খুঁজুন
                               
, ,
           

সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
সংসদের চেয়ে রাজপথকে প্রাধান্য গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়: তথ্যমন্ত্রী

শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় ও সমস্যার সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। সংসদের পরিবর্তে রাজপথকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক নয়।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা যখন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা করতে চাই এবং জাতীয় সংসদকে একটি কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতির ধারায় এগিয়ে নিতে চাই, তখন দেখা যায় কেউ কেউ সংসদের চেয়ে রাজপথকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। সংসদের ছোটখাটো বিষয়কে রাজপথে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চলছে।

শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ষড়যন্ত্রের গভীরতা সম্পর্কে সচেতন।

তবে দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে তারা উত্তেজনা নয়, বরং গঠনমূলক সমাধানেই বিশ্বাসী।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বুঝি বলেই দায়িত্বশীল আচরণ করি, অভিভাবকের ভাষায় কথা বলি।

প্রতিক্রিয়াশীল ও উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা যায় না।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই আন্দোলনের পর্ব শেষ হয়েছে। এখন দেশ গঠনের সময়।

তিনি বলেন, এখন আমাদের প্রধান দায়িত্ব দেশ গড়া। যারা সমস্যা তৈরি করবে, তাদের সঙ্গে প্রথমে গঠনমূলকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে রাষ্ট্র, দেশ ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও আন্দোলনের ইতিহাস জানতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের বাস্তব চিত্র তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এই প্রদর্শনী অতীতের নির্মমতা স্মরণ করিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৬ বছরের আন্দোলন, শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল শিক্ষা হলো জনগণের ঐক্য। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে।

একই সঙ্গে মব কালচার, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তিনি এসব প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ এবং সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মীদের মানবতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বিপিজেএর সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকরা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করেন। অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন অনেক সময় করা হয় না, যা দুঃখজনক। ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাদের মূল্যায়ন করা উচিত।

এ সময় আমরা বিএনপি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে আহত ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়; এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কেউ কেউ জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করে বিভাজন সৃষ্টি করছেন, যা আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হলেও তা নিয়ে কখনো রাজনৈতিক প্রচারণা করেননি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, বিপিজেএ’র সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, সহ-সভাপতি মশিউর রহমান সুমনসহ সংগঠনের সদস্যরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে: কৃষিমন্ত্রী

আগামীতে কৃষিপণ্য রফতানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ। তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সারাদেশে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং মিনি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের মাধ্যমে সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় নদী বিধৌত চলাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়, ২ দিনব্যাপী আয়োজিত সুফলভোগী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ বলেন, মার্কেটে এই মুহূর্তে যত সারের প্রয়োজন আছে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি গোডাউনে মজুত আছে। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সারের মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। সার নিয়ে কোনো ধরনের সংকট বা ঘাটতি তৈরি হবে না। কৃষকরা যাতে সময়মতো ন্যায্য দামে প্রয়োজনীয় সার পান, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশের সাতটি জেলার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে ২৫ জন খামারিকে একটি করে বকনা বাছুর ও প্রত্যেককে ৫০ কেজি করে প্রাণী খাদ্য দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন সুফলভোগীর মাঝে পাঁচটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

সমাপনী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে, মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এবং সাত জেলার সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আব্দুর রহিম সহ আরও অনেকে।

এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের আওতায় গজারিয়ার ভবেরচরে-রসুলপুর খালে পোনামাছ অবমুক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশীদ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

মোস্তফা কামাল:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
দূতাবাসে ভূয়া হুমকি: দেশের ইমেজ নষ্টের আরেক চেষ্টা

স্যোশাল মিডিয়ায় বানোয়াট তথ্য, ভুয়া ছবি ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দেশের ইমেজ নষ্টের চেষ্টায় সফল হতে পারেনি চক্রবিশেষ। কিছুদিন ধরে আচ্ছা রকমে চলেছে এ চেষ্টা। এর অংশ হিসেবে দেশবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য, ভুয়া ছবি এবং পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে সমাজে অস্থিরতা তৈরি ও আন্তর্জাতিক মহলে ভুল বার্তা দেওয়ার হেন চেষ্টা নেই, যা না করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা অশুভ স্বার্থ হাসিলের জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচার বিভাগ নিয়ে বিদেশে নেতিবাচক প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। এসব করে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি সম্ভব হলেও বড় রকমের ভেজাল তারা পাকাতে পারেনি।

এ অপচেষ্টারই ফলো আপ ঢাকার কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি। মূল উদ্দেশ্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা। এসব অপতৎপরতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকার কূটনৈতিক এলাকাসহ দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার অপরাধ দমনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন, ঢাকাস্থ বিদেশি কূটনীতিকদের আতঙ্কিত করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করাই দেশবিরোধী এ অপতৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।

চীন-রাশিয়াসহ ঢাকার কয়েকটি দূতাবাসে হুমকির বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ না করা হলেও দূতাবাসের তরফে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরকে বিষয়টি অবগত করা হলে সেখান থেকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমসহ বিভিন্ন ইউনিটকে জানানো হয়। পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে কাউন্টার টেররিজম বিষয়টি তদন্ত করছে। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকার পুরো কূটনৈতিক এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, দূতাবাসগুলোতে বিভিন্ন ভুয়া ইমেইল থেকে হুমকি দিয়ে মেইল এসেছে। যেসব ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকির মেসেজগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট বা বয়ানের ই-মেইল পাঠিয়ে, একেক সময় একেক ছদ্মনাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। বার্তাগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট চরমপন্থী বা রাজনৈতিকাদর্শের উল্লেখ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অপেশাদার চাঁদাবাজির প্রচেষ্টা।

ডিপ্লোমেটিক জোনে বরাবর সব সময়ই শতভাগ নিরাপত্তা থাকে। যেকোনো ইনসিডেন্ট ঘটলে বা মেসেজ পেলে, সেটা লিখিত বা মৌখিক যা-ই হোক, তৎপরতা বাড়ানো নিয়মিত গতানুগতিক কাজের অংশ। তারপরও আবশ্যকতার প্রশ্নে মেইল করে তারা যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, সেই বিকাশ নম্বরের প্রায় ৩-৪ জনকে পুলিশ লাম জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা কিছুই জানে না। মেইল করে যে বিকাশ নম্বরগুলো দিয়েছে, তারা নিরীহ লোক। তারপরও দুষ্টকর্মের আয়োজকরা আংশিক সফল। বিদেশি কূটনীতিক ও দূতাবাসগুলোর মধ্যে কিছুটা ভীতি ও আতঙ্ক ছড়াতে পেরেছে। গণমাধ্যমে খবর হয়েছে। পুলিশকে ব্যস্ত করা গেছে। সরকারকে একটু হলেও বিব্রত করা গেছে। বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের ইমেজে একটু টোকা দেয়া সম্ভব হয়েছে। এটাও তাদের জন্য তৃপ্তির।

কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইন (ভিয়েনা কনভেনশন) অনুযায়ী হোস্ট কান্ট্রি বা স্বাগতিক দেশের মৌলিক দায়িত্ব। এ ধরনের হুমকি বা অপপ্রচার দেশের বিনিয়োগ, পর্যটন এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনায় বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা ও আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে স্বাগতিক দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল ও অনিরাপদ হিসেবে প্রমাণ করা অসম্ভব নয়। দেশবিরোধী অপশক্তি বা রাজনৈতিকভাবে ফায়দা লুটতে চাওয়া গোষ্ঠী এর মাধ্যমে সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত ও চাপে ফেলার চেষ্টা করে। সাইবার অপরাধী ও আন্তর্জাতিক স্ক্যামাররা অনেক সময় সাধারণ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর ব্যবহার করে এই ভুয়া হুমকি দেয়। এসব করে সংকীর্ণ গণ্ডিতে কতক লোক এতে লাভবানও হয়। কোনো দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট করে সাময়িক তৃপ্তি মেলে। দীর্ঘমেয়াদে বা সামগ্রিকভাবে লাভ হয় না, বরং এর ফলে দেশ এবং দেশের সকল নাগরিক বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হন। তবে ক্ষণস্থায়ী বা সংকীর্ণ স্বার্থের কারণে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা পক্ষ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের চেষ্টা আগেও হয়েছে। এসব করে তারা সাময়িক সুবিধা নেয়। একটি দেশের ভাবমূর্তি বা ইমেজ নষ্ট হলে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্দিষ্ট কিছু পক্ষ বা গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে।

নানা কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, লাভ হাসিলের আরো নানা পক্ষ থাকে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো অন্য দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে নিজেদের পর্যটন, রপ্তানি বাজার বা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়। একটি দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে বা দুর্বল করে রাখলে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর আঞ্চলিক প্রভাব ও দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে অনেক সময় কিছু গোষ্ঠী দেশের ভেতরের নেতিবাচক পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। সাইবার অপরাধী, সন্ত্রাসী বা চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়। বিতর্কিত কিছু অনলাইন পোর্টাল, ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শুধু ভিউ, লাইক বা সস্তা প্রচারের জন্য দেশের নেতিবাচক বা মিথ্যা খবর বানিয়ে প্রচার করে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী রোমাঞ্চকর বা বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করতে তাদের বিবেকে বাধে না। দেশের ইমেজ নষ্ট করার পেছনে কিছু মহলের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকলেও, চূড়ান্ত বিচারে এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি বড় আত্মঘাতী এবং ক্ষতিকর প্রক্রিয়া। দেশের ইমেজ নষ্ট করার এ অশুভ খেলা রুখতেই হবে। এ খেলা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং পর্যটন শিল্পের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দেশের ভাবমর্যাদা বা ইমেজ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকেরই নৈতিক দায়িত্ব। তাই গুজব, উড়ো চিঠি, হুমকি ধরনের অপকর্ম প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

গুজব ছড়ানোর সাথে সাথে সরকারের তরফে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার বিষয় রয়েছে। মূল ধারার গণমাধ্যমেরও দায়িত্ব রয়েছে। করতে হবে ব্র্যান্ডিং ক্যাম্পেইনও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক অর্জন, অর্থনৈতিক সাফল্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা জরুরি। বিদেশে অবস্থিত দেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিদেশি সরকারের কাছে সঠিক চিত্র তুলে ধরা যেতে পারে। পুলিশের ধারণা অনুযায়ী, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা বা আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে দূতাবাসে এই স্ক্যাম বা ভুয়া মেইল পাঠানো হয়ে থাকলে তা শনাক্ত করা জরুরি। জনগণের কাছে স্পষ্ট দেয়া আরো জরুরি। নইলে এ ধরনের চেষ্টা-অপচেষ্টা একটার পর একটা চলতেই থাকবে। আজ করবে গুজব রটিয়ে, কাল উড়ো চিঠি দিয়ে, আরেকদিন নিয়ে আসবে সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো বিষয়াদি।

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।

ভারী বৃষ্টি নয়, বরফধসেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
ভারী বৃষ্টি নয়, বরফধসেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা?

নেপালের ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার পেছনে হিমবাহের বরফধসের ভূমিকা থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের ধারণা, একটি বরফধস লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দেওয়ার পর সেখানে বিপুল পানি জমে যায়। পরে সেই পানি হঠাৎ প্রবল বেগে নিচের দিকে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্ত কায়াস্থ জানিয়েছেন, নেপাল ও চীনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ ধারণা পাওয়া গেছে। তবে কোনো হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়া কিংবা বাঁধ ভেঙে বন্যা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, তিব্বতের ভূখণ্ডে সকালে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ ভূমিকম্পেরও কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, বন্যার আকস্মিকতা দেখে এটিকে স্বাভাবিক বৃষ্টিজনিত বন্যা মনে হচ্ছে না। নেপালের জলবিদ্যা ও আবহাওয়া বিভাগও জানিয়েছে, ওই এলাকায় মঙ্গলবার ও বুধবার উল্লেখযোগ্য ভারী বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে উজানে পানি আটকে গিয়ে হঠাৎ নেমে আসার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও নদীর প্রবাহ বরফধসে আটকে যাওয়ার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। বর্তমানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভয়াবহ এই বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়, ব্রিটিশ, মালয়েশীয়, দক্ষিণ আফ্রিকান, মার্কিন, অস্ট্রেলীয় ও ডাচ নাগরিক রয়েছেন। তবে নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশি কেউ আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তবে এবারের বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি