খুঁজুন
                               
, ,
           

ইতালিতে বিক্ষোভে সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
ইতালিতে বিক্ষোভে সহিংসতা ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা আইন

ইতালিতে বিক্ষোভের নামে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা আইন অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন আইনে দাঙ্গা ও সহিংস বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য শাস্তি বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্কদের অপরাধের ঘটনায় তাদের অভিভাবকদের আর্থিক দায়বদ্ধতার বিধান রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত কিশোরদের আটক করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে সহিংসতা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সরকার এ পদক্ষেপ নিল। বিশেষ করে ইতালির আর্থিক কেন্দ্র মিলানে তরুণদের কয়েকটি দলের বিরুদ্ধে দোকানের জানালা ভাঙচুর, লুটপাট এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার পর বিক্ষোভের সময় সহিংসতা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই নতুন বিধানগুলো কার্যকর করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, কঠোর শাস্তি ও পুলিশের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধের পেছনে থাকা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধানেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

দাঙ্গা ও সহিংস বিক্ষোভে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
নতুন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী, অন্তত পাঁচজনের কোনো দলের অংশ হয়ে বিক্ষোভের সময় জননিরাপত্তা বিপন্ন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ, বিক্ষোভের সময় সংঘবদ্ধভাবে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, তার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনে মুখ ঢেকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কিংবা সহিংসতার ঘটনায় কেউ আহত হলে শাস্তি বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙচুর বা অন্যান্য কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হলে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে বিক্ষোভের সময় সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, সংঘবদ্ধ হামলা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতো ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে সরকার। তবে আইনের নির্দিষ্ট বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে ঘটনার প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হবে।

অপ্রাপ্তবয়স্কদের ঘটনায় অভিভাবকদেরও আর্থিক দায়
নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাদের অভিভাবকদের আর্থিক দায়বদ্ধতার বিধান। কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক এসব ঘটনায় জড়িত হলে ক্ষয়ক্ষতির জন্য তার অভিভাবকদের অর্থ দিতে হতে পারে। সরকারের যুক্তি, এ ধরনের ব্যবস্থা কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পরিবারগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বিক্ষোভের সময় দোকানপাট, যানবাহন ও অন্যান্য সম্পত্তি ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঠেকাতে এ বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এ ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগে অভিভাবকদের দায় কীভাবে নির্ধারিত হবে, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কীভাবে হিসাব করা হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে দায় আরোপ করা হবে, তা আইনের প্রাসঙ্গিক বিধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের আটক করার ক্ষমতা পুলিশের
নতুন আইনে পুলিশের ক্ষমতার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এখন ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী কোনো কিশোর অপরাধ না করলেও তাকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনার পক্ষে প্রমাণ থাকলে পুলিশ আটক করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে এ ধরনের ক্ষমতা শুধু প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। এই বিধানকে কেন্দ্র করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের অধিকার, পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগ এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা তৈরি হতে পারে। কারণ, কোনো কিশোরের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ থাকা এবং তাকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা এক বিষয় নয়। নতুন আইনের আওতায় পুলিশের এই ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে বিক্ষোভের সময় অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটক করার ক্ষেত্রে প্রমাণ, পরিস্থিতি এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়গুলো তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

মিলানে নিরাপত্তায় ৫০০ সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা
বিক্ষোভ ঘিরে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় মিলানে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে ইতালি সরকার। শনিবারের বিক্ষোভকে সামনে রেখে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ৫০০ সেনা মোতায়েন করা হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর কাজে সেনারা সহায়তা করবেন। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁরা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবেন। মিলান দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। সেখানে সহিংসতা, দোকানপাটে লুটপাট এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা জনজীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য বিক্ষোভকে ঘিরে আগাম নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে সেনা মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা ও নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শহরজুড়ে পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও বিক্ষোভের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

মেলোনির বক্তব্য, ‘ভাঙচুর ও চুরি প্রতিবাদ নয়’
নতুন নিরাপত্তা আইন ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ভাঙচুর ও চুরি প্রতিবাদ নয়, এগুলো অপরাধ।

মঙ্গলবার তিনি আরও বলেন, চাকরি খোঁজা, অপর্যাপ্ত বেতন পাওয়া এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখতে না পাওয়ার কষ্ট সরকার বোঝে। তবে এসব দুর্দশাকে কখনোই সহিংসতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। মেলোনির বক্তব্যে একদিকে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা স্বীকার করা হয়েছে, অন্যদিকে প্রতিবাদের নামে সহিংসতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের বিরোধিতা করা হয়েছে। সরকারের অবস্থান হলো, মানুষের অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ থাকলেও সহিংস কর্মকাণ্ডকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মেলোনি সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কঠোর করার পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিরোধী মতের সমালোচক ও অধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশ মনে করেন, শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ করে অপরাধ ও সামাজিক অস্থিরতার মূল কারণ দূর করা সম্ভব নয়।

কারাগারে বন্দির সংখ্যা বেড়েছে ১৭ শতাংশের বেশি
ইতালিতে নিরাপত্তা নীতি নিয়ে বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো কারাগারে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে দেশটির কারাগারে বন্দির সংখ্যা ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এ সময়ে বন্দির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর শাস্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কারাগারের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে অপরাধের পেছনে থাকা বেকারত্ব, দারিদ্র্য, সামাজিক বঞ্চনা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মতো সমস্যাগুলোর সমাধানও জরুরি। অন্যদিকে, সরকার মনে করছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নতুন আইনের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার সুযোগ বাড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে দক্ষিণ ইতালিতে সড়ক অবরোধ
নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাকচালকেরা বিভিন্ন সড়কে অবরোধ করছেন। এতে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পরিবহন খাতে এ অস্থিরতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উৎপাদন ও কৃষিপণ্যের সরবরাহেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু পাস্তা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধ করেছে। কৃষি খাতের সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, পরিবহনব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত থাকলে ফল ও সবজি পচে নষ্ট হতে পারে। পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে বাজার পর্যন্ত সরবরাহের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে এবং পচনশীল পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে পরিবহনসংক্রান্ত বিক্ষোভের প্রভাব শুধু ট্রাকচালকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সড়কপথে পণ্য পরিবহনকারীদের জন্য নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইতালি সরকার। তবে এই সহায়তা কতটা দ্রুত কার্যকর হবে এবং পরিবহনসংকট কতটা কমাতে পারবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অর্থনৈতিক চাপ নির্বাচনের আগে মেলোনি সরকারের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে
ইতালির উত্তর ও দক্ষিণ—দুই অঞ্চলের বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারগুলো ক্রমেই আর্থিক চাপে পড়ছে। তাঁদের মতে, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে উঠছে, যা মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। একদিকে মিলানে সহিংস বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরাপত্তা আইন কঠোর করছে, অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলাও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৭ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি মেলোনি সরকারের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ, পরিবহনব্যবস্থা সচল রাখা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের উদ্বেগ মোকাবিলা—সবকিছুই এখন সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন নিরাপত্তা আইন বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ও ভাঙচুরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ইতালিতে চলমান অস্থিরতার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কতটা সম্ভব হবে, তা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট ও সাধারণ মানুষের অসন্তোষ মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের ওপরও নির্ভর করবে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এমএএইচ/এসএ

শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস—দুটিই যেন বাঙালির মনে আলাদা আবেগ তৈরি করে। ঋতুর এই চেনা ফুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে এবার ভক্তদের কাছ থেকেই ফুলের সঙ্গে তুলনা পেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে দেখা গেছে মিষ্টি মন্তব্যের বন্যা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই…’। ছোট্ট এই বাক্যের সঙ্গে ফুল, পরী ও ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শরতের প্রিয় ফুলের সন্ধানে বের হওয়ার এমন ইচ্ছা প্রকাশের পরই তাঁর পোস্টটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়।

শিউলি ফুলের সঙ্গে পরীমনির তুলনা
পরীমনির পোস্টে শিউলি ফুলের প্রসঙ্গ থাকলেও মন্তব্যের ঘরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পরীমনির প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতা।

এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে জানেও না যে সেও একটা শিউলি ফুল।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কি দরকার? তুমি তো নিজেই শিউলিফুল।’ অন্য এক অনুরাগীর মিষ্টি মন্তব্য, ‘ফুল ফুলকে খুঁজে।’ ভক্তদের এসব মন্তব্যে শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরীমনির প্রতি তাঁদের ভালো লাগাও যেন একাকার হয়ে গেছে। ফুলের খোঁজে যাওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী যে পোস্টটি করেছিলেন, সেটিই অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে তাঁকে প্রশংসা করার উপলক্ষ।

শরতের ফুল ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিষ্টি আবহ
শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শরতের পরিচিত প্রতীক। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ফুলকে ঘিরে ঋতুবদলের সৌন্দর্য ও আবেগের প্রকাশ দেখা যায়। পরীমনির পোস্টেও সেই পরিচিত শরৎ-অনুভূতির ছোঁয়া ছিল। অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত পোস্টের জবাবে ভক্তদের এমন ভালোবাসাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে মিষ্টি এক আবহ। শিউলি ফুলের প্রতি ভালো লাগা প্রকাশ করতে গিয়ে পরীমনি নিজেই যে ভক্তদের চোখে ফুলের উপমা পেয়ে যাবেন, মন্তব্যগুলোতে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

শিক্ষা প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র  জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয় বলেই ওই দিনটিকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চূড়ান্ত তারিখ জানা যেতে পারে রোববার
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, তাঁরা ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। রোববার ( ২৪ অক্টোবর) ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অর্থাৎ, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে।

এবার পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজারেরচলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে পরীক্ষা চলাকালে বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অপেক্ষা বাড়ছে। ফল প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবেন।

ফল প্রকাশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা
শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ/ইএকে

 

ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

ভ্রমণ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় ভিসা পাওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন বেশ কিছু দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা নিতে হয় না। কোথাও সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশ করা যায়, আবার কোথাও পৌঁছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাই সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ পান। এ তালিকায় ভিসামুক্ত প্রবেশের পাশাপাশি অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের (ইটিএ) সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এশিয়ার যেসব গন্তব্যে যেতে পারবেন
বাংলাদেশের কাছাকাছি কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এসব গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তিমুর-লেস্তে। তবে প্রতিটি দেশের প্রবেশনীতি আলাদা। নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ ও তিমুর-লেস্তেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

আফ্রিকার যেসব দেশে ভ্রমণের সুযোগ
আফ্রিকা অঞ্চলের গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কোমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওন ও কেনিয়া। এসব দেশের মধ্যে কয়েকটিতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেওয়া যায়। আবার কেনিয়ার মতো গন্তব্যে ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক অনুমতি নিতে হয়। ফলে আগাম ভিসা না লাগলেও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও অনুমোদন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গন্তব্য
ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য তালিকাভুক্ত গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিয়ুয়ে, সামোয়া, তুভালু ও ভানুয়াতু। এসব গন্তব্যের প্রবেশনীতি ও অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ একেক রকম হতে পারে।

এক নজরে ৩৫টি গন্তব্য
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিয়ুয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুভালু এবং ভানুয়াতু। তবে এসব গন্তব্যে প্রবেশের শর্ত, ভিসার ধরন ও অবস্থানের অনুমোদিত সময় একেক রকম হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও সব ক্ষেত্রে বিনা প্রস্তুতিতে যাত্রা করা যায় না। কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা, কোনো দেশে ইলেকট্রনিক অনুমতি, আবার কোথাও অনলাইন ট্রাভেলার ডিক্লারেশন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকতে পারে।

এ ছাড়া পাসপোর্টের মেয়াদ, ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে প্রবেশের সর্বশেষ শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ৩৫টি গন্তব্যের হিসাব মানেই সব দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ নয়। তালিকাটি মূলত যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা না নিয়ে যেসব গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার হিসাব।

কালের আলো/এসএ/জেএন