খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
দেশে অনাহারেও কিমের অবকাশে কোটি ডলারের নৌযান

উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষের একাংশ যখন দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকট, অপুষ্টি ও কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন, তখন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং–উনের অবকাশযাপনের জন্য রয়েছে বিলাসবহুল নৌযানের বহর। উত্তর কোরিয়ার ওয়ানসান উপকূলে কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, নৌযানগুলোর দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। এগুলো কিম ও তাঁর পরিবারের ব্যক্তিগত বিনোদনের কাজে ব্যবহৃত হয় বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নৌযানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ মিটার বা ২৬৩ ফুট। এর ডেকে রয়েছে প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সুইমিংপুল, যার এক প্রান্তে রয়েছে ওয়াটার স্লাইড। দীর্ঘদিন একটি মেরামতকেন্দ্রে থাকার পর গত জুলাইয়ের শুরুতে নৌযানটিকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপের উপকূলীয় জলসীমায় দেখা যায়। জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানটির উপস্থিতি বারবার ধরা পড়েছে। বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু বড় নৌযানটিই নয়, কিমের অবকাশকেন্দ্রের আশপাশে থাকা অন্য নৌযানগুলোর চলাচলও নজরে এসেছে। এসব নৌযানের মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে উত্তর কোরিয়ার সাবেক কর্মকর্তা, দেশত্যাগী নাগরিক এবং বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বাইরে কারও পক্ষে এ ধরনের ব্যয়বহুল নৌযানের মালিক হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

কিমের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে চার নৌযানের আনাগোনা
বিবিসির শনাক্ত করা চারটি নৌযানের দৈর্ঘ্য আনুমানিক ৫০, ৫৫, ৬০ ও ৮০ মিটার। চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে এগুলোকে ওয়ানসানের কালমা উপদ্বীপ এবং আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় দেখা গেছে। এর মধ্যে ৮০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শনাক্ত হয়েছে। ৫০ ও ৫৫ মিটার দীর্ঘ দুটি নৌযানকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত ওয়ানসানের কাছে তে ও সিন দ্বীপের আশপাশে বারবার দেখা গেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে ৫০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটির পাশে চারটি ছোট নৌকাও দেখা যায়। অন্যদিকে, ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নৌযানের অবস্থান ও চলাচল কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে কোনো নৌযানকে নির্দিষ্ট স্থানে দেখা গেলেই সেখানে কিম বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

নৌযানগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হয়
উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ‘৩৯ নম্বর দপ্তরে’ একসময় কাজ করতেন রি জং হো। দেশটির শাসকগোষ্ঠীর বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে এই দপ্তর জড়িত বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি উত্তর কোরিয়া ছেড়ে চলে যান। রি জং হোর ভাষ্য অনুযায়ী, শীতকালে এসব নৌযান জাহাজ নির্মাণকেন্দ্রে রাখা হয়। গ্রীষ্ম এলে সেখান থেকে সরিয়ে কিমের ভিলা বা কালমা উপদ্বীপের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাঁতার কাটা এবং বিনোদনের কাজে এগুলো ব্যবহার করেন বলে তিনি জানান। স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানগুলোর অবস্থান সম্পর্কে পাওয়া তথ্য এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা, সুনির্দিষ্ট ব্যবহার কিংবা প্রতিটির প্রকৃত মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে নেই।

ওয়ানসান কেন কিম পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে অবস্থিত ওয়ানসান দীর্ঘদিন ধরে কিম পরিবারের অবকাশযাপনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। শহরটির আশপাশে রয়েছে উপকূলীয় ভিলা, ব্যক্তিগত বিনোদনকেন্দ্র এবং বিভিন্ন অবকাশসুবিধা। কিম জং–উন শৈশবের একটি বড় সময় তাঁর মায়ের সঙ্গে ওয়ানসানে কাটিয়েছেন বলে জীবনীকার ও গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়। নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত কিম জং–ইলের ভিলার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক দেশত্যাগী ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই এলাকার ভিলাগুলোতে মূলত অভিজাত ব্যক্তিরাই যাতায়াত করতেন। গ্রীষ্মকালে সেখানে শিশু-কিশোরদের পানিতে স্কি করতেও দেখেছেন তিনি। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে কিমের ব্যক্তিগত অবকাশযাপনের বিস্তারিত সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। তাঁর বিভিন্ন সফরকে বরং সরকারি কর্মসূচি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে উত্তর কোরিয়া ছেড়ে আসা কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, কিম পরিবারের ওয়ানসানে অবকাশযাপনের বিষয়টি দেশটির অন্তত কিছু মানুষের জানা।

অবকাশকেন্দ্রে পর্যটন সুবিধা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া
ওয়ানসান কালমা অবকাশকেন্দ্রকে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বহুতল হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকান, ক্রীড়াসুবিধা এবং জলবিনোদনকেন্দ্র রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব বলেও দাবি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কেন্দ্রটি চালু হওয়ার পর রুশ পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম। বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটকদের জন্যও কেন্দ্রটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম নাম প্রকাশ না করা এক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কিছু স্থানীয় বাসিন্দার জন্য চার রাতের ভ্রমণ প্যাকেজের দাম প্রায় ১০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে দেশটির অধিকাংশ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় এ পরিমাণ অর্থও বড় অঙ্কের।

সাধারণ মানুষের সংকটের বিপরীতে শাসকের বিলাসী জীবন
উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন। দেশটির শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় জাতীয় বাজেট, ব্যক্তিগত সম্পদ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট নয়। তবে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মূল্যায়নে দেশটিতে দারিদ্র্য, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর সমস্যা উঠে এসেছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার বিপুলসংখ্যক মানুষ কঠোর মানবাধিকার পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। রাষ্ট্র নাগরিকদের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে এবং অনেককে জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী খাদ্যসংকটের কারণে দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিমের অবকাশকেন্দ্রের কাছে একাধিক বড় নৌযানের উপস্থিতি দেশটির শাসকগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বৈপরীত্যকে সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর প্রকৃত মূল্য এবং রক্ষণাবেক্ষণে কত অর্থ ব্যয় হয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। একই ধরনের বিলাসবহুল প্রমোদতরির দাম কয়েক কোটি ডলার থেকে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি হতে পারে। এর আগে কিমের ব্যবহৃত ২৯ মিটার দীর্ঘ একটি প্রিন্সেস প্রমোদতরির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ডলার বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এই হিসাবকে নতুন শনাক্ত হওয়া চারটি নৌযানের প্রকৃত দাম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

স্যাটেলাইট ছবিতে নৌযানের চলাচল কেন গুরুত্বপূর্ণ
উত্তর কোরিয়ার মতো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত দেশে শাসকগোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন। এ কারণে কৃত্রিম উপগ্রহের ছবি দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক অবকাঠামো এবং শীর্ষ নেতাদের ব্যবহৃত স্থান পর্যবেক্ষণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিম জং–উন দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলে কখনো কখনো এসব বিলাসবহুল নৌযানের চলাচল বেড়ে যায়। তবে এ ধরনের সময়গত মিল থেকে কিমের অবস্থান বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায় না। নৌযানগুলো ঠিক কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন। কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০০২ সালেও ওয়ানসানে একই ধরনের একটি বড় নৌযান দেখা গিয়েছিল। সে সময় উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় ছিলেন কিম জং–ইল।

এতে বোঝা যায়, ওয়ানসান উপকূলকে কেন্দ্র করে কিম পরিবারের বিলাসবহুল নৌযান ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরোনো। সাবেক মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান ২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়া সফরের সময় কিম জং–উনের সঙ্গে ওয়ানসানে সময় কাটানোর কথা জানিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সফরের বড় একটি অংশ তাঁরা সেখানে কাটিয়েছিলেন। ওই সময়ে তাঁরা জেট স্কি চালিয়েছেন এবং ঘোড়ায় চড়েছেন। রডম্যান আরও জানিয়েছিলেন, তাঁরা প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি নৌযান ব্যবহার করেছিলেন, যা দেখতে ফেরি ও ডিজনিল্যান্ডের ক্রুজের সংমিশ্রণের মতো ছিল। তবে তাঁর বর্ণিত নৌযানটি বিবিসির সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট ছবিতে শনাক্ত হওয়া ৬০ মিটার দীর্ঘ নৌযানটিই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সাধারণ মানুষের ছুটিও অনেকের কাছে বিলাসিতা
উত্তর কোরিয়ায় অবকাশযাপন ও স্বাধীনভাবে ভ্রমণের সুযোগ সাধারণ মানুষের জন্য সীমিত। দেশত্যাগী কয়েকজন বিবিসিকে জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী শ্রমিক, দপ্তরের কর্মী এবং সমবায় খামারের কৃষকদের বছরে ১৪ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এই নিয়ম নিয়মিতভাবে অনুসরণ করা হয় না। ছুটি পেলেও এক শহর বা জেলা থেকে অন্য এলাকায় যেতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। ফলে দেশের ভেতরে অবাধে ভ্রমণ করা অনেকের জন্য কঠিন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে ছুটি কাটানোও অনেকের নাগালের বাইরে থেকে যায়।

বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যের সীমাবদ্ধতার কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থান যে অনেক দুর্বল, তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার মাথাপিছু জিডিপি ছিল আনুমানিক ৬৬৭ ডলার, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার ছিল ৩৬ হাজার ২২৭ ডলার। রি জং হোর বক্তব্য অনুযায়ী, কিমকে রাষ্ট্রীয় প্রচারে জনগণের জন্য আত্মত্যাগী নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়। অথচ সাধারণ মানুষ যখন খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন শাসকের অবকাশকেন্দ্র ঘিরে রয়েছে একাধিক বিলাসবহুল নৌযান। এই বৈপরীত্যই উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাকাঠামো, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শাসকগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে, ওয়ানসানের উপকূলে চারটি বড় নৌযানের উপস্থিতি কিম জং–উনের ব্যক্তিগত অবকাশযাপন সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে। তবে নৌযানগুলোর মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় স্যাটেলাইটের ছবি, বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, জাতিসংঘ

কালের আলো/আরআইকে/এসএ

দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় বাঙালি সাজে নজর কাড়লেন আলিয়া ভাট

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট এবার দুর্গাপূজার সাজে মুগ্ধ করেছেন ভক্তদের। গাঢ় গোলাপি শাড়ি, নীল ব্লাউজ ও সোনালি গয়নায় বাঙালি নারীর ঐতিহ্যবাহী সাজে হাজির হয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধনে অভিনেত্রীর এই উৎসবের সাজ সামাজিক মাধ্যমে ও বিনোদন অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী ও মহানবমী উদ্‌যাপন উপলক্ষে মুম্বাইয়ের ৮০তম নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে যান আলিয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অয়ন মুখার্জি। পূজার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অভিনেত্রীর পোশাক ও সাজসজ্জা ছিল সবার আকর্ষণের কেন্দ্রে।

গোলাপি শাড়িতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া


এদিন আলিয়ার পরনে ছিল উজ্জ্বল ফুশিয়া গোলাপি রঙের শাড়ি। শাড়িতে সোনালি গোটাপট্টির কাজ তার সাজে যোগ করেছে আভিজাত্য। বাঙালি কায়দায় শাড়ি পরেছিলেন অভিনেত্রী। কাঁধে সুন্দরভাবে সাজানো আঁচলে ফুটে উঠেছিল শাড়ির নকশা ও পোশাকের সৌন্দর্য। গোলাপি শাড়ির সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করে ফিরোজা-নীল রঙের ব্লাউজ বেছে নেন আলিয়া। ব্লাউজের গোলাকার গলার নকশা ও ছোট পাফ স্লিভ তার সাজে এনেছে ভিন্নমাত্রা। পেছনের সোনালি কারুকাজও ছিল নজরকাড়া।

সোনালি গয়না ও ফুলের খোঁপায় পূর্ণতা
শাড়ির সঙ্গে আলিয়া পরেছিলেন সোনালি ঝুমকা, হাতে একাধিক সোনালি চুড়ি এবং আঙুলে নকশাদার আংটি। কানের গয়নার সঙ্গে মানানসই ইয়ার চেইন তার সাজে যোগ করেছে বাড়তি আকর্ষণ। চুলে মাঝখানে সিঁথি করে পরিপাটি খোঁপা বেঁধেছিলেন অভিনেত্রী। সেই খোঁপায় ছিল রঙিন ফুলের সাজ। কপালে ছোট্ট টিপ, হালকা চোখের মেকআপ, স্বাভাবিক ত্বকের সাজ এবং মৃদু রঙের লিপস্টিকে পূর্ণতা পেয়েছে তার উৎসবের লুক। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাজের সঙ্গে আধুনিক রঙের সমন্বয় আলিয়ার উপস্থিতিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সব মিলিয়ে পূজামণ্ডপে তার এই সাজ ভক্তদের নজর কেড়েছে।

নতুন সিনেমা নিয়েও ব্যস্ত আলিয়া
উৎসবের আমেজের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন আলিয়া ভাট। পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। এতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন রণবীর কাপুর ও ভিকি কৌশল। বহুল প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রটি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের মধ্যেই দুর্গাপূজায় আলিয়ার বাঙালি সাজ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস 

কালের আলো/এসএআর/এসএ

নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের প্রধান ড্যান লিন বরখাস্ত

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে নেতৃত্বের পরিবর্তন এসেছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় তিন বছরের মাথায় বিভাগটির প্রধান ড্যান লিনকে বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সাম্প্রতিক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে রদবদলের ধারাবাহিকতায় তার বিদায়ের খবর সামনে এসেছে। বিনোদনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাধিক সূত্র ড্যান লিনের দায়িত্ব হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সপ্তাহান্তের শুরুতে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার নিজের দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল তার।

এক সপ্তাহে বড় পরিবর্তন নেটফ্লিক্সে
নেটফ্লিক্সে সম্প্রতি বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক হাজার কর্মী চাকরি হারান। একই সময়ে নেটফ্লিক্সের প্রধান কনটেন্ট কর্মকর্তা বেলা বাজরিয়াকে বরখাস্ত করার খবরও আলোচনায় আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একের পর এক কর্মী ছাঁটাই ও শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে চলচ্চিত্র বিভাগের নেতৃত্বে পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ড্যান লিনের স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন?
ড্যান লিনের জায়গায় কে দায়িত্ব নেবেন, সে বিষয়ে নেটফ্লিক্স এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের চলচ্চিত্র বিভাগের সাবেক প্রধান মাইক ডি লুকা ও পাম অ্যাবডির নেটফ্লিক্সে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে তাদের যোগদানের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রযোজক হিসেবে সফল ক্যারিয়ার ড্যান লিনের
২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ড্যান লিন। এর আগে তিনি নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রাইডব্যাক পরিচালনা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছে ‘লেগো’ চলচ্চিত্র সিরিজ, স্টিফেন কিংয়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘ইট’ এবং ‘শার্লক হোমস’-এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। নেটফ্লিক্সে দায়িত্ব পালনকালে ৮৮টি চলচ্চিত্রের অনুমোদন দেওয়া কিংবা স্বত্ব সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড্যান লিন। গত জুনে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানিয়েছিলেন। তার দায়িত্ব পালনকালে প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘এমিলিয়া পেরেজ’, ‘এপেক্স’, ‘হিয়ার কামস দ্য ফ্লাড’ এবং ‘দ্য ফার্দার মিস-অ্যাডভেঞ্চারস অব ক্লিফ বুথ’।

চলচ্চিত্র বিভাগের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আগ্রহ
ড্যান লিনের বিদায়ের পর নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র বিভাগে কনটেন্ট নির্বাচন, চলচ্চিত্র নির্মাণে বিনিয়োগ এবং নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নেটফ্লিক্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন নেতৃত্বের নাম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশের পরই চলচ্চিত্র বিভাগে পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সূত্র: এনপিবি নিউজ; ভ্যারাইটি; নিউইয়র্ক টাইমস

কালের আলো/জেএন/এসএ

ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
ইশরাককে পুনর্বহাল না করলে শহীদ পরিবার থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের দাবি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধারা। তাকে পুনর্বহাল করা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য, শিক্ষিত ও নিষ্ঠাবান কাউকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন, শহীদ রমিজুদ্দিনের বাবা উকিল বুলবুল আহমেদ, যাত্রাবাড়ীর কাজলার শহীদ ইমাম হাসান তাইমের বন্ধু মোহাম্মদ আহাদ হোসেন, শহীদ নূর হোসেনের মা নুরন্নাহার চিনু, শহীদ মোহাম্মদ নাসির হোসেনের ভাই হুমায়ুন, শহীদ সাইদুল ইসলাম ইয়াসিনের মা মনজিলা বেগম এবং আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হকসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। তবে এসব কার্যক্রমের বড় একটি অংশ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এমন একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রয়োজন, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের সমস্যাগুলো উপলব্ধি করেন।

জুলাই যোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ইশরাক হোসেনকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তা সম্ভব না হলে শহীদ পরিবারের মধ্য থেকে যোগ্য কাউকে প্রতিমন্ত্রী করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, এখনো অনেক আহত যোদ্ধা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অনেকে নিজ খরচে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া অনেক আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যের গেজেটভুক্তি এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হয়নি।

আহত জুলাই যোদ্ধা এ কে এম ওবায়দুল হক বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। আহতদের অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়ছেন। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবার ও আহতদের মধ্য থেকে এমন একজন শিক্ষিত, মার্জিত ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেন এবং তাদের কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতরা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নন; তারা রাষ্ট্রের সম্পদ। তাদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ও সনদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবারগুলোর ন্যায্য দাবি পূরণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি