খুঁজুন
                               
, ,
           

পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি বন্ধ ও প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলকে চীনের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২২ অপরাহ্ণ
পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি বন্ধ ও প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলকে চীনের আহ্বান

অধিকৃত পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ এবং ইতোমধ্যে গড়ে তোলা বসতি প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন সংকটকে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন চীনের এই শীর্ষ কূটনীতিক।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ওয়াং ইর এসব বক্তব্যের কথা জানানো হয়। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের সঙ্গে বৈঠকে তিনি পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিন সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধের আহ্বান
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে জোরপূর্বক বসতি স্থাপন বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে নির্মিত বসতিগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

ওয়াং ইর বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকারসংক্রান্ত প্রশ্নে চীনের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বেইজিং মনে করে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। তাই সংঘাতের সামরিক সমাধানের পরিবর্তে রাজনৈতিক উদ্যোগ, সংলাপ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সমাধানের পথে এগোনোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।

‘ফিলিস্তিন সংকট চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার’
বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, ফিলিস্তিন সংকটকে চীন চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বিবেচনা করে। তাঁর মতে, এই সংকটকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার ও দাবির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।

চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ওয়াং ইর বক্তব্যে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। বেইজিংয়ের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসানে এমন একটি রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, যেখানে উভয় পক্ষের মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীনও এই অবস্থানের পক্ষে নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানেই সংকটের অবসান দেখছে বেইজিং
ওয়াং ই বলেন, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের পাশাপাশি দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সংকটের সঠিক সমাধান সম্ভব। এই নীতির আওতায় ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবে—এমন ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে চীন।

বেইজিংয়ের অবস্থান অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি রাজনৈতিক সমাধানের আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। তবে এ ধরনের সমাধান বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর আলোচনা, পারস্পরিক সমঝোতা এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করেই স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে হবে।

গাজায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশের তাগিদ
ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে আলোচনায় গাজার মানবিক পরিস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন ওয়াং ই। তিনি গাজায় অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গভাবে মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন, যাতে মানবিক বিপর্যয় আরও বিস্তৃত না হয়।

গাজায় সংঘাতের কারণে বেসামরিক মানুষের জীবন, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা এবং জরুরি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা মানবিক সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ।

ওয়াং ইর বক্তব্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ বাধামুক্ত রাখা এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজনৈতিক আলোচনাও এগিয়ে নিতে হবে।

সংলাপ ও আলোচনায় ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় চীন
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সব পক্ষকে যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ ও আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে এবং সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং। চীনের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

বেইজিংয়ের মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং রাজনৈতিক সমাধানের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। চীন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে। ওয়াং ইর সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থান আবারও তুলে ধরা হয়েছে।

বাকুতে হেরজগের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলন—সিআইসিএর ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। সেখানে চীন ও ইসরায়েলের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।

তবে পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপন এবং ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে দুই নেতার আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে হেরজগের কার্যালয় মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে বৈঠকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে বা এ বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত চীনের
এদিকে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারসেন আগাবেকিয়ান শাহিনের সঙ্গে বৈঠকেও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনের অধিকার ও দাবির পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবে বেইজিং। ওয়াং ই বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে শান্তিপ্রিয় সব দেশকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ, গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ফিলিস্তিন সংকটের অবসান—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে চীন। তবে এসব আহ্বানের পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

কালের আলো/এএএন/এসএ

জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাট সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
জমিতে নষ্ট কলা, হাটে ক্রেতা নেই—দ্বিমুখী সংকটে জয়পুরহাটের চাষিরা

জয়পুরহাটে কলা চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বৈরী আবহাওয়ায় জমিতে কলা নষ্ট হওয়া, অপরিপক্ব অবস্থায় ফল পেকে যাওয়া, গাছের পাতা মরে যাওয়া এবং কলায় কালো দাগ দেখা দেওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে উৎপাদিত কলা বিক্রি করতে গিয়েও মিলছে না প্রত্যাশিত দাম। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার বাজার দুর্গাদহ হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কমে যাওয়া ও যানজটের কারণে বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

কৃষকদের অভিযোগ, কলা চাষে ক্ষতির মুখে পড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁরা পাচ্ছেন না। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ কলা উৎপাদন এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণ ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকছে কলা, গাছের পাতাও মরে যাচ্ছে

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আউশগাড়া মহল্লার বাসিন্দা গোলাম ফারুক। পুলিশের চাকরি শেষ করে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলার আবাদ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বাগানে কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। পাশাপাশি গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

গোলাম ফারুক বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে সাগর কলা চাষ করেছিলেন। কিন্তু কলা পুরোপুরি পরিপক্ব হওয়ার আগেই পাকতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে গাছের পাতা মরে যাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক সাজ্জাদ হোসেন ও আব্দুল হামিদ ধারদেনা করে কয়েক বিঘা জমিতে চিনি চম্পা জাতের কলা চাষ করেছেন। তাঁদের বাগানে ফলন ভালো হলেও কলায় কালো দাগ দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও কলাসহ গাছ ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁরা। এই দুই কৃষকের অভিযোগ, এবার কলা চাষ করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

দুর্গাদহ হাটে দুই ঘাউড় কলার দাম মাত্র ৬০০ টাকা

জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের দুর্গাদহ বাজার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় কলার হাট হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও ব্যবসায়ীরা এখানে কলা কেনাবেচা করতে আসেন। তবে এবার বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না থাকায় কলার দাম নিয়ে হতাশায় পড়েছেন চাষিরা।

ছাওয়ালপাড়া গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হোসেন সাইকেলে করে দুই ঘাউড় কলা নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাদহ বাজারে। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় তাঁর দুই ঘাউড় কলার দাম উঠেছে মাত্র ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময়ে একই পরিমাণ কলার দাম অন্তত এক হাজার টাকা হতো বলে জানান তিনি। মোজাম্মেল হোসেনের মতো বাজারে আসা অন্যান্য কলাচাষি, পাইকার, আড়তদার, ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, বাজারটি ছোট পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় দূরদূরান্তের জেলা থেকে আগের মতো পাইকাররা আসছেন না। ফলে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কলা বিক্রি করতেও সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা।

অপরিকল্পিত দোকানপাটে যানজট, সংকুচিত বাজারের পরিসর

দুর্গাদহ বাজারে বেচাকেনার সমস্যার পাশাপাশি যানজটও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট গড়ে ওঠায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এতে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল ব্যাহত হয় এবং পণ্য আনা-নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীদের মতে, বাজারের পরিসর বাড়ানো গেলে দূরবর্তী এলাকা থেকে পাইকারদের আসা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে যানজট কমানো গেলে কলা পরিবহন ও কেনাবেচার পরিবেশও উন্নত হবে। বাজার সম্প্রসারণের অভাবে সম্ভাবনাময় এই হাটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৮১৭ হেক্টর

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার জানান, চলতি অর্থবছরে জেলায় ৮১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে এখন পর্যন্ত ৭০৫ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ হয়েছে।

জেলার মধ্যে জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫১৭ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়। এ ছাড়া পাঁচবিবি, ক্ষেতলাল ও কালাই উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে কলার আবাদ করা হয়ে থাকে। কৃষকরা যেন মানসম্মত ও নিরাপদ কলা উৎপাদন করতে পারেন, সে জন্য নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মনজু আলম সরকার। কলার অন্যতম ক্ষতিকর শত্রু ফ্রুট ফ্লাই বা পোকার আক্রমণ থেকে ফল রক্ষায় ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সিগাটোকা ও পানামা রোগের মতো ক্ষতিকর রোগবালাই থেকে বাগান সুরক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

দুর্গাদহ বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা প্রশাসনের

দুর্গাদহ বাজারের সমস্যা সমাধান ও পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরিকল্পিত দোকানপাটের কারণে বাজারটিতে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি বাজারটিকে আরও আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানীয় চান্দিনা ভিটি ও তোহা বাজার অক্ষুণ্ণ রেখে আশপাশের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে হাট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং বেচাকেনা আরও সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ৫৩.২৫ মেট্রিক টন

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে প্রতি হেক্টর জমিতে কলার গড় ফলন প্রায় ৫৩ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও কলা সরবরাহের মাধ্যমে এ ফসল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছে। তবে জমিতে রোগবালাই ও আবহাওয়াজনিত ক্ষতি এবং বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার সমস্যা অব্যাহত থাকলে চাষিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উৎপাদন পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলার বাজার সম্প্রসারণ, পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করা এবং দূরবর্তী পাইকারদের আকৃষ্ট করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।

সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।

ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্য, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের টোল নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
ডিসেম্বরে চালুর লক্ষ্য, পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের টোল নির্ধারণ

পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়কের টোল হার নির্ধারণ করেছে সরকার। যানবাহনের ধরন ও চলাচলের রুট অনুযায়ী এ সড়কে টোল দিতে হবে ২০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। নির্ধারিত হারে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাক ও ট্রেইলারের টোল আলাদা করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর এবং পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর—এই দুই রুটে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর রুটে মোটরসাইকেলের টোল ৪০ টাকা। একই যানবাহনের জন্য পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর রুটে দিতে হবে ২০ টাকা। সিএনজিচালিত তিন চাকার যানবাহনের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ টাকা।  ও জিপের ক্ষেত্রে চর সৈয়দপুর রুটে টোল ১০০ টাকা এবং কাশীপুর রুটে ৫০ টাকা। মাইক্রোবাস ও পিকআপের জন্য দুই রুটে টোল দিতে হবে যথাক্রমে ১৫০ ও ১০০ টাকা। মিনিবাসের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ ও ১২৫ টাকা।

৩১ বা তার বেশি আসনের বাসের জন্য পঞ্চবটি-চর সৈয়দপুর রুটে ৩০০ টাকা এবং পঞ্চবটি-কাশীপুর রুটে ১৫০ টাকা টোল দিতে হবে। ছয় চাকার ট্রাকের ক্ষেত্রে টোল যথাক্রমে ৪০০ ও ২০০ টাকা। ১০ চাকার ট্রাকের জন্য নির্ধারিত টোল ৬০০ ও ৪০০ টাকা। প্রজ্ঞাপনে সবচেয়ে বেশি টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ট্রেইলারের জন্য। পঞ্চবটি থেকে চর সৈয়দপুর রুটে ট্রেইলারের টোল ৮০০ টাকা এবং পঞ্চবটি থেকে কাশীপুর রুটে ৫০০ টাকা।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যানবাহন চলাচলের জন্য সড়কটি উন্মুক্ত করার তারিখ থেকে নির্ধারিত টোল কার্যকর হবে। অর্থাৎ টোলের হার নির্ধারণ করা হলেও সড়কটি চালুর তারিখের সঙ্গে এর কার্যকারিতা যুক্ত থাকবে। গত ১৫ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের চলমান কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটি চালু হবে বলে জানান।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এর ভৌত অগ্রগতি ছিল ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে আর্থিক অগ্রগতি ছিল ৮২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকায় এটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের যানজট কমানো এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতি বাড়াতেও প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রকল্প চালুর পর এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে নির্ধারিত টোল কার্যকর হবে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি