খুঁজুন
                               
, ,
           

সবার আগে জাপানে পৌঁছাল নারী ফুটবল দল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সবার আগে জাপানে পৌঁছাল নারী ফুটবল দল

আসন্ন এশিয়ান গেমসের মহাযজ্ঞে অংশ নিতে আয়োজক দেশ জাপানে পা রেখেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। বাংলাদেশের পুরো কন্টিনজেন্টের মধ্যে সবার আগে গেমসের আয়োজক দেশে পৌঁছালেন পিটার বাটলারের শিষ্যরা।

চীনের গুয়াংজুতে নিবিড় কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে শুক্রবার (রাত ৩টায়) জাপানের মাটিতে পৌঁছান মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমারা।
মূল মঞ্চের লড়াইয়ে নামার আগে চীনে নিজেদের দারুণভাবে ঝালিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ দল।

সেখানে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন মেয়েরা। এবার জাপানে বসে শেষ মুহূর্তের কৌশল ও গেমপ্ল্যান চূড়ান্ত করবেন কোচ পিটার বাটলার।
২০২৩ সালে হাংজু এশিয়ান গেমসে প্রথমবার অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এবার দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়াডে পা রাখা দলটির সাম্প্রতিক ফর্ম বেশ ভালো হওয়ায় তাদের ঘিরে প্রত্যাশাও বেড়েছে।
তবে এবারের গেমসে বাংলাদেশের পথচলা মোটেও মসৃণ নয়। ‘এফ’ গ্রুপে ঋতুপর্ণাদের লড়তে হবে এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে। গ্রুপের আরেক দল চেনা প্রতিপক্ষ মিয়ানমার। নকআউটে জায়গা করে নিতে হলে শক্তিশালী দুই কোরিয়ার বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করার পাশাপাশি মিয়ানমারের কাছ থেকে পয়েন্ট আদায় করে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের এশিয়াড মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি। এরপর একই ভেন্যুতে এবং ঠিক একই সময়ে ১৭ সেপ্টেম্বর শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবেন মারিয়ারা। এছাড়া গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে লড়বে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, এই ম্যাচটিও শুরু হবে দুপুর ২টায়।

উল্লেখ্য, জাপানের আইচি ও নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের এশিয়ান গেমসে সব মিলিয়ে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। নারী ফুটবল ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে হকি (পুরুষ ও নারী), কাবাডি (পুরুষ ও নারী), ক্রিকেট, আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, সাইক্লিং, ফেন্সিং, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, জুডো, কারাতে, শুটিং, সার্ফিং, সুইমিং, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও উশু।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের এশিয়ান গেমসের স্কোয়াড
গোলরক্ষক: রুপনা চাকমা, স্বর্ণা রানী, মিলি আক্তার।
ডিফেন্ডার: শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, সুরভী আক্তার, অর্পিতা বিশ্বাস, উন্নতি খাতুন, আইরিন খাতুন, নবীরণ খাতুন।
মিডফিল্ডার: মনিকা চাকমা, মৌমিতা খাতুন, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া, মুনকি আক্তার।

ফরোয়ার্ড: তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণ চাকমা, শাহেদা আক্তার, মোসাম্মত সাগরিকা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মোসাম্মত সুলতানা।

কালের আলো/এমআর

৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা খান

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন মাহিরা খান

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান আবারও মা হতে চলেছেন। ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো মাতৃত্বের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন তিনি। কানাডার টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (টিআইএফএফ) ২০২৬-এর লালগালিচায় বেবি বাম্প নিয়ে হাজির হয়ে সুখবরটি প্রকাশ্যে আনেন এই অভিনেত্রী।

এর আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি প্রকাশ করে মাহিরা জানিয়েছিলেন, এবারের গর্ভাবস্থা তাঁর পরিকল্পনায় ছিল না। ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আমরা পরিকল্পনা করি…আর তারপর আসে আল্লাহর পরিকল্পনা।’

২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা

মাহিরা প্রথমবার মা হন ২০১০ সালে, মাত্র ২৪ বছর বয়সে। তাঁর প্রথম সন্তান ছেলে আজলান। সন্তানের বাবা তাঁর প্রথম স্বামী আলি আসকারি।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় আলি আসকারির সঙ্গে মাহিরার পরিচয় হয়। ২০০৭ সালে ২১ বছর বয়সে তাঁকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী। তিন বছর পর তাঁদের সংসারে আসে আজলান। ২০১৫ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

দ্বিতীয় বিয়ে

প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার কয়েক বছর পর মাহিরার জীবনে আসেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সেলিম করিম। ২০১৯ সালে তাঁদের সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সেলিমকে বিয়ে করেন মাহিরা।

বর্তমানে মাহিরার প্রথম সন্তান আজলানের বয়স ১৭ বছর। দ্বিতীয় বিয়ের তিন বছর পর আবারও মা হতে চলেছেন অভিনেত্রী।

‘এই গর্ভাবস্থা পরিকল্পনায় ছিল না’

টিআইএফএফে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহিরা জানান, এবারের গর্ভাবস্থা পরিকল্পিত ছিল না। ২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা হওয়ার অভিজ্ঞতার তুলনায় ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মাতৃত্ব তাঁর কাছে অনেকটাই ভিন্ন।

বয়সের কারণে এবারের গর্ভাবস্থা শারীরিকভাবে বেশি চ্যালেঞ্জিং বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বড় হয়ে যাওয়া সন্তানের মা হিসেবে আবার নবজাতকের মা হওয়ার জন্য তাঁকে মানসিকভাবেও নতুন করে প্রস্তুত হতে হচ্ছে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না মাহিরা। তাই সুখবরটি প্রকাশ্যে আনতেও কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জীবনের নতুন এই অধ্যায়টি লুকিয়ে না রেখে উদ্‌যাপন করার সিদ্ধান্ত নেন।

কেন টিআইএফএফে মাহিরা?

২০২৬ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্মাতা বাসাম তারিকের আমন্ত্রণে অংশ নেন মাহিরা। পরিচালকের ‘ইয়োর মাদার, ইয়োর মাদার, ইয়োর মাদার’ সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে হাজির হন তিনি। ছবিটিতে অস্কারজয়ী অভিনেতা মাহেরশালা আলীও অভিনয় করেছেন। টিআইএফএফে এটাই মাহিরার প্রথম উপস্থিতি।

লালগালিচায় পাকিস্তানি ঐতিহ্যবাহী জমকালো শাড়িতে দেখা যায় তাঁকে। ছিল মিনিমাল মেকআপ ও কানে লম্বা ঝুমকা।

সিনেমাটির প্রিমিয়ারের পাশাপাশি উৎসবের কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট প্রোগ্রামেও অংশ নেন মাহিরা। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সেখানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানি সিনেমা ও দক্ষিণ এশিয়ার গল্প তুলে ধরার সুযোগও কাজে লাগান তিনি।

সব মিলিয়ে, টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মাহিরার প্রথম লালগালিচায় উপস্থিতি হয়ে উঠেছে দ্বিগুণ আনন্দের উপলক্ষ—একদিকে সিনেমার আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিষেক, অন্যদিকে জীবনের নতুন অধ্যায়ের সুখবর।

সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। মশার লার্ভা যেখানে জন্ম নেয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারাও ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

কালের আলো/এমএসআইপি

১৫ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, প্রিয় বন্ধু আসলে সহোদর বোন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
১৫ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, প্রিয় বন্ধু আসলে সহোদর বোন!

নেদারল্যান্ডসের মিনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিসেনের বন্ধুত্বের গল্পে ছিল অদ্ভুত এক মিল। কিশোরী বয়সে প্রথম পরিচয়ের পর থেকেই দুজনের চেহারা ও অঙ্গভঙ্গিতে মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন তাঁরা। দীর্ঘদিন বন্ধুত্বের পর একসময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর পর আবার যোগাযোগের সূত্র ধরে ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, তাঁরা আসলে দুই বোন।

মিনা ও মিনাল দুজনেরই জন্ম ভারতের মুম্বাইয়ে, ১৯৮০-এর দশকে। কয়েক মাস বয়সে তাঁদের মুম্বাইয়ের দুটি আলাদা এতিমখানা থেকে নেদারল্যান্ডসের দুটি পরিবার দত্তক নেয়।

কৈশোরে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম দেখা। তখনই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল চোখে পড়ে। মিনা বলেন, বন্ধুরা তাঁদের আয়নায় নিজেদের দেখতে বলেছিলেন। আয়নায় তাকিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁদের নাক ও হাসিতেও আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে।

দুজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তাঁরা ফোন নম্বর ও ঠিকানা বিনিময় করেন এবং দীর্ঘদিন চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন। তবে সময়ের সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়তে থাকায় একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে নেদারল্যান্ডস ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান।

২০১৭ সালে ভারত থেকে দত্তক নেওয়া ব্যক্তিদের একটি অনুষ্ঠানে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে পারেন মিনা। তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষা করালেও তখন কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে মিল পাননি। পরে ফোনের জায়গা খালি করতে ডিএনএ শনাক্তের অ্যাপটিও মুছে ফেলেন।

এরপর গত ২০ মে মিনার ফেসবুকে বার্তা পাঠান মিনাল—‘আমাকে মনে আছে?’ সেই বার্তায় পুরোনো স্মৃতি ফিরে আসে মিনার। তিনি আবার ডিএনএ শনাক্তের অ্যাপটি ইনস্টল করেন। তবে ফলাফল দেখার সময় তিনি এতটাই নার্ভাস ছিলেন যে ১০ বার ভুল পাসওয়ার্ড দেন।

অবশেষে অ্যাপটি খুলে যে তথ্য দেখলেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। ডিএনএ পরীক্ষায় তাঁর সঙ্গে ১০০ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে ৪৪ বছর বয়সী মিনালের। তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়, কৈশোরে যাঁকে তাঁরা প্রিয় বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন, তিনি আসলে তাঁরই সহোদর বোন।

গত আগস্টে বহু বছর পর তাঁদের দেখা হয়—এবার আর শুধু বন্ধু হিসেবে নয়, দুই বোন হিসেবে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রক্তের সম্পর্কের এই সত্য তাঁদের জীবনের গল্পকে যেন সিনেমার চেয়েও বিস্ময়কর করে তুলেছে।

কালের আলো/এসএ