খুঁজুন
                               
, ,
           

জামায়াত আমিরের চিঠি

নিজের উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
নিজের উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দিতে

নিজের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান রহমান। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দলীয় নেতার দফতর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠিটি পাঠানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিরোধী দলীয় নেতার অনুরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামায়াত আমির মনে করেন, তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টাকে পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে।

যদিও সাবেক একাধিক পররাষ্ট্র সচিবসহ পেশাদার কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশে এমন পদায়ন কখনো হয়নি। এ অঞ্চলের দেশগুলোতেও এমন পদায়ন হয়েছে বলে শোনা যায় না।

তারা আরও বলছেন, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা অনেক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার মাধ্যমে বিরোধী দল ভূমিকা রাখে। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশে বড় সংকট কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে সব দল একসঙ্গে কাজ করার নজির রয়েছে।

সাবেক ও বর্তমান কূটনীতিকদের মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে কাজের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা এবং সমন্বয়ের ব্যাপার থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ, সরকারের অগ্রাধিকার এবং ক্ষমতাসীন দলের আগ্রহ—এই তিন বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব পালন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এমন প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের কাউকে মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হলে জটিলতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে জামায়াত আমিরের একান্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চিঠির বিষয়ে মাহমুদুল হাসান জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে অবহিত করেছিলেন। আমির সেখানে মৌখিক সম্মতিও দিয়েছিলেন। তবে মন্ত্রির পদমর্যাদা অংশটুকুতে জামায়াত আমিরের সম্মতি ছিল না।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে শফিকুর রহমান এ বিষয়ে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। পরবর্তীতে মাহমুদুল হাসানকে বাদ দিয়ে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে জামায়াত আমিরের নতুন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিবকে জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। মূলধারার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে তার দক্ষতা ও পেশাদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অধ্যাপক হাসান জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে বাংলাদেশ তথা রাষ্ট্রের জন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিচক্ষণতার সঙ্গে জোরদার করতে সক্ষম হয়েছেন।

তার মতে, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পদায়নের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপস্থাপন–পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য করা যাবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জামায়াত আমির আরও লিখেছেন, ‘ভূরাজনৈতিক গতিশীলতা এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতি একসঙ্গে পরিচালনার জন্য পদায়নটি সরকারের কাছে বিবেচনার জন্য সুপারিশ করছি।’

কালের আলো/এসএম/এএএন

সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিসের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ ফায়ার সার্ভিসের

বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর একসঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সম্ভাব্য ‘মেগা ডিজাস্টার’ মোকাবিলায় জনবল, উদ্ধার সরঞ্জাম ও কমান্ড কাঠামো বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি বিশেষ রেসকিউ টিম (এসআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একইভাবে বিভাগীয় শহরগুলোতে গঠন করা হয়েছে ২০ সদস্যের পৃথক বিশেষ রেসকিউ টিম। ঢাকার আশপাশের আরও ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে জরুরি প্রয়োজনে রাজধানীতে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

  • ৪১ পয়েন্টে উদ্ধার সরঞ্জাম
  • পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম
  • ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ ফায়ার স্টেশন

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, বড় ভূমিকম্পে একই সময়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই জনবল, সরঞ্জাম ও কমান্ড ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এক জায়গায় সব সরঞ্জাম নয়

ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে থাকা বিপুল পরিমাণ উদ্ধার সরঞ্জামও আটকে পড়তে পারে। এতে পুরো উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে ঢাকা ও আশপাশের ৪১টি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম ভাগ করে রাখা হয়েছে। ফলে কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাছাকাছি অন্য স্টেশন থেকে সরঞ্জাম এনে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হবে।

পূর্বাচলে বিশেষ রেসকিউ টিম

বড় ভূমিকম্পে সাধারণ ফায়ার স্টেশনের জনবল দিয়ে একসঙ্গে সব এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হতে পারে। এ জন্য পূর্বাচলে ৫০ থেকে ৬০ সদস্যের একটি স্পেশাল রেসকিউ টিম (এসআরটি) মোতায়েন রাখা হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোতেও বিভিন্ন স্টেশন থেকে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়ে ২০ সদস্যের করে এসআরটি গঠন করা হয়েছে। এসব দলকে ধসে পড়া ভবনে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সহায়তায় প্রস্তুত ১০০ স্টেশন

ভূমিকম্পে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বড় শহরগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শহরের বাইরের ১০০টি ফায়ার স্টেশনকে ‘এয়ারমার্ক’ করা হয়েছে। রাজধানীর কোনো স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা অতিরিক্ত জনবলের প্রয়োজন হলে এসব স্টেশন থেকে দ্রুত জনবল ও সরঞ্জাম এনে ঢাকার উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হবে।

তবে বড় ভূমিকম্পে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কীভাবে এসব জনবল ও সরঞ্জাম ঢাকায় আনা হবে, সেটিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে রেসকিউ টিম ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের বিষয়ে বিমান বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পে কমান্ড সচল রাখার প্রস্তুতি

ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কার্যক্রমে কমান্ড ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুরান ঢাকার সদর দপ্তর কোনো বড় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাতে নেতৃত্ব ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল থাকে, সে অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে দুজন পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কমান্ড কর্মকর্তাদের মিরপুরে অফিস করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সদর দপ্তরের মিডিয়া উইংয়ের মূল অংশও সেখানে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর-১০-এর ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্বাচলের নতুন মাল্টিপারপাস ট্রেনিং কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মিরপুরে ভূমিকম্প প্রতিরোধক সদর দপ্তর

পুরান ঢাকার সদর দপ্তরের ঝুঁকি বিবেচনায় মিরপুর-১০-এ নির্মাণ করা হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের নতুন বহুতল সদর দপ্তর। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নির্মাণাধীন ভবনটিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘বেজ আইসোলেশন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটির মাধ্যমে ভবনটি ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও ধসে পড়া থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের পুরো অধিদপ্তর সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিচ্ছিন্ন হলেও সচল থাকবে যোগাযোগ

বড় ভূমিকম্পে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক, মোবাইল টাওয়ার ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ ঝুঁকি বিবেচনায় গত আগস্টে দেশব্যাপী কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ করেছে ফায়ার সার্ভিস। অ্যামেচার রেডিও অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আরাব) সহায়তায় আয়োজিত ওই মহড়ায় বেতার, মোবাইল ও ল্যান্ডফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে বিকল্প ব্যবস্থায় ফায়ার স্টেশনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখার অনুশীলন করা হয়।

বড় চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে বহু বিপর্যয়

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বড় ভূমিকম্পের পর একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত বিপর্যয় মোকাবিলাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষ্য, ভবনধসের পাশাপাশি গ্যাসলাইন থেকে আগুন, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও মানুষের আটকে পড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ঢাকার সরু সড়ক, যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেও সমস্যা হতে পারে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের স্থিতিশীলতা যাচাই না করে উদ্ধারকারীদের প্রবেশ করানোও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই পরিস্থিতি দ্রুত মূল্যায়ন, আটকে পড়াদের শনাক্তকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়, প্রস্তুতিই ভরসা

ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের মতে, বড় ভূমিকম্পের সুনির্দিষ্ট সময় আগে থেকে জানানোর মতো প্রযুক্তি এখনো নেই। তাই ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মহড়ার বিকল্প নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে; বিশেষ করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ময়মনসিংহসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ঝুঁকি বেশি। তাই সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। তার মতে, বড় ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, নিয়মিত মহড়া এবং সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ ও সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।

বড় ভূমিকম্প উন্নত দেশগুলোর জন্যও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকেও বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হবে।

সরঞ্জাম বাড়ানোর উদ্যোগ

ভূমিকম্প ও বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম বাড়াতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে ফায়ার সার্ভিস। এসব বৈঠকে মেগা ডিজাস্টার মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সক্ষমতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নতুন সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে কয়েকটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, বড় ভূমিকম্প কখন হবে তা আগাম বলা সম্ভব না হলেও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই একক সদর দপ্তরনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে জনবল, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও কমান্ড কাঠামোকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে

সিইসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ  দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার (২ অক্টোবর) নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ওই এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, মন্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাঁদনি চকসহ ১১টি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। কয়েকটি স্টেশনে অবশ্য আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা চালু ছিল।

যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্য মোতায়েন করা হয়। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ দিল্লি জেলায় প্রায় ৫ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই আম আদমি পার্টির দিল্লি সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। এএপি নেতা অতিশী ও সঞ্জীব ঝাকেও আটকের খবর পাওয়া যায়। সৌরভ ভরদ্বাজ দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হওয়া সত্ত্বেও তাদের আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভের অন্যতম বিষয় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসআইআরের আওতায় ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর নির্বাচন কমিশন তাদের ভোটার-তালিকা ব্যবস্থার সফটওয়্যার পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।

এদিকে বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, এসআইআর বাতিল এবং ভোটপ্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছে। আম আদমি পার্টি, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের শুক্রবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কেও বিক্ষোভের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সেখানে কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। অন্যদিকে ইন্ডিয়া জোট ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন ঘেরাও এবং বিভিন্ন শহরে জনসভার কর্মসূচিও রয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে এসব কর্মসূচির মধ্যে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সরকারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
সরকারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বিরোধী দলের বিভিন্ন দফা ও সরকারের পদত্যাগের দাবির প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, দফা বাড়তে বাড়তে আট থেকে ১০, ১০ থেকে ১৬ দফা হবে; তাহলে এক দফা কেন হবে?

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোয়ালমারী বারুনী ঘাটে করতোয়া নদীর তীর রক্ষা বাঁধের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে জয়লাভের সাত মাসের মধ্যে সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী দলের কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি থাকলে তা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের কর্মসূচিতে কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাত মাসের মাথায় কখনো আট দফা, আবার তা বাড়তে বাড়তে এক দফায় গিয়ে সরকারের পদত্যাগের দাবি তোলা হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, জনগণ পাঁচ বছরের জন্য সরকারকে ভোট দিয়েছে। সরকারের কাজের দুর্বলতা, ত্রুটি, দুর্নীতি বা অনিয়ম থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরে সমালোচনা করা উচিত। তবে কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা কারণ ছাড়াই সাত মাসের মধ্যে সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই আন্দোলন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে দেশের মানুষ বিভিন্ন বাধার মুখে ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাধিকার নিশ্চিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকারকে পাঁচ বছরের মেয়াদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্ন থাকলে সংসদে আলোচনা করে ভুলত্রুটি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এসব করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাল খনন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। এরপর বাংলাদেশের পানি সংরক্ষণ ও পানির স্তর ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সেভাবে কাজ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পঞ্চগড়ে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় ২৫ থেকে ৩০ ফুট গভীরতায় টিউবওয়েলে পানি পাওয়া গেলেও বর্তমানে ২০০ থেকে ২৫০ মিটার পর্যন্ত খনন করেও কোথাও কোথাও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির স্তর ধরে রাখতে খাল খনন ও পানি সংরক্ষণ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধী দলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারকে পাঁচ বছরের ম্যান্ডেট দিয়েছে। পাঁচ বছর পর সরকারের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যতে কাকে ভোট দেবে।

সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডে ভুলত্রুটি থাকলে তা সংসদে আলোচনা করে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি