খুঁজুন
                               
, ,
           

শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৯ শ্রমিকের

চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৯ শ্রমিকের

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি এলএনজি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে অন্তত ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত আরও কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মতিউর রহমান (১৭) নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তিনি সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি এলাকার মো. হানিফের ছেলে।

নগরের ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ জানান, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত তিনজনকে ওই হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মতিউর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অপর দুজনের একজন আইসিইউতে এবং অন্যজন জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহত আরও সাতজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

নিহত অপর আট শ্রমিক হলেন—সানি জলদাস (২৩), পলাশ জলদাস (৩৫), হাবিবুর রহমান (৫১), মোহাম্মদ মনসুর (৫৫), নাসির উদ্দিন (৫১), আবদুল আলীম (৩৬), রানা মিয়া (২৩) ও খোকন মিয়া (২৩)। তাদের মধ্যে খোকন মিয়া ও রানা মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধায় এবং আবদুল আলীমের বাড়ি পাবনায়। অন্যরা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

নিহত মোহাম্মদ মনসুর ও নাসির উদ্দিন আপন ভাই বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। বিষাক্ত গ্যাসের উৎস ও দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

তারেক রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
তারেক রহমানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমর্থনে ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে কলাভবন ও ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচিতে তারেক রহমানের উন্নয়ন ভাবনা, তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, শোভাযাত্রায় প্রায় ৮০০ নেতাকর্মী অংশ নেন।

সমাবেশে তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, আত্মমর্যাদাশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উন্নয়ন শুধু বড় অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, পল্লী উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দেশের অগ্রগতির প্রধান শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।

কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, কৃষকের শ্রম ও ঘামে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যায়। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়নের সুফল রাজধানী বা বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

কর্মসূচিতে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, দেশের উন্নয়ন, তরুণদের সম্ভাবনা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে ভবিষ্যতেও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না: নাহিদ ইসলাম

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে আমরা এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক সড়কে এনসিপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত গণসমাবেশে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটি কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশের পরিবর্তন ও সংস্কারের জন্য গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল এবং আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আমরা আপনাদের বলেছিলাম, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশের সংস্কার হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারকে আমরা একটি প্রতারক সরকার বলতে পারি। একটি বিশ্বাসঘাতক সরকার বলতে পারি। যারা এই দেশের জনগণের সঙ্গে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে, হাজারো শহীদের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুতের জন্য কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চাঁদাবাজির কারণে কেউ ব্যবসা করতে পারছে না। এই সব পরিস্থিতির যদি পরিবর্তন করতে না পারে, আমরা এই সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে দেব না। তোমাদেরকে (বিএনপি) ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে দুর্নীতি এবং লুটপাট করার জন্য নয়।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, মাত্র পাঁচ মাসে বাংলাদেশের ইতিহাসে লোডশেডিংয়ের সব রেকর্ড ভেঙেছে সরকার। আমরা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের ইতিহাস জানি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার ৫ মাসের মধ্যে বর্তমান বিএনপি সরকার লোডশেডিংয়ের ইতিহাস ভেঙেছে, দেশে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নেই।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল গ্যাস বিদ্যুৎসহ দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও বিরোধীদরের উপড় দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এ গণসমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। এতে উপস্থিত ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শিক্ষকের পোশাকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা!

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
শিক্ষকের পোশাকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা!

বাংলাদেশ একটি প্রগাঢ় ইতিহাস ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র। এই ভূখণ্ডের অগণিত ত্যাগ, রক্তের মহাকাব্য এবং মূল্যবোধের স্তম্ভগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের জাতীয় পরিচয়। এই জাতি গঠনে এবং তার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে যেসব শ্রেণি সর্বাগ্রে আলো ছড়িয়েছে, তাঁদের মধ্যে শিক্ষকসমাজ অন্যতম। শিক্ষক কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের মাঝে পাঠদানকারী কোনো সাধারণ চাকরিজীবী নন; তিনি জাতির বিবেক, মূল্যবোধের ধারক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধে দীক্ষিত করার দিশারী। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একশ্রেণির শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতা এবং ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে—যা পুরো জাতিকে স্তব্ধ ও গভীরভাবে মর্মাহত করেছে।

যেখানে শিক্ষককে সামাজিক ও জাতীয় কাঠামোতে সবচেয়ে মর্যাদাবান ও শ্রদ্ধেয় শ্রেণি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেখানেই যখন কতিপয় শিক্ষক ব্যক্তিস্বার্থ, রাজনৈতিক তোষণ কিংবা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন, তখন এর চেয়ে বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক বিষয় আর কিছু হতে পারে না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশের শিক্ষকমণ্ডলী ছিলেন মুক্তির আন্দোলনের অগ্রসেনানী। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা খুব ভালো করেই জানত—একটি জাতিকে পঙ্গু ও মেধাশূন্য করতে হলে আগে তার বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষকদের নিধন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে ২৫ মার্চ কালরাতে এবং ১৪ ডিসেম্বরের নির্মম বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু প্রথিতযশা অধ্যাপক ও শিক্ষক প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন।

অধ্যাপক ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. জি সি দেব, অধ্যাপক সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য, মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর মতো শিক্ষাগুরুরা রক্ত দিয়ে এই লাল-সবুজ পতাকাকে অর্থবহ করে গেছেন। তাঁরা জীবনের বিনিময়ে শিখিয়ে গেছেন—শিক্ষকের মূল পরিচয় তাঁর নীতি, সততা এবং অদম্য দেশপ্রেম।

কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে যখন আমরা দেখি—একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে কিছু শিক্ষক গোপনে জোট বাঁধছেন, রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় মদদ দিচ্ছেন, তখন স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে—ঐতিহ্যের সেই মহান স্তম্ভগুলো আজ কোথায় এসে দাঁড়াল?

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক একটি টেলিগ্রামভিত্তিক গোপন গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত ছিলেন। এই তথ্যের পরিপ্রক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষকের মধ্যে ইতোমধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা)-কে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে তারা এই কার্যক্রম সমন্বয় করছিলেন। শিক্ষা যদি হয় আলোর নাম, তবে তা কেন কোনো গোপন অন্ধকার চ্যাটগ্রুপের আড়ালে পরিচালিত হবে? শিক্ষকের চেতনা যদি হয় সততা ও উন্মুক্ততা, তবে কেন রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্তে গোপন ছক কষা হবে?

শিক্ষার চত্বরে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে এমন গোপন আঁতাত কোনোভাবেই একজন আদর্শ শিক্ষকের নৈতিকতার সঙ্গে মেলে না। যারা ক্ষমতার লোভ, দলীয় অন্ধ আনুগত্য কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে দুর্বল করতে চান, আমি মনে করি তারা আর যা-ই হোক—প্রকৃত শিক্ষক পদের যোগ্য নন। তারা শিক্ষক নামক পবিত্র পদের আড়ালে এই জাতির জন্য এক বড় কলঙ্ক।

সাধারণত পেশাগত শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে চাকরিচ্যুতি বা বরখাস্ত করার বিধান থাকে। কিন্তু ‘রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতা’ বা দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলার ষড়যন্ত্র কোনো সাধারণ শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধ নয়। এটি সরাসরি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, আইনি শৃঙ্খলা এবং কোটি মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

একজন সাধারণ নাগরিক অপরাধ করলে যে ক্ষতি হয়, একজন শিক্ষক যখন রাষ্ট্রবিরোধী কাজে লিপ্ত হন, তখন তার বহুমাত্রিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর। শিক্ষকের ওপর সমাজ ও রাষ্ট্র যে বিপুল আস্থা রাখে, রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার মাধ্যমে সেই আস্থার চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়।

রাষ্ট্রদ্রোহ ও গোপন চক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। তাই শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে চাকরিচ্যুত করে তাদের ছেড়ে দিলে তা অপরাধের ভয়াবহতাকে লঘুপাত করার সামিল হবে। আইনের সুনির্দিষ্ট ধারায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বিদ্যাপীঠ রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তের উর্বর ভূমিতে পরিণত হতে না পারে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধা ও দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের যে অপসংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, এটি তারই এক বিষময় ফল। যখন একজন শিক্ষক মেধার জোরে নয়, বরং রাজনৈতিক তোষামোদীর মাধ্যমে পদমর্যাদা পান, তখন তিনি শিক্ষাদানের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো মুক্তচিন্তা, গবেষণা, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার কেন্দ্রস্থল। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গোপন গ্রুপ তৈরি করে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন, তখন শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ধসে পড়ে।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা দরকার যে,শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অনুসরণ করে। শিক্ষকরা যদি সততা ও জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেন, তবে তা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চরম হতাশা ও নৈতিক অবক্ষয় তৈরি করে।

শিক্ষকতার মূল কাজ গবেষণা ও শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দেওয়া। কিন্তু রাজনীতিকীকরণের কারণে শিক্ষকরা যখন রাষ্ট্রবিরোধী বা দলীয় চক্রান্তে যুক্ত হন, তখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তলানিতে গিয়ে ঠেকে। আন্তর্জাতিক সূচকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

এখানে আমি এ কথাও বলব যে,তদন্ত প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে—আইনের বিচার হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 গণমাধ্যমের সংবাদের ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষকের ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্টতা ও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে হবে। যেন কোনো নিরপরাধ শিক্ষক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভ্রান্তির শিকার না হন।

তবে যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়—তবে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের তোয়াক্কা না করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এই গ্লানিকর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি:

দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করে মেধা, গবেষণা ও নৈতিক চরিত্রকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রসংবিধানে রাষ্ট্রদ্রোহ ও জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী আচরণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও কঠোর শাস্তিমূলক ধারা যুক্ত করতে হবে।

গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ, উন্মুক্ত ও গঠনমূলক একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শিক্ষকের ঐতিহ্যগত সামাজিক দায়িত্ববোধের আলোকে শিক্ষকতার মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই,বাংলাদেশের স্থপতি ও শহীদেরা যে স্বপ্নের বাংলাদেশ চেয়েছিলেন, সেখানে শিক্ষকসমাজ থাকবে জাতির পথপ্রদর্শক হয়ে। শিক্ষকের পোশাকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা কিংবা ষড়যন্ত্র এ দেশের সচেতন জনগণ বরদাশত করবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত শেষ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। যারা তদন্তে অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হবেন, তাদেরকে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়াই শেষ কথা নয়; দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কেবল শাস্তির মধ্য দিয়েই নিশ্চিত করা সম্ভব যে-ভবিষ্যতে আর কেউ শিক্ষকের পবিত্র পোশাক ও মর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জাতির স্বার্থ ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দুঃসাহস দেখাবে না।

লেখক:সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক 

ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com