মেসির গোলের পরও শেষ মুহূর্তে পয়েন্ট হারাল মায়ামি
লিওনেল মেসি গোল করেও ইন্টার মায়ামিকে জয় এনে দিতে পারলেন না। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে স্যাম সারিজের গোলে ন্যাশভিল এসসি সমতায় ফেরায়। ফলে ঘরের মাঠে ন্যাশভিলের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে মায়ামি। এই ড্রয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের সঙ্গে মায়ামির ব্যবধান ৯ পয়েন্টই থাকল।
ম্যাচের মাত্র চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যায় ন্যাশভিল। তবে ১৯ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে মায়ামি। তার নেওয়া ইনসুইং কর্নার প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার রিড বেকার-হোয়াইটিংয়ের মাথায় লেগে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে মায়ামি।
২৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসির শট আটকে দেন ন্যাশভিলের গোলরক্ষক। কিছুক্ষণ পর ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি আর্জেন্টাইন তারকা।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য মেসিই মায়ামিকে এগিয়ে দেন। ৬২ মিনিটে আর্জেন্টিনা সতীর্থ রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর প্রায় ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তিনি। এটি চলতি মৌসুমে মেজর লিগ সকারে মেসির ১৯তম গোল।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর দুটি দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। প্রথমবার তার শট ঠেকিয়ে পোস্টে লাগিয়ে দেন ব্রায়ান শোয়াকে। পরে জালের সামনে প্রায় নিশ্চিত গোল বাঁচান ন্যাশভিলের ডিফেন্ডার জেইসন পালাসিওস। দ্বিতীয়ার্ধে মেসির আরেকটি শট পোস্টে লেগেও ফিরে আসে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবশ্য সব হিসাব বদলে যায়। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সারিজ গোল করে ন্যাশভিলকে সমতায় ফেরান। এরপর মায়ামির জয়ের সুযোগ এসেছিল আবারও। তবে দে পলের শট পোস্টের বাইরের অংশে লেগে ফিরে আসে।
এই ড্রয়ে চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে এগিয়ে থেকেও ১১ পয়েন্ট হারিয়েছে মায়ামি। ইস্টার্ন কনফারেন্সের শীর্ষস্থান ও সাপোর্টার্স শিল্ডের লড়াইয়ে ন্যাশভিলের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা। দুই দলেরই সামনে আছে আরও নয়টি ম্যাচ। ২০২০ সালে মায়ামির সঙ্গে একই সময়ে এমএলএসে যোগ দেওয়া ন্যাশভিল এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথম সাপোর্টার্স শিল্ড জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এদিকে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত নয় ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতেছে মায়ামি। এর মধ্যে কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ ও লিগস কাপ থেকেও বিদায় নিয়েছে তারা।
মায়ামির সামনে অবশ্য মৌসুমের প্রথম ট্রফি জয়ের সুযোগ রয়েছে। বুধবার মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ক্যাম্পেওনেস কাপের ফাইনালে খেলবে তারা। এমএলএস ও লিগা এমএক্সের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি লড়াইয়ে ট্রফি জয়ের লক্ষ্য থাকবে মায়ামির। মায়ামি ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মুরা বলেন, ‘অবশ্যই হতাশ লাগছে। আমাদের মনে হয়েছে আমরা ভালো দল ছিলাম, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিন পয়েন্ট হাতছাড়া হয়েছে। তবে আমরা বল দখলে রাখতে পেরেছি এবং গোলের সুযোগও তৈরি করেছি।’
দলের রক্ষণভাগ নিয়ে আরও উন্নতির প্রয়োজন বলেও মনে করেন মুরা। তার ভাষায়, ‘আমাদের উন্নতি করতে হবে, যাতে প্রতিটি ম্যাচে জিততে এত বেশি গোল করতে না হয়। রক্ষণে আরও নিরাপদ হতে হবে এবং গোল হজম কমাতে হবে, তাহলে আমরা যে গোলগুলো করি, সেগুলোই জয়ের জন্য যথেষ্ট হবে।’
নতুন কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেসের দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি। তবে নতুন এই অধ্যায়ে দলকে আরও উন্নতি করতে হবে বলে মনে করেন মুরা। সামনে ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ফাইনালকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
কালের আলো/এমআর

আপনার মতামত লিখুন
Array