খুঁজুন
                               
, ,
           

জাতিসংঘে ভারত-পাকিস্তান বাকযুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে ভারত-পাকিস্তান বাকযুদ্ধ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। কাশ্মীর, সন্ত্রাসবাদ, মানবাধিকার, ধর্মীয় সহনশীলতা ও সিন্ধু পানি চুক্তি—বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরস্পরের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য দিয়েছেন।

শুক্রবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, কাশ্মীর ও সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়োচিত হস্তক্ষেপের কারণে ওই সংঘাত থেমেছিল।

শরিফ বলেন, দক্ষিণ এশিয়া যেন ২০২৫ সালের মতো ভয়াবহ সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে আর কখনো না পৌঁছায়, সে জন্য কাশ্মীর সমস্যার একটি ন্যায্য ও সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সিন্ধু পানি চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার দাবি জানান।

এ ছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার ও ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়েও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

এর জবাবে শনিবার জাতিসংঘে ‘রাইট অব রিপ্লাই’ বা জবাব দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তানের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন ভারতের কূটনীতিক পেটাল গেহলট। তিনি শেহবাজ শরিফের বক্তব্যকে ‘অদ্ভুত, হাস্যকর ও ভণ্ডামিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।

ভারতীয় প্রতিনিধি সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘকে স্মরণ করিয়ে দেন, ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে পাকিস্তানি সামরিক একাডেমির কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন।

পেটাল গেহলট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এই মাত্র ৯/১১ হামলার বার্ষিকী পালন করল। আর সেই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান একাডেমির একেবারে দোরগোড়ায় বসবাস করছিলেন।’

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তান দিনে নিরাপত্তা বজায় রাখার দাবি করে, আর রাতের আঁধারে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়।

ভারতীয় প্রতিনিধি আরও বলেন, গত বছর ভারত প্রমাণ করেছে যে সন্ত্রাসীদের পালানোর কোনো পথ নেই এবং লুকিয়ে থাকারও কোনো জায়গা নেই। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলার প্রসঙ্গও ভারতের বক্তব্যে উঠে আসে। ভারতীয় পক্ষের দাবি, ওই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করা হয়।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সংঘাত থামাতে তাঁর ভূমিকা ছিল। তবে ভারত সরকার বরাবরই কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার বিষয়টি অস্বীকার করে এসেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, পাকিস্তান ও দেশটির নীতিকে তাদের প্রতিনিধিরা যেভাবে উপস্থাপন করেন, সেভাবে নয়; বরং তাদের কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।

পেটাল গেহলট বলেন, বছরের পর বছর একই ধরনের বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। পাকিস্তানের ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও ‘প্রতারণা’ তাদের নিজেদের কিংবা বিশ্বের কোনো উপকারে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কাশ্মীর ও মানবাধিকার নিয়ে পাল্টাপাল্টি

জাতিসংঘে ভারতের বক্তব্যে জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। ভারতীয় প্রতিনিধি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য ও অপরিবর্তনীয় অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। রাওলাকোটের জনগণের কাছে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে কথিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ভারতীয় প্রতিনিধি। তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর প্রভাবই রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তিত হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ সেনাবাহিনীর হাতেই থাকে—এমন দাবি করেন তিনি।

ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের জবাবেও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি ও ব্লাসফেমি আইন নিয়ে প্রশ্ন তোলে ভারত।

এর আগে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলেও দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানকে অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা কিংবা সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের পরিবর্তে নিজেদের অর্থনৈতিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং হাফিজ সাঈদের বিচার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তিনি এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি।

শুক্রবার এক পাকিস্তানি সাংবাদিক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে জয়শঙ্কর পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে?’

সব মিলিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে সামনে এসেছে। কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাসবাদ এবং সিন্ধু পানি চুক্তি থেকে মানবাধিকার—বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান যে এখনো ব্যাপকভাবে পরস্পরবিরোধী, এবারের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক ঘাঁটির চিত্র প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
উত্তর গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক ঘাঁটির চিত্র প্রকাশ

ইসরায়েল সরকারের সরকারি পাবলিক ম্যাপিং পরিষেবা ‘গভম্যাপ’-এ অল্প সময়ের জন্য গাজার উত্তরাঞ্চলের উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি দেখা গেছে। এসব ছবিতে যুদ্ধের কারণে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি কয়েকটি সামরিক স্থাপনার চিত্রও দৃশ্যমান হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে পরে গভম্যাপে গাজার ওই এলাকাগুলোর স্যাটেলাইট ছবি আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টের নজরে আসে বিষয়টি। অ্যাকাউন্টটি ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি নিয়ে কাজ করে এবং গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করার জন্য পরিচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর গাজার বিভিন্ন এলাকার স্যাটেলাইট চিত্র আবার ঝাপসা করে দেওয়া হয়।

গভম্যাপে দীর্ঘদিন ধরেই গাজা উপত্যকা, ইসরায়েল এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি ঝাপসা করে দেখানো হয়। এ কারণে গাজার কিছু এলাকার তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান হওয়ার ঘটনাটি ব্যতিক্রমী বলে মনে করা হচ্ছে।

ঝাপসা না থাকা ছবিগুলোর মধ্যে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনের মতো এলাকাও ছিল।

২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে উত্তর গাজার এসব এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকাশিত ছবিগুলো ২০২৫ সালের হওয়ায় এগুলো ইসরায়েলি সেনাদের সামরিক ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা দেখায় না। তবে ছবিগুলোতে উত্তর গাজার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি সামরিক স্থাপনা বা ঘাঁটির চিত্রও এসব ছবিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এক্স ব্যবহারকারী ‘@Nrg8000’ ছবিগুলো ‘সোয়ার অ্যাটলাস’-এও প্রকাশ করেছেন। তবে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ছবিগুলোর সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। একই সঙ্গে প্রকাশিত ছবিগুলো গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং যুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বেইত হানুনে ব্যাপক ধ্বংস

উত্তর গাজার বেইত হানুন শহরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। ছবিতে অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে শহরটির বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। পরবর্তী সময়ে এলাকাটির বড় অংশ সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুজাইয়ায় ধ্বংসস্তূপ

গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র ফুটে উঠেছে। স্যাটেলাইট ছবিতে অনেক ভবন ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপের চিত্রও স্পষ্ট বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

কারনি ক্রসিংয়ে সামরিক উপস্থিতি

গাজা শহরের জেইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কারনি ক্রসিংয়ের আশপাশেও ইসরায়েলি সেনাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রকাশিত ছবির ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, গাজার আরও ভেতরে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য এলাকাটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

পূর্ব জাবালিয়ায় সামরিক ঘাঁটি

পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সামরিক স্থাপনার চিত্রও স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে মাটির তৈরি উঁচু প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং বেশ কিছু সামরিক যান দেখা যায়।

যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে দেওয়া হিসাবে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩ হাজার ৯২৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির পরও ১ হাজার ৪০৮ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৯১৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন স্বাধীন হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

গভম্যাপে অল্প সময়ের জন্য প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিগুলো সেই ধ্বংসযজ্ঞের একটি ভৌগোলিক চিত্র তুলে ধরেছে। তবে ছবিগুলোর উৎস, সময়কাল ও নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনার পরিচয় নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা থাকায় এসব তথ্যকে সতর্কতার সঙ্গে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

৩০০ ফিটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের দুই নারী নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
৩০০ ফিটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, একই পরিবারের দুই নারী নিহত

রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় এক পুলিশ সদস্যের মা ও স্ত্রী নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন— পুলিশ সদস্য মেহেদী হাসানের মা ও স্ত্রী আফরোজা আকতার।

মেহেদী হাসান জানান, রাতে তার মা ও স্ত্রী পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।

জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক মেহেদী হাসানের মাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত স্ত্রী আফরোজা আকতারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে আফরোজা আকতারের মৃত্যু হয়।

মেহেদী হাসান আরও জানান, তাদের বাসা ঢাকার কদমতলী থানার শ্রীধারা এলাকায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আফরোজা আকতারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৫ পদে নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
শ্রম মন্ত্রণালয়ে ১৫ পদে নিয়োগ

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১২ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে মোট ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬।

পদ ও বেতন

১. হিসাবরক্ষক
পদসংখ্যা: ১টি।
গ্রেড: ১২।
বেতন স্কেল: ১১,৩০০ থেকে ২৭,৩০০ টাকা।

২. সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর
পদসংখ্যা: ৩টি।
গ্রেড: ১৩।
বেতন স্কেল: ১১,০০০ থেকে ২৬,৫৯০ টাকা।

৩. অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক
পদসংখ্যা: ৩টি।
গ্রেড: ১৬।
বেতন স্কেল: ৯,৩০০ থেকে ২২,৪৯০ টাকা।

৪. অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ৮টি।
গ্রেড: ২০।
বেতন স্কেল: ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা।

সব মিলিয়ে চারটি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে মোট ১৫ জনকে।

বয়সসীমা

আবেদনকারীর বয়স ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে।

আবেদন পদ্ধতি

নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন করার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে দেখে নিতে হবে।

আবেদন ফি

পদের ধরন অনুযায়ী আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

হিসাবরক্ষক পদে আবেদন ফি ১৬৮ টাকা,সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে আবেদন ফি ১১২ টাকা,অফিস সহায়ক পদে আবেদন ফি ৫৬ টাকা।

আবেদনের শেষ সময়

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এই নিয়োগে আবেদন করার শেষ তারিখ ১৪ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, পরীক্ষার সময়সূচি ও অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ