খুঁজুন
                               
, ,
           

সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের শর্ত কাগজেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের শর্ত কাগজেই

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত ছিল স্পষ্ট—কতটুকু পড়াশোনা, কত বছরের অভিজ্ঞতা, কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা এবং সর্বোচ্চ বয়স কত। কিন্তু নিয়োগের সময় সেই শর্তেরই যেন ভিন্ন ব্যাখ্যা হয়েছে। কারও প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ছিল না, কারও অভিজ্ঞতা ছিল নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক বছর কম, কেউ দেখিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরি, কেউ আবার খণ্ডকালীন কাজকে অভিজ্ঞতা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কোথাও আবার নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়েও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • অযোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়েই নিয়োগ
  • চাকরির সনদ, বয়সসীমা লঙ্ঘনের তথ্য অডিটে
  • সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও অর্থ আদায়ের সুপারিশ

সাত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নিয়োগে ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বেতন-ভাতা হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। অডিটের পর্যবেক্ষণ, বিজ্ঞপ্তির সুস্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘনের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই নিয়োগ, পরে পদোন্নতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমান সহকারী পদে ১৩টি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। অডিটে বলা হয়েছে, মো. শরিফুল আলম ও রাশেল আহমেদের সেই অভিজ্ঞতা ছিল না। এরপরও তারা নিয়োগ পান। বর্তমানে দুজনই সহকারী রেজিস্ট্রার। এই নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩ লাখ ৬২ হাজার ১৪৪ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নিয়োগের সময় যোগ্যতা যাচাই না হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী পদোন্নতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি কীভাবে উপেক্ষিত রইল।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে পাঁচ থেকে আট বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। দিলীপ কুমার ঘোষ বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতার আট বছরের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে নিয়োগ পান। কিন্তু তার জন্মতারিখ নিয়েও নথিতে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। অডিটের মতে, নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ দেওয়ায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬০ টাকা।

পাঁচ বছরের জায়গায় অভিজ্ঞতা দেড় বছর

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়মের চিত্র আরও বিস্তৃত। ফিজিক্যাল ইন্সট্রাকটর পদে মো. আসাদুজ্জামান নূর প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার সনদ দেখাতে পারেননি। অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিক্যাল অফিসার পদে সৈয়দ তৌহিদুল হুদা রিমল দিয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ, যদিও বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল।

সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে আবু মোহাম্মদ আরিফের অভিজ্ঞতা ছিল ১ বছর ৮ মাস ১৯ দিন; প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর। সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পাপিয়া সেনের অভিজ্ঞতা ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিন, প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর।

সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন পদে ডা. আদিত্য চৌধুরী অভি ও ডা. তারিকুল ইসলামের অভিজ্ঞতাও ছিল ১ বছর ৫ মাস ১৪ দিন করে; বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া হয়েছিল পাঁচ থেকে ছয় বছর। এই ছয়জনের বেতন-ভাতা বাবদ দেওয়া হয়েছে ২১ লাখ ১২ হাজার ৭৬০ টাকা।

বয়সসীমারও তোয়াক্কা নেই

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল নার্স পদে মাহমুদুল হাসানের অভিজ্ঞতা ছিল এক বছর; বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজন ছিল পাঁচ বছর। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদে এবিএম ইউসুফের বয়স বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন ছিল ৩২ বছর ৬ মাস ১৬ দিন। অডিটে এটিকে বয়সসীমা লঙ্ঘন বলা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়া আরও ১২ জনের বয়সও ছিল ৩২ বছরের বেশি। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ দেওয়া হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪০০ টাকা।

খণ্ডকালীন চাকরিও ‘অভিজ্ঞতা’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুপারভাইজার পদে রাসেল আহমেদ ছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খণ্ডকালীন শিক্ষক। মো. সোহেল রানা ছিলেন খণ্ডকালীন কর্মচারী। অডিটের ভাষ্য, এসব চাকরি স্থায়ী চাকরির অভিজ্ঞতা নির্দেশ করে না। এরপরও দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১১ লাখ ৫২ হাজার ৬৪০ টাকা। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসার পদে নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রীর অভিজ্ঞতার সনদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অডিট। সনদটি সত্য নয় বলে প্রতীয়মান হওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তির দিন তার বয়স ছিল ৩২ বছর ১ মাস ১৬ দিন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মূল্য কোথায়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরীর প্রশ্ন, বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণের পর নিয়োগের সময় তা উপেক্ষা করা হলে বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা কোথায়? তার মতে, নিয়োগ থেকে পদোন্নতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনাগুলো তাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগের। তবে অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অডিটে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং আপত্তিকৃত অর্থ আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে। এখন সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন—নিয়োগে যে শর্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তি, সেটিই যদি নিয়োগের সময় অকার্যকর হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগব্যবস্থায় মেধা ও স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা কোথায়?

কালের আলো/এএএন/এমকে

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ হুমায়ুন কবিরের

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ হুমায়ুন কবিরের

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রথম ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি ডু-হির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এ আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন হুমায়ুন কবির।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশটির উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত পরামর্শ এবং উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগে সন্তোষ প্রকাশ করে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত চুক্তি সম্পন্নের প্রত্যাশা জানান হুমায়ুন কবির।

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশি পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিকস, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, উচ্চমানের তৈরি পোশাক ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কোরীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশি দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মীদের জন্য কোরিয়ার এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।

জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কোরিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান হুমায়ুন কবির। রোহিঙ্গাদের প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনেও কোরিয়ার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার লি ডু-হির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার বিষয়গুলো বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধ জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষায়িত কোর্সে কোরীয় সামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ উদ্যোগে প্রযুক্তি, শিল্প সহযোগিতা ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সুবিধা বাড়াতে কোরীয় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানান তিনি।

কোরীয় পক্ষও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করে। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের প্রস্তুতির কথা জানায় তারা।

দুই বৈঠকেই বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে উভয় পক্ষের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

২০০৬ বিশ্বকাপের সেই ঘটনায় অনুতপ্ত নন জিদান

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
২০০৬ বিশ্বকাপের সেই ঘটনায় অনুতপ্ত নন জিদান

২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির মার্কো মাতোরাজ্জিকে মাথা দিয়ে ঢুঁশ মারার সেই বহুল আলোচিত ঘটনায় কোনো অনুশোচনা নেই বলে জানিয়েছেন জিনেদিন জিদান। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে ইতালির বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্যারিয়ারের সেই বিতর্কিত মুহূর্ত নিয়ে কথা বলেন তিনি।

খেলোয়াড়ি জীবনের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জিদান জানান, সেই রাতের স্মৃতি এখনো বারবার সামনে আসে। ফ্রান্স-২৪-এর বরাতে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ করেছে গোলডটকম।

‘ওটা আমার ক্যারিয়ারেরই অংশ’

জিদান বলেন, ২০০৬ সালে কী ঘটেছিল, তা মনে করিয়ে দিতে সেই ছবিগুলো ও ভিডিও সব সময়ই থাকবে। তবে ক্যারিয়ারের ওই একটি ঘটনাকেই নিজের পুরো পরিচয় হিসেবে দেখতে চান না তিনি।

ফরাসি এই কোচ বলেন, সৌভাগ্যবশত সেটিই তার ক্যারিয়ারের একমাত্র ঘটনা নয়। তার খেলোয়াড়ি জীবনে আরও অনেক সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি রয়েছে। তাই তিনি ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েই বেশি ভাবতে চান।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জিদান বলেন, ওই ঘটনার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই, কারণ সেটি তার খেলোয়াড়ি জীবনেরই একটি অংশ। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ঘটনার জন্য তিনি গর্বিত নন।

মাতোরাজ্জির সঙ্গে আর কথা হয়নি

২০০৬ সালের সেই ফাইনালের পর মার্কো মাতোরাজ্জির সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি জিদানের। বার্লিনের সেই ম্যাচে টাইব্রেকারে ইতালির কাছে হেরে বিশ্বকাপের শিরোপা হাতছাড়া করে ফ্রান্স।

জিদান জানান, ২০০৬ সালে তিনি জানতেন না ভবিষ্যতে কোচ হিসেবে কাজ করবেন। তিনি ভেবেছিলেন, ওই ম্যাচের মধ্য দিয়েই তার ফুটবলজীবনের সবকিছুর সমাপ্তি ঘটেছে। ফলে সময়টি তার জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন।

এবার ফ্রান্সের কোচ জিদান

খেলোয়াড় হিসেবে কিংবদন্তি হয়ে ওঠা জিদান এখন ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনি দীর্ঘদিনের সতীর্থ দিদিয়ে দেশমের স্থলাভিষিক্ত হন। দেশম প্রায় ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের পর সরে দাঁড়ান।

কোচ হিসেবে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় দিয়ে শুরু করেন জিদান। এরপর বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে জয় পায় তাঁর দল।

আবারও স্তাদ দ্য ফ্রান্সে ফিরছেন

ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবারও স্তাদ দ্য ফ্রান্সে ফিরছেন জিদান। এই স্টেডিয়ামেই ফরাসি ফুটবলপ্রেমীদের সামনে তার খেলোয়াড়ি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় তৈরি হয়েছিল।

এবার অবশ্য খেলোয়াড় হিসেবে নয়, ফ্রান্সের কোচ হিসেবে মাঠে ফিরছেন তিনি। প্রায় ৮০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ঘিরে ফরাসি সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।

কালের আলো/এসএ

শিলিগুড়ির এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, আদালতকক্ষে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
শিলিগুড়ির এজলাসে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, আদালতকক্ষে বিতর্ক

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের এজলাসে হিজাব পরা এক নারী বিচারককে দেখে এক অভিযুক্ত ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নম্বর এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘিরে আদালতকক্ষে বিতর্ক তৈরি হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একটি মামলায় অভিযুক্তদের উপস্থিতি নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। ওই মামলার সূত্রপাত একটি আন্তঃধর্মীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে। সে সময় ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন আগেই জামিন পেয়েছিলেন। পরে কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তাদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়।

নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন বিচারকের পোশাক দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ বলেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে আদালতকক্ষে আলোচনা শুরু হলে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষমা চান।

শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উদয়শঙ্কর মালাকার ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আদালতকক্ষে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয় এবং আদালত চাইলে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাও করতে পারত।

অল ইন্ডিয়া লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক দিবাকর রায়ও আদালতকক্ষে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তার বক্তব্য, আদালত নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জায়গা।

এদিকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতের আইনজীবী ও পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের সদস্য অলকেশ চক্রবর্তী বলেন, আদালতে বিচারক বা বিচারপ্রার্থীর পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা যায় না। পোশাক দেখে ওই স্লোগান দেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুতর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে অভিযুক্তের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, স্লোগানটি বিচারককে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়নি। নাম ধরে উপস্থিতি নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের একজন না বুঝেই ওই কথা বলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, অনেকে সম্ভাষণের সময় ‘জয় শ্রীরাম’ বা এ ধরনের বাক্য ব্যবহার করেন। এরপরও ঘটনার জন্য আদালতকক্ষেই তিনি ও তার পক্ষের অন্যরা ক্ষমা চেয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার বিষয়ে বিচারকের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য বা আদালতের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত আইনি পদক্ষেপের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি