খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে টয়োটার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে জাপানের বহুজাতিক অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান টয়োটা। ২০২৭ সালে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকেল (এইচইভি) কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এ পরিকল্পনার কথা জানায় টয়োটা তুশো করপোরেশনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশে টয়োটার কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। প্রতিনিধিদল জানায়, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে দেশে টয়োটার কারখানা স্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবিত কারখানার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়নের প্রসার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানানো হয়।

টয়োটার বিনিয়োগ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে টয়োটা তুশো করপোরেশন বিনিয়োগে আগ্রহী হলে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

টয়োটার পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সব বিভাগে ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাশাপাশি তরুণদের কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও কাজ করবে প্রতিষ্ঠানটি।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। টয়োটা তুশো করপোরেশনের মোবিলিটি ডিভিশনের সিইও শিগেরু হারাদা, টয়োটা বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমমিত সিংসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পদ্মায় নাব্য সংকট, ডুবোচরে বদলেছে স্রোত কমেছে ইলিশ

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
পদ্মায় নাব্য সংকট, ডুবোচরে বদলেছে স্রোত কমেছে ইলিশ

পদ্মা নদীতে নাব্য সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিরঘাট থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ চলাচল। পরিবর্তন হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে নৌযান চলাচল, কমছে ইলিশ আহরণ এবং বাড়ছে নদীভাঙনের আশঙ্কা। বিপাকে পড়েছেন জেলে, নৌযান চালক ও নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই বছরে পদ্মার মাঝপথে বেশ কয়েকটি বড় ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। জাজিরা অংশে নদীর নতুন চ্যানেল তৈরি হওয়ায় মূল প্রবাহের গতিপথও অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছে। আগে যেসব পথে সহজে নৌযান চলাচল করত, সেখানে চর জেগে ওঠায় এখন বড় নৌযানকে ঘুরপথে চলতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ডুবোচরে আটকে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

সুরেশ্বর-ঢাকা নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ এমভি সুরেশ্বরের মাস্টার জানান, নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় নৌযান চালানো আগের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্ষায় তীব্র স্রোতের কারণে নৌযান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়। আবার বর্ষা শেষে পলি জমে ডুবোচর তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে নৌযান আটকে যায়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি ও সময়ের অপচয় হচ্ছে।

নদীর গভীরতা ও স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণেও। স্থানীয় জেলেরা জানান, আগে পদ্মার এই অংশে কয়েক ঘণ্টা জাল ফেললেই ভালো পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যেত। এখন সারা দিন নদীতে থেকেও আগের তুলনায় অনেক কম মাছ মিলছে। এতে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে বিকল্প পেশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেক জেলেকে।

জাজিরার মাঝিরঘাট এলাকার জেলে মনা বেপারি ও নড়িয়ার সুরেশ্বরের জেলে সুমন বকাউল বলেন, তিন দশক ধরে পদ্মায় মাছ ধরছেন তাঁরা। কিন্তু এখন আগের মতো বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যায় না। তাঁদের মতে, নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠা এবং স্রোতের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, নদীতে পলি জমে বড় বড় চর সৃষ্টি হওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ও উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শরীয়তপুরের পদ্মা অংশে একসময় ইলিশের ব্যাপক বিচরণ থাকলেও নদীর গভীরতা ও প্রবাহ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি বলেন, শরীয়তপুরে পদ্মার প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ডুবোচর অপসারণ জরুরি।

নদীর মাঝপথে ডুবোচর সৃষ্টি হওয়ায় পদ্মার মূল স্রোত এখন বিভিন্ন স্থানে ডান তীর ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। কোথাও কোথাও নদীর গভীরতা ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কিছু অংশে তা ৫০০ ফুটেরও বেশি। গভীরতার এই তারতম্যে নদীর প্রবাহে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নড়িয়া উপজেলার চরআত্রার নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বিল্লাল মাঝি বলেন, নদীর মূল স্রোত তাঁদের এলাকা ঘেঁষে প্রবাহিত হওয়ায় ভাঙন বেড়েছে। গত কয়েক বছরে তাঁর প্রায় চার বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের পর ভাঙন কিছুটা কমলেও বর্তমানে স্রোতের চাপ আবার বেড়েছে। স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে এ অঞ্চলে নদীভাঙনে অন্তত ২০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সজল পারভেজ বলেন, নদীর নাব্য বজায় রাখতে ড্রেজিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। নদীর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে মাঝিরঘাট থেকে সুরেশ্বর পর্যন্ত হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, উজান থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ পলি এসে পদ্মার বিভিন্ন অংশে জমা হয়। বিশেষ করে বর্ষা শেষে নদীর তলদেশে পলি জমে ডুবোচর ও নতুন চর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গভীরতা কমে যাচ্ছে।

সূত্রটি জানায়, মাঝিরঘাট পদ্মা সেতুর জিরো পয়েন্ট থেকে সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার নদীপথে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সুরেশ্বর থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার নদীপথে পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে।

জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পদ্মা ও মেঘনাবেষ্টিত শরীয়তপুরে মোট ৭১ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার ৫ কিলোমিটার এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার ১৫ কিলোমিটারসহ মোট ২০ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নদীর গভীরতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা না গেলে ইলিশসহ দেশীয় প্রজাতির মাছের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র আরও সংকুচিত হবে। একই সঙ্গে নৌ চলাচলের ঝুঁকি ও নদীভাঙনের শঙ্কা বাড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পিত ড্রেজিং এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ত্যাগের পর এবার ‘ক্লিন ইমেজ’ পরীক্ষা বিএনপিতে

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
ত্যাগের পর এবার ‘ক্লিন ইমেজ’ পরীক্ষা বিএনপিতে

ক্ষমতায় এসে বিএনপির সামনে এখন নতুন এক সাংগঠনিক পরীক্ষা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের ওপর নির্ভরতার পাশাপাশি দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে এবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, জনগ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘কে কতদিন রাজনীতি করেছেন’—এই প্রশ্নের পাশাপাশি ‘কে কতটা গ্রহণযোগ্য’ এবং ‘কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে’—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ভাষ্য, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড এখন সরাসরি দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে যুক্ত। ফলে নেতৃত্বে ভুল নির্বাচন শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি করবে না, এর রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে। এ কারণে নতুন কমিটি গঠনে তাড়াহুড়া না করে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড।

  • বিএনপির নতুন কমিটিতে গ্রহণযোগ্যতাই বড় মাপকাঠি
  • ঢাকা মহানগরসহ চার সংগঠনে নেতৃত্ব বদলের আভাস
  • আলোচনায় একাধিক নতুন-পুরোনো মুখ

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, দলের প্রতি আন্তরিকতা, ত্যাগ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তাঁর মতে, কমিটি গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না জানিয়েছেন, সংগঠনের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর বক্তব্যেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও জনগ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ঢাকা মহানগরেই প্রথম বড় পরীক্ষা
বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ঢাকা মহানগর। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড-থানা পর্যায়ের সংগঠন পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচন—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন, এস এ সিদ্দিকী সাজু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, এ বি এম রাজ্জাক এবং যুবদলের সহসভাপতি শরিফ উদ্দিন জুয়েলের নাম রয়েছে।

দক্ষিণ মহানগরেও সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সাধারণ সম্পাদক পদে তানভীর আহমেদ রবিনের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি লিটন মাহমুদ, আ ন ম সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান মিন্টু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, আবদুল মোনায়েম মুন্না ও এস এম জিলানীর নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় আছে। তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব নাম এখনো সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও যাচাই-বাছাই হতে পারে।

যুবদলে শীর্ষ পদ ঘিরে নানা সমীকরণ
কেন্দ্রীয় যুবদলের নতুন কমিটি নিয়েও আলোচনা দীর্ঘ হচ্ছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় গোলাম মাওলা শাহীন, শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সাইদ ইকবাল টিটু, মামুন হাসান, রেজাউল কবীর পল, আকরামুল হাসান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামলের নাম রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলেও শরীফ উদ্দিন জুয়েলের নাম গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মিজানুর রহমান রাজ, মনিরুল ইসলাম মনির, তসলিম আহসান মাসুম, আমিনুল হক হিমেল, মাহবুবুর রহমান মাহবুব ও মেহেদী হাসান রুয়েলের নাম রয়েছে। দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে এনামুল হক এনাম, রবিউল ইসলাম নয়ন, মো. আসাদুজ্জামান আসলাম, ওমর ফারুক মুন্না, ফয়সাল আহমেদ সজল, শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি, আবদুল গাফফার, নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ ও আসিফুর রহমান বিপ্লবের নামও আলোচনায় রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলেও নতুন কমিটির অপেক্ষা
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি নিয়েও কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের রাজনৈতিক ও সরকারি দায়িত্বের কারণে সংগঠনের জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে জহির উদ্দিন তুহিন, ইয়াসিন আলী, নাজমুল হাসান, ফখরুল ইসলাম রবিন, কাজী মোখতার হোসেন ও গোলাম মোর্শেদ রাসেলের নাম রয়েছে। তবে সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নির্ভর করছে হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

ছাত্রদলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কবে?
বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়েও অপেক্ষা চলছে। নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় আমান উল্লাহ আমান,
শ্যামল মালুম, মনিরুল ইসলাম জিসান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, এজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, রাজু আহমেদ, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, মাসুম বিল্লাহ, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও তারেক হাসান মামুনের নাম রয়েছে। বিদায়ী নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ হওয়ার ইঙ্গিতের পর থেকেই পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে ছাত্রদলের নতুন কমিটিও বিএনপির নেতৃত্ব বাছাইয়ের নতুন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

বলয়ের বাইরে গিয়ে বাছাইয়ের চেষ্টা
বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, এবার কমিটি গঠনে কোনো নির্দিষ্ট বলয়কে প্রাধান্য দিতে চাইছে না হাইকমান্ড। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক বিষয়গুলোতে সরাসরি যুক্ত থাকছেন এবং সম্ভাব্য নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করছেন। দলের ভেতরে লবিং-গ্রুপিং থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তার প্রভাব কতটা থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ক্ষমতায় থাকার সময়ে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে তার প্রভাব মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে সরকারের ভাবমূর্তিতেও পড়তে পারে।

ত্যাগ বনাম গ্রহণযোগ্যতার নতুন সমীকরণ
বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক তৎপরতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে নেতৃত্বের মানদণ্ডে। একসময় দীর্ঘদিনের আন্দোলন, মামলা-হামলা ও রাজপথের সক্রিয়তাই ছিল নেতৃত্ব নির্বাচনের বড় পরিচয়। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসম্পৃক্ততা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিতর্কমুক্ত থাকার প্রশ্ন।

ঢাকা মহানগরসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর নতুন কমিটি সেই পরিবর্তনের বাস্তব পরীক্ষা। অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে ধরে রাখার পাশাপাশি তরুণদের জায়গা দেওয়া এবং একই সঙ্গে বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তি নিশ্চিত করা—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করাই হবে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটিগুলো শুধু পদবণ্টনের তালিকা হবে, নাকি ক্ষমতাসীন বিএনপির নতুন সাংগঠনিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটাবে—তার উত্তর মিলবে ঘোষণার পরই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

নারী ফুটবলে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে বাটলারের ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ অপরাহ্ণ
নারী ফুটবলে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে বাটলারের ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ভবিষ্যৎ তারকা খুঁজে বের করতে প্রথমবারের মতো সিলেটে দুই দিনব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘ফিউচার স্টারস’ আয়োজন করতে যাচ্ছেন কোচ পিটার বাটলার। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) উদ্যোগে আগামী শনিবার ও রবিবার অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ ট্রায়াল।

নিয়মিত ঘরোয়া লিগের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে নতুন ফুটবলার খুঁজে বের করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-২০ দল হয়ে জাতীয় মূল দলের জন্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির একটি শক্তিশালী ধারাবাহিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় বাফুফে। ফেডারেশনের সভাপতি এই পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়েছেন।

সিলেটের এই আয়োজনে ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া অনূর্ধ্ব-১৭ বয়সী মেয়েরা অংশ নেবে। ১৮ জনের দলগুলোর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ৫০ মিনিটের ম্যাচ। খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক মানসিকতা বাড়ানো এবং নিচ থেকে পাসের মাধ্যমে খেলা গড়ে তোলার দক্ষতা উন্নত করতে রাখা হয়েছে দুটি বিশেষ নিয়ম।

সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ছাড়া অন্য ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ড্র হলে পেনাল্টি শুটআউটের পরিবর্তে বেশি অ্যাটাকিং কর্নার পাওয়া দলকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এ ছাড়া গোলরক্ষকদের হাত থেকে সরাসরি বলে কিক করা নিষিদ্ধ থাকবে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের পা দিয়ে নিচ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার অভ্যাস বাড়াতে চান আয়োজকেরা।

লাইবেরিয়া ও বতসোয়ানা জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় যুব পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণের অভিজ্ঞতা রয়েছে বাটলারের। তাঁর মতে, ঢাকার বাইরে প্রতিভাবান নারী ফুটবলার খুঁজে বের করার কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ‘ফিউচার স্টারস’ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, যা দেশের নারী ফুটবলের টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

এই প্রতিযোগিতায় প্রতিটি দল অন্তত দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। মাঠে খেলোয়াড়দের কাজের গতি, প্রথম স্পর্শে বল নিয়ন্ত্রণ, খেলার পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা, গতি, শারীরিক সক্ষমতা ও শৃঙ্খলা বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন করবেন স্কাউটরা।

সিলেটের পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের। আগামী বছরের শুরুতে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোকে নিয়ে আট দলের সমন্বয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান মেয়েদের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে ফেডারেশন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি