খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের নির্বাচনী মিশন শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নির্বাচনী মিশন শুরু

কালের আলো রিপোর্ট:

প্রায় দেড় দশকের নিরলস সংগ্রামী পথচলা তারেক রহমানকে দিয়েছে স্বতন্ত্র এক পরিচিতি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পাড়ি দিয়েছেন ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথ। সামাল দিয়েছেন বহু শোক আর সংকট। ১৭ বছরেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। তবে দল পরিচালনায় আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নে নিজ ভূমিতে ফিরতে না পারলেও প্রবাস থেকেই দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। ঐক্য বজায় রেখেছেন। ভার্চুয়াল সভা, সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক বার্তা প্রদান করেছেন। দীর্ঘ সময়ে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। যে কারণে শত নির্যাতনের পরও বিএনপির ঐক্য বিনষ্ট হয়নি বা দল দুর্বল হয়নি। রাজনীতিতে তাঁর দূরদর্শিতা এক কিংবদন্তি। সৃষ্টি করেছে নতুন এক অধ্যায়ের।

১৭ বছর পর দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দ লাভ পেয়েছেন। যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন। এ সময়টিতে একজন ধীরস্থির, শান্ত, সৌম্য ও হৃদয়বান এক তারেক রহমানকেই দেখতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ। নিজের স্বকীয় রাজনৈতিক স্টাইলে ছড়াচ্ছেন মুগ্ধতা। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পরিকল্পিত লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, অবিচল থাকছেন। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার গুরুদায়িত্বও তাঁর কাঁধে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। প্রতিহিংসা মূলক কোনো ধরনের কথা বলেননি। সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত বলেই কীনা লাল-সবুজের বিশেষ বাসে করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে মানুষের ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন। দেশগড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে দেশের মানুষকে আশ^স্ত ও উদ্দীপ্ত করেছেন। নিয়মিতই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে অন্তিম শয্যাশায়ী মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থাকছেন।

দেশে ফিরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ করেই ওইদিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা। বিমানবন্দর থেকে নেমে কেন শয্যাশায়ী মায়ের কাছে না গিয়ে আগে জনসমাবেশে এলেন, তার ব্যাখ্যা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাঁদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা-এই মানুষগুলোকে। সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সে জন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি, টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যাঁরা আমাকে দেখছেন, আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রথম তিনদিন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করেছেন। বিমান বন্দর থেকে নেমেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। পরদনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। গত শনিবার জুলাই আন্দোলনের চেনা মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেছেন। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও শেষ করে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একইভাবে পারিবারিক দায়িত্বও পালন করেছেন। শয্যাশায়ী মাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকেই। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেদে ফেলেন তারেক রহমান। সবশেষ শনিবার নিজের ভাইয়ের কবর জিয়ারত করে হয়েছেন আবেগাপ্লুত।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের আগমনেই উজ্জীবিত হয়ে উঠেন দলটির নেতাকর্মীরা। দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে তিনি গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছান এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমান। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস ছাত্তার এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, আসার পর এই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রথম অফিস করলেন। নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমীর খসরু বলেন, দলীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানকে পেয়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি যাত্রা করবেন। দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন তারেক রহমানের আগমনে তা পূরণ হবে। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র মন্তব্য করেন, তারেক রহমানের আগমন দলের মনোবল অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যোগ করেন, তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে আগমন দলকে নতুন উদ্দীপনা দেবে।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি এই দুই আসনের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের আগে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের নির্বাচনী সমন্বয়কদের সঙ্গে নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বসেন তারেক রহমান। সভা শেষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজ হাতে মনোনয়নপত্রে সই সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী দাপ্তরিক কার্যক্রম বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

এর আগে গুলশানের ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গিয়ে আঙুলের ছাপ, আইরিশের প্রতিচ্ছবি আর বায়োমেট্রিক তথ্য দেন। এরপর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে তারেক রহমান শনিবার আনুষ্ঠানিকতা সারলেও তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে সময় লাগবে একদিন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের তারেক রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে।

এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন দলীয় নেতারা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে এই স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া-৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ থাকলেও শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান ও বেগম জিয়ার শ্বশুরবাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং বগুড়ার মানুষের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই মনোনয়নপত্রে সই করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এতেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২১ ও ২২ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন অফিস, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে ৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এসব ফরম উত্তোলন করেন। পরে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ফরমগুলো নির্ভুলভাবে পূরণের পর তা সই করার জন্য গুলশান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া-৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জানান, গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ম্যাডাম জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে বগুড়া-৭ আসনের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করা হয়েছে। এসময় গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। আমরা আশাবাদী তিনি নির্বাচনে লড়বেন। তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএসআইপি

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে : প্রধানমন্ত্রী

জনগণ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে গিয়ে এ মন্তব্য করেন করেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৮ বীর-এর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।

এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি সেনা বাংকারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছেও গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ প্রদান করেন।

সেনা সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।

জাতীয় সংকট মোকাবেলা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে আলোচনা, হলফনামায় মিলল ভিন্ন চিত্র

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও আলোচনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা তার হলফনামা, পারিবারিক ব্যবসার বর্তমান অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে মোট ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি বিধি অনুসরণ করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ান।

প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, পরিচালনা ও মালিকানাসংক্রান্ত দায়িত্ব পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিবারের সদস্যরাই পরিচালনা করছেন।

এদিকে ব্যবসার পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে বিক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।

মিলটির ক্রেতা শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল আলম জানান, তিনি ফেব্রুয়ারির শুরুতে ৪২ কোটি টাকায় প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় করেন এবং পরে এর সব দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় উল্লেখিত ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবনী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তর বাংলা ওভারসিজ লিমিটেড, রূপসী কৃষি খামার, রূপসী মৎস্য খামার, রূপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রূপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রূপসী প্রাণী খামার।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে ৩১ শতাংশ জমির তথ্য উল্লেখ করা হলেও হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর নামে নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান। তার ভাষ্য, আলোচিত জমিটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়; বরং রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি জানান।

প্রতিষ্ঠানগুলোর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মীর শাহে আলম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। ফলে বর্তমানে তার ব্যক্তিগত নামে কোনো ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত বা জমি ক্রয়ের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে পরিচিত। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের পাশাপাশি কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসার মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে তিনি জানেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট সামঞ্জস্য ছিল না বলে তার মনে হয়েছে। তার মতে, হলফনামার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পর্যালোচনা না করে আংশিক তথ্য প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
কনটেইনার গায়েব নিয়ে মুখোমুখি চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৫০টি আমদানি চালানের কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বলছে, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক করা এসব কনটেইনারের অবস্থান জানতে গত নয় মাসে একাধিকবার চিঠি দিলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি।

অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কনটেইনারগুলোর অবস্থান ও ডেলিভারির বিস্তারিত তথ্য অনেক আগেই লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে বন্দরের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টির সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে দুটি পৃথক আমদানি চালানকে ঘিরে। ওই বছরের জুনে নারায়ণগঞ্জের মেসার্স মাইনুল হাসান এন্টারপ্রাইজ ইন্দোনেশিয়া থেকে পাঁচ কনটেইনার তুলা আমদানি করে।

একই বছরের মে মাসে আহমেদ এন্টারপ্রাইজ চীন থেকে চশমার ফ্রেম ও মাউন্টিং ঘোষণা দিয়ে একটি কনটেইনার পণ্য আমদানি করে। দুটি চালানেই ঘোষণা-বহির্ভূত পণ্য থাকার সন্দেহে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে চালানগুলো লক করে কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় কাস্টমস।

কিন্তু পরীক্ষার সময় ওই ছয়টি কনটেইনারের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেননি কাস্টমস কর্মকর্তারা। পরে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা দেখতে পান, একই ধরনের আরও শত শত চালান দীর্ঘদিন ধরে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে লক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ২৫০টি বিল অব এন্ট্রি এখনও লক অবস্থায় রয়েছে। এসব চালানে মোট ৩৭৬টি কনটেইনার রয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি বিল অব এন্ট্রি রয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষার স্বার্থে এসব কনটেইনারের বর্তমান অবস্থান জানাতে গত নয় মাসে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এবং এর আগে ২৬ জানুয়ারি চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কাস্টমসের দাবি, এখন পর্যন্ত তারা কনটেইনারগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি।

তবে কনটেইনার গায়েবের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সোমবার (৬ জুলাই) বন্দর কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে এই অভিযোগকে মিথ্যা, অনুমাননির্ভর এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, ২৫০টি নয়, ২৪৭টি চালানের তালিকা দিয়েছিল কাস্টমস।

এর মধ্যে বেশিরভাগ চালানই ইতোমধ্যে খালাস হয়ে গেছে, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) স্থানান্তর করা হয়েছে, অথবা সিপিএর ইয়ার্ডে সংরক্ষিত রয়েছে। কাস্টমসের সরবরাহ করা বেশ কয়েকটি কনটেইনার নম্বর ও বিল অব লেডিংয়ে ভুল ছিল। এ কারণে বাকি চালানগুলোর মিল পাওয়া যায়নি। কাগজপত্র অনুসারে চালানগুলো ইতোমধ্যেই কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক পত্রযোগাযোগের মাধ্যমে সংস্থাটিকে বিষয়টি অবহিতও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কাস্টমস যে ২৫০টি চালানের কথা বলছে, প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি এফসিএল চালানে ২৯৩টি কনটেইনার রয়েছে।

এসবের মধ্যে ৮৮টি কাস্টমস আউটপাসের মাধ্যমে খালাস হয়েছে, ৭০টি আইজিএম অনুযায়ী বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৩১টি এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। চারটি কনটেইনার নম্বরে ডিজিট বা প্রিফিক্সের ত্রুটিও রয়েছে।

তিনি বলেন, বাকি ৮৩টি এলসিএল চালানের মধ্যে আটটির পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে, ৩৫টি কনটেইনার বন্দরের সিএফএস ও শেডে রয়েছে। আর ৪০টি চালানের ক্ষেত্রে কাস্টমসের দেওয়া বিল অব লেডিং নম্বরের সঙ্গে বন্দরের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য লিখিতভাবে কাস্টমসকে জানানো হয়েছে।

তবে কাস্টম হাউসের উপকমিশনার (এআইআর) মো. তারেক মাহমুদ বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পাননি। কনটেইনারগুলোর অবস্থান জানতে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।

এদিকে, এ ঘটনায় বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস, ইয়ার্ডে সংরক্ষণ এবং বন্দর ত্যাগ—পুরো প্রক্রিয়াই একাধিক স্তরের নজরদারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। ফলে এতগুলো কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম (বিলু) বলেন, এত সংখ্যক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা সহজে বিশ্বাসযোগ্য নয়। কনটেইনারগুলো সত্যিই নিখোঁজ কি না, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের সরেজমিন অনুসন্ধান এবং কাস্টমসেরও যাচাই করা প্রয়োজন, চালানগুলো ঠিক কোন পর্যায়ে লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বন্দর ও কাস্টমসের মধ্যে আরও সমন্বয় থাকা অপরিহার্য। দুটি প্রতিষ্ঠান পাল্টাপাল্টি দোষারোপের পর্যায়ে না নিয়ে গিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি