খুঁজুন
                               
, ,
           

পাট খাতে প্রযুক্তি ও গবেষণায় বাংলাদেশের পাশে চীনের জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
পাট খাতে প্রযুক্তি ও গবেষণায় বাংলাদেশের পাশে চীনের জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের পাট খাতের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ উৎপাদন, আঁশের ফলন বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের পাটপণ্য উদ্ভাবনে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ ও চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এ লক্ষ্যে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) ও চীনের জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. জাহিদ হোসেন। চীনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির ডিন অধ্যাপক মা পিবো।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের পাট খাতের উন্নয়নে শুধু আর্থিক বিনিয়োগ নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব বিনিয়োগ সক্ষমতা রয়েছে। তবে উন্নত পাটবীজ উৎপাদন, আঁশের ফলন বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য তৈরিতে চীনের আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ শুধু কাঁচা পাট কিংবা পাটের সুতা রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে মূল্য সংযোজনের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি করাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর মতে, পাটের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বীজ উৎপাদন, উন্নতমানের আঁশ, আধুনিক কাপড় এবং বহুমুখী পণ্য উদ্ভাবনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীনের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব কার্যকর হতে পারে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় জেডিপিসি ও জিয়াংনান ইউনিভার্সিটি পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বস্ত্র খাতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে। এ সহযোগিতার মাধ্যমে গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাস্তব উৎপাদনব্যবস্থায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাট থেকে বিকল্প ফাইবার, উন্নতমানের কাপড় এবং নতুন ধরনের টেক্সটাইল পণ্য তৈরিতে গবেষণার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন বাংলাদেশের পাট ও বস্ত্র খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করে মাঠপর্যায়ের চাহিদা এবং শিল্প খাতের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। গবেষণার ফলাফল শিল্প খাতে কার্যকরভাবে প্রয়োগের জন্য তিনি যৌথ গবেষণাগার বা ‘জয়েন্ট ল্যাব’ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা প্রতিনিধিদল। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহ জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে পাট ও তৈরি পোশাক খাতে নতুন ধরনের পণ্য উদ্ভাবন, উৎপাদনপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং গবেষণার ফল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের সহযোগিতা কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং পাটপণ্য উৎপাদনকারীদের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের পরিসরও বাড়বে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) ও জেডিপিসিকে জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি পাটের বীজ, আঁশের মান, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নতুন পণ্য উদ্ভাবনে যৌথ গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, পাটের বহুমুখীকরণে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আধুনিক উৎপাদনপদ্ধতি, পণ্যের নকশা এবং মান নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়বে। প্রতিমন্ত্রীর মতে, জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সহযোগিতা দেশের পাটপণ্য উৎপাদক ও কারিগরদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণা ও প্রযুক্তির সুবিধা উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছানো গেলে নতুন পণ্য তৈরির পাশাপাশি উৎপাদনের মান উন্নয়নেও সহায়তা মিলবে।

বাংলাদেশের পাট খাতের সামনে বড় সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো কাঁচামাল ও সাধারণ পণ্যের পাশাপাশি উন্নতমানের প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করা। এ জন্য উন্নত বীজ, মানসম্মত আঁশ, আধুনিক উৎপাদনপ্রযুক্তি এবং পণ্যের নকশায় উদ্ভাবন প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জেডিপিসি ও জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায় পাটভিত্তিক বিকল্প ফাইবার, উন্নতমানের কাপড় এবং বহুমুখী টেক্সটাইল পণ্য উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে গবেষণা ও প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়লে কাঁচামালনির্ভর রপ্তানি থেকে উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অন্যায়-অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সেগুলোকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা নিয়ে দেশবাসী গর্ব করতে পারে। বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন। এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজা তাঁদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়।তিনি বলেন, বাংলাদেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে এবং এ দেশের মানুষ তাদের পরাজিত করেছে।

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি

রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালে মন্দিরটি ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৩ সালে এটি ধ্বংস করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে এ ঘটনার সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠে আসে।

তিনি আরও বলেন, ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালী মন্দির পুনঃস্থাপন করা হয়। এরপর থেকে মন্দিরটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।

সম্প্রীতি নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্রায়ই অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার করা হয়। এ ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি দুর্গাপূজার সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন গ্রেপ্তার

বিএনপিকর্মী মকবুল হোসেন হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে শুনানির সময় সুলতান মনসুর বলেন, যে সময়ের ঘটনা নিয়ে মামলাটি করা হয়েছে, তখন তিনি গণফোরামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নয়। তিনি কোনো অপরাধ করেননি বলেও দাবি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন এদিন সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে আদালতে হাজির করে ২০২২ সালের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন শুনানিতে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করার অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ কয়েকজন তাঁদের গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।

আদালতের অনুমতি নিয়ে সুলতান মনসুর বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় আমি সপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম। কোনো অপরাধ করলে আমি দেশে ফিরে আসতাম না।”

বিচারকের কাছে আইনগত সহায়তা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “এ মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। আমি তো তখন গণফোরামের সঙ্গে ছিলাম, আওয়ামী লীগের সঙ্গে না।”

শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান জানান।

সুলতান মনসুরের রাজনৈতিক পরিচয়

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ একসময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় আওয়ামী লীগের সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়।

পরে তিনি কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ায় তাঁকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২০২৩ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি।

যে ঘটনায় মকবুল হত্যা মামলা

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমারের নেতৃত্বে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং আশপাশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় মকবুল হোসেন নামে বিএনপির এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির আন্দোলন নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনকে আসামি করা হয়।

আগে থেকেই কারাগারে সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিন

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই তাঁকে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

এ ছাড়া বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা আরেকটি মামলায় গত ১৪ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশান-২ এলাকা থেকে মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনিও কারাগারে রয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গ্রস রিজার্ভ ৩৬.৩৯ বিলিয়ন, বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
গ্রস রিজার্ভ ৩৬.৩৯ বিলিয়ন, বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ৩১.৫৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে এ তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৩৮ কোটি ৬৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

গ্রস ও বিপিএম৬ পদ্ধতির হিসাবের পার্থক্য

গ্রস রিজার্ভের হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত কয়েকটি তহবিলও অন্তর্ভুক্ত থাকে। এসব তহবিলের মধ্যে রয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সুবিধা। এ ছাড়া বিমান কেনার জন্য সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা বৈদেশিক মুদ্রা এবং রপ্তানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটাতে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের দেওয়া অর্থও এ ধরনের হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসব তহবিলের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইচ্ছা করলেই যেকোনো সময় সরাসরি ব্যবহার করতে পারে না।

গ্রস পদ্ধতি মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব রিজার্ভ হিসাব পদ্ধতি। অন্যদিকে, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট তহবিলের অর্থ বাদ দিয়ে রিজার্ভের হিসাব করা হয়। ফলে দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণে পার্থক্য দেখা যায়।

নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ কী

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব গ্রস হিসাব কিংবা আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ—উভয় ক্ষেত্রেই বৈদেশিক মুদ্রার দায় ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এসব দায় বাদ দেওয়ার পর যে প্রকৃত ও তরল বৈদেশিক মুদ্রা অবশিষ্ট থাকে, তাকে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ বা এনআইআর (নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ) বলা হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ কিংবা জরুরি বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবহারযোগ্য অর্থের সক্ষমতা বুঝতে এ সূচক গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি