খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের একাংশ যখন দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন, তখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং–উনের অবকাশযাপনের জন্য রয়েছে বিলাসবহুল নৌযানের বহর। উত্তর কোরিয়ার ওয়ানসান উপকূলে কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, নৌযানগুলোর দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। এগুলো কিম ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত বিনোদনের কাজে ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নৌযানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ মিটার বা ২৬৩ ফুট। এর ডেকে রয়েছে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সুইমিংপুল, যার এক প্রান্তে রয়েছে ওয়াটার স্লাইড। দীর্ঘদিন একটি মেরামতকেন্দ্রে থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরুতে নৌযানটিকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপের উপকূলীয় জলসীমায় দেখা যায়। জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানটির উপস্থিতি বারবার ধরা পড়েছে। বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু বড় নৌযানটিই নয়, কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে থাকা অন্য নৌযানগুলোর চলাচলও নজরে এসেছে। এসব নৌযানের মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে উত্তর কোরিয়ার সাবেক কর্মকর্তা, দেশত্যাগী নাগরিক এবং বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বাইরে কারও পক্ষে এ ধরনের ব্যয়বহুল নৌযানের মালিক হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

কিমের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে চার নৌযানের আনাগোনা
বিবিসির শনাক্ত করা চারটি নৌযানের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে এগুলোকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপ এবং আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় দেখা গেছে। এর মধ্যে ৮০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শনাক্ত হয়েছে। ৫০ ও ৫৫ মিটার দীর্ঘ দুটি নৌযানকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ওয়ানসানের কাছে তে ও সিন দ্বীপের আশপাশে বারবার দেখা গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে ৫০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির পাশে চারটি ছোট নৌকাও দেখা যায়। অন্যদিকে, ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নৌযানের অবস্থান ও চলাচল কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে কোনো নৌযানকে নির্দিষ্ট স্থানে দেখা গেলেই সেখানে কিম বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

নৌযানগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ‘৩৯ নম্বর দপ্তরে’ একসময় কাজ করতেন রি জং হো। দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এই দপ্তর জড়িত বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তর কোরিয়া ছেড়ে চলে যান। রি জং হোর ভাষ্য অনুযায়ী, শীতকালে এসব নৌযান জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে রাখা হয়। গ্রীষ্ম এলে সেখান থেকে সরিয়ে কিমের ভিলা বা কালমা উপদ্বীপের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাঁতার কাটা এবং বিনোদনের কাজে এগুলো ব্যবহার করেন বলে তিনি জানান। স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানগুলোর অবস্থান সম্পর্কে পাওয়া তথ্য এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা, সুনির্দিষ্ট ব্যবহার কিংবা প্রতিটির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

ওয়ানসান কেন কিম পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ওয়ানসান দীর্ঘদিন ধরে কিম পরিবারের অবকাশযাপনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। শহরটির আশপাশে রয়েছে উপকূলীয় ভিলা, ব্যক্তিগত বিনোদনকেন্দ্র এবং বিভিন্ন অবকাশসুবিধা। কিম জং–উন শৈশবের একটি বড় সময় তাঁর মায়ের সঙ্গে ওয়ানসানে কাটিয়েছেন বলে জীবনীকার ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত কিম জং–ইলের ভিলার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক দেশত্যাগী ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই এলাকার ভিলাগুলোতে মূলত অভিজাত ব্যক্তিরাই যাতায়াত করতেন। গ্রীষ্মকালে সেখানে শিশু-কিশোরদের পানিতে স্কি করতেও দেখেছেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের বিস্তারিত সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। তাঁর বিভিন্ন সফরকে বরং সরকারি কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে উত্তর কোরিয়া ছেড়ে আসা কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, কিম পরিবারের ওয়ানসানে অবকাশযাপনের বিষয়টি দেশটির অন্তত কিছু মানুষের জানা।

অবকাশকেন্দ্রে পর্যটন সুবিধা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া
ওয়ানসান কালমা অবকাশকেন্দ্রকে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বহুতল হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান, ক্রীড়াসুবিধা এবং জলবিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব বলেও দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর রুশ পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটকদের জন্যও কেন্দ্রটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশ না করা এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কিছু স্থানীয় বাসিন্দার জন্য চার রাতের ভ্রমণ প্যাকেজের দাম প্রায় ১০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে দেশটির অধিকাংশ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এ পরিমাণ অর্থও বড় অঙ্কের।

সাধারণ মানুষের সংকটের বিপরীতে শাসকের বিলাসী জীবন
উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। দেশটির শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় জাতীয় বাজেট, ব্যক্তিগত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট নয়। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দেশটিতে দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর সমস্যা উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার বিপুলসংখ্যক মানুষ কঠোর মানবাধিকার পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং অনেককে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকটের কারণে দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছে একাধিক বড় নৌযানের উপস্থিতি দেশটির শাসকগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বৈপরীত্যকে সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর প্রকৃত মূল্য এবং রক্ষণাবেক্ষণে কত অর্থ ব্যয় হয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। একই ধরনের বিলাসবহুল প্রমোদতরির দাম কয়েক কোটি ডলার থেকে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর আগে কিমের ব্যবহৃত ২৯ মিটার দীর্ঘ একটি প্রিন্সেস প্রমোদতরির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ডলার বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এই হিসাবকে নতুন শনাক্ত হওয়া চারটি নৌযানের প্রকৃত দাম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানের চলাচল কেন গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত দেশে শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন। এ কারণে কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক অবকাঠামো এবং শীর্ষ নেতাদের ব্যবহৃত স্থান পর্যবেক্ষণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিম জং–উন দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলে কখনো কখনো এসব বিলাসবহুল নৌযানের চলাচল বেড়ে যায়। তবে এ ধরনের সময়গত মিল থেকে কিমের অবস্থান বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না। নৌযানগুলো ঠিক কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০০২ সালেও ওয়ানসানে একই ধরনের একটি বড় নৌযান দেখা গিয়েছিল। সে সময় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন কিম জং–ইল।

এতে বোঝা যায়, ওয়ানসান উপকূলকে কেন্দ্র করে কিম পরিবারের বিলাসবহুল নৌযান ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো। সাবেক মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় কিম জং–উনের সঙ্গে ওয়ানসানে সময় কাটানোর কথা জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সফরের বড় একটি অংশ তাঁরা সেখানে কাটিয়েছিলেন। ওই সময়ে তাঁরা জেট স্কি চালিয়েছেন এবং ঘোড়ায় চড়েছেন। রডম্যান আরও জানিয়েছিলেন, তাঁরা প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি নৌযান ব্যবহার করেছিলেন, যা দেখতে ফেরি ও ডিজনিল্যান্ডের ক্রুজের সংমিশ্রণের মতো ছিল। তবে তাঁর বর্ণিত নৌযানটি বিবিসির সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে শনাক্ত হওয়া ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সাধারণ মানুষের ছুটিও অনেকের কাছে বিলাসিতা
উত্তর কোরিয়ায় অবকাশযাপন ও স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত। দেশত্যাগী কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিক, দপ্তরের কর্মী এবং সমবায় খামারের কৃষকদের বছরে ১৪ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ম নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয় না। ছুটি পেলেও এক শহর বা জেলা থেকে অন্য এলাকায় যেতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দেশের ভেতরে অবাধে ভ্রমণ করা অনেকের জন্য কঠিন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে ছুটি কাটানোও অনেকের নাগালের বাইরে থেকে যায়।

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থান যে অনেক দুর্বল, তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মাথাপিছু জিডিপি ছিল আনুমানিক ৬৬৭ ডলার, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার ছিল ৩৬ হাজার ২২৭ ডলার। রি জং হোর বক্তব্য অনুযায়ী, কিমকে রাষ্ট্রীয় প্রচারে জনগণের জন্য আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। অথচ সাধারণ মানুষ যখন খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন শাসকের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল নৌযান। এই বৈপরীত্যই উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাকাঠামো, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শাসকগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে, ওয়ানসানের উপকূলে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি কিম জং–উনের ব্যক্তিগত অবকাশযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় স্যাটেলাইটের ছবি, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, জাতিসংঘ

কালের আলো/আরআইকে/এসএ

পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটিতে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একদিকে পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, অন্যদিকে আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে চলছে নিয়মিত টহল। চুরি, ডাকাতি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার চাপ বেড়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে পুলিশ অভ্যস্ত।

তিনি বলেন, রমনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, প্রতিটি থানাকে এ সময়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমও চলছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এ সুযোগে বাসাবাড়িতে চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে।

আবাসিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, মিরপুর, বাড্ডা, উত্তরা ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক বাসিন্দা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় এসব এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর মেরাদিয়া পূজামণ্ডপে টহলরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, পূজার সময়ে তাদের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একটি ডিউটি শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দায়িত্ব শুরু হচ্ছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করতে তারা অভ্যস্ত।

তিনি জানান, খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।

পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় টহল

পুলিশের পাশাপাশি এসআরবির পক্ষ থেকেও পূজা ও ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তায় টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এসআরবি-৩-এর মিডিয়া অফিসার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম। এ পরিস্থিতিতে পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁকা বাসাবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার বিদায়, সিঁদুর খেলায় মেতে উঠলেন নারীরা

দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর বেদনা, আবার এক বছর পর ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা—এ দুই অনুভূতিকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীরা। লাল সিঁদুরের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। নাচ, গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, লাল শাড়ি ও সাদা শাড়িতে লাল পাড় পরা নারীদের উপস্থিতিতে মুখর পূজামণ্ডপ। দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়াতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভক্তরা। বাদ্যের তালে তালে চলছে সিঁদুর খেলা ও বিদায়ের আয়োজন।

দুর্গাপূজার শেষ পর্বের অন্যতম রীতি ‘দেবী বরণ’। এই রীতির অংশ হিসেবে বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে প্রথমে দেবী দুর্গার কপাল ও চরণে সিঁদুর স্পর্শ করান। এরপর একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। মিষ্টিমুখ, নাচ ও গানের মধ্য দিয়ে তারা দেবীকে হাসিমুখে বিদায় জানান।

ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গল ও সংসারের কল্যাণ কামনায় সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। তাদের বিশ্বাস, দেবী দুর্গা আগামী বছর আবার ফিরে আসবেন। সেই প্রত্যাশা ও আনন্দের মধ্য দিয়েই দশমীর এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। যদিও সিঁদুর খেলা মূলত বিবাহিত নারীদের রীতি, তবু পূজামণ্ডপে অবিবাহিত তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়। অনেকে গালে ও হাতে সিঁদুর মেখে উৎসবে অংশ নেন।

পূজা দিতে আসা এক তরুণী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায় না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে, তখন ভালো স্বামী ও সুখের সংসারের কামনায় আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিঁথিতে সিঁদুর পরব।’

রঞ্জনা দাস বলেন, স্বামীর মঙ্গল কামনায় এই রীতি পালন করা হয়। মা দুর্গা আগামী বছর আবার শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে ফিরে আসবেন—এমন বিশ্বাস থেকেই তারা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৩টায় বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর রাজধানীর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।

দেবীর বিদায়ের বিষাদকে আনন্দে রূপ দিয়ে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে ভক্তরা একদিকে যেমন দুর্গাকে বিদায় জানান, অন্যদিকে তেমনি আগামী বছর আবারও তাঁর আগমনের প্রত্যাশায় অপেক্ষা শুরু করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
বিজয়া দশমীতে বুড়িগঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন, বাড়তি সতর্কতা

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাজধানীর সদরঘাট-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা নৌকায় করে বিসর্জনস্থলে নেওয়া হচ্ছে। এ উপলক্ষে নদী ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশ।

সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব জানান, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে ওয়াটার বোর্ড ও স্পিডবোট নিয়ে নৌ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিসর্জন কার্যক্রম চলা পর্যন্ত দিন-রাত বাড়তি নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৩টার মধ্যে কয়েকটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মণ্ডপ থেকে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা নৌকায় করে বুড়িগঙ্গা নদীতে আসতে থাকেন।

পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল জানান, কোতোয়ালি থানা-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে একটি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানা এলাকা দিয়ে অধিকাংশ প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে নেওয়া হচ্ছে। বিসর্জনস্থলগুলোতে নিরাপত্তার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিমা বহনকারী যান ও নৌকার চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছে।

প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি