খুঁজুন
                               
, ,
           

ত্যাগের পর এবার ‘ক্লিন ইমেজ’ পরীক্ষা বিএনপিতে

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
ত্যাগের পর এবার ‘ক্লিন ইমেজ’ পরীক্ষা বিএনপিতে

ক্ষমতায় এসে বিএনপির সামনে এখন নতুন এক সাংগঠনিক পরীক্ষা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের ওপর নির্ভরতার পাশাপাশি দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে এবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, জনগ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ‘কে কতদিন রাজনীতি করেছেন’—এই প্রশ্নের পাশাপাশি ‘কে কতটা গ্রহণযোগ্য’ এবং ‘কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে’—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ভাষ্য, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড এখন সরাসরি দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে যুক্ত। ফলে নেতৃত্বে ভুল নির্বাচন শুধু সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি করবে না, এর রাজনৈতিক প্রভাবও পড়তে পারে। এ কারণে নতুন কমিটি গঠনে তাড়াহুড়া না করে যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড।

  • বিএনপির নতুন কমিটিতে গ্রহণযোগ্যতাই বড় মাপকাঠি
  • ঢাকা মহানগরসহ চার সংগঠনে নেতৃত্ব বদলের আভাস
  • আলোচনায় একাধিক নতুন-পুরোনো মুখ

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানিয়েছেন, দলের প্রতি আন্তরিকতা, ত্যাগ, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তাঁর মতে, কমিটি গঠনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে, যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না জানিয়েছেন, সংগঠনের নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। তাঁর বক্তব্যেও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও জনগ্রহণযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ঢাকা মহানগরেই প্রথম বড় পরীক্ষা
বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ঢাকা মহানগর। রাজধানীর উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিট রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড-থানা পর্যায়ের সংগঠন পরিচালনা এবং ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচন—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হক, সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন, এস এ সিদ্দিকী সাজু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, এ বি এম রাজ্জাক এবং যুবদলের সহসভাপতি শরিফ উদ্দিন জুয়েলের নাম রয়েছে।

দক্ষিণ মহানগরেও সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সাধারণ সম্পাদক পদে তানভীর আহমেদ রবিনের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি লিটন মাহমুদ, আ ন ম সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান মিন্টু, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, আবদুল মোনায়েম মুন্না ও এস এম জিলানীর নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় আছে। তবে দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব নাম এখনো সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও যাচাই-বাছাই হতে পারে।

যুবদলে শীর্ষ পদ ঘিরে নানা সমীকরণ
কেন্দ্রীয় যুবদলের নতুন কমিটি নিয়েও আলোচনা দীর্ঘ হচ্ছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় গোলাম মাওলা শাহীন, শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সাইদ ইকবাল টিটু, মামুন হাসান, রেজাউল কবীর পল, আকরামুল হাসান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ফজলুর রহমান খোকন ও ইকবাল হোসেন শ্যামলের নাম রয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলেও শরীফ উদ্দিন জুয়েলের নাম গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মিজানুর রহমান রাজ, মনিরুল ইসলাম মনির, তসলিম আহসান মাসুম, আমিনুল হক হিমেল, মাহবুবুর রহমান মাহবুব ও মেহেদী হাসান রুয়েলের নাম রয়েছে। দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে এনামুল হক এনাম, রবিউল ইসলাম নয়ন, মো. আসাদুজ্জামান আসলাম, ওমর ফারুক মুন্না, ফয়সাল আহমেদ সজল, শেখ খালিদ হাসান জ্যাকি, আবদুল গাফফার, নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ ও আসিফুর রহমান বিপ্লবের নামও আলোচনায় রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলেও নতুন কমিটির অপেক্ষা
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি নিয়েও কয়েক মাস ধরে আলোচনা চলছে। বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের রাজনৈতিক ও সরকারি দায়িত্বের কারণে সংগঠনের জন্য নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে জহির উদ্দিন তুহিন, ইয়াসিন আলী, নাজমুল হাসান, ফখরুল ইসলাম রবিন, কাজী মোখতার হোসেন ও গোলাম মোর্শেদ রাসেলের নাম রয়েছে। তবে সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নির্ভর করছে হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

ছাত্রদলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান কবে?
বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়েও অপেক্ষা চলছে। নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় আমান উল্লাহ আমান,
শ্যামল মালুম, মনিরুল ইসলাম জিসান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, এজাজুল কবির রুয়েল, মোস্তাফিজুর রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, রাজু আহমেদ, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, মাসুম বিল্লাহ, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল ও তারেক হাসান মামুনের নাম রয়েছে। বিদায়ী নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ হওয়ার ইঙ্গিতের পর থেকেই পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বেড়েছে। ফলে ছাত্রদলের নতুন কমিটিও বিএনপির নেতৃত্ব বাছাইয়ের নতুন নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

বলয়ের বাইরে গিয়ে বাছাইয়ের চেষ্টা
বিএনপির দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, এবার কমিটি গঠনে কোনো নির্দিষ্ট বলয়কে প্রাধান্য দিতে চাইছে না হাইকমান্ড। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাংগঠনিক বিষয়গুলোতে সরাসরি যুক্ত থাকছেন এবং সম্ভাব্য নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করছেন। দলের ভেতরে লবিং-গ্রুপিং থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তার প্রভাব কতটা থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ ক্ষমতায় থাকার সময়ে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে তার প্রভাব মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে সরকারের ভাবমূর্তিতেও পড়তে পারে।

ত্যাগ বনাম গ্রহণযোগ্যতার নতুন সমীকরণ
বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক তৎপরতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে নেতৃত্বের মানদণ্ডে। একসময় দীর্ঘদিনের আন্দোলন, মামলা-হামলা ও রাজপথের সক্রিয়তাই ছিল নেতৃত্ব নির্বাচনের বড় পরিচয়। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসম্পৃক্ততা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং বিতর্কমুক্ত থাকার প্রশ্ন।

ঢাকা মহানগরসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর নতুন কমিটি সেই পরিবর্তনের বাস্তব পরীক্ষা। অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতৃত্বকে ধরে রাখার পাশাপাশি তরুণদের জায়গা দেওয়া এবং একই সঙ্গে বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তি নিশ্চিত করা—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করাই হবে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটিগুলো শুধু পদবণ্টনের তালিকা হবে, নাকি ক্ষমতাসীন বিএনপির নতুন সাংগঠনিক দর্শনের প্রতিফলন ঘটাবে—তার উত্তর মিলবে ঘোষণার পরই।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিএনসিসি প্রশাসকের

মিরপুরের ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার দাবি ছিল দীর্ঘ ২০ বছরের। সেই দাবি পূরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে ফুটপাত পুনরায় দখলের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মিরপুর-১০-এর ফলপট্টি সড়কে মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মিরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ফুটপাত হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করা। সেই প্রত্যাশা পূরণ করা হয়েছে। এ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সড়কের পাশের দোকানিদের নিজেদের আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার পাশাপাশি দোকানের সামনে পুনরায় হকার বসতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একটি বড় রাজনৈতিক দল উচ্ছেদ হওয়া কিছু ফুটপাতের দোকানিকে বাসায় ডেকে অনৈতিক কাজে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে নথি ও তথ্য রয়েছে। কেউ ফুটপাত নিয়ে টালবাহানা করলে কিংবা পুনরায় দখলের চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে কেউ ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত তিনি।

অটোরিকশা আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ওই আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের দেখা গেছে। অটোরিকশাচালকদের দাবি নিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনাও করেন তিনি। ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেন শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করে বারবার পার পাওয়া যাবে না। নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা, মশক নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং সড়ক উন্নয়নের মতো কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি আঁকার বিষয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের ইতিহাস রচনায় জীবন উৎসর্গকারী এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের স্মৃতি ধরে রাখতে এসব গ্রাফিতি স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, মেট্রোরেলের পিলারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও নেতৃত্বদানকারীদের ছবি গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। এতে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ছবিও থাকবে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নগরবাসীর সচেতনতা জরুরি। একজনের অসচেতনতার কারণে অন্যরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন, যার প্রভাব পুরো নগরীর ওপর পড়ে।

ডিএনসিসির মিরপুর জোনের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মেট্রোরেলের পিলারে আগের সরকারের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরা হবে, যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরা সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে কাফরুল থানা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আকরাম হোসেন বাবুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ জনের ছাত্রত্ব বাতিল, ৩ জনকে সতর্ক করার সুপারিশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। একই ঘটনায় আরও চারজনের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তিনজনকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

উপাচার্য জানান, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও দায়ীদের শাস্তির সুপারিশ করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিতে তৈরি লিখিত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৫৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৯৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। অন্যদিকে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ১১টিতে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় শিক্ষকদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও পাঠদানের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তাঁদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সামলাতে হচ্ছে।

তবে শূন্য পদ পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের আলম লায়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় ডেপুটেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার মৌলভীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক শহিদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। বিদ্যালয়ভিত্তিক অভিভাবক সমাবেশ ও সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা গেলে উপস্থিতি বাড়ানো সম্ভব।

পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন মাস ধরে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির যেসব শিক্ষার্থী সাবলীলভাবে পড়তে পারে না, তাদের তালিকা করে ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। কোনো বিদ্যালয়ে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে তাদের আলাদাভাবে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লতিফপুর আলহাজ্ব আব্দুল জলিল উচ্চবিদ্যালয়, হযরত খাজা কালুশাহ (রহ.) বালিকা বিদ্যালয়, ভাটিয়ারী হাজী তোবারক আলী উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদ আবুল কাশেম রাজা উচ্চবিদ্যালয়, সবুজ শিক্ষায়তন উচ্চবিদ্যালয়, কুমিরা আবাসিক উচ্চবিদ্যালয়, আরআর টেক্সটাইল মিলস উচ্চবিদ্যালয়, মাহমুদাবাদ উচ্চবিদ্যালয়, পন্থিছিলা উচ্চবিদ্যালয়, মাদ্রাসা-এ মোহাম্মদিয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া এবং লালানগর ইসলামী দাখিল মাদ্রাসা।

অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা কমিটির উদাসীনতা এবং নিজেদের পছন্দের জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা আলম সরকার জানান, ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ১০টি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদগুলোকে একাধিকবার লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদনও করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর দাপ্তরিক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার স্থাপন, নারী শিক্ষক ও সেবাগ্রহীতাদের জন্য পৃথক নামাজের ঘর এবং মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়ন করা হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শূন্যতা অনেকটাই দূর হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ জানান, পুরো জেলায় এক হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ৪৬১ জন নতুন শিক্ষকের মধ্য থেকে আগামী ১১ অক্টোবর সীতাকুণ্ডে ১০ জনকে পদায়ন করা হবে। এতে উপজেলার শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধানে শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি