খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রশাসনের ধাওয়া এড়িয়ে মেঘনায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা

চাঁদপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
প্রশাসনের ধাওয়া এড়িয়ে মেঘনায় ইলিশ ধরছেন জেলেরা

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চললেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না ইলিশ শিকার। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, জেল-জরিমানা এবং অবৈধ জাল ও নৌকা জব্দের পরও একশ্রেণির জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন। অভিযানের ট্রলারের তুলনায় জেলেদের ইঞ্জিনচালিত নৌকার গতি বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ধাওয়া করেও তাঁদের আটক করা যাচ্ছে না। ফলে নদীতে ফেলে যাওয়া জাল জব্দ করেই অভিযান শেষ করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মতলব উত্তরের এখলাসপুর এলাকার মেঘনা নদীতে এমন চিত্র দেখা গেছে। পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অভিযানের ট্রলার দেখেই দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান জেলেরা। অভিযান পরিচালনাকারীরা সর্বোচ্চ গতিতে ধাওয়া করেও তাঁদের আটক করতে পারেননি। একপর্যায়ে জেলেরা নদীতে জাল ফেলে পালিয়ে গেলে সেগুলো জব্দ করেন মৎস্য বিভাগের কর্মীরা।

অভিযানের ট্রলার দেখলেই পালিয়ে যান জেলেরা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মেঘনা নদীতে প্রশাসন ও জেলেদের মধ্যে যেন চোর-পুলিশ খেলা চলছে। অভিযানের ধরন ও ট্রলারের গতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় জেলেরা দ্রুতগতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করছেন। নদীতে অভিযানের ট্রলার দেখা গেলেই তাঁরা নৌকার গতি বাড়িয়ে পালিয়ে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরী আলম বলেন, অভিযানের ট্রলারের চেয়ে জেলেদের নৌকার গতি বেশি হওয়ায় তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গভীর রাতে এবং প্রশাসনের টহল শেষ হওয়ার পর নদীতে মাছ ধরার প্রবণতা বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে শুধু নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে জেলেরা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় নজরদারি ও ধাওয়ার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

৭ অক্টোবর থেকে চলছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ৭ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রি নিষিদ্ধ। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। নদীর বিভিন্ন এলাকায় টহল, অবৈধ জাল জব্দ এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মধ্যেও নদীর দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীগুলোতে নজরদারির ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু জেলে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পেশাদার জেলেদের পাশাপাশি মৌসুমি জেলেরাও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরছেন। এতে নিয়ম মেনে নদীতে না নামা জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

৩৪ অভিযান ও পাঁচ মোবাইল কোর্টে আটক জেলে
উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এ পর্যন্ত ৩৪টি অভিযান ও পাঁচটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বেশ কয়েকজন জেলেকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

অভিযানগুলোতে সাতটি নৌকা, দেড় লাখ মিটারের বেশি অবৈধ জাল এবং ২০৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মাছ ধরার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এসব পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলেও নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ আহরণের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জব্দ করা জাল ও নৌকার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অভিযান চলাকালে জেলেরা পালিয়ে গেলে তাঁদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থাকে।

নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন জেলেদের সংসারে সংকট
নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না পারায় অনেক জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ আর্থিক সংকটে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি খাদ্যসহায়তা পেলেও তা দিয়ে পরিবারের সব খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ জেলেদের। একদিকে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য মাছ ধরা বন্ধ রাখা জরুরি, অন্যদিকে এ সময়ে জেলেদের জীবিকা ও পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের নিয়ম মেনে চলতে উৎসাহিত করা সহজ হতে পারে। স্থানীয়দের মতে, নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জেলেরা যখন মাছ ধরতে পারছেন না, তখন অন্য কেউ গোপনে নদীতে মাছ ধরলে তা তাঁদের জন্য অন্যায্য পরিস্থিতি তৈরি করে। ফলে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধে নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি জেলেদের সহায়তা কার্যক্রমও গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

জনবল ও বাজেট সংকটে অভিযান পরিচালনা
মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সজিব চন্দ্র দে বলেন, জনবল সংকট, বাজেটের স্বল্পতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মা ইলিশ সংরক্ষণে সাধ্যমতো চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, সীমিত সামর্থ্যের কারণে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব না হলেও অভিযান মোটামুটি সফল হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যৌথভাবে কাজ করছে এবং মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গম এলাকা ও শাখা নদীতে নজরদারি বাড়ানো, দ্রুতগতির নৌকা ব্যবহার করে পালিয়ে যাওয়া জেলেদের শনাক্ত করা এবং অবৈধ জাল জব্দের কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণে প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করা ইলিশের উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা অব্যাহত থাকলে সংরক্ষণের লক্ষ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মতলব উত্তরের মেঘনায় অভিযান ও জব্দ কার্যক্রম চললেও অবৈধ ইলিশ শিকার বন্ধ না হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার বাকি সময়ে নজরদারি আরও কার্যকর করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মহীন জেলেদের সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে আইন মেনে চলার পরিবেশ তৈরিতে তা সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নরম নাকি শক্ত বিছানা, কোমরের জন্য কোনটি ভালো?

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
নরম নাকি শক্ত বিছানা, কোমরের জন্য কোনটি ভালো?

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় শুয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর প্রত্যাশা সবারই থাকে। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি কোমরে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। দৈনন্দিন কাজের চাপ, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কিংবা ভুল শারীরিক ভঙ্গির পাশাপাশি শোয়ার বিছানা ও ঘুমের অভ্যাসও কোমরের অস্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অনেকে মনে করেন, কোমরব্যথা কমাতে শক্ত বিছানায় ঘুমানোই সবচেয়ে ভালো। আবার কারও ধারণা, নরম তোশকই শরীরের জন্য আরামদায়ক। বাস্তবে বিছানা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরীরের গঠন, ঘুমের ভঙ্গি ও ব্যক্তিগত আরাম—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক বিছানা ও ঘুমের অভ্যাস কোমরের ওপর চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।

মাঝারি শক্ত বিছানাই কি ভালো?
কোমরব্যথায় ভোগা অনেকের জন্য মাঝারি শক্ত বা মিডিয়াম-ফার্ম ম্যাট্রেস আরাম ও শরীরের সমর্থনের মধ্যে ভালো ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। তবে সবার জন্য একই ধরনের বিছানা উপযোগী নয়।

অতিরিক্ত নরম তোশকে শরীরের ভারী অংশ বেশি দেবে যেতে পারে। এতে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হতে পারে এবং কারও কারও অস্বস্তি বাড়তে পারে। অন্যদিকে অতিরিক্ত শক্ত বিছানায় কাঁধ, নিতম্বসহ শরীরের কিছু অংশে বেশি চাপ পড়তে পারে।

তাই বিছানা বেছে নেওয়ার সময় এমন ম্যাট্রেস নির্বাচন করা ভালো, যাতে শরীর যথাযথ সমর্থন পায় এবং শোয়ার সময় স্বাভাবিক ভঙ্গি বজায় থাকে। সম্ভব হলে কেনার আগে বিছানায় শুয়ে আরাম যাচাই করে নেওয়া উচিত।

মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান জরুরি
ঘুমের সময় মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিছানা শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে কোমরের পেশিতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা ঘুমের মানেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে কোমরব্যথার জন্য বিছানাকেই একমাত্র দায়ী করা যায় না। পেশি বা লিগামেন্টের সমস্যা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা কিংবা মেরুদণ্ডের বিভিন্ন সমস্যার কারণেও ব্যথা হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে শুধু বিছানা পরিবর্তন না করে এর কারণ নির্ণয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিছানার উচ্চতা কেমন হওয়া উচিত?
বিছানা এমন উচ্চতার হওয়া ভালো, যাতে সহজে ওঠা-বসা করা যায়। বিছানার কিনারায় বসলে পা মেঝেতে রাখা এবং অতিরিক্ত কষ্ট ছাড়াই দাঁড়াতে পারা উচিত। খুব নিচু বিছানা থেকে উঠতে গেলে কোমরে চাপ পড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত উঁচু বিছানায় ওঠানামাও কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাঁদের আগে থেকেই কোমরব্যথা রয়েছে, তাঁদের জন্য বিছানার উচ্চতা আরামদায়ক ও নিরাপদ হওয়া জরুরি।

পুরোনো তোশক বদলানোর লক্ষণ
দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে ম্যাট্রেসের কোনো অংশ দেবে যেতে পারে। মাঝখানে গর্তের মতো তৈরি হলে, শোয়ার সময় শরীর একদিকে হেলে পড়লে কিংবা আগের তুলনায় অস্বস্তি বেড়ে গেলে বিছানাটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

ম্যাট্রেস শরীরকে সমানভাবে সমর্থন দিচ্ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তবে শুধু পুরোনো হলেই বিছানা বদলাতে হবে, এমন নয়। এর বর্তমান অবস্থা, ব্যবহারের আরাম এবং ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের প্রতিক্রিয়াও বিবেচনায় নিতে হবে।

ঘুমের ভঙ্গি বদলালেও মিলতে পারে আরাম
কোমরব্যথার ক্ষেত্রে বিছানার পাশাপাশি ঘুমের ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি সহজ পরিবর্তন অনেকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

চিৎ হয়ে ঘুমালে: হাঁটুর নিচে একটি বালিশ রাখলে কোমরের ওপর চাপ কম অনুভূত হতে পারে।

কাত হয়ে ঘুমালে: দুই হাঁটুর মাঝখানে বালিশ রাখুন। এতে কোমর ও শ্রোণির অবস্থান স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হতে পারে।

উপুড় হয়ে ঘুমালে: কারও কারও কোমর ও ঘাড়ে অস্বস্তি বাড়তে পারে। এ ভঙ্গিতে ব্যথা বাড়লে অন্য ভঙ্গিতে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

যে ভঙ্গিতে ব্যথা কম হয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুমানো যায়, সেটিই বেছে নেওয়া ভালো। কোনো ভঙ্গিতে ব্যথা বাড়লে জোর করে সেই অবস্থানে ঘুমানোর প্রয়োজন নেই।

বিছানা থেকে ওঠার সময় সতর্ক থাকুন
কোমরব্যথা থাকলে ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ বসে পড়া কিংবা কোমর মোচড় দিয়ে দাঁড়ানো অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে বিছানা থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। প্রথমে এক পাশে কাত হয়ে পা দুটো বিছানার কিনারার বাইরে নামান। একই সময়ে হাতের সাহায্যে শরীরের ওপরের অংশ তুলে বসুন। এরপর কয়েক মুহূর্ত বসে ভারসাম্য ঠিক হলে ধীরে দাঁড়ান। এভাবে ওঠানামা করলে কোমরের ওপর আকস্মিক চাপ কমতে পারে।

দৈনন্দিন অভ্যাসেও আনুন পরিবর্তন
শুধু বিছানা পরিবর্তন করলেই কোমরব্যথার সমাধান হবে, এমন নয়। দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে থাকা এড়িয়ে চলা, কাজের ফাঁকে উঠে হাঁটা এবং শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

পেশি শক্তিশালী রাখতে ও শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া বজায় রাখতে উপযোগী ব্যায়াম সহায়ক হতে পারে। তবে ব্যায়ামের সময় ব্যথা বেড়ে গেলে থামতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে চিকিৎসক কিংবা ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা ভালো।

কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন?
কোমরব্যথা কয়েক দিনেও না কমলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ব্যথার সঙ্গে পায়ের শক্তি কমে যাওয়া, দুই পায়ের মাঝখানের অংশ অবশ হয়ে আসা কিংবা প্রস্রাব-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। গুরুতর আঘাতের পর ব্যথা শুরু হলে বা জ্বরের মতো উপসর্গ থাকলেও অবহেলা করা উচিত নয়।

সবশেষে মনে রাখা দরকার, কোমরব্যথা এড়াতে দামি বিছানা কেনাই একমাত্র সমাধান নয়। শরীরের উপযোগী ম্যাট্রেস, আরামদায়ক ঘুমের ভঙ্গি, নিয়মিত নড়াচড়া এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসা—এই বিষয়গুলোর সমন্বয় কোমরের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

কালের আলো/এএএন/জেএন

আ. লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে যা বললেন পার্থ

ভোলা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
আ. লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে যা বললেন পার্থ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তার মতে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে জুলাইয়ের ঘটনাকে স্বীকার করতে হবে এবং এ বিষয়ে ক্ষমা চাইতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের সংসদীয় আসন ভোলা-১-এর ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ব্যাংকেরহাট বাজারে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে পার্থের বক্তব্য
আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, দলটিকে জুলাইয়ের ঘটনাকে স্বীকার করতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সাজা হওয়ার পর দেশের মানুষ যদি মনে করে আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত, তাহলে সে সিদ্ধান্ত সময়ই বলে দেবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে জুলাইয়ের ঘটনাকে স্বীকার করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বয়ান তৈরির অভিযোগ
আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন তথ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, আগে দলটি দেশে জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ সামনে আনত, আর এখন দেশে গণতন্ত্র নেই—এমন বক্তব্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে। পার্থের মতে, আওয়ামী লীগ বিদেশে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতো একটি বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও উদযাপন প্রসঙ্গে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত নির্বিঘ্ন ও সুন্দর নিরাপত্তার মধ্যে পূজা উদযাপন তিনি দেখেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার কিছুদিন পর থেকেই দেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। ভারতের কিছু গণমাধ্যমেও তা প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণতন্ত্রের উন্নতিতে সময় লাগবে বলে মন্তব্য
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামল নিয়ে সমালোচনা করে বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, দলটি ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের সময় লাগছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে দেশের গণতন্ত্র নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে পার্থ বলেন, মানুষ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছে এবং সংসদে বিরোধী দলও রয়েছে। তার বিশ্বাস, দেশের গণতন্ত্র আরও উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে সংশয়
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গেও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার ধারণা, দেশে ফেরার জন্য এখনো অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। পার্থের বক্তব্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হত্যা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ এখনো পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। সেই ঘটনার মানসিক অভিঘাত এখনো রয়ে গেছে। এ কারণে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি মনে করেন না।

গণসংযোগে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি
ভোলার ব্যাংকেরহাট বাজারে গণসংযোগকালে বিজেপির জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আন্দালিব রহমান পার্থ বাজারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। গণসংযোগের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, দেশের গণতন্ত্র, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

একটি বীজেই ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া, বিশ্বরেকর্ড কৃষকের

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
একটি বীজেই ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া, বিশ্বরেকর্ড কৃষকের

একটি ছোট্ট বীজ থেকে জন্ম নেওয়া কুমড়ার ওজন ১ হাজার ৪৩১ কেজি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক রন ওয়ালেসের হাত ধরে বাস্তবেই ঘটেছে এমন ঘটনা। প্রায় ছয় মাসের যত্ন, উন্নত বীজ আর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করে বিশালাকার কুমড়া ফলিয়েছেন তিনি। সেই কুমড়ার ওজন ছাড়িয়ে গেছে ৩ হাজার পাউন্ডের সীমাও। এর মধ্য দিয়ে সবচেয়ে ভারী কুমড়া ফলানোর বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এই কৃষক।

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর কুমড়াটির ওজন মাপা হয় ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ড, যা প্রায় ১ হাজার ৪৩১ কেজির সমান। এর আগে কোনো কুমড়ার ওজন ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতিতে তাই নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন রন ওয়ালেস।

ছয় মাসের পরিচর্যায় বীজ থেকে দানবাকৃতি কুমড়া
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের গ্রিন এলাকায় নিজের গ্রিনহাউসে গত ১৫ এপ্রিল কুমড়ার বীজ বুনেছিলেন ওয়ালেস। এরপর শুরু হয় নিয়মিত পরিচর্যা। পানি, তাপমাত্রা ও চাষের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে তিনি কুমড়াটিকে বড় করে তোলেন। প্রায় ছয় মাস পর সেই ছোট্ট বীজ থেকেই জন্ম নেয় রেকর্ড গড়া কুমড়া।

১০ অক্টোবর ওয়ারেন শহরের ফ্রেরিকস ফার্মে অনুষ্ঠিত সাউদার্ন নিউ ইংল্যান্ড জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্স প্রতিযোগিতায় কুমড়াটির ওজন নির্ধারণ করা হয়। বিশালাকার কুমড়া চাষিদের এই প্রতিযোগিতায় ওয়ালেসের সাফল্য উপস্থিত দর্শকদেরও বিস্মিত করে।

এক সপ্তাহেই ভাঙল বিশ্বরেকর্ড
বিশাল কুমড়া চাষে বিশ্বরেকর্ডের লড়াইয়ে এবার সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। ৩ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের কৃষক ইয়ান প্যাটন ২ হাজার ৮৫৭ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পরই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান ওয়ালেস।

তার কুমড়াটি আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৩০০ পাউন্ড বেশি ভারী। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার বিশ্বরেকর্ড ভাঙার ঘটনা বিশালাকার কুমড়া চাষের প্রতিযোগিতায় নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

দিনে বাড়ছিল ২৭ কেজিরও বেশি ওজন
এত বিশাল কুমড়া ফলানো কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্যের বীজ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা। এ বছর গ্রিনহাউসে চাষ করায় পানি ও তাপমাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন ওয়ালেস।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুমড়াটির বৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ পাউন্ড বা ২৭ কেজিরও বেশি ওজন বাড়ছিল। কোনো কোনো সপ্তাহে ওজন বেড়েছিল প্রায় ৫০০ পাউন্ড। অর্থাৎ, প্রতিদিনের সামান্য বৃদ্ধি জমতে জমতে একসময় কুমড়াটি পরিণত হয় বিশাল এক ফসলে।

উন্নত বীজের পাশাপাশি গ্রিনহাউসের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ওয়ালেস। বিশালাকার কুমড়া চাষের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কৃষকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কৌশল পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ওয়ালেসের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ান প্যাটনেরও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। মজার বিষয় হলো, গ্রিনহাউসে কুমড়া চাষের পরামর্শ প্রথম প্যাটনই তাকে দিয়েছিলেন।

কুমড়া পরিবহনেও ছিল বিশেষ আয়োজন
এত ওজনের কুমড়া চাষ করাই যেমন কঠিন, তেমনি সেটিকে নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। মাটি থেকে তুলতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ হারনেস ও শক্ত দড়ি। পরিবহনের সময় যাতে কুমড়ার গায়ে আঘাত না লাগে, সে জন্য ভেজা চাদর, কম্বল ও প্লাস্টিকের আবরণে মুড়িয়ে বিশেষ প্যালেটে রাখা হয়। পরে ফ্ল্যাটবেড ট্রাকে করে সেটি প্রতিযোগিতাস্থলে নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ২০টি বিশালাকার কুমড়া। নিজের কুমড়াটিকে অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বড় দেখে ওয়ালেসের ধারণা হয়েছিল, এর ওজন ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়াতে পারে। তবে ওজন মাপার আগে সঠিক পরিমাণটি তারও জানা ছিল না। যন্ত্রে ওজন ওঠার পর রেকর্ড নিশ্চিত হলে প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগেও একাধিকবার ইতিহাস গড়েছেন ওয়ালেস
বিশালাকার কুমড়া চাষে ওয়ালেসের সাফল্য এবারই প্রথম নয়। ২০০৬ সালে তিনি ১ হাজার ৫০২ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেন। ২০১২ সালে তার ফলানো ২ হাজার ৯ পাউন্ডের কুমড়াও নতুন ইতিহাস গড়েছিল। এবার ৩ হাজার পাউন্ডের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের সাফল্যকে নিয়ে গেলেন আরও উঁচুতে।

রেকর্ড গড়া কুমড়াটিকে বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে সেটিকে বিশালাকার জ্যাক-ও-ল্যান্টার্নে রূপ দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রদর্শনী শেষে কুমড়াটি কম্পোস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এর বীজ সংরক্ষণ করবেন ওয়ালেস। বিশ্বের বিভিন্ন কুমড়া চাষিদের সংগঠনকে সেই বীজ দেওয়া হবে, যাতে নিলামের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা যায়।

আগামী বছর বিরতিতে থাকতে পারেন
একটি কুমড়া কতটা বড় হতে পারে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন ওয়ালেস। আপাতত আগামী বছর প্রতিযোগিতা থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এ সময় অন্য কৃষকেরা তার রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করবেন। কেউ সফল হলে আবার প্রতিযোগিতায় ফেরার কথা ভাববেন এই কৃষক।

ছোট্ট একটি বীজ থেকে দেড় টনের কাছাকাছি ওজনের কুমড়া—ওয়ালেসের এই অর্জন কৃষিতে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে। এখন দেখার বিষয়, ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ডের এই রেকর্ড কত দিন অক্ষত থাকে, আর ভবিষ্যতে কোনো কৃষক কি না কুমড়ার ওজনকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন