খুঁজুন
                               
, ,
           

‘মক্কা জোটের’ আত্মপ্রকাশ, নতুন সদস্যের আলোচনায় এগিয়ে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
‘মক্কা জোটের’ আত্মপ্রকাশ, নতুন সদস্যের আলোচনায় এগিয়ে বাংলাদেশ

ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করল পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোট ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ (Mecca Defence Alliance)।

সোমবার (৩১ আগস্ট) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সেনা প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জোটের নাম চূড়ান্ত ও এর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে অন্য মুসলিম দেশগুলোকে এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে তিন দেশ।

বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তুরস্কের পক্ষে ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু। সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলে ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং সামরিক প্রধান ফাইয়াদ আল-রুওয়াইলি।

বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জোটের মূল লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জোটের একটি স্থায়ী সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের একজন প্রতিনিধি।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই চুক্তির মাধ্যমে আমাদের অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামোর পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সামরিক জোট সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনই এই জোটের মূল স্তম্ভ।’

আরও দেশের এই জোটে যোগদান নিয়ে ফিদান স্পষ্ট করেন, ‘সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে আগ্রহী যেকোনো মুসলিম বা অংশীদার রাষ্ট্রের জন্য এই জোটের দরজা উন্মুক্ত থাকবে। তবে যোগদানের শর্ত, পদ্ধতি এবং মানদণ্ড নিয়ে সম্ভাব্য ও বর্তমান উভয় সদস্যের সঙ্গেই আলোচনার প্রয়োজন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সম্ভাব্য নতুন সদস্যের উচিত একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত কাঠামোতে যোগদান করা। আমরা এখন কঠিন অংশটি, অর্থাৎ প্রতিষ্ঠা পর্বটি সম্পন্ন করতে একসঙ্গে কাজ করছি।’

নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের নাম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের পরিধি বাড়াতে তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশ- পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক অত্যন্ত আগ্রহী।

চলতি মাসেই পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, চুক্তিটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে তৈরি এবং এতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদানও জানিয়েছেন, আঙ্কারা এই কাঠামোটিকে তিনটি প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রের বাইরেও প্রসারিত করতে চায়।

এদিকে জোটের সম্প্রসারণের দৌড়ে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছে বাংলাদেশের নাম। প্রকাশ্যে আগ্রহ প্রকাশে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকা এই জোটে যোগ দিতে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, একটি মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এমন একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়া মোটেও অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।

এরপরই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি পরিবর্তনশীল ও ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তা কাঠামো। যৌথ দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষায় আগ্রহী যেকোনো দেশের জন্যই এই জোট উন্মুক্ত।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে চুক্তিতে যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসলে তা সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে’।

আর কারা যোগ দিতে পারে?
বাংলাদেশ ছাড়াও এই জোটে যোগ দেওয়ার তালিকায় শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে রয়েছে মিসর।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি জানিয়েছেন, তাদের সরকার অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিশ্রুতিগুলো খতিয়ে দেখে জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইন এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। কারণ এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একক নিরাপত্তা নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সামরিক অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে চায়। তবে এ নিয়ে তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ইস্তাম্বুলের ইবন খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ গোকান এরেলি মিশরকে ‘সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আরব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কায়রোর ভূমিকা ও আঙ্কারার সঙ্গে তার সাম্প্রতিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের গালফ স্টাডিজ সেন্টারের গবেষক সিনেম চেঙ্গিজ এই জোটে মিসরের যোগদান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, মিসরের পরিবর্তে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিকট ভবিষ্যতে এই জেটে যোগ দেবে।

কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের নাম উল্লেখ করে চেঙ্গিজ বলেন, ‘স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের আগে থেকেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী।

অন্যদিকে রিয়াদের কিং ফয়সাল সেন্টারের গবেষক উমর করিম বলেছেন, যেকোনো সম্প্রসারণের জন্য তিন প্রতিষ্ঠাতা অংশীদারের মধ্যে নতুন কোনো সদস্যের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন হবে, বিশেষ করে যদি সেই রাষ্ট্রটি নিজেই আঞ্চলিক হুমকির মুখে ঝুঁকিপূর্ণ হয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ, মিশর বা সিরিয়ার যোগদানের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সকল অংশীজনের মধ্যে প্রয়োজনীয় বোঝাপড়া তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।’

প্রসঙ্গত, গত ৭ আগস্ট পবিত্র নগরী মক্কায় গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।

‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে ওই চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তাকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের মানুষের কল্যাণকে একই উন্নয়ন কাঠামোয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণে সরকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: প্রকৃতির জন্য জলবায়ু অর্থায়নের পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে দেশীয় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • জনকল্যাণমুখী নীতি প্রণয়নে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ গ্রহণে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানালেন মন্ত্রী
  • ঋণের স্বচ্ছ ব্যবহার, উন্নয়ন ও পরিবেশের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে জলবায়ু সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান জনগণ দ্বারা নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সুশীল সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। আমরা এমন একটি নীতি প্রণয়ন করতে চাই যা সত্যিই দেশের মানুষের কল্যাণে আসবে।’

জলবায়ু অর্থায়নে জনস্বার্থ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং অর্থায়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সংলাপে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, সুশীল সমাজের সুপারিশ এবং জনস্বার্থকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব উঠে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থের সংস্থান যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই অর্থের ব্যবহারও হতে হবে পরিকল্পিত ও জনকল্যাণমুখী। পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়ন করলে জলবায়ু অর্থায়নকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়।

জলবায়ু সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতার ওপর জোর
বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. মঈন খান জাতিসংঘে পরিবেশবিষয়ক তাঁর ৩৫ বছর আগের একটি ভাষণের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে যেসব মৌলিক বিষয় আলোচনায় এসেছিল, তার মধ্যে দূষণকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিও ছিল। বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, আজ আমরা অনুভব করছি যে, ৩৫ বছর আগে আমরা জাতিসংঘে যেসব পরিবেশগত শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছিলাম, আজও আমরা সেগুলোই পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে তাদের দায়ভার গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে আমাদের সামগ্রিক বৈশ্বিক পরিবেশ প্রতিনিয়ত সংকটাপন্ন হচ্ছে।’ তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের সমন্বয় বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয়ে টেকসই ভবিষ্যৎ
উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিনির্ধারণী বাস্তবতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, জনগণ রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্মুক্ত মনোভাবের উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁর উদাহরণ এ দেশের মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।’ দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর নীতি প্রণয়নে পরামর্শ গ্রহণে সরকারের উন্মুক্ত থাকার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে অংশীজনদের মতবিনিময় ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

ঋণের অর্থ সঠিক খাতে বিনিয়োগই উন্নয়নের মূল বিবেচনা
জলবায়ু অর্থায়ন ও জাতীয় ঋণ প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, ঋণ গ্রহণ নিজেই বড় সমস্যা নয়; বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করলেও আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশের তালিকায় পড়েনি। তাঁর মতে, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট অর্থনীতির আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে সচল রাখতে সহায়তা করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পুনর্গঠনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা হলে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন করা একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল হতে পারে, যদি তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।’ এখানে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ভাষ্যে। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অভিযোজনমূলক উদ্যোগে অর্থের পরিকল্পিত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ
প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতার ভূমিকা তুলে ধরে ড. মঈন খান নেপালের একটি ঐতিহাসিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি দেখান, জনসচেতনতা ও পরিবেশগত আন্দোলন প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোকে শুধু তারকা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত আলোচনা বা প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংলাপে ড. মঈন খানের বক্তব্যে জলবায়ু অর্থায়ন, স্বচ্ছ বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। তবে হামলার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন জিনদানি ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়।

এর আগে প্রাসাদের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদদাতারা।

তবে এ হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে চান না সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। আধুনিক, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখা এবং পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্মাণকাজে প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন। তাঁর এ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি অবকাঠামোর মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • পরিদর্শনে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
  • দোতলা সড়কের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ
  • সুরক্ষা দেয়াল, শাটারিং ও ফিনিশিংয়ের মান নিশ্চিত করার তাগিদ

‘অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়’
নির্মাণশৈলী, গুণগত মান ও নান্দনিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণশৈলী একটি দেশের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতার পরিচায়ক। তাই অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়; এর গুণগত মান, স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও সামগ্রিক নির্মাণশৈলীও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মান ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি প্রকল্পের সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এ সময় নির্ধারিত মান অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ প্রকল্পের সামগ্রিক নির্মাণমান ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ। প্রকল্পটির আওতায় পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি দোতলা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের এই অগ্রগতি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সড়কের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলে যানবাহন চলাচল আরও সহজ করা এবং যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ মন্ত্রীকে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ–মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগে বাড়বে গতি
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক করিডর নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, নির্বিঘ্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যানজট হ্রাস এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয় হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিবেচনায় পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়কের উন্নয়ন আঞ্চলিক যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

দোতলা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর এ উদ্যোগ এ অঞ্চলের পরিবহন চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে সড়ক যোগাযোগের সুবিধা বৃদ্ধি, যাতায়াতের সময় কমানো এবং শিল্পপণ্য পরিবহনে গতি সঞ্চারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা, প্রকৌশলী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে