চালের দামে দুর্গতি
আব্দুল হামিদ/ইব্রাহিম মিঠু, কালের আলো:
পুরনো চাল থাকা অবস্থায় বাজারে এসেছে ‘ব্রি-২৮’ চাল। এতে মোটা চালের দাম না বাড়লেও চিকন বা সরু চালের কেজিতে সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা বেড়েছে। কেজি প্রতি বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাকে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল ধানের চাল আসতে শুরু করেছে। আর এক সপ্তাহের মধ্যে এসব চালের সরবরাহ বাড়বে। এ অবস্থায় বেশির ভাগ চালের দাম কমার কথা। যদিও সেটি হয়েছে উল্টো। অনেকেই বলছেন এটি ব্যবসায়ীদের কারসাজি। শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বাজারগুলোর চিত্র ছিল এমনই।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে সব ধরনের মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে বাজারে প্রতি কেজি মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল ৮৩ থেকে ৮৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে; এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ৮০ টাকা। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা হয়েছে। নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ছিল ৬৫ টাকার আশপাশে, সেটি বেড়ে হয়েছে ৭০ টাকা। আর দামি মিনিকেট মোজাম্মেলের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকা হয়েছে।
বাজারে দেশীয় ও আমদানি করা উভয় ধরনের নাজিরশাইল চাল রয়েছে। ধরনভেদে দেশি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগে যা ৩-৪ টাকা কম ছিল। আর আমদানি করা নাজিরশাইলের কেজি রাখা হচ্ছে ৭৫-৭৮ টাকা। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল কেজিতে ৭২-৭৫ টাকা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খুচরা চাল বিক্রেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সার্বিকভাবে বাজারে প্রায় সব ধরনের চালের দামই বাড়তি রয়েছে। বছরের এই সময়ে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে খুচরা দোকানে এসব চাল বিক্রি হতে শুরু করবে। সাধারণত প্রতিবছর এসব চাল বাজারে আসার পরে পুরোনো চালের দাম কেজিতে ১-২ টাকা বাড়ে। কিন্তু এবার নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরোনো চালের দাম ৩-৪ টাকা বেড়েছে। ফলে নতুন চাল আসার পরে পুরোনো চালের দাম আরও বাড়তে পারে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে চাল কিনতে আসা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাহিদা বেগম বলেন, ‘চালের দাম তো কমছেই না। গত মাসে যে দামে কিনেছিলাম, তার চেয়ে (কেজিতে) আরও ৪-৫ টাকা বেড়েছে। চালের মৌসুমেই যদি দাম না কমে, তাহলে আর কবে কমবে’-ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তিনি।
এদিকে, খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামে অস্বস্তি কাটেনি সাধারণ মানুষের। এর প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে। বছরের শুরুতেই মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের ইঙ্গিত মিলেছে সরকারি পরিসংখ্যানে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। আগের মাস নভেম্বরে যা ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শীত মৌসুম চললেও সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম কমেনি। বরং আলু, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি ও মসলার দামে ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। ফলে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। এদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বরে এ খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়িভাড়া, পোশাক ও তামাকজাত পণ্যের মূল্য বাড়ায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। এতে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে।
কালের আলো/এমএএইচ/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array