাদের দূরত্ব থাকতে পারে, মঞ্চে না-ই বসলেন। কিন্তু যাদের আত্মত্যাগ আর আহত হওয়ার কারণে আজ আপনারা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন, আপনারা যদি সত্যিই জুলাইকে ধারণ করেন তবে এসে শহীদ পরিবারের মানুষগুলোর সঙ্গে তো বসতে পারতেন। কিন্তু আপনাদের তো দেখা যাচ্ছে না।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তাঁর মতে, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের মতপার্থক্য থাকলেও শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো একটি জাতীয় দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ৮১৩ জন শহীদ জুলাইযোদ্ধার নাম সংরক্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ যেন জাতীয় জীবনে সব সময় স্মরণীয় হয়ে থাকে, সে লক্ষ্যেই স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে। শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্যকে একই সূত্রে দেখেন।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল এক ও অভিন্ন। উভয় সংগ্রামের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের স্বাদ নিয়ে বেঁচে থাকা, বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্ম যেন সুশিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ পরিবেশ পায় এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়—এটিও শহীদদের আকাঙ্ক্ষার অংশ ছিল।

প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেখানেই গণতন্ত্র, সেখানেই বিএনপি আছে।’ সরকার গঠনের পর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা এবং শহীদ পরিবারের কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সহযোগিতার উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব না হলেও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের স্বার্থ, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই।’

সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত থাকতে পারে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই জনগণ প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে। সংসদে আলোচনা, যুক্তিতর্ক ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে এসব প্রশ্নের সমাধান হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ এখন স্থিতিশীলতা ও শান্তি চায়। দেশের অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এখন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। তারেক রহমানের ভাষ্য, জনগণ চায় আগামী দিনে তাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আরও সুদৃঢ় হোক। এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার পরিবেশ প্রয়োজন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

জনসংখ্যা কমছে চীনে, দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা—চাপে পেনশন ও অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যা কমছে চীনে, দ্রুত বাড়ছে প্রবীণের সংখ্যা—চাপে পেনশন ও অর্থনীতি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের জনসংখ্যা ২০৩৫ সালের মধ্যে ‘অতি-বয়স্ক’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তখন শহরটির মোট বাসিন্দার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স হবে ৬০ বছর বা তার বেশি। এতে বয়স্ক নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, পেনশন ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বেইজিং ডেইলির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বেইজিংয়ে বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বেইজিংয়ে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী স্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল ৫২ লাখ ৯০ হাজার। শহরটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই বয়সসীমার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে প্রবীণ মানুষের অনুপাত আরও বাড়বে। ২০৩৫ সালের মধ্যে শহরটি জনসংখ্যাগতভাবে ‘অতি-বয়স্ক’ সমাজে পরিণত হতে পারে। জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামোয় এই পরিবর্তন শুধু বেইজিংয়ের জন্য নয়, চীনের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বয়স্কদের সহায়তায় পেনশন বাড়ানোর উদ্যোগ
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তাঁদের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিংয়ের স্থানীয় সরকার। এর অংশ হিসেবে মৌলিক পেনশনের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকলে পেনশন ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে সরকারি ব্যয়ও বাড়বে। একই সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলে এসব ব্যয়ের অর্থায়ন আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

২০২২ সাল থেকে কমছে চীনের জনসংখ্যা
চীনের জনসংখ্যা ২০২২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে। অন্যদিকে, দেশটিতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। জন্মহার কমে যাওয়া এবং মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির মতো জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ফলে দেশটির বয়সভিত্তিক কাঠামোয় বড় ধরনের রূপান্তর ঘটছে। কর্মজীবন থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ অবসরে যাওয়ায় পেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমে গেলে উৎপাদন, শ্রমবাজার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভোগব্যয় বাড়ানো ও সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ
চীনের অর্থনীতির জন্য আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় বাড়ানো। বয়স্ক মানুষের অনুপাত বৃদ্ধি এবং জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে ভবিষ্যতে ভোগব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যেতে পারে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে প্রবীণ নাগরিকদের পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সামাজিক সহায়তায় ব্যয় বাড়লে সরকারি অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নীতিনির্ধারকদের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

কম জন্মহারে বদলে যেতে পারে পারিবারিক কাঠামো
জনসংখ্যাবিদ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, জন্মহার দীর্ঘদিন কম থাকলে ভবিষ্যতে পরিবারগুলোর আকার ছোট হয়ে আসতে পারে। এতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ব্যয়ের ধরন বদলে যাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক ভোগব্যয়ের বৃদ্ধিও ধীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বেইজিংয়ের সম্ভাব্য ‘অতি-বয়স্ক’ জনসংখ্যার পরিস্থিতি তাই চীনের সামনে একটি দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তুলে ধরছে। প্রবীণদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা, পেনশন ব্যবস্থার স্থায়িত্ব বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে দেশটিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে আরও কার্যকর সমন্বয় করতে হতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএএন/এসএ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে অস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান এই বিএনপি নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে নিজের কারণে যেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য। গত ১২ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে তিনি সেই দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক বলেন, গত দুই দিন ধরে বিষয়টি নিয়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতেই তিনি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

তিনি আরও জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। সেখানে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ইশরাকের ভাষ্য, ‘আমার মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে। আমার কারণে যেন আপনার এবং সরকারের কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়।’ গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানে তাঁর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন ব্যক্তির মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র বহনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনাটির দুই দিন পর প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন ইশরাক। তবে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত এবং এ বিষয়ে কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য প্রদত্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়নি।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ নিয়ে রোববার রাত থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে সময় তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছিল।

এরপর সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান ইশরাক। সেই ঘোষণা অনুযায়ী দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সামনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন তিনি। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার সময় ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তবে পদত্যাগের পর মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি কীভাবে বা কোন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় যুক্ত থাকবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি