খুঁজুন
                               
, ,
           

চলনবিলে পাখি শিকারের মহোৎসব, জালে বন্দি শত শত পাখি

নাটোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
চলনবিলে পাখি শিকারের মহোৎসব, জালে বন্দি শত শত পাখি

শীতের আমেজ শুরু হতেই অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠছে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জলাভূমি চলনবিল। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর খাল-বিল ও জলাশয়ে মাছের উপস্থিতি বাড়ায় খাবারের সন্ধানে আসছে নানা প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি। কিন্তু প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে না সব পাখি। একশ্রেণির শিকারির পাতা ফাঁদে ঝাঁকে ঝাঁকে আটকা পড়ছে তারা। কোথাও জাল, কোথাও কলাপাতা ও খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি বিশেষ ঘর, আবার কোথাও বিষটোপ ব্যবহার করে চলছে পাখি শিকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিকার করা পাখির একটি অংশ নিজেদের খাবারের জন্য রাখা হলেও বাকিগুলো বিক্রি করা হয় বিভিন্ন হাট-বাজারে। এমনকি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাখি শিকার বন্ধে আইন ও প্রশাসনিক অভিযান থাকলেও নিয়মিত শিকার ঠেকানো যাচ্ছে না বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

মাছের খোঁজে চলনবিলে অতিথি পাখি

পরিবেশবাদীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ায় চলনবিলের বিভিন্ন খাল, বিল ও জলাশয়ে পুঁটি, খলসে ও দারকে মাছের দেখা মিলছে। এসব মাছের আকর্ষণে সাদা বক, বালিহাঁস, মাছরাঙা, সারস ও পানকৌড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিলাঞ্চলে আশ্রয় নিচ্ছে। খাবারের সন্ধানে পাখিগুলো এক বিল থেকে আরেক বিলে উড়ে বেড়ায়। বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও ফসলের মাঠে তাদের অবাধ বিচরণে প্রাণ ফিরে পায় প্রকৃতি। কিন্তু পাখির এই আগমনকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন শিকারিরা। বিভিন্ন কৌশলে ফাঁদ পেতে পাখি ধরে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

কলাপাতা ও খেজুরের ডালে তৈরি বিশেষ ফাঁদ

চলনবিল অঞ্চলে পাখি শিকারের অন্যতম প্রচলিত কৌশল হলো বাঁশের খুঁটি, কলাপাতা, খেজুরের ডাল ও বেতের পাতা দিয়ে তৈরি বিশেষ ঘর বা ফাঁদ। প্রায় ৬ থেকে ৭ ফুট উঁচু এই ফাঁদ এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে আকাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া পাখির ঝাঁক সহজেই সেখানে বসে পড়ে। ফাঁদের সামনে বাঁশের মগডালে রাখা হয় একটি পোষা বক। আকাশে বকের ঝাঁক দেখা গেলে শিকারি পোষা বকটিকে নাচাতে থাকেন। একপর্যায়ে বকটি ডাকাডাকি শুরু করলে আশপাশের বকেরা ফাঁদের ওপর বসে। তখন ফাঁদের ভেতরে থাকা শিকারিরা একে একে পাখিগুলো ধরে খাঁচায় ভরেন। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের ফাঁদকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। চলনবিলাঞ্চলে এই কৌশলের প্রচলন বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বড়শি, বিষটোপ ও জালেও আটকা পড়ছে পাখি

শুধু বিশেষ ঘর তৈরি করেই নয়, আরও নানা উপায়ে পাখি শিকার করা হচ্ছে। বড়শির মুখে মাছ গেঁথে পাখিকে আকৃষ্ট করা হয়। কোথাও খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে বিষটোপ দেওয়া হচ্ছে। আবার বিলের ভেতরে ধানখেতে আড়াআড়িভাবে জাল পেতে রাখা হয়, যেখানে খাবারের সন্ধানে আসা পাখি আটকা পড়ে। এসব ফাঁদের কারণে পাখি আহত বা মারা যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বিষটোপের ব্যবহার শুধু লক্ষ্য করা পাখির জন্যই নয়, অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে। ফলে পাখি শিকার বন্ধের পাশাপাশি বিষটোপ ও অবৈধ ফাঁদ অপসারণের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা।

রাতের অন্ধকারেও চলে শিকার, হাটে বিক্রি

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে বন্দুক ব্যবহার করেও পাখি শিকার করেন। শিকার করা পাখি নিজেদের খাওয়ার পাশাপাশি বস্তায় ভরে বিক্রি করা হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়িতে খাবারের জন্য পাখি পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা। অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিকারি জানান, তাঁরা বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে খুঁটি পুঁতে কলাপাতা ও খেজুরের ডাল দিয়ে ফাঁদ তৈরি করেন। পাশাপাশি বিষটোপ ব্যবহার করেও পাখি শিকার করেন। ভোরে দল বেঁধে বিলে গিয়ে শিকার করা হয়। একেকজন শিকারি ১০টি থেকে শুরু করে শতাধিক পাখিও ধরেন বলে তাঁদের ভাষ্য। শিকারিদের কেউ কেউ জানান, এসব পাখির ক্রেতা রয়েছে এবং বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাঁদের অনেকেই পাখি শিকার যে অপরাধ, সে বিষয়ে সচেতন নন বলেও দাবি করেছেন।

দুই শতাধিক কোয়েল পাখি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল হাটে

সরেজমিনে গিয়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে শিকারিদের জালে বন্দি প্রায় দুই শতাধিক কোয়েল পাখি দেখা যায়। রাতের শেষ প্রহর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব পাখি শিকার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে সেগুলো বিক্রির জন্য হাটে নেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় বাজারে শিকার করা পাখির দামও প্রজাতিভেদে আলাদা। বক বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। বালিহাঁসের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর চাকলা পাখি বিক্রি হচ্ছে জোড়া ১৯০ টাকায়। এ ছাড়া কেউ কেউ হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরেও পাখি বিক্রি করেন। প্রকাশ্যে এভাবে পাখি বিক্রির ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও শিকার নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পরিবেশবাদীদের মতে, শিকারিদের পাশাপাশি পাখি কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ,পাখি শিকার বন্ধে চলনবিলের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়মিত কাজ করছে। তারা শিকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ফাঁদ থেকে পাখি উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটি।

সংগঠনটির সদস্যদের সহায়তায় শনিবার ভোরে নাটোরের সিংড়ায় পোষা বক ব্যবহার করে বক শিকারের অভিযোগে তিন শিকারির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন। অভিযান চলাকালে চলনবিলের আগমুরশন, বামিহাল, কাকিয়ান ও পূর্বভেংড়ী বিল এলাকা থেকে বক শিকারের কাজে ব্যবহৃত অর্ধশত পোষা ও শিকার করা বক উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ধানখেতে তৈরি ১০টি ‘কিল্লা ঘর’ নামের ফাঁদ ধ্বংস করা হয়। পরে সিংড়ার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) উপস্থিতিতে উদ্ধার করা পাখিগুলো মুক্ত আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, চলনবিলের ধানখেতে ফাঁদ পেতে নিয়মিত পাখি শিকার করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় পাখি উদ্ধার করে অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হয়। পরিবেশকর্মীদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে পাখি শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। শিকারিদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ ফাঁদ অপসারণ এবং শিকার করা পাখির বেচাকেনা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শীতের মৌসুমে চলনবিল পরিযায়ী পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। এসব পাখি জলাভূমির খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই নির্বিচারে পাখি শিকার অব্যাহত থাকলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

পুরানা পল্টনে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
পুরানা পল্টনে নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ উদ্বোধন

নাগরিকদের জন্য ভূমিসেবা আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুরানা পল্টনের ৭১ নম্বরে অবস্থিত কেন্দ্রটির উদ্বোধন করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এ কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। নামজারি আবেদন, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির আবেদন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ বিভিন্ন কাজের প্রক্রিয়া সহজ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

নতুন এ সেবা কেন্দ্র থেকে নাগরিকেরা নামজারি আবেদন দাখিল, কোর্ট ফি ও ডিসিআর ফি প্রদান এবং অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ও মৌজা ম্যাপের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়াতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন ও ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অনেক নাগরিকের স্পষ্ট ধারণা না থাকায় সেবা গ্রহণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। নতুন কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব কাজ সম্পন্ন করার পদ্ধতি সম্পর্কে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য, নাগরিকেরা যেন ভূমি অফিসকেন্দ্রিক বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা সহজে পান এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে অযথা ভোগান্তিতে না পড়েন।

নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২ থেকে ‘ভূমি’ মোবাইল অ্যাপসহ অনুমোদিত অন্যান্য অনলাইন ও স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা গ্রহণেও সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে ডিজিটাল মাধ্যমে ভূমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আগ্রহী নাগরিকেরা আবেদন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাবেন। এ ছাড়া ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে কেন্দ্রটিতে। ভূমিসেবা গ্রহণের সময় নাগরিকেরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো চিহ্নিত করা এবং সমাধানের উপায় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়াও এ উদ্যোগের অংশ।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব করা। বিশেষ করে অনলাইন আবেদন, ফি প্রদান ও বিভিন্ন নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে নাগরিকদের কাজ আরও সহজ হতে পারে। কেন্দ্রটি থেকে নির্ধারিত সেবাগুলো গ্রহণে সহায়তা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবার জন্য প্রযোজ্য নির্ধারিত ফি থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করতে হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে জেডআরএফের শ্রদ্ধা নিবেদন

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরস, মনিটর, কো-অর্ডিনেটর, আজীবন সদস্য ও প্রস্তাবিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু জেডআরএফের

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর ছেলে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন বলে সংগঠনটির পরিচিতিমূলক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ফাউন্ডেশনটির অন্যতম লক্ষ্য।

‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’—এই মূলমন্ত্র ও স্লোগান সামনে রেখে কাজ করছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো গরিব ও অসহায় মানুষের কল্যাণে উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির সদস্যরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানান। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনের মানবসেবামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অঙ্গীকার: রিজভী

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) মূল লক্ষ্য মানবকল্যাণ ও মানবসেবা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, করোনা মহামারি, বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটে অসহায়, উপদ্রুত এবং ভুক্তভোগী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করেছে এই ফাউন্ডেশন। ভবিষ্যতেও আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের সেবা এবং দেশের সংকটে পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও গুণীজনদের নিয়ে গঠিত একটি সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য ও অভীষ্ট উদ্দেশ্য হলো মানবকল্যাণ ও মানবসেবা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, আইনজীবীসহ সমাজের অগ্রগণ্য ব্যক্তিরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। বিভিন্ন সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি মানবসেবায় ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জেডআরএফের কার্যক্রম তুলে ধরে রিজভী বলেন, করোনা মহামারি ও বন্যাসহ বিভিন্ন সংকটে ফাউন্ডেশন জোরালোভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে থাকা এবং অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করাও সংগঠনটির কাজের অংশ। তিনি বিশেষভাবে কৃত্রিম পা সংযোজনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে ফাউন্ডেশনটি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং টিকাদান কার্যক্রম ঘিরেও দেশব্যাপী সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক ও অ্যাডমিন ডা. মোর্শেদ হাসানসহ সংগঠনটির অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি