খুঁজুন
                               
, ,
           

ডিএমপির তিন থানায় নতুন ওসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
ডিএমপির তিন থানায় নতুন ওসি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তিন থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) ৬ পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) (তদন্ত) ইয়াসিন মিয়াকে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. আজহারুল ইসলামকে কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলামকে শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ, রমনা থানার অফিসার

ইনচার্জ মো. রাহাত খানকে ডিএমপির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিসিস বিভাগে, কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম ফারুককে ডিবি সাইবার স্পেশাল ক্রাইম উত্তর বিভাগে এবং শ্যামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুর রহমানকে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

১৭ মাস পর জাতীয় হকি দলে ফিরছেন জিমি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
১৭ মাস পর জাতীয় হকি দলে ফিরছেন জিমি

দীর্ঘ ১৭ মাস পর আবারও জাতীয় হকি দলের ক্যাম্পে ডাক পাচ্ছেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাসেল মাহমুদ জিমি। ৩৯ বছর বয়সী এই তারকাকে আজ কিংবা আগামীকালের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পে ফেরানোর ঘোষণা দেবে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন।

২০২৪ সালে বয়সের অজুহাতে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল জিমিকে। তবে মাঠের পারফরম্যান্স বা ফিটনেস নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না তার। ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলা ঢাকা প্রিমিয়ার হকি লিগে মোহামেডানের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।

এরপর ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান হকি ফেডারেশন (এএইচএফ) কাপের দল গঠনের লক্ষ্যে খেলোয়াড়দের কুপার টেস্টে ডাকা হলেও সেই তালিকায় রাখা হয়নি জিমিকে। বিষয়টি নিয়ে তখন ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

জিমি বলেছিলেন, “আমি দলে খেলার যোগ্য কি না, সেটা যাচাই করার জন্য অন্তত ফিটনেস টেস্টের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তা-ও দেওয়া হয়নি। এর চেয়ে বড় অন্যায় আর হতে পারে না।”

এরপর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও হাল ছাড়েননি জিমি। নৌবাহিনীর অধীনে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গেছেন তিনি। বয়সকে বাধা না মেনে জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখেছেন এই ফরোয়ার্ড।

অবশেষে নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই সুযোগ এসেছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে জাপানে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমস সামনে রেখে চলমান জাতীয় দলের ক্যাম্পে জিমিকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেশন।

হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স বলেন, “বয়সের কারণে কাউকে বাদ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়, এটা অবিচারও। তাই আমরা জিমিকে ক্যাম্পে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপর কোচ যদি মনে করেন তিনি চূড়ান্ত দলে থাকবেন, তাহলেই থাকবেন।”

জিমিও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, “আগের কমিটি আমাকে অন্যায়ভাবে বাদ দিয়েছিল। নতুন কমিটি আমাকে ন্যায়বিচারের সুযোগ দিচ্ছে। আমি ক্যাম্পে যাব। এরপর কোচ যদি যোগ্য মনে করেন, চূড়ান্ত স্কোয়াডে রাখবেন। অন্তত নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাচ্ছি, এটাই বড় খবর।”

২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করা জিমির বর্তমান আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ১৯৪টি। তার লক্ষ্য অন্তত ২০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা। সর্বশেষ ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন তিনি।

জিমি বলেন, “এবারও যদি এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত দলে সুযোগ পাই, তাহলে এটাই হবে আমার ক্যারিয়ারের শেষ এশিয়ান গেমস।”

এদিকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে আরও ফিরছেন পুষ্কর খিসা মিমো, নাঈম উদ্দিন, শিশির ও সৈকত। পাশাপাশি জাতীয় দলের দায়িত্বে আবারও ফিরছেন কোচ পিটার গেরহার্ড। তার অধীনে নতুন করে প্রস্তুতি শুরু করবে বাংলাদেশ দল।

কালের আলো/এসএ

খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সবচেয়ে বেশি গরিবের কাঁধে: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সবচেয়ে বেশি গরিবের কাঁধে: সিপিডি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেছেন, দেশে টানা চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সবচেয়ে বেশি বহন করতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষকে। কারণ, তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য কেনায় ব্যয় হয়। ফলে খাদ্যের দাম বাড়লে শুধু খাবার কেনাই কঠিন হয়ে পড়ে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সঞ্চয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও ব্যয় কমাতে বাধ্য হয় পরিবারগুলো।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সিপিডি আয়োজিত ‘দ্য ফুড প্রাইস চেইন: মার্কেটস, মার্জিনস অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং চার বছর ধরে এটি দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। তবে খাদ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য একক কোনো কারণকে দায়ী করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজারের অদক্ষতা, মজুতদারি, সরবরাহ ঘাটতি এবং প্রতিযোগিতার অভাবসহ বিভিন্ন কারণ একযোগে খাদ্যের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখে। তাই এই সমস্যার সমাধানেও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের বড় ব্যবধানের প্রসঙ্গে ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে ফড়িয়া, বেপারি, আড়তদারসহ একাধিক অংশীজন থাকায় প্রতিটি ধাপে পণ্যের মূল্য পরিবর্তিত হয়। ফলে কৃষক যে দামে পণ্য বিক্রি করেন, ভোক্তাকে তার তুলনায় অনেক বেশি দামে তা কিনতে হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না : মির্জা ফখরুল

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে ডিএফপি অডিটোরিয়ামে এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সমাজের পরিবর্তন কখনো হঠাৎ করে আসে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন, সংগ্রাম এবং প্রয়োজন হলে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বড় পরিবর্তন অর্জিত হয়। ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পেছনে মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনই ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও প্রত্যাশিত পরিবর্তন পুরোপুরি অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ একই সময়ে যাত্রা শুরু করে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। জবাবদিহি, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনের শুরুতে তরুণদের ন্যায্য দাবির প্রতি ব্যাপক সমর্থন ছিল। পরবর্তীতে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। শহীদদের পরিবারের ত্যাগ ও বেদনা জাতিকে সবসময় স্মরণ রাখতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগের মূল্য ধারণ করতে না পারলে সেই ত্যাগ অর্থহীন হয়ে যাবে।

দেশের পরিবর্তনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, মূল্যবোধ, শিক্ষা ও দায়িত্বশীলতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আর কোনো বাবা-মাকে সন্তানের মৃত্যুজনিত শোক বহন করতে না হয়।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, পরিবর্তন বাইরে থেকে আসবে না; পরিবর্তন শুরু করতে হবে নিজেদের মধ্য থেকেই। দেশের মানুষ পরিশ্রমী ও ত্যাগী। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) সবসময় প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের পর হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন, প্রতিশোধ নয়, সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে দেশ গড়ে তুলতে হবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার দীর্ঘ ত্যাগ যেমন মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা, তেমনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীও দেশের প্রয়োজনে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, যা দেশের মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

কালের আলো/এসএকে