খুঁজুন
                               
, ,
           

মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ, পটুয়াখালীতে কৃষি উদ্যোক্তার সাফল্য

পটুয়াখালী সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ, পটুয়াখালীতে কৃষি উদ্যোক্তার সাফল্য

বেকারত্ব ঘোচাতে চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহাগ হোসেন মৃধা। মালচিং পেপার ও মাচা পদ্ধতি ব্যবহার করে ১০ একর জমিতে অসময়ে তরমুজ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। তাঁর খেতে রোপণ করা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার চারা। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করে অন্তত ১৫ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন এই উদ্যোক্তা। ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন তিনি। খেতে থাকা বাকি তরমুজ বিক্রি করে আরও প্রায় ৮ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন সোহাগ। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বেকার তরুণদের কাছে আধুনিক কৃষি এখন স্বাবলম্বী হওয়ার একটি সম্ভাবনাময় পথ হিসেবে সামনে আসছে।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার দশমিনা সদর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত কাটাখালী গ্রামে সোহাগ হোসেন মৃধার এই তরমুজখেত। প্রচলিত মৌসুমের বাইরে তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি আধুনিক চাষপদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। খেতে মূলত ‘রিজেন্ট-২’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। সোহাগের হিসাবে, চাষাবাদে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে বিক্রি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা। খেতে থাকা তরমুজ বিক্রি করে আরও প্রায় ৮ লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা পূরণ হলে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। তবে চূড়ান্ত লাভ নির্ভর করবে অবশিষ্ট তরমুজের বিক্রিমূল্য, উৎপাদন ও পরিবহনসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর।

সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে তরমুজের আবাদ বেশি হয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিচর্যার মাধ্যমে মৌসুমের বাইরে উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা যায়। সংশ্লিষ্ট কৃষি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত চাষপদ্ধতি অনুসরণ করে বছরে একাধিকবার তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার এবং উপযুক্ত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে বছরে তিনবার পর্যন্ত তরমুজ চাষের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বাজারে দীর্ঘ সময় তরমুজ সরবরাহের সম্ভাবনা বাড়ে। তবে উৎপাদনের সংখ্যা ও সাফল্য নির্ভর করে জাত, আবহাওয়া, জমির অবস্থা, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির ওপর। সোহাগের খেতে ‘রিজেন্ট-২’ জাতের তরমুজের উৎপাদন স্থানীয় কৃষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁর উদ্যোগ দেখে আশপাশের অনেক কৃষকও আধুনিক পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মালচিং পদ্ধতিতে জমির ওপর বিশেষ পলিথিন বা মালচিং পেপার দিয়ে তৈরি বেডে তরমুজের চারা রোপণ করা হয়। জমি প্রস্তুত করার পর বেড তৈরি করে নির্দিষ্ট দূরত্বে পলিথিনে ছিদ্র করা হয়। এরপর সেখানে চারা রোপণ করা হয়। সোহাগের খেতে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ব্যবস্থাপনায় বাঁশের তৈরি মাচাও ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, পলিথিনের আবরণ মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি আগাছার বৃদ্ধি কমাতে এবং মাটির তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখে। ফলে সঠিক ব্যবস্থাপনায় গাছের পরিচর্যা সহজ হতে পারে। তবে মালচিং পেপার ব্যবহার করলেই সব ধরনের কীটপতঙ্গের আক্রমণ বন্ধ হয়ে যায় না। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হয়।

প্রচলিত পদ্ধতিতে তরমুজ চাষের সময় অতিবৃষ্টি, মাটির আর্দ্রতার পরিবর্তন ও আগাছার কারণে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মালচিং পেপার ব্যবহারে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে গাছের বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। মাচা পদ্ধতিতে গাছের লতাপাতা ও ফল নির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এতে খেতের পরিচর্যা এবং গাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ সহজ হতে পারে। তবে মাচা তৈরির খরচ, শ্রম, সঠিক সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, জমি ও আবহাওয়ার উপযোগিতা যাচাই করে মালচিং ও মাচা পদ্ধতি প্রয়োগ করা গেলে তরমুজ চাষে উৎপাদন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হতে পারে।

কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহাগ হোসেন মৃধা জানান, তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। খেতে থাকা তরমুজ থেকে আরও অন্তত ৮ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন। সোহাগ বলেন, স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং খেতের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের এই সহযোগিতা তাঁর উদ্যোগ পরিচালনায় সহায়ক হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বেকার তরুণদের উদ্দেশে সোহাগের পরামর্শ, কৃষিকে শুধু প্রচলিত পেশা হিসেবে না দেখে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের ক্ষেত্র হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত। পরিকল্পিতভাবে অসময়ে তরমুজ চাষ করতে পারলে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানান, কৃষক সোহাগ হোসেন মৃধাকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অসময়ে আধুনিক পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে সাফল্যের সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন করে কেউ এ ধরনের কৃষি উদ্যোগে যুক্ত হতে চাইলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হবে। কৃষি কর্মকর্তার মতে, আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা, জমির উপযোগিতা যাচাই, মানসম্মত বীজ নির্বাচন এবং নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বাজারজাতকরণ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনাও কৃষি উদ্যোগের সাফল্যে ভূমিকা রাখে।

পটুয়াখালীর দশমিনায় সোহাগ হোসেন মৃধার উদ্যোগ দেখাচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে প্রচলিত কৃষির বাইরেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব। ১০ একর জমিতে মালচিং পেপার ও মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে তিনি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিক্রি করেছেন। অবশিষ্ট ফসল বিক্রির মাধ্যমে তাঁর প্রত্যাশিত আয় অর্জিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে বাজার ও উৎপাদনের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

 

পুরানা পল্টনে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
পুরানা পল্টনে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন

নাগরিকদের জন্য ভূমিসেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুরানা পল্টনের ৭১ নম্বরে অবস্থিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এ কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। নামজারি আবেদন, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ বিভিন্ন কাজের প্রক্রিয়া সহজ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

নতুন এ সেবা কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা নামজারি আবেদন দাখিল, কোর্ট ফি ও ডিসিআর ফি প্রদান এবং অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও মৌজা ম্যাপের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়াতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন ও ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক নাগরিকের স্পষ্ট ধারণা না থাকায় সেবা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। নতুন কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব কাজ সম্পন্ন করার পদ্ধতি সম্পর্কে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য, নাগরিকেরা যেন ভূমি অফিসকেন্দ্রিক বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা সহজে পান এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে অযথা ভোগান্তিতে না পড়েন।

নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ থেকে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপসহ অনুমোদিত অন্যান্য অনলাইন ও স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা গ্রহণেও সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আগ্রহী নাগরিকেরা আবেদন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাবেন। এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে কেন্দ্রটিতে। ভূমিসেবা গ্রহণের সময় নাগরিকেরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়াও এ উদ্যোগের অংশ।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব করা। বিশেষ করে অনলাইন আবেদন, ফি প্রদান ও বিভিন্ন নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে নাগরিকদের কাজ আরও সহজ হতে পারে। কেন্দ্রটি থেকে নির্ধারিত সেবাগুলো গ্রহণে সহায়তা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবার জন্য প্রযোজ্য নির্ধারিত ফি থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা নিবেদন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরস, মনিটর, কো-অর্ডিনেটর, আজীবন সদস্য ও প্রস্তাবিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু জেডআরএফের

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর ছেলে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন বলে সংগঠনটির পরিচিতিমূলক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফাউন্ডেশনটির অন্যতম লক্ষ্য।

‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’—এই মূলমন্ত্র ও স্লোগান সামনে রেখে কাজ করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সদস্যরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানান। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনের মানবসেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) মূল লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও মানবসেবা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটে অসহায়, উপদ্রুত এবং ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছে এই ফাউন্ডেশন। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা এবং দেশের সংকটে পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও গুণীজনদের নিয়ে গঠিত একটি সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য ও অভীষ্ট উদ্দেশ্য হলো মানবকল্যাণ ও মানবসেবা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, আইনজীবীসহ সমাজের অগ্রগণ্য ব্যক্তিরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি মানবসেবায় ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেডআরএফের কার্যক্রম তুলে ধরে রিজভী বলেন, করোনা মহামারি ও বন্যাসহ বিভিন্ন সংকটে ফাউন্ডেশন জোরালোভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে থাকা এবং অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করাও সংগঠনটির কাজের অংশ। তিনি বিশেষভাবে কৃত্রিম পা সংযোজনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ফাউন্ডেশনটি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং টিকাদান কার্যক্রম ঘিরেও দেশব্যাপী সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক ও অ্যাডমিন ডা. মোর্শেদ হাসানসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি