সবার আগে জাপানে পৌঁছাল নারী ফুটবল দল
আসন্ন এশিয়ান গেমসের মহাযজ্ঞে অংশ নিতে আয়োজক দেশ জাপানে পা রেখেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বাংলাদেশের পুরো কন্টিনজেন্টের মধ্যে সবার আগে গেমসের আয়োজক দেশে পৌঁছালেন পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
চীনের গুয়াংজুতে নিবিড় কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে শুক্রবার (রাত ৩টায়) জাপানের মাটিতে পৌঁছান মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমারা।
মূল মঞ্চের লড়াইয়ে নামার আগে চীনে নিজেদের দারুণভাবে ঝালিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ দল।
সেখানে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন মেয়েরা। এবার জাপানে বসে শেষ মুহূর্তের কৌশল ও গেমপ্ল্যান চূড়ান্ত করবেন কোচ পিটার বাটলার।
২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এবার দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়াডে পা রাখা দলটির সাম্প্রতিক ফর্ম বেশ ভালো হওয়ায় তাদের ঘিরে প্রত্যাশাও বেড়েছে।
তবে এবারের গেমসে বাংলাদেশের পথচলা মোটেও মসৃণ নয়। ‘এফ’ গ্রুপে ঋতুপর্ণাদের লড়তে হবে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে। গ্রুপের আরেক দল চেনা প্রতিপক্ষ মিয়ানমার। নকআউটে জায়গা করে নিতে হলে শক্তিশালী দুই কোরিয়ার বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করার পাশাপাশি মিয়ানমারের কাছ থেকে পয়েন্ট আদায় করে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের এশিয়াড মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি। এরপর একই ভেন্যুতে এবং ঠিক একই সময়ে ১৭ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবেন মারিয়ারা। এছাড়া গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে লড়বে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, এই ম্যাচটিও শুরু হবে দুপুর ২টায়।
উল্লেখ্য, জাপানের আইচি ও নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের এশিয়ান গেমসে সব মিলিয়ে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। নারী ফুটবল ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে হকি (পুরুষ ও নারী), কাবাডি (পুরুষ ও নারী), ক্রিকেট, আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিং, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, জুডো, কারাতে, শুটিং, সার্ফিং, সুইমিং, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এশিয়ান গেমসের স্কোয়াড
গোলরক্ষক: রুপনা চাকমা, স্বর্ণা রানী, মিলি আক্তার।
ডিফেন্ডার: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, সুরভী আক্তার, অর্পিতা বিশ্বাস, উন্নতি খাতুন, আইরিন খাতুন, নবীরণ খাতুন।
মিডফিল্ডার: মনিকা চাকমা, মৌমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া, মুনকি আক্তার।
ফরোয়ার্ড: তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণ চাকমা, শাহেদা আক্তার, মোসাম্মত সাগরিকা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মোসাম্মত সুলতানা।
কালের আলো/এমআর

আপনার মতামত লিখুন
Array