খুঁজুন
                               
, ,
           

‘মক্কা জোটের’ আত্মপ্রকাশ, নতুন সদস্যের আলোচনায় এগিয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
‘মক্কা জোটের’ আত্মপ্রকাশ, নতুন সদস্যের আলোচনায় এগিয়ে বাংলাদেশ

ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোট ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ (Mecca Defence Alliance)।

সোমবার (৩১ আগস্ট) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনা প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জোটের নাম চূড়ান্ত ও এর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে অন্য মুসলিম দেশগুলোকে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে তিন দেশ।

বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের পক্ষে ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু। সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং সামরিক প্রধান ফাইয়াদ আল-রুওয়াইলি।

বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জোটের মূল লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামোর পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সামরিক জোট সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনই এই জোটের মূল স্তম্ভ।’

আরও দেশের এই জোটে যোগদান নিয়ে ফিদান স্পষ্ট করেন, ‘সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে আগ্রহী যেকোনো মুসলিম বা অংশীদার রাষ্ট্রের জন্য এই জোটের দরজা উন্মুক্ত থাকবে। তবে যোগদানের শর্ত, পদ্ধতি এবং মানদণ্ড নিয়ে সম্ভাব্য ও বর্তমান উভয় সদস্যের সঙ্গেই আলোচনার প্রয়োজন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সম্ভাব্য নতুন সদস্যের উচিত একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত কাঠামোতে যোগদান করা। আমরা এখন কঠিন অংশটি, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠা পর্বটি সম্পন্ন করতে একসঙ্গে কাজ করছি।’

নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নাম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াতে তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশ- পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অত্যন্ত আগ্রহী।

চলতি মাসেই পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, চুক্তিটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে তৈরি এবং এতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদানও জানিয়েছেন, আঙ্কারা এই কাঠামোটিকে তিনটি প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রের বাইরেও প্রসারিত করতে চায়।

এদিকে জোটের সম্প্রসারণের দৌড়ে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে বাংলাদেশের নাম। প্রকাশ্যে আগ্রহ প্রকাশে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকা এই জোটে যোগ দিতে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এমন একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।

এরপরই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো। যৌথ দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় আগ্রহী যেকোনো দেশের জন্যই এই জোট উন্মুক্ত।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে চুক্তিতে যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসলে তা সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে’।

আর কারা যোগ দিতে পারে?
বাংলাদেশ ছাড়াও এই জোটে যোগ দেওয়ার তালিকায় শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে রয়েছে মিসর।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি জানিয়েছেন, তাদের সরকার অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিশ্রুতিগুলো খতিয়ে দেখে জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। কারণ এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নিরাপত্তা নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সামরিক অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে চায়। তবে এ নিয়ে তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ইস্তাম্বুলের ইবন খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ গোকান এরেলি মিশরকে ‘সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আরব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কায়রোর ভূমিকা ও আঙ্কারার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক সিনেম চেঙ্গিজ এই জোটে মিসরের যোগদান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, মিসরের পরিবর্তে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিকট ভবিষ্যতে এই জেটে যোগ দেবে।

কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের নাম উল্লেখ করে চেঙ্গিজ বলেন, ‘স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী।

অন্যদিকে রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টারের গবেষক উমর করিম বলেছেন, যেকোনো সম্প্রসারণের জন্য তিন প্রতিষ্ঠাতা অংশীদারের মধ্যে নতুন কোনো সদস্যের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে যদি সেই রাষ্ট্রটি নিজেই আঞ্চলিক হুমকির মুখে ঝুঁকিপূর্ণ হয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ, মিশর বা সিরিয়ার যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সকল অংশীজনের মধ্যে প্রয়োজনীয় বোঝাপড়া তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট পবিত্র নগরী মক্কায় গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তাকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দিলেন মেসি

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না লিওনেল মেসিকে। দীর্ঘ ২০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক আবেগঘন চিঠিতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা।

তবে ফাইনালের পরপরই অবসরের ঘোষণা দেননি মেসি। বরং ২১ জুলাই দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, ফাইনালের পরের যন্ত্রণা কাটতে সময় লাগবে এবং বিশ্বকাপে দলের অর্জন ও সমর্থকদের ভালোবাসাকে তিনি স্মরণীয় করে রাখতে চান। তখনও জাতীয় দল থেকে অবসরের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি তিনি।

এরপর আগস্টে বাবার মৃত্যু মেসির সিদ্ধান্তকে আরও দৃঢ় করে। মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর মেসি নিজের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন।

এবার সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন তিনি।

মেসি তার চিঠির শুরুতেই লিখেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভাবার পর তিনি জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সিদ্ধান্তটি তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের হলেও এটিই সঠিক সময় বলে মনে করছেন তিনি।

জাতীয় দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার কথাও স্মরণ করেছেন মেসি। শুধু সাম্প্রতিক সময়ে শিরোপা জয়ের সময় নয়, তার আগেও প্রতিটি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

মেসির ভাষায়, জাতীয় দলের হয়ে খেলা তার কাছে সবসময়ই ছিল ভালোবাসার বিষয়। তবে এখন মনে হচ্ছে, তার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই। একই সঙ্গে তিনি আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জায়গা করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।

সবচেয়ে আবেগঘন বার্তাটি এসেছে সমর্থকদের উদ্দেশে। দুই দশক ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় সমর্থকদের যে ভালোবাসা পেয়েছেন, তা তিনি কখনো ভুলবেন না বলে জানিয়েছেন।

এখন থেকে মাঠের ভেতর নয়, গ্যালারির বাইরে থেকে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করবেন তিনি। অর্থাৎ, জাতীয় দলের জার্সিতে আর নয়—একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবেই প্রিয় দলকে অনুসরণ করবেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

মেসি তার পরিবার, জাতীয় দলের সতীর্থ, কোচ ও কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কাটানো সময়কে নিজের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

চিঠির শেষদিকে মেসি লিখেছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে পাওয়া সব অর্জন ও স্মৃতি নিয়ে তিনি গর্বিত। সতীর্থদের সঙ্গে মিলে দেশকে কিছু ‘স্বপ্নের মুহূর্ত’ উপহার দিতে পেরেছেন- এটাই তার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।

এরপর ভালোবাসা ও আবেগে তিনি লিখেছেন- ঈশ্বর তাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ। শেষ করেছেন, ‘গো আর্জেন্টিনা!’ বার্তা দিয়ে।

তবে মেসির প্রকাশিত চিঠির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এর সময়কাল। তিনি জানিয়েছেন, চিঠিটি মূলত লিখেছিলেন ২১ জুলাই- বিশ্বকাপ ফাইনালের দুদিন পর। অর্থাৎ স্পেনের কাছে হারের পরই জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

দুই দশকের অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের শেষ
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পথচলা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। দীর্ঘ দুই দশকে তিনি জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফাইনালিসিমা জয়ের পাশাপাশি অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন।

বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ৩৯ বছর বয়সেও তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। আসরে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট নিয়ে দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এএফএ) উল্লেখ করেছে।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করার পর মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতাও পূরণ হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে শিরোপা ধরে রাখার শেষ সুযোগটি স্পেনের কাছে হেরে শেষ হয়।

এবার সেই হারের কয়েক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানালেন তিনি। ফলে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হিসেবে ইতিহাসে থেকে যাচ্ছে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালটিই।

একটি যুগের শেষ- মেসি আর আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামবেন না। তবে তার রেখে যাওয়া স্মৃতি, অর্জন ও অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে ‘সমন্বয়ের রাজনীতি’, প্রশাসন-পুলিশকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের উন্নয়নে ‘সমন্বয়ের রাজনীতি’, প্রশাসন-পুলিশকে একসঙ্গে কাজের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

কিশোরগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, শহরের যানজট নিরসন এবং সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাগুলো মোকাবিলায় প্রশাসন, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

দায়িত্ব পাওয়ার পর কিশোরগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে জেলার বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়—রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার সমন্বয়েই জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমস্যা শুনলেন, দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস
সভায় কিশোরগঞ্জের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, শহরের যানজট এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। জেলার রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যেও উঠে আসে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, জনদুর্ভোগ এবং সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়। প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার পর বলেন, জেলার সাম্প্রতিক আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জের সার্বিক সমস্যা সমাধানে সরকার ও প্রশাসন কার্যকরভাবে কাজ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

শুরুতেই গুরুত্বের সঙ্গে যে কাজটি করলেন প্রতিমন্ত্রী
বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম মতবিনিময় সভাতেই জেলার আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক দুর্ভোগের বিষয়গুলো সরাসরি শোনা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নিরাপদ পরিবেশ, নির্বিঘ্ন চলাচল এবং মাদকমুক্ত সামাজিক পরিবেশও একটি জেলার টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী শুরুতেই এই কাজটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে করেছেন।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ, কঠোর পদক্ষেপের দাবি
জেলা প্রশাসক (ডিসি) সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এ সময় মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর আলম হত্যাকাণ্ডসহ জেলার সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা, নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল এবং হত্যার হুমকির বিষয়গুলো তুলে ধরে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির নেতারা।

  • আইনশৃঙ্খলা, মাদক, যানজট ও সাম্প্রতিক সহিংসতা মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের তাগিদ
  • প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা চান রাজনৈতিক নেতারা

রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যে মূলত একটি বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে ওঠে—সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও কঠোর এবং জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ ধরনের দাবি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কোনো জেলার স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, হুমকি, নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড কিংবা মাদক বিস্তারের মতো বিষয়গুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যানজট-মাদকেও নজর জরুরি
কিশোরগঞ্জ শহরের যানজটও সভায় আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে। শহরের সড়কব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান চাপ, অপরিকল্পিত পার্কিং, সড়কের জায়গার যথাযথ ব্যবহার এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, মাদকের বিস্তারও শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও বড় বাধা। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

সমস্যা সমাধানে জোর সমন্বয়ে
জেলার আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর এই সভা থেকে একটি বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে এসেছে সেটি হলো—কিশোরগঞ্জের সমস্যা সমাধানে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের হাতে রয়েছে নীতিগত ও নির্বাহী ক্ষমতা, পুলিশের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা আর রাজনৈতিক নেতৃত্বের রয়েছে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও স্থানীয় বাস্তবতা তুলে ধরার সুযোগ। এই তিন পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকলে অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।

দলমতের ঊর্ধ্বে কিশোরগঞ্জের স্বার্থ
সভা শেষে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। কিশোরগঞ্জের সামনে উন্নয়নের সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা, মাদক, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু জেলার নিরাপত্তা, মানুষের স্বাভাবিক জীবন এবং উন্নয়নের প্রশ্নে একটি অভিন্ন অবস্থান জরুরি। তথ্য প্রতিমন্ত্রীর প্রথম মতবিনিময় সভা সেই সমন্বিত উদ্যোগের একটি প্রাথমিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলো যত দ্রুত বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া এবং প্রশাসন-পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয় আরও কার্যকর করার কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন কিশোরগঞ্জবাসী।

কালের আলো/এমএএএমকে

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির শক্তির উৎস: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির শক্তির উৎস: তারেক রহমান

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির অপর নাম একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।

আগামীকাল (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (৩১ আগস্ট) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ আর সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনটি বাংলাদেশি মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার।

বাণীতে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৮ সালের এই দিনে এক শুভ বিকেলে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে (রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

তিনি বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি অভিশপ্ত একদলীয় ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে প্রথমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলে, বাংলাদেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন করে পথচলা শুরু হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তারেক রহমান।

একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকগণ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত যারা প্রাণোৎসর্গ করেছেন, আহত হয়েছেন, তিনি সকল পর্যায়ের সেই নেতাকর্মীর অবদানকেও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

বাণীতে তিনি বলেন, দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।

দেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির উদ্যম ও উদ্যোগের ফলে দলটি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপি-কে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভার্থী দেশমাতৃকার সেবায় নিজেদের নিবেদন করে আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। বিএনপির অপর নাম- একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আবারও গণতন্ত্রকামী, স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ