খুঁজুন
                               
, ,
           

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্ডন্যান্স কোরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার বার্তা সেনাপ্রধানের 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৪, ৯:১১ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অর্ডন্যান্স কোরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার বার্তা সেনাপ্রধানের 

Oplus_131072

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোরের। বিশেষ করে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত কুয়েতের নিরাপত্তায় মাইন, ঝুঁকিপূর্ণ গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক অপসারণে অসামান্য সাহস ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে এই  কোরের সদস্যরা। বিশ্ব পরিমণ্ডলে জানান দেয় নিজেদের সক্ষমতার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আর্মি অর্ডন্যান্স কোর এর ৪৪তম বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনেও কোরটির সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। তিনি অর্জিত গৌরব ও সুনাম সমুন্নত রেখে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তাদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণে।

বৃহস্পতিবার (০৭ নভেম্বর) গাজীপুরস্থ রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসের অর্ডন্যান্স সেন্টার এন্ড স্কুল এর অর্ডন্যান্স হলে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অন্তরমথিত ভালোবাসায় কালের বিবর্তনে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার নিরবচ্ছিন্ন চর্চার আলোকেই সুমিত ভাষায় জ্ঞানোদ্দীপক এমন দিকনির্দেশনাই প্রদান করেন সেনাপ্রধান।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সংগঠিত করে অর্ডন্যান্স কোরের আওতাভুক্ত করা হয়। অসংখ্য মাইন ও নিমজ্জিত জাহাজ অপসারণ করে চট্টগ্রাম বন্দরকে সচল করে আর্মি অর্ডন্যান্স কোরের সদস্যরা। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই কোরের সদস্যদের অবদানও অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পরিপূর্ণরূপে সমরসজ্জিত করার গুরু দায়িত্ব অর্ডন্যান্স কোরের ওপর ন্যস্ত। তাঁরা সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পুলিশ এবং বাংলাদেশ আনসারের বিবিধ প্রয়োজনীয় দ্রব্য, বিশেষ করে গোলাবারুদের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।

এছাড়া অর্ডন্যান্স সেন্টার অ্যান্ড স্কুলকে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রূপ দিতে সেনা সদর গ্রহণ করেছে নানামুখী পদক্ষেপ। ফলশ্রুতিতে দেশ ও বিদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন অসামরিক যুবককে একজন সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের ভূমিকা প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও প্রতিবছর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এবারের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান উপস্থিত অর্ডন্যান্স কোরের অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি এই কোরের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী অর্ডন্যান্স কোরের বীর সেনানীসহ সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। সেনাবাহিনী প্রধান অর্ডন্যান্স কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং দেশমাতৃকার সেবায় এই কোরের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অর্ডন্যান্স কোরের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং কোরের প্রতিটি সদস্যকে অভিনন্দন জানান।

কালের আলো/এমএএএমকে

সন্তান প্রতিপালনে ইসলামের শিক্ষা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
সন্তান প্রতিপালনে ইসলামের শিক্ষা

সন্তান প্রতিপালনে অতিরিক্ত কঠোরতা যেমন ক্ষতিকর, তেমনি অতিরিক্ত প্রশ্রয়ও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা তৈরি করতে পারে। ইসলাম সন্তান লালন-পালনে ভালোবাসা, শাসন, ধৈর্য ও নৈতিক শিক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আপনি আপনার রবের পথে আহ্বান করুন প্রজ্ঞা এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১২৫) পরিবারে সন্তানের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞা ও কোমলতার এই নীতি গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহ আরও বলেন, ‘আল্লাহর দয়াতেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছেন; যদি আপনি রূঢ়ভাষী ও কঠিন মনের হতেন, তবে তারা সবাই আপনার চারপাশ থেকে দূরে সরে যেত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)

তবে সন্তানকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেওয়াও ইসলামের শিক্ষা নয়। কোরআনে পরিবারকে নৈতিকভাবে সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)

নবীজির আচরণে ছিল স্নেহ ও কোমলতা

রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রদর্শন করতেন। তিনি তাঁর দৌহিত্র হাসান (রা.)-কে ভালোবাসতেন এবং তাঁর জন্য দোয়া করতেন। শিশুদের আদর না করা প্রসঙ্গে তিনি দয়া ও মমতার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন।

হাদিসে এসেছে, ‘যেকোনো বিষয়ের সঙ্গে যখন কোমলতা যুক্ত হয়, তখন তা সেই বিষয়কে সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ করে তোলে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯৪)

হজরত আনাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, পরিবার ও শিশুদের প্রতি নবীজি (সা.)-এর মতো অধিক দয়ালু মানুষ তিনি দেখেননি।

বয়স অনুযায়ী শিক্ষা দেওয়ার গুরুত্ব

সন্তানকে কোনো ভালো কাজে অভ্যস্ত করতে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার প্রয়োজন। নামাজের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্তানদের সাত বছর বয়স থেকে নির্দেশ দিতে এবং ধীরে ধীরে অভ্যাস করানোর কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা একদিনে চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে তোলা উচিত।

শারীরিক শাসনে সতর্কতা

সন্তানকে শাসনের ক্ষেত্রে রাগ বা প্রতিশোধের মনোভাব ইসলাম সমর্থন করে না। শাসনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সংশোধন। শিশুর মুখ বা সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত করা এবং এমনভাবে শাসন করা যাতে শরীরে ক্ষত বা দাগ সৃষ্টি হয়—এসব বিষয়ে ইসলামি শিক্ষায় কঠোর সতর্কতা রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজের আচরণও ছিল কোমলতার উদাহরণ। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি (সা.) নিজের হাতে কোনো নারী বা সেবককে আঘাত করেননি।

গালমন্দ ও বদদোয়া নয়

শুধু শারীরিক আঘাত নয়, কটু কথা, অপমান, গালমন্দ কিংবা সন্তানের প্রতি বদদোয়াও শিশুর মনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনকে কটুভাষী, অভিশাপকারী ও অশ্লীলভাষী হতে নিষেধ করেছেন।

সন্তানদের ওপর বদদোয়া করতেও নিষেধ করেছেন তিনি। তাই ভুল করলে অপমান না করে বোঝানো, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং ভালো আচরণের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা দেওয়াই ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সন্তান মা-বাবার জন্য একটি আমানত। তাকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শুধু কঠোর শাসন বা সীমাহীন প্রশ্রয় নয়—ভালোবাসা, ধৈর্য, নৈতিক শিক্ষা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মা-বাবার নিজেদের উত্তম আচরণই গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

নজরুলের মাদারীপুর আগমন: মৎস্যজীবীদের অধিকার থেকে ‘ধীবরদের গান’

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
নজরুলের মাদারীপুর আগমন: মৎস্যজীবীদের অধিকার থেকে ‘ধীবরদের গান’

১৯২৬ সালের মার্চ। মাদারীপুর তখন ব্রিটিশবিরোধী রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সেই সময় নিখিল বঙ্গীয় ও আসাম প্রাদেশিক মৎস্যজীবী সম্মিলনীর তৃতীয় অধিবেশনকে ঘিরে শহরে তৈরি হয়েছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। মৎস্যজীবীদের অধিকার ও স্বার্থ নিয়ে আয়োজিত সেই সম্মেলনে অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। শুধু অতিথি হিসেবেই নয়, তাঁর গান ও উপস্থিতি সম্মেলনের আবহকে দিয়েছিল ভিন্ন মাত্রা।

১৯২৬ সালের ১০ মার্চ সন্ধ্যায় স্টিমারযোগে মাদারীপুরে পৌঁছান নজরুল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সম্মেলনের সভাপতি হেমন্ত কুমার সরকার, বসন্ত কুমার মজুমদার ও হেমপ্রভা মজুমদার। তাঁদের স্বাগত জানাতে মাদারীপুর স্টিমারঘাটে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। স্থানীয় অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি ছিলেন ড. প্রতাপচন্দ্র গুহরায় এবং সম্পাদক কার্তিকচন্দ্র মল্ল বর্মণ।

পরদিন ১১ মার্চ সকালে শুরু হয় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। নজরুল স্বরচিত উদ্দীপনামূলক গান ‘জেলেদের গান’ পরিবেশনের মাধ্যমে অধিবেশনের সূচনা করেন। পরে গানটি তাঁর ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থে ‘ধীবরদের গান’ নামে সংকলিত হয়।

গানটির সূচনাই ছিল জাগরণের আহ্বান—

‘শোন্ রে ও ভাই জেলে,
এবার উঠ্‌ব রে সব ঠেলে।’

মৎস্যজীবীদের জীবনসংগ্রাম, শোষণ ও অধিকারবঞ্চনার বাস্তবতা গানটির মূল বিষয়। মুটে-মজুর, কৃষকসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ যখন নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত হচ্ছে, তখন মৎস্যজীবীরাও কেন পিছিয়ে থাকবে—এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নজরুল তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

‘লাঙল’ পত্রিকার দ্বাদশ সংখ্যায় গানটি প্রকাশিত হওয়ার সময় এর নিচে উল্লেখ করা হয়েছিল যে এটি মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত মৎস্যজীবী সম্মেলনের উদ্বোধনী সংগীত। ফলে গানটির সঙ্গে মাদারীপুরের ঐতিহাসিক সম্পর্কটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

বিপ্লবী মাদারীপুর ও প্রতাপচন্দ্র গুহরায়

নজরুলের মাদারীপুর সফরের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। স্বদেশী আন্দোলনের সময় থেকেই মাদারীপুর বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর সমিতির কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয় বিপ্লবী সংগঠনগুলোও সেখানে সক্রিয় ছিল।

পূর্ণচন্দ্র দাস ১৯২১ সালে গড়ে তোলেন ‘মাদারীপুর শান্তি সেনা সমিতি’। ড. প্রতাপচন্দ্র গুহরায়ও একসময় এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি গান্ধীর জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যুক্ত হন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে স্বরাজ্য দলে যোগ দেন।

১৯২৬ সালের মৎস্যজীবী সম্মেলনের অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি হিসেবে প্রতাপচন্দ্র গুহরায়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি বড় জনসমাবেশে পরিণত হয়েছিল।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নজরুলের গান

সম্মেলনের একটি পর্যায়ে উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের মধ্যে মতপার্থক্য থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় নজরুল হারমোনিয়াম হাতে গান শুরু করেন। তাঁর সংগীত পরিবেশনের ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। পরে শ্রোতাদের অনুরোধে তিনি আরও গান পরিবেশন করেন।

এই ঘটনাটি নজরুলের সংগীতকে কেবল সাংস্কৃতিক বিনোদন হিসেবে নয়, জনসমাবেশে মানুষের আবেগ ও মনোভাবকে প্রভাবিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচনা করা যায়।

মাদারীপুরেই ‘হেমপ্রভা’

সম্মেলন শেষ হওয়ার পরও নজরুল মাদারীপুরে ছিলেন। ২৯ ফাল্গুন ১৩৩২ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ সম্মেলনের পরদিন, তিনি মাদারীপুরে বসেই রচনা করেন ‘হেমপ্রভা’।

গানটির নিচে কবি স্থান ও তারিখ হিসেবে লিখেছিলেন—‘মাদারীপুর, ২৯শে ফাল্গুন, ১৩৩২’। হেমপ্রভা মজুমদারের রাজনৈতিক তেজ, দেশপ্রেম ও ব্যক্তিত্বে অনুপ্রাণিত হয়েই এই গীতিকবিতা রচিত হয়েছিল বলে এর বিষয়বস্তু থেকে বোঝা যায়।

গানের শুরু—

‘এসো বাংলার চাঁদ-সুলতানা
বীর-মাতা বীর-জায়া গো।’

এখানে নজরুল একজন নারী রাজনৈতিক নেত্রীর মধ্যে দেশমাতৃকার মুক্তির আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামী চেতনাকে দেখতে পেয়েছেন। নারীজাগরণ, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা গানটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শতবর্ষে ফিরে দেখা

নজরুলের মাদারীপুর সফরের শতবর্ষ পূর্তি কেবল একটি ঐতিহাসিক তারিখ স্মরণ করার উপলক্ষ নয়; এটি মাদারীপুরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শ্রমজীবী মানুষের ইতিহাসকে নতুন করে সামনে আনার সুযোগ।

এই ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণে কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। ১৯২৬ সালের স্টিমারঘাট বা মৎস্যজীবী সম্মেলনের স্থান শনাক্ত করে সেখানে স্মৃতিফলক স্থাপন করা যেতে পারে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সড়ক, মিলনায়তন বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম নজরুলের নামে রাখা যেতে পারে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি বা পাবলিক লাইব্রেরিতে একটি ‘নজরুল কর্নার’ স্থাপন করে তাঁর বই, পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত লেখা এবং মাদারীপুর সফরসংক্রান্ত ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে ‘ধীবরদের গান’, ‘হেমপ্রভা’সহ মাদারীপুরে নজরুলের অবস্থান ও সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা যেতে পারে। আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্তী কোনো এলাকায় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা তুলে ধরে একটি স্মারক স্থাপনও করা যেতে পারে।

সবশেষে, নজরুলের মাদারীপুর আগমনের শতবর্ষ উপলক্ষে সেমিনার, নজরুলসংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গবেষণাভিত্তিক আলোচনা এবং একটি মানসম্মত স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা যেতে পারে।

১৯২৬ সালে মাদারীপুরে নজরুলের আগমন ছিল একটি নির্দিষ্ট সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া গান ও স্মৃতি সেই ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। মৎস্যজীবীদের অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, সাম্য এবং স্বাধীনতার যে চেতনা তাঁর সৃষ্টিতে প্রতিফলিত হয়েছিল, শত বছর পরও তা মাদারীপুরের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

কালের আলো/এসএ

আশুলিয়ার অগ্নিকাণ্ড: আহতদের পাশে সরকার, হাসপাতালে এলজিআরডিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
আশুলিয়ার অগ্নিকাণ্ড: আহতদের পাশে সরকার, হাসপাতালে এলজিআরডিমন্ত্রী

আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। পাশাপাশি আহতদের পরিবারের সদস্যদেরও খোঁজখবর নেন তিনি।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত নজরুল ইসলামের পরিবারের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে আসা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে আহত ও নিহতদের পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন।

তিনি বলেন, কঠিন এই সময়ে সরকার নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে রয়েছে। আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আশুলিয়ার অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের পাশে সরকার রয়েছে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহত ও আহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল পরিদর্শনকালে শ্রম ও কর্মসংস্থানসচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি