খুঁজুন
                               
, ,
           

ওষুধ নয়, প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
ওষুধ নয়, প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ

অসুস্থ হলে আমরা সাধারণত চিকিৎসকের কাছে যাই, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি এবং ওষুধ খাই। কিন্তু সব ধরনের অসুস্থতার সমাধান কি ওষুধে সম্ভব? একাকিত্ব, দুশ্চিন্তা, আর্থিক সংকট, বেকারত্ব, বাসস্থানের সমস্যা কিংবা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো বিষয়ও মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যার সমাধান সবসময় প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ দিয়ে করা যায় না। এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং।

কী এই সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং?

সহজ ভাষায়, সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং হলো একজন মানুষকে তাঁর স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য উপযোগী ব্যক্তি, সংগঠন, কার্যক্রম বা কমিউনিটি-ভিত্তিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল একাডেমি ফর সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিংয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষের প্রয়োজন ও পছন্দ বুঝে তাঁকে এমন সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করাই এর মূল লক্ষ্য, যা তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। একই সঙ্গে সামাজিক সংযোগ বাড়ানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

ধরা যাক, একজন বয়স্ক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একা থাকছেন। বড় কোনো শারীরিক অসুস্থতা না থাকলেও নিঃসঙ্গতার কারণে তিনি বিষণ্ন হয়ে পড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসক শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে তাঁকে একজন সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং লিংক ওয়ার্কারের কাছে পাঠাতে পারেন।

লিংক ওয়ার্কার ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তাঁর পছন্দ, প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো বোঝার চেষ্টা করবেন। এরপর তাঁর জন্য উপযোগী কোনো স্থানীয় কার্যক্রম বা সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দিতে পারেন।

যেমন, তাঁকে স্থানীয় বন্ধুত্বমূলক গ্রুপ, বাগান করার দল, ছবি আঁকা বা শিল্পচর্চার ক্লাস কিংবা কোনো কমিউনিটি কার্যক্রমে যুক্ত করা যেতে পারে।

একইভাবে ঋণের চাপে থাকা কাউকে আর্থিক পরামর্শকেন্দ্রে, চাকরি হারানো কাউকে কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচিতে কিংবা শরীরচর্চায় আগ্রহী কাউকে স্থানীয় হাঁটা বা ব্যায়ামের গ্রুপে যুক্ত করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, এখানে ‘প্রেসক্রিপশন’টি কোনো ওষুধের নয়; বরং সম্পর্ক, সামাজিক অংশগ্রহণ, অর্থপূর্ণ কাজ এবং কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগের।

কতটা কার্যকর?

সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং কতটা কার্যকর—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। ২০২২ সালে প্রকাশিত কিছু গবেষণায় মানসিক স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবনমানের উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অনেক গবেষণারই পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা ছিল।

২০২৪ সালের একটি সিস্টেম্যাটিক রিভিউতেও বলা হয়েছে, কোন ধরনের সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং কার জন্য এবং কোন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর, তা বোঝার জন্য আরও শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন।

তবে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত আটটি উল্লেখযোগ্য গবেষণার মধ্যে পাঁচটিতে স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিংয়ের ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ গবেষণাটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

একাকিত্বের সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের নানা সমস্যার সম্পর্কও রয়েছে। দীর্ঘ সময় সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা হৃদ্‌রোগ ও মস্তিষ্কের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নেওয়ার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

চিকিৎসার বিকল্প নয়

সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিংকে কোনোভাবেই চিকিৎসাব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়। গুরুতর শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ওষুধ বা থেরাপি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

বরং সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং হলো চিকিৎসার পাশাপাশি একজন মানুষের সামাজিক বাস্তবতা, সম্পর্ক, আগ্রহ ও জীবনযাপনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি পদ্ধতি।

কারণ অনেক সময় সুস্থ থাকার জন্য শুধু রোগের চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ, অর্থপূর্ণ কাজে যুক্ত থাকা এবং নিজের চারপাশের কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা। সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং সেই জায়গাটিতেই নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সূত্র: সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং একাডেমি

কালের আলো/এসএ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল রাশিয়ার উপনিবেশ, আজও দাঁড়িয়ে ফোর্ট রস

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিল রাশিয়ার উপনিবেশ, আজও দাঁড়িয়ে ফোর্ট রস

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে আজও দাঁড়িয়ে আছে রাশিয়ার এক বিস্মৃত উপনিবেশের স্মৃতি—ফোর্ট রস। ১৮১২ থেকে ১৮৪২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর এই অঞ্চলের একটি অংশ রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। সেই সময় এটি ‘রাশিয়ান আমেরিকা’র অংশ হিসেবে পরিচালিত হতো। সোনোমা থেকে সান ফ্রান্সিসকোর দিকে প্রায় দুই ঘণ্টার পথ এগোলেই দেখা মেলে ছোট্ট একটি অর্থোডক্স গির্জা ও কাঠের দুর্গসদৃশ স্থাপনার। রুশ ভাষায় যার নাম ‘ক্রেপস্ত রস’।

আলাস্কার খাদ্যসংকট থেকেই ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশদের আগমন

১৬০০ ও ১৭০০-এর দশকে রুশ পশম ব্যবসায়ীরা সাইবেরিয়া পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে পৌঁছান। পরে আলাস্কায় রুশ বসতি গড়ে ওঠে। তবে সেখানে কৃষিকাজ কঠিন হওয়ায় খাদ্যসংকট ছিল বড় সমস্যা। ১৮০৬ সালে রুশ-আমেরিকান কোম্পানির পরিচালক নিকোলাই রেজানোভ সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরে আসেন। আলাস্কার খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ার উষ্ণ ও কৃষির উপযোগী পরিবেশ তাঁকে আকৃষ্ট করে। এরপর উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা নেয় রুশরা। ১৮১২ সালে তৈরি হয় ফোর্ট রস। শুরুতে সেখানে ২৫ জন রুশ ও প্রায় ৮০ জন স্থানীয় আলাস্কান শিকারি ছিলেন।

বহুজাতিক জনপদে পরিণত হয়েছিল ফোর্ট রস

সময়ের সঙ্গে ফোর্ট রস শুধু সামরিক ঘাঁটি না থেকে বহুজাতিক বাণিজ্যিক ও উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ১৮৩০-এর দশকে সেখানে প্রায় ৪০০ মানুষ বসবাস করতেন। রুশ ও আলাস্কানদের পাশাপাশি স্থানীয় কাশায়া পোমো ও কোস্ট মিউক জনগোষ্ঠীর মানুষও সেখানে বসবাস করতেন। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল। ফিনল্যান্ড ও হাওয়াই থেকেও দক্ষ কারিগরেরা সেখানে কাজ করতে আসতেন।

জাহাজ, কাচ ও ইট তৈরির কেন্দ্র

ফোর্ট রসে কৃষির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন কর্মকাণ্ড চলত। এখানে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মিত হয়। তৈরি করা হতো ইট ও কাচ। ছিল বাতাসচালিত কলও। ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়াইন শিল্পের ইতিহাসেও ফোর্ট রসের নাম রয়েছে। ১৮১৭ সালে বর্তমান সোনোমা কাউন্টিতে রুশরা প্রথম আঙুরগাছ রোপণ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় আঙুর দিয়ে তারা অল্প পরিমাণে ওয়াইনও তৈরি করত।

কেন টিকল না রুশ উপনিবেশ?

বাণিজ্যিক ও কৃষি কর্মকাণ্ড চললেও ফোর্ট রস শেষ পর্যন্ত রুশদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এটি যথেষ্ট লাভজনক হয়ে ওঠেনি এবং আলাস্কার বসতিগুলোতেও পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত শিকারের কারণে সমুদ্রভোঁদড়ের সংখ্যা কমে যায়। পাশাপাশি উপকূলের কুয়াশা ও ইঁদুরের উপদ্রবে কৃষি উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। ১৮৩৯ সালে হাডসনস বে কোম্পানি রুশ আলাস্কায় খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে রাজি হলে ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশ কৃষি ও উৎপাদনকেন্দ্র রাখার প্রয়োজন আরও কমে যায়। ১৮৪১ সালে সুইস অভিবাসী জন সাটার রুশদের কাছ থেকে ফোর্ট রসের ভবন ও অন্যান্য সম্পদ কিনে নেন। এর মধ্য দিয়েই ক্যালিফোর্নিয়ায় রুশ উপনিবেশের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

ইতিহাসের পাতায় রয়ে গেছে রুশদের ছাপ

রুশরা চলে গেলেও ফোর্ট রস ও আশপাশের অঞ্চলে তাদের উপস্থিতির চিহ্ন রয়ে গেছে। সান ফ্রান্সিসকোর রুশ হিল, রুশ রিভার ও বডেগা বে—এসব নামেও সেই ইতিহাসের প্রতিফলন দেখা যায়। আজ ফোর্ট রস তুলনামূলক নির্জন হলেও কাঠের দুর্গ, অর্থোডক্স গির্জা ও পুরোনো স্থাপনাগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসের এক বিস্মৃত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে আছে। প্রায় দুই শতাব্দী আগে ক্যালিফোর্নিয়ার এই উপকূলে রাশিয়ার যে ছোট্ট উপনিবেশ গড়ে উঠেছিল, তার গল্প আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক বিস্ময়কর অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ

বিরোধী দল সেজে সংসদে থাকার দরকার নাই: রুমিন ফারহানা

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
বিরোধী দল সেজে সংসদে থাকার দরকার নাই: রুমিন ফারহানা

হাজারো প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া নতুন সংসদে যদি ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তবে বিরোধী দল সেজে শুধু ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য এই সংসদে থাকার কোনো দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

একই সঙ্গে মহান সংসদে অন্য সংসদ সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও অসহিষ্ণু আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল, ২০২৬’-এর ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আগের দিন সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, বিলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে গতকালকে আমি যেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে কোনো ভিন্নমত তোলা যায় বলে আমার মনে হয় নাই। আমি কথা বলার পরে সংসদে যে ধরনের আচরণ লক্ষ্য করেছি, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে হয় না।

আমার কথার বিপরীতে কিছু বলার থাকলে সেটা দাঁড়িয়ে বলা যেত, বক্তব্য শেষ করার পরে বলা যেত। শুধু তাই নয়, এই মহান সংসদে আমারই আশেপাশের সংসদ সদস্যগণ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন।
এটা কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, আমি এই সংসদে বাকস্বাধীনতার পক্ষে। আমি কামনা করি এবং আশা করব প্রত্যেক সদস্য, তিনি সরকারি দলের বা বিরোধী দলের হোন, তার বক্তব্যের সময় প্রতিপক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করা হবে না। গতকাল যা হওয়ার হয়ে গেছে, আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই।

স্পিকারের কাছ থেকে সময় নিয়ে রুমিন ফারহানা তার ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, একটি সংসদে সরকারি দল থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, স্বতন্ত্র সদস্য থাকবেন। একেকজনের মত একেক রকম হতে পারে এবং তা প্রকাশের স্বাধীনতা সবার থাকা উচিত। ২০১৮ সালের সংসদে যখন আমি একা দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের সংসদে বিএনপির পক্ষে কথা বলেছিলাম, তখনও আমাকে এই জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এরপর কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা ভোটের মাধ্যমে সংসদ আনলাম। সেখানে যদি ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে এই সংসদে বিরোধী দল সেজে শুধু না-তে ভোট দেয়ার জন্য থাকার কোনো দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।

এরপর তিনি বিলের ওপর আলোচনায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রসঙ্গে কথা বলেন। বিলুপ্ত হওয়া র‍্যাব ও নতুন বাহিনী গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নতুন যে সংস্থা আমরা করতে যাচ্ছি, সেটি যেন কেবলমাত্র পোশাক ও নাম পরিবর্তনের মতো ঘটনা না হয়।

এ সময় স্পিকার তাকে মনে করিয়ে দেন যে, র‍্যাব বাতিলের বিলটি আগেই পাস হয়ে গেছে, এখন এপিবিএন বিল নিয়ে আলোচনা চলছে।

জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার একই প্রস্তাবনা থাকবে। বিগত দিনে আমরা যেভাবে মানুষকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা হেনস্তা, নির্যাতিত ও ভীত হতে দেখেছি, ভবিষ্যতে আর কোনো সংস্থার এমন আচরণ চাই না। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে যাত্রা করেছে। আমি আশা করব, সংসদে উপস্থিত দলগুলো গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। পুলিশ বাহিনী বা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী যেন নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে, দলীয়করণ ও প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ পরিচালনা করতে পারে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকার সেই ব্যাপারটি দেখবে।

কালের আলো/এমআর

সিলেটে ৫১ লাখ টাকার চোরাচালানের পণ্য জব্দ

সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
সিলেটে ৫১ লাখ টাকার চোরাচালানের পণ্য জব্দ

সিলেটে ভারত সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের চোরাচালানের পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) আওতাধীন কালাইরাগ, সংগ্রাম, প্রতাপপুর, দমদমিয়া, শ্রীপুর, বিছনাকান্দি, পান্থুমাই, তামাবিল, সোনারহাট ও নোয়াকোট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ মহিষ, গরু, শাড়ি, মেহেদি, জিরা, চকলেট, কম্বল, সুপারি, বিস্কুট, মদ, বিয়ারসহ নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বারকি নৌকা জব্দ করা হয়। এসব পণ্যের আনুমানিক সিজারমূল্য ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১০০ টাকা।

বিজিবির সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক মো. নাজমুল হক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা সর্বাত্মকভাবে অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব চোরাচালানের পণ্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের বিষয়ে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ