খুঁজুন
                               
, ,
           

দৃষ্টিনন্দন ভবন, ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ—বরগুনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
দৃষ্টিনন্দন ভবন, ফাঁকা শ্রেণিকক্ষ—বরগুনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট

দৃষ্টিনন্দন ভবন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক—সবই আছে। অথচ শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে। কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মাত্র দুজন, কোথাও পাঁচজন। আবার কোথাও দুপুরের আগেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে শ্রেণিকক্ষ।

বরগুনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এমন শিক্ষার্থী সংকটের পাশাপাশি শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদানের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিস্থিতির কারণে সরকারি বিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা হারিয়ে সন্তানদের কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছেন অনেক অভিভাবক।

বরগুনা সদর উপজেলার মধ্য পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও পুরো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মাত্র দুজন। পাঁচজন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিনজন। তবে প্রধান শিক্ষক কিংবা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।

একই উপজেলার চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র পাঁচজন। ওই দিন বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষিকাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না।

হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর, শ্রেণিকক্ষে অনিয়ম

পূর্ব হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুজন। হাজিরা খাতায় চারজনের স্বাক্ষর থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে একটি খালি শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের ওপর ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য একজন শিক্ষক তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঁচজন শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে বসিয়ে পাঠদান করছিলেন।

অন্যদিকে, দুপুর আড়াইটায় উত্তর দেশান্তরকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। উপস্থিত ছিলেন মাত্র একজন শিক্ষক। পাশের সর্দারপাড়া হাবিবুর রহমান চানমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষও ছিল শিক্ষার্থীশূন্য।

এসব চিত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সরকারি স্কুল ছেড়ে কিন্ডারগার্টেন-মাদ্রাসায়

অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেও শিশুরা প্রত্যাশিত যত্ন ও মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে না। এ কারণে বাড়ির কাছে সরকারি স্কুল থাকা সত্ত্বেও বাড়তি খরচ করে সন্তানদের দূরের কিন্ডারগার্টেন বা মাদ্রাসায় পাঠাচ্ছেন তাঁরা।

শিক্ষার্থী মারুফের মা মরিয়ম ও বাবা সেলিম জানান, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করতে হলেও সন্তানদের প্রতি যত্ন ও শিক্ষার মান নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। ফলে বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।

শিক্ষার্থী কমার পেছনে একাধিক কারণ

শিক্ষকদের মতে, সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। একই এলাকায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি, কিন্ডারগার্টেনে ইংরেজি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব এবং অভিভাবকদের মাদ্রাসামুখী প্রবণতা শিক্ষার্থী ধরে রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

উত্তর দেশান্তরকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজিয়া সুলতানা ও সর্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম এসব কারণের কথা উল্লেখ করেন।

মধ্য পাঠাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুন নাহার যোগাযোগব্যবস্থার অনুন্নয়নকে শিক্ষার্থী কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, চড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. পারভীনের মতে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাঠদানের আগ্রহ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেলায় ৪৬৪ শিক্ষক পদ শূন্য

জেলার প্রাথমিক শিক্ষার সামগ্রিক পরিসংখ্যানেও সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বরগুনায় প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫টি। এর মধ্যে ৭৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৮১ হাজার ৯০০ জন।

এসব বিদ্যালয়ে মঞ্জুরিকৃত ৫ হাজার ৪৭টি শিক্ষক পদের মধ্যে ৪৬৪টি পদ শূন্য রয়েছে।

শিক্ষার্থী সংকট, শিক্ষক পদ শূন্য থাকা এবং পাঠদানের মান নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সমাধানে প্রয়োজন কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি। পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিশুদের প্রতি যত্ন বাড়ানো এবং অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ জরুরি। তা না হলে অবকাঠামো ও সরকারি বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেট্রোরেলে সংরক্ষিত আসনে বসা নিশ্চিত করল ভ্রাম্যমাণ আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
মেট্রোরেলে সংরক্ষিত আসনে বসা নিশ্চিত করল ভ্রাম্যমাণ আদালত

রাজধানীর মেট্রোরেলে প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত আসনে তাদের বসা নিশ্চিত করতে তদারকি চালিয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে আগারগাঁও ও শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় যাত্রীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএমটিসিএলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত চলে।

সংরক্ষিত আসনে বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত
অভিযানের অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের কোচে প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ‘অগ্রাধিকার আসন’ বা প্রায়োরিটি সিট তদারকি করা হয়। এসব আসনে নির্ধারিত যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেট্রোরেলের প্রতিটি কোচে শুরু থেকেই প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুবিধার্থে অগ্রাধিকার আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এ বিষয়ে যাত্রীদের সচেতন করতে প্রতিটি স্টেশনে নিয়মিত ঘোষণা প্রচার করা হয়।

আগারগাঁওয়ে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ
আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত ও আশপাশের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকানপাট এবং বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থাপনার কারণে যাত্রীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে।

অভিযানের মাধ্যমে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শাহবাগেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
এদিকে শাহবাগ মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকায়ও পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ডিএমটিসিএলের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে যাত্রীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা ভাসমান দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
মেট্রোরেল স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং সংরক্ষিত আসন ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে ডিএমটিসিএলের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

জামায়াতকে হারিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিজয়ী ফয়সল

ঠাকুরগাঁও,সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
জামায়াতকে হারিয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিজয়ী ফয়সল

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫ ভোট।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন মির্জা ফয়সল আমীন।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মির্জা ফয়সল আমীন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেনের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধানই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার চিত্র তুলে ধরেছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৪০ জন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল গণনা করা হয়। পরে ১৮৫টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পাঁচ প্রার্থী
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন ছাড়াও নির্বাচনে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আব্দুল আলীম নিজামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। প্রার্থীদের প্রতীক ছিল যথাক্রমে বটগাছ, হাতপাখা ও ডাব। ১৮৫টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তবে এটি বেসরকারি ফলাফল; চূড়ান্ত সরকারি ফলাফল নির্বাচন কমিশনের ঘোষণার ওপর নির্ভরশীল।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

খাদ্যগুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
খাদ্যগুদাম নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার নির্দেশ খাদ্যমন্ত্রীর

খাদ্যশস্য সংরক্ষণের অবকাঠামো নির্মাণে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় গুরুত্ব

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গুদামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং খাদ্যশস্য দীর্ঘ সময় নিরাপদে সংরক্ষণের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেশি হয়, সেসব এলাকায় গুদাম নির্মাণে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান পুরোনো গুদামগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে খাদ্য ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মনজুর বক্তব্য দেন। তাঁরা খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা, গুদামের মান উন্নয়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ খাদ্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যশস্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গুদামের আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি