খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের নির্বাচনী মিশন শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নির্বাচনী মিশন শুরু

কালের আলো রিপোর্ট:

প্রায় দেড় দশকের নিরলস সংগ্রামী পথচলা তারেক রহমানকে দিয়েছে স্বতন্ত্র এক পরিচিতি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে পাড়ি দিয়েছেন ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ পথ। সামাল দিয়েছেন বহু শোক আর সংকট। ১৭ বছরেরও বেশি সময় যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। তবে দল পরিচালনায় আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নে নিজ ভূমিতে ফিরতে না পারলেও প্রবাস থেকেই দলকে সুসংগঠিত রেখেছেন। ঐক্য বজায় রেখেছেন। ভার্চুয়াল সভা, সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক বার্তা প্রদান করেছেন। দীর্ঘ সময়ে দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন। যে কারণে শত নির্যাতনের পরও বিএনপির ঐক্য বিনষ্ট হয়নি বা দল দুর্বল হয়নি। রাজনীতিতে তাঁর দূরদর্শিতা এক কিংবদন্তি। সৃষ্টি করেছে নতুন এক অধ্যায়ের।

১৭ বছর পর দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখার আনন্দ লাভ পেয়েছেন। যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন। এ সময়টিতে একজন ধীরস্থির, শান্ত, সৌম্য ও হৃদয়বান এক তারেক রহমানকেই দেখতে পেরেছেন সাধারণ মানুষ। নিজের স্বকীয় রাজনৈতিক স্টাইলে ছড়াচ্ছেন মুগ্ধতা। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পরিকল্পিত লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন, অবিচল থাকছেন। দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার গুরুদায়িত্বও তাঁর কাঁধে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। প্রতিহিংসা মূলক কোনো ধরনের কথা বলেননি। সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত বলেই কীনা লাল-সবুজের বিশেষ বাসে করে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে মানুষের ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন। দেশগড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছেন, আই হ্যাভ এ প্ল্যান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে দেশের মানুষকে আশ^স্ত ও উদ্দীপ্ত করেছেন। নিয়মিতই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে অন্তিম শয্যাশায়ী মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থাকছেন।

দেশে ফিরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষ করেই ওইদিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে বক্তব্য শেষ করে তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। সংবর্ধনা মঞ্চ থেকে নেতা-কর্মীদের ভিড় ঠেলে হাসপাতালে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা। বিমানবন্দর থেকে নেমে কেন শয্যাশায়ী মায়ের কাছে না গিয়ে আগে জনসমাবেশে এলেন, তার ব্যাখ্যা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এখান থেকে আমি আমার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে যাব। সন্তান হিসেবে আমার মন আমার মায়ের বিছানার পাশে পড়ে আছে সেই হাসপাতালের ঘরে। কিন্তু সেই মানুষটি যাঁদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, অর্থাৎ আপনারা-এই মানুষগুলোকে। সেই মানুষগুলোকে আমি কোনোভাবেই ফেলে যেতে পারি না। সে জন্যই আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে আপনাদের প্রতি, টেলিভিশনগুলোর মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ থেকে যাঁরা আমাকে দেখছেন, আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি।’

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রথম তিনদিন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করেছেন। বিমান বন্দর থেকে নেমেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। পরদনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। গত শনিবার জুলাই আন্দোলনের চেনা মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেছেন। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও শেষ করে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। একইভাবে পারিবারিক দায়িত্বও পালন করেছেন। শয্যাশায়ী মাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকেই। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে দীর্ঘ ১৯ বছর পর বাবার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেদে ফেলেন তারেক রহমান। সবশেষ শনিবার নিজের ভাইয়ের কবর জিয়ারত করে হয়েছেন আবেগাপ্লুত।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তারেক রহমানের আগমনেই উজ্জীবিত হয়ে উঠেন দলটির নেতাকর্মীরা। দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে তিনি গুলশান কার্যালয়ে পৌঁছান এবং দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বেগম সেলিমা রহমান। এছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস ছাত্তার এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, আসার পর এই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রথম অফিস করলেন। নির্বাচন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমীর খসরু বলেন, দলীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানকে পেয়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি যাত্রা করবেন। দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন তারেক রহমানের আগমনে তা পূরণ হবে। স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র মন্তব্য করেন, তারেক রহমানের আগমন দলের মনোবল অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যোগ করেন, তারেক রহমানের গুলশান কার্যালয়ে আগমন দলকে নতুন উদ্দীপনা দেবে।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের জন্য দলীয় মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি এই দুই আসনের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরের আগে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের নির্বাচনী সমন্বয়কদের সঙ্গে নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বসেন তারেক রহমান। সভা শেষে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে তিনি নিজ হাতে মনোনয়নপত্রে সই সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী দাপ্তরিক কার্যক্রম বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।

এর আগে গুলশানের ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গিয়ে আঙুলের ছাপ, আইরিশের প্রতিচ্ছবি আর বায়োমেট্রিক তথ্য দেন। এরপর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় নাম তুলতে তারেক রহমান শনিবার আনুষ্ঠানিকতা সারলেও তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে সময় লাগবে একদিন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ইসির জনসংযোগ কর্মকর্তা রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের তারেক রহমানের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন অনুমোদন করেছে।

এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেছেন দলীয় নেতারা। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) গভীর রাতে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে এই স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া-৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ থাকলেও শহীদ জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান ও বেগম জিয়ার শ্বশুরবাড়ি এলাকা হওয়ায় এবং বগুড়ার মানুষের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই মনোনয়নপত্রে সই করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। এতেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২১ ও ২২ ডিসেম্বর জেলা নির্বাচন অফিস, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে খালেদা জিয়ার পক্ষে ৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এসব ফরম উত্তোলন করেন। পরে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে ফরমগুলো নির্ভুলভাবে পূরণের পর তা সই করার জন্য গুলশান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বগুড়া-৭ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জানান, গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ম্যাডাম জিয়ার ব্যক্তিগত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে বগুড়া-৭ আসনের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রটি সংগ্রহ করা হয়েছে। এসময় গাবতলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোরশেদ মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। আমরা আশাবাদী তিনি নির্বাচনে লড়বেন। তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই মনোনয়নপত্র সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএসআইপি

নারী রেফারিকে ‘এটা পুরুষদের খেলা’ বলায় হিগুয়েইন বরখাস্ত

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
নারী রেফারিকে ‘এটা পুরুষদের খেলা’ বলায় হিগুয়েইন বরখাস্ত

নারী রেফারির সঙ্গে হাত মেলানোর সময় লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক আচরণের অভিযোগে ফেদেরিকো হিগুয়েইনকে বরখাস্ত করেছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল কলম্বাস ক্রু। ক্লাবটির রিজার্ভ দল কলম্বাস ক্রু ২-এর কোচের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিগুয়েইন।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট ‘এমএলএস নেক্সট প্রো’-এর একটি ম্যাচে। হান্টসভিল সিটির কাছে ১-০ গোলে হারের পর এক নারী অফিশিয়ালের সঙ্গে হাত মেলানোর সময় হিগুয়েইন তাঁর হাত ছাড়তে চাননি। একই সময়ে ওই নারী রেফারিকে তিনি বলেন, ‘ভুলে যেয়ো না, এটা পুরুষদের খেলা।’

পেশাদার ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের (পিআরও) অভিযোগ, হিগুয়েইন ওই নারী অফিশিয়ালের সঙ্গে দুবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শারীরিক হেনস্তা এবং যৌন বিদ্বেষমূলক আচরণ করেছেন। তিনবার বলার পরও তিনি রেফারির হাত চেপে ধরে রেখেছিলেন বলে সংগঠনটির দাবি।

ঘটনার পর হিগুয়েইনকে লাল কার্ড দেখানো হয় এবং দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। তবে রেফারিদের সংগঠন এই শাস্তিকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করেছে। তাদের পক্ষ থেকে অন্তত ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়।

‘ক্লাবের প্রত্যাশিত আচরণ বজায় রাখতে পারেননি’

কলম্বাস ক্রুর জেনারেল ম্যানেজার ইসা তাল বলেন, ক্লাব, খেলোয়াড় ও সহকর্মীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই হিগুয়েইনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহের আলোচনা এবং গত এক মাসের পর্যালোচনার পর ক্লাব কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে, দলের একজন কোচের কাছ থেকে যে ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত, হিগুয়েইন তা বজায় রাখতে পারেননি।

‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর প্রতিবেদনে ক্লাবের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পরবর্তী আলোচনায় হিগুয়েইন নিজের আচরণের জন্য অপরাধ স্বীকার বা অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। এমনকি প্রকাশ্যেও ক্ষমা চাননি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

রেফারিদের সংগঠনের ক্ষোভ

পেশাদার ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ফুটবলের প্রতিটি স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তাই নারী রেফারিদের কোনো ধরনের হেনস্তা বা অপমানজনক মন্তব্যের শিকার হওয়া উচিত নয়।

সংগঠনটির ভাষ্য, নারী রেফারিরাও অন্য সব অফিশিয়ালের মতো সমান সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাওয়ার অধিকার রাখেন।

হিগুয়েইন পরিবারের ফুটবল পরিচয়

৪১ বছর বয়সী ফেদেরিকো হিগুয়েইন আর্জেন্টাইন ফুটবলে ‘পিপা’ নামে পরিচিত। রিভার প্লেটের যুব দল দিয়ে তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু। আর্জেন্টিনা ও তুরস্কের ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কলম্বাস ক্রু, ডি সি ইউনাইটেড ও ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলেছেন তিনি।

কলম্বাস ক্রুর মূল দলে আট মৌসুম খেলার পর গত বছর রিজার্ভ দলটির কোচ হন হিগুয়েইন। ২০২১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ে আসেন তিনি।

ফেদেরিকোর ছোট ভাই গঞ্জালো হিগুয়েইন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার পাশাপাশি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে লা লিগা এবং জুভেন্টাসের হয়ে সিরি আ জিতেছেন গঞ্জালো।

কালের আলো/এসএ

ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিটনেস টেস্ট

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২০ অপরাহ্ণ
ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিটনেস টেস্ট

ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন মৌসুম শুরুর আগে ফিটনেস পরীক্ষায় কঠোর হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) খেলার ছাড়পত্র পেতে হলে ক্রিকেটারদের এবার ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করতেই হবে।

গতকাল ও আজ জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক টার্ফে অনুষ্ঠিত হয়েছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা। দুই দিনে এনসিএলের আট দলের ক্রিকেটাররা এ পরীক্ষায় অংশ নেন।

আগামী ৩ অক্টোবর শুরু হবে এবারের এনসিএল। এবার মূল দলের পাশাপাশি প্রতিটি দলের সেকেন্ড ইলেভেনও থাকবে। সব মিলিয়ে প্রতিটি দলের প্রায় ৪০ জন করে ক্রিকেটার ফিটনেস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অবশ্য এ পরীক্ষার বাইরে ছিলেন।

পেসারদের জন্য আলাদা মানদণ্ড

এবার ক্রিকেটারদের ১৬০০ মিটার বা চার চক্কর দৌড়াতে হয়েছে। তবে পেসার এবং ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করেছে বিসিবি।

পেসারদের ১৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতে হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ মিনিটে। ব্যাটসম্যান ও স্পিনারদের জন্য সময়সীমা ছিল ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ড।

৮ থেকে ১০ জন ক্রিকেটার ছাড়া প্রায় সবাই নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

গত বছর একই দূরত্বের জন্য সবার ক্ষেত্রে ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মানদণ্ড ছিল। এবার পেসার ও ব্যাটসম্যান-স্পিনারদের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফেল করলেও থাকছে সুযোগ

প্রথম পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তাঁদের জন্য আরও দুই দফা সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রথম পরীক্ষার ১০ দিন পর দ্বিতীয়বার এবং ২০ দিন পর তৃতীয়বার ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হবে।

এই দুই পরীক্ষার যেকোনো একটিতে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারলেই এবারের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাবেন তাঁরা।

আগামী বছর আরও কঠোর মানদণ্ড

কিছুদিন আগে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সংস্করণে ম্যাচ ফি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল বিসিবি। তখনই বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল জানিয়েছিলেন, ক্রিকেটারদের ফিটনেসের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এবার সেই অবস্থান থেকেই ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াকে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অন্যতম শর্ত করা হয়েছে।

আগামী বছর থেকে ফিটনেসের মানদণ্ড আরও কঠোর করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিসিবির। ধাপে ধাপে সবার নির্ধারিত সময় ১৫ সেকেন্ড করে কমানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দুই বছরে মোট ৩০ সেকেন্ড সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বোর্ডের।

কালের আলো/এসএ

এক খুন, দুই গল্প—শেষ পর্যন্ত কে সত্য বলছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’-এ?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
এক খুন, দুই গল্প—শেষ পর্যন্ত কে সত্য বলছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’-এ?

একটি খুন। এক দম্পতি। আর একই ঘটনাকে ঘিরে দুজনের দুই রকম গল্প। কে সত্য বলছে, আর কে মিথ্যা—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যত সামনে এগোয় গল্প, ততই বদলে যেতে থাকে চরিত্রগুলো সম্পর্কে দর্শকের ধারণা। নেটফ্লিক্সের রহস্য-থ্রিলার সিরিজ ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ এমনই এক গল্প নিয়ে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের বড় একটি অংশকে পর্দায় আটকে রাখতে পেরেছে।

নেটফ্লিক্সের ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের হিসাবে, বছরের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজ হয়েছে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’। জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে সিরিজটির ভিউ দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৪ লাখ। একই সময়ে নেটফ্লিক্সের সব ধরনের কনটেন্ট মিলিয়ে দেখা হয়েছে ৯৭ বিলিয়নের বেশি ঘণ্টা।

ছয় পর্বের সিরিজটি মুক্তি পায় ৮ জানুয়ারি। অ্যালিস ফিনির ২০২০ সালের একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন উইলিয়াম ওল্ডরয়েড। ‘লেডি ম্যাকবেথ’ ও ‘ইলিন’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত এই নির্মাতার সিরিজটির অন্যতম নির্বাহী প্রযোজক জেসিকা চ্যাস্টেইন। প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন টেসা থম্পসন ও জন বার্নথাল।

খুনের তদন্তে মুখোমুখি স্বামী-স্ত্রী

গল্পের কেন্দ্রে আছেন আনা অ্যান্ড্রুজ ও জ্যাক হার্পার। আনা আটলান্টার একজন টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা টানাপোড়েনে তিনি অনেকটাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন।

এর মধ্যেই নিজের বেড়ে ওঠার শহর ডালোনেগায় একটি হত্যাকাণ্ডের খবর পান আনা। ঘটনাটি তাঁর পুরোনো সাংবাদিক সত্তাকে আবার জাগিয়ে তোলে। তিনি হত্যার রহস্যের পেছনে ছুটতে শুরু করেন।

কিন্তু তদন্তের দায়িত্বে থাকা গোয়েন্দা জ্যাক হার্পারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পুরো ঘটনাকে জটিল করে তোলে। কারণ জ্যাকই আনার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন স্বামী।

এখান থেকেই শুরু হয় সিরিজের মূল রহস্য। একই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে আনা ও জ্যাক যেন দুটি আলাদা গল্প বলছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য খুঁজছেন, অন্যজন গোয়েন্দা হিসেবে হত্যারহস্যের সমাধান করতে চাইছেন।

কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, সন্দেহের তির ততই ঘুরে যায় তাঁদের দুজনের দিকেও। দুজনেরই ধারণা, অন্যজন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

ফলে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নয়; ভেঙে যাওয়া একটি দাম্পত্য সম্পর্কের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোপন সত্যও ধীরে ধীরে সামনে আসে।

টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের দ্বৈরথ

সিরিজটির অন্যতম আকর্ষণ টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের অভিনয়। ‘ক্রিড’, ‘থর’ ও ‘ওয়েস্টওয়ার্ল্ড’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত থম্পসন অভিনয় করেছেন আনা চরিত্রে। আর ‘দ্য পানিশার’ ও ‘দ্য বেয়ার’-এর মতো কাজের জন্য পরিচিত বার্নথাল অভিনয় করেছেন জ্যাকের ভূমিকায়।

আনা উচ্চাভিলাষী, বুদ্ধিমান ও দৃঢ়চেতা একজন সাংবাদিক। নিজের পেশাগত অবস্থান ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো শহরের হত্যাকাণ্ডও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে নাড়া দেয়। থম্পসন চরিত্রটির কঠোরতার পাশাপাশি তার ভেতরের ক্ষতও ফুটিয়ে তুলেছেন।

অন্যদিকে জ্যাকও সাদামাটা কোনো গোয়েন্দা চরিত্র নন। হত্যার তদন্তের পাশাপাশি তাঁকে নিজের অতীত, সম্পর্ক ও ভুল সিদ্ধান্তের ভারও বহন করতে হয়। ফলে আনা ও জ্যাকের সম্পর্কই হয়ে ওঠে রহস্যের আরেকটি স্তর।

সমালোচকদের একটি অংশও দুই অভিনেতার অভিনয়কে সিরিজটির অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেছেন। রহস্যের সব প্রশ্ন কতটা সন্তোষজনকভাবে সমাধান হয়েছে, তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও থম্পসন ও বার্নথালের অভিনয় দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শুধু খুন নয়, সম্পর্কের গল্পও

হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি সিরিজটিতে রয়েছে বিশ্বাসভঙ্গ, পুরোনো সম্পর্ক, প্রতিশোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং অতীতের নানা গোপন ঘটনা।

আনা ও জ্যাকের দাম্পত্য কেন ভেঙে গেল, তাঁদের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল—এই প্রশ্নও ধীরে ধীরে হত্যারহস্যের অংশ হয়ে ওঠে।

তাঁদের চারপাশের প্রায় প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে কোনো না কোনো গোপন তথ্য। আনার মা অ্যালিস, জ্যাকের বোন জো, টেলিভিশন কর্মী রিচার্ড, লেক্সিসহ অন্য চরিত্রগুলোও তদন্তকে একাধিক দিকে নিয়ে যায়।

ফলে দর্শককে বারবার নিজের ধারণা বদলাতে হয়—যাকে একসময় সন্দেহভাজন মনে হচ্ছে, পরের মুহূর্তেই তার গল্পের অন্য একটি দিক সামনে আসে।

অভিনয়ে আরও আছেন পাবলো শ্রেইবার, ক্রিস্টাল ফক্স, সুনীতা মণি, রেবেকা রিটেনহাউস ও মেরিন আয়ারল্যান্ড।

কেন এত দর্শক দেখল

সিরিজটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর সরল কিন্তু কার্যকর প্রশ্ন—খুনি কে?

তবে শুধু হত্যারহস্য নয়, প্রতিটি পর্বে নতুন তথ্য যোগ হওয়া এবং আগের ঘটনাগুলোর অর্থ বদলে যাওয়াই দর্শকদের পরের পর্বে টেনে নেয়।

মাত্র ছয় পর্বের সীমিত সিরিজ হওয়ায় গল্পও খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ফলে একসঙ্গে একাধিক পর্ব দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানও সিরিজটিকে দ্রুতগতির ও সহজে একের পর এক পর্ব দেখার মতো থ্রিলার হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নেটফ্লিক্সের পরিসংখ্যানেও দর্শকের আগ্রহের প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১০ কোটি ৪ লাখ ভিউ নিয়ে ‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ ছিল সবচেয়ে বেশি দেখা সিরিজ। কাছাকাছি অবস্থানে ছিল ‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুম, যার ভিউ ছিল ১০ কোটি ২ লাখ।

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও

দর্শকের আগ্রহের সঙ্গে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য পুরোপুরি মেলেনি।

রটেন টমেটোজে ৫২টি সমালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির সমালোচক স্কোর ৭১ শতাংশ এবং দর্শক স্কোর ৬২ শতাংশ। মেটাক্রিটিকে ২১ জন সমালোচকের পর্যালোচনার ভিত্তিতে সিরিজটির স্কোর ৫৪/১০০—যা ‘মিশ্র বা গড়পড়তা’ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে পড়ে।

তবে ভ্যারাইটি ও আইজিএনের মতো কিছু সমালোচক টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের রসায়ন এবং গল্পের গতির প্রশংসা করেছেন।

অন্যদিকে হলিউড রিপোর্টার ও রজারএবার্ট ডটকমের পর্যালোচনায় গল্পের যুক্তি, অতিরিক্ত চমক এবং চরিত্রগুলোর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। টাইমও সিরিজটির আবহ ও গল্প বলার ধরন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

অর্থাৎ সমালোচকদের আপত্তির বড় জায়গা গল্পের যুক্তি ও গভীরতা। তবে দর্শককে পরের পর্বে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা নিয়ে সিরিজটি যে সফল হয়েছে, নেটফ্লিক্সের দর্শকসংখ্যা তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।

পরিচিত গল্প, নতুন উপস্থাপন

‘হিজ অ্যান্ড হার্স’ রহস্য-থ্রিলারের নতুন কোনো সূত্র আবিষ্কার করেনি। খুন, সন্দেহভাজন, গোপন সম্পর্ক, অতীতের ঘটনা এবং শেষ মুহূর্তের মোড়—সবই পরিচিত উপাদান।

তবে এসব উপাদানকে ছয় পর্বে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে দর্শকের মনে বারবার একই প্রশ্ন ফিরে আসে—আসলে সত্যিটা কী?

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে টেসা থম্পসন ও জন বার্নথালের অভিনয়। একই ঘটনার দুই ভিন্ন দিক থেকে আনা ও জ্যাকের গল্প এগিয়ে যায়। ফলে ‘হিজ’ আর ‘হার্স’ শুধু স্বামী-স্ত্রীর দুই পক্ষ নয়; একই সম্পর্ক, একই অতীত এবং একই ঘটনার দুই ভিন্ন সত্যের প্রতিনিধিও হয়ে ওঠে।

সূত্র: নেটফ্লিক্স, আইএমডিবি, দ্য গার্ডিয়ান ও স্ক্রিন র‍্যান্ট

কালের আলো/এসএ