খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে মানববন্ধন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলের অসঙ্গতি দূর, পুনর্মূল্যায়ন এবং সঠিক ফল প্রকাশের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী  বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অভিভাবক ড. আজিবর রহমান। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ফলাফলের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেজাবিন বর্ণ বলে, সে ভালো পরীক্ষা দিয়েছে। খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হলে সে বৃত্তি পাবে বলে আশা করে।

মানববন্ধন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ফলাফলের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, প্রয়োজন হলে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশোধিত ফল প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ফল প্রকাশ ব্যবস্থা চালু, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক-অভিভাবকদের অবহিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশ।

অভিভাবকদের অভিযোগ, রাজশাহী শহরের ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩৮ শিক্ষার্থীর বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি। এসব শিক্ষার্থী রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিল। কেন্দ্রটির একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়ায় ফলাফল প্রস্তুতে কারিগরি বা প্রশাসনিক ত্রুটি হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।

রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ওই কেন্দ্রে ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিলেও একজন শিক্ষার্থীরও নাম বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় নেই। বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, এবার তাদের অত্যন্ত ভালো একটি ব্যাচ ছিল। একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়াটা স্বাভাবিক নয়। নিশ্চয়ই কোথাও বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে।

রাজশাহী সপুরা অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালেহা খাতুন বলেন, তাঁর স্কুল থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে একজনও বৃত্তি পায়নি। তিনি আশা করেছিলেন এর মধ্যে অন্তত এক বা দুই জন বৃত্তি পাবে। কিন্ত তা হয়নি। তিনি বলেন,নিশ্চয়ই কোন সমস্যার কারণেই এমনটা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীতে বৃত্তি পরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৮৩ জন অংশ নেয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯ জন বৃত্তি পেয়েছে। তবে একটি কেন্দ্রের ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ না হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিভাবকদের আবেদন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এতগুলো খাতা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। যেহেতু এবার প্রথমবারের মতো ওএমআর পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৮ আগস্ট মঞ্চে আসছে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
২৮ আগস্ট মঞ্চে আসছে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’

প্রচলিত নাট্যরীতির বাইরে গিয়ে লিভিং থিয়েটারের নান্দনিকতা ও পরীক্ষামূলক ভাষায় নতুন প্রযোজনা নিয়ে আসছে নাট্যদল নাট্যধারা। ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শিরোনামের নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে আগামী ২৮ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে।

লিভিং থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য অনুসরণ করে নির্মিত এ প্রযোজনায় দর্শক ও মঞ্চের প্রচলিত দূরত্ব কমিয়ে নাট্যঘটনাকে আরও প্রত্যক্ষ ও অনুভবনির্ভর করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। শরীরী ভাষা, প্রতীকী অভিনয়, আলো-আঁধারি, শব্দ ও আবহ নির্মাণকে নাটকের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র নাদিয়া মুরাদ। ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের এই তরুণী উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের হাতে বন্দিত্ব ও নির্যাতনের শিকার হন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিয়ে মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হন তিনি। তাঁর সংগ্রাম ও সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন নাদিয়া মুরাদ।

তবে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শুধু নাদিয়া মুরাদের ব্যক্তিজীবনের গল্প নয়। যুদ্ধ, রাষ্ট্র, মৌলবাদ, বিশ্বরাজনীতি, অর্থনৈতিক স্বার্থ, জাতিসত্তার ওপর আঘাত এবং মানবিক বিপর্যয়ের মতো সমকালীন নানা সংকটকে নাটকটির বিষয়বস্তু করা হয়েছে।

নাট্যদলের ভাষ্য অনুযায়ী, নাদিয়ার জীবনকাহিনিকে ব্যক্তিগত আত্মজীবনী হিসেবে নয়, বরং সময় ও ইতিহাসের প্রতিচ্ছবি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শককে কেবল গল্পের দর্শক না রেখে নাট্যঘটনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি করাও এ প্রযোজনার অন্যতম লক্ষ্য।

নাটকের শেষাংশে উঠে আসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—নাদিয়াই কি পৃথিবীর দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দোজখের শেষ মেয়ে? চলমান যুদ্ধই কি পৃথিবীর শেষ যুদ্ধ? মৌলবাদের তৈরি দোজখই কি পৃথিবীর শেষ দোজখ? নাদিয়াই কি পৃথিবীর শেষ দোজখের শেষ মেয়ে? আর যুদ্ধশিশু কি পরিকল্পিত?

নাটকটি রচনা করেছেন আনিসুর রহমান এবং নাট্যনির্মাণ করেছেন আশীষ খন্দকার। অভিনয়ে রয়েছেন মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, মো. রফিকুল ইসলাম, রহিম পারভেজ, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু ও হাফসা মাহমুদ ঋদ্ধি।

নাট্যকার হিসেবে রয়েছেন আনিসুর রহমান। নাট্যনির্মাণের পাশাপাশি সঙ্গীত ও পোশাক পরিকল্পনায় আছেন আশীষ খন্দকার। সহযোগী নির্দেশক রিয়াদ মাহমুদ। মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনা করেছেন পলাশ সেন হেনরী।

নাটকটির নির্মাণে সহযোগিতা করেছে বিডিজবস ডট কম ও সাইমন কালিনারী ইনস্টিটিউট।

লিভিং থিয়েটারের পরীক্ষামূলক ভাষায় নির্মিত ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ সমকালীন বাংলা মঞ্চনাটকে নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২৮ আগস্টের উদ্বোধনী মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে শুরু হবে প্রযোজনাটির যাত্রা।

কালের আলো/এসএ

হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ৫৭৫ পদে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ৫৭৫ পদে নিয়োগ

হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (CGA) ৩টি পুনর্নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫৭৫টি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২৭ আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৪টার মধ্যে আবেদন করতে হবে।

পদের বিবরণ

পদ পদসংখ্যা বেতন স্কেল গ্রেড
অডিটর ৩৭৮ ১২,৫০০–৩০,২৩০ টাকা ১১
কম্পিউটার অপারেটর ১১,০০০–২৬,৫৯০ টাকা ১৩
জুনিয়র অডিটর ৯২ ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা ১৬
ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা ১৬
ড্রাইভার ৯,৩০০–২২,৪৯০ টাকা ১৬
সর্টার ৪০ ৮,৫০০–২০,৫৭০ টাকা ১৯
অফিস সহায়ক ৫৭ ৮,২৫০–২০,০১০ টাকা ২০

আবেদন যেভাবে

আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের ওয়েবসাইট

আবেদন ফি পদের ধরন অনুযায়ী ৫৬, ১১২ ও ১৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনগ্রসর নাগরিকদের সব গ্রেডে আবেদন ফি ৫৬ টাকা (সার্ভিস চার্জসহ)।

আবেদনের শেষ সময়

২৭ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪টা।

তবে ২৭ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখের বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে যাঁরা আগে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

নিয়োগের বিস্তারিত তথ্য হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ

মাত্র ৮ মিনিটে ডুবল জাহাজ, নিখোঁজ বাংলাদেশিসহ ২২ নাবিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
মাত্র ৮ মিনিটে ডুবল জাহাজ, নিখোঁজ বাংলাদেশিসহ ২২ নাবিক

ভারতের ওডিশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে যাওয়ার তিন দিন পরও নিখোঁজ রয়েছেন ২২ নাবিক। নিখোঁজদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ভারতীয় কোস্টগার্ডের পাশাপাশি চীনের মেরিটাইম সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সেন্টারও অভিযান চালাচ্ছে।

পানামার পতাকাবাহী এমভি ওশান উইনার নামের জাহাজটিতে মোট ২৪ জন নাবিক ছিলেন। এর মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি লাইফবোট ও জরুরি বিপদসংকেত পাঠানোর যন্ত্র (ইপিআইআরবি) উদ্ধার করে। তবে লাইফবোটে কোনো নাবিককে পাওয়া যায়নি।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধানে জাহাজ ও বিমান দিয়ে বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। চীনও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ পাঠিয়ে উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির ২৪ নাবিকের মধ্যে ২০ জন চীনা, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। জাহাজটি ওডিশার পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দূরে ডুবে যায়। প্রথমে একদিকে কাত হয়ে পড়ার পর মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই জাহাজটি সাগরে তলিয়ে যায়।

জাহাজটিতে ৭২ হাজার টনের বেশি লৌহ আকরিক ছিল। ওডিশা থেকে এসব আকরিক চীনে নেওয়া হচ্ছিল। নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি