খুঁজুন
                               
, ,
           

বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

মার্চ মাসের জন্য জেট ফুয়েলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার জেট ফুয়েল ১১২ টাকা ৪১ পয়সায় বিক্রি হবে, যা গত মাসের তুলনায় ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বেশি।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ০.৬২৫৭ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ০.৭৩৮৪ ডলার করা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) এক বার্তায় কমিশন এ তথ্য জানায়।

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা করা হয়েছিল। একই সময়ে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর জন্য জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ০.৬২৪৬ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ০.৬২৫৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়।

কালের আলো/এসআই/এএএন

প্রথমবার কন্যাসন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী নাফিজা জাহান

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
প্রথমবার কন্যাসন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী নাফিজা জাহান

একসময় ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন নাফিজা জাহান। অভিনয়জীবনের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তিনি। এবার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হলো এই অভিনেত্রীর। প্রথমবার মা হয়েছেন নাফিজা। তার ঘর আলো করে এসেছে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সুখবর জানান নাফিজা জাহান ও তার স্বামী রাজীব হাসান। তবে কন্যাসন্তানের জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেননি তারা। সুখবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ভক্ত-অনুরাগীরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এই দম্পতিকে।

কন্যাসন্তানের আগমনে আনন্দিত দম্পতি
নাফিজার স্বামী রাজীব হাসান ফেসবুকে হাসপাতালের বিছানায় নবজাতককে নিয়ে শুয়ে থাকা অভিনেত্রীর একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাদের পরিবারে এসেছে কন্যাসন্তান। রাজীব হাসান লেখেন, ‘দীর্ঘ অপেক্ষার পর, আল্লাহ আমাদের ঘরে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান দান করেছেন। এই অমূল্য নিয়ামতের জন্য আমরা মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ একই পোস্টে নবজাতক ও তার মায়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি। আল্লাহ যেন তাদের দুজনকে সুস্বাস্থ্য, সুখ এবং দীর্ঘ ও সুন্দর জীবন দান করেন, সেই প্রার্থনাও করেন রাজীব।

মেয়েকে পরম আশীর্বাদ বললেন নাফিজা
অন্যদিকে, নিজের ফেসবুকেও মাতৃত্বের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন নাফিজা জাহান। সদ্যোজাত মেয়ের হাতের একটি ছবি প্রকাশ করে তাকে নিজের ‘পরম আশীর্বাদ, মধুর অলৌকিক ঘটনা এবং চিরন্তন ভালোবাসা’ বলে উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী। নাফিজার এই পোস্টের পর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছেন ভক্ত-অনুরাগীরা। দীর্ঘদিন অভিনয়ের বাইরে থাকা এই অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবনের সুখবর পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

‘৪২০’ নাটক দিয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন নাফিজা
২০০৬ সালে ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন নাফিজা জাহান। একই বছর সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘হোমিও রোমিও’ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। পরে শুভ্র খানের ‘সাদা রঙের স্বপ্ন’ ধারাবাহিকেও কাজ করেন। এরপর নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘৪২০’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পান নাফিজা। পরবর্তী সময়ে ‘গ্র্যাজুয়েট’, ‘ইডিয়টস’ ও ‘আমাদের গল্প’-এর মতো জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে সংসার, এবার মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়
ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়ে ২০১৩ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান নাফিজা জাহান। ২০১৫ সালে সেখানে এক প্রবাসীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সেই সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরে ২০২১ সালের নভেম্বরে নিউইয়র্কে রাজীব হাসানকে বিয়ে করেন এই অভিনেত্রী। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন তারা। এবার এই দম্পতির সংসারে এসেছে নতুন অতিথি। প্রথমবার মা হওয়ার মধ্য দিয়ে জীবনের নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন নাফিজা। অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের এই আনন্দঘন খবরের কারণে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। নবজাতক কন্যাকে ঘিরে নাফিজা ও রাজীবের নতুন পথচলার জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন ভক্তরা।

কালের আলো/জেএন/এসএ

হারিয়ে যাচ্ছে শহরের কাক, নীরব হচ্ছে চেনা নগরজীবন

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে শহরের কাক, নীরব হচ্ছে চেনা নগরজীবন

একসময় ভোরের ঘুম ভাঙত কাকের ডাকে। ছাদের কার্নিশে, বৈদ্যুতিক তারে, পুরোনো গাছের ডালে কিংবা বাড়ির উঠানে দেখা মিলত কালো পালকের চিরচেনা পাখিটির। দুপুরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ভেসে আসত ‘কা-কা’ শব্দ। কখনো বিরক্তির কারণ, কখনো নিঃসঙ্গ দুপুরের সঙ্গী—কাক ছিল শহুরে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ সেই পরিচিত দৃশ্য ও শব্দ এখন অনেক জায়গাতেই যেন অতীতের স্মৃতি। কংক্রিটের বিস্তারে বদলে যাওয়া শহরে প্রশ্ন উঠছে, কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে কাকেরা?

এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু একটি পাখির অনুপস্থিতি নয়, বরং বদলে যাওয়া নগরজীবন, সংকুচিত সবুজ, আবাসস্থলের সংকট এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির ক্রমশ দূরত্ব তৈরি হওয়ার চিত্র সামনে আসে। যে শহর একসময় কাকের সঙ্গে সহাবস্থানে অভ্যস্ত ছিল, সেই শহরেই এখন পাখিটির অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

কাকের ডাকে জড়িয়ে ছিল শৈশবের শহর
শহরের পুরোনো দিনের স্মৃতিতে কাকের উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি, ছুটির দিনের অলস দুপুর, ছাদের রোদে শুকাতে দেওয়া কাপড় কিংবা বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা খাবার—সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে ছিল কাক।

মা যখন ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন, বাইরে তখন কাকের ডাক শোনা যেত। স্কুল থেকে ফিরে জানালা দিয়ে তাকালে দেখা মিলত ছাদের কার্নিশে বসে থাকা কয়েকটি কাকের। বাড়ির কেউ খাবার ফেললে মুহূর্তেই সেখানে হাজির হতো তারা। কখনো কাপড়ের ওপর বসে বিরক্ত করত, কখনো আবার দল বেঁধে উড়ে যেত এক ছাদ থেকে অন্য ছাদে। এসব দৃশ্যের মধ্যে আলাদা কোনো বিস্ময় ছিল না। কারণ, কাক ছিল শহরের স্বাভাবিক বাসিন্দা। তাদের উপস্থিতি এতটাই পরিচিত ছিল যে অনুপস্থিতি নিয়ে ভাবার প্রয়োজন পড়ত না।

কিন্তু সময় বদলেছে। বদলেছে বাড়িঘর, মানুষের জীবনযাপন ও শহরের শব্দ। সেই পরিবর্তনের ভিড়ে কাকের ডাকও যেন ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যাচ্ছে। কোথাও এখনো তাদের দেখা মেলে, তবে অনেকের স্মৃতিতে থাকা সেই সর্বত্র উপস্থিতির দৃশ্য আর আগের মতো চোখে পড়ে না।

গাছ কমেছে, সংকুচিত হয়েছে পাখির আবাস
শহরে কাকের উপস্থিতি কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আবাসস্থলের পরিবর্তন। একসময় পাড়া-মহল্লায় ছিল বড় বড় গাছ, পুরোনো বাড়ির কার্নিশ, খোলা ছাদ এবং পাখির বাসা তৈরির উপযোগী নানা জায়গা। নগরায়ণের বিস্তারে এসব জায়গার অনেকগুলোই হারিয়ে যাচ্ছে। একতলা কিংবা দোতলা বাড়ির জায়গায় তৈরি হচ্ছে বহুতল ভবন। বাড়ছে সড়ক, পার্কিংয়ের জায়গা ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনে অনেক এলাকায় গাছপালাও কমে যাচ্ছে। ফলে পাখিদের আশ্রয়, বিশ্রাম এবং বাসা তৈরির উপযোগী জায়গা সংকুচিত হচ্ছে।

কাক তুলনামূলকভাবে অভিযোজনক্ষম পাখি। মানুষের বসতির কাছাকাছি থেকেও তারা খাবার সংগ্রহ করতে পারে, গাছ কিংবা ভবনের বিভিন্ন অংশে আশ্রয় নিতে পারে। তবে অভিযোজনক্ষমতা থাকলেই যে সব ধরনের নগর পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব, তা নয়। নিরাপদ বাসা, উপযুক্ত খাদ্য এবং বিশ্রামের জায়গার অভাব তাদের বসতি বদলে দিতে পারে। শহরের গাছ কমে যাওয়ার অর্থ তাই শুধু ছায়া হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় অসংখ্য পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণীর আবাসের সুযোগও।

পরিচ্ছন্ন শহর, কিন্তু খাবার কোথায়?
কাকের জীবনযাপনের সঙ্গে মানুষের ফেলে দেওয়া খাবারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাসাবাড়ি, বাজার, খাবারের দোকান এবং উন্মুক্ত বর্জ্যস্থল থেকে তারা খাবার সংগ্রহ করে। এ কারণে কাককে শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাখি হিসেবেও দেখা হয়।

কিন্তু নগর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এলে তাদের খাদ্য সংগ্রহের সুযোগও বদলে যেতে পারে। আবর্জনা ঢেকে রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য সংরক্ষণ এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ফলে কাকের জন্য সহজলভ্য খাবার কমে যেতে পারে। এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—পরিচ্ছন্নতা অবশ্যই জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয়। শহরকে অপরিচ্ছন্ন রেখে পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করার কোনো যুক্তি নেই। বরং প্রয়োজন এমন নগর ব্যবস্থাপনা, যেখানে বর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হবে, একই সঙ্গে গাছপালা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক আবাসও সংরক্ষিত থাকবে।

খাদ্যের সহজলভ্যতা কমে গেলে কাক অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে কিংবা বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে তাদের আচরণ বদলাতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট শহরে কাক কমে যাওয়ার পেছনে খাদ্যসংকট কতটা দায়ী, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা প্রয়োজন।

শব্দের শহরে হারিয়ে যায় পাখির ডাক
শহরের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো অবিরাম শব্দ। যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজ, জেনারেটর, শিল্পকারখানা ও মানুষের কোলাহল মিলিয়ে নগরজীবনে শব্দের বিরাম খুব কম। পাখিদের যোগাযোগ, সঙ্গী খোঁজা এবং বিপদের সংকেত দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত শব্দ তাদের যোগাযোগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। শব্দদূষণ বিভিন্ন পাখির আচরণ ও আবাস নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

কাকের ক্ষেত্রেও নগরের শব্দের প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু শব্দদূষণের কারণেই শহর থেকে কাক হারিয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। আবাসস্থল, খাদ্যের প্রাপ্যতা, প্রজননের সাফল্য এবং পরিবেশগত অন্যান্য পরিবর্তনের সঙ্গে বিষয়টি মিলিয়ে দেখতে হবে। শহর যত বেশি যান্ত্রিক হয়ে উঠছে, ততই প্রকৃতির স্বাভাবিক শব্দগুলো যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন মানুষের অনুভূতিতেও প্রভাব ফেলে। একসময় যে শব্দকে বিরক্তিকর মনে হতো, তার অনুপস্থিতিই এখন কারও কারও মনে শূন্যতা তৈরি করছে।

কাক কমে যাওয়া কি পরিবেশের সতর্কবার্তা?
কাক কেবল পরিচিত একটি পাখি নয়; নগর বাস্তুতন্ত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। তারা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে এবং মৃত প্রাণী ও জৈব বর্জ্য খেয়ে পরিবেশে পচনশীল উপাদান অপসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তারা খাদ্যজালেরও অংশ। তবে কাকের সংখ্যা কমে গেলে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে—এমন দাবি করার আগে প্রমাণ প্রয়োজন। কোনো এলাকায় কাকের প্রকৃত সংখ্যা কমেছে কি না, নাকি তাদের চলাচলের স্থান পরিবর্তিত হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পাখি গণনা, বাসা ও প্রজননের তথ্য সংগ্রহ এবং খাদ্য ও আবাসস্থলের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। কাকের উপস্থিতি নিয়ে মানুষের স্মৃতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্মৃতি দিয়ে একা কোনো প্রজাতির সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ, তথ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা।

কাক ফিরিয়ে আনতে শহরকে কি নতুন করে ভাবতে হবে?
নগর উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়া নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শহর গড়ে তোলাই হতে পারে কার্যকর পথ। পুরোনো গাছ সংরক্ষণ, নতুন গাছ লাগানো, ছাদবাগান ও সবুজ জায়গা বাড়ানো এবং পাখির নিরাপদ আবাস বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে হবে, যাতে খাবারের উচ্ছিষ্ট যত্রতত্র পড়ে না থাকে এবং পরিবেশও দূষিত না হয়। কীটনাশক ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমানো এবং পাখিদের প্রজননস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শহরের কোন এলাকায় কাকের উপস্থিতি কমছে, কোথায় তারা এখনো নিয়মিত আসে এবং কী ধরনের পরিবেশে তাদের দেখা বেশি মেলে—এসব তথ্য সংগ্রহ করা গেলে পরিকল্পনা গ্রহণ সহজ হবে। নাগরিকদেরও পাখি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। কাককে ভালোবাসতেই হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানকারী একটি প্রজাতির জন্য শহরে উপযুক্ত পরিবেশ রাখা প্রকৃতি সংরক্ষণেরই অংশ।

কাকের ডাক কি ফিরবে শহরে?
শহর বদলাবে, নতুন ভবন উঠবে, সড়ক বাড়বে, মানুষের জীবনযাপনও পরিবর্তিত হবে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের মধ্যে প্রকৃতির জন্য কতটুকু জায়গা থাকবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কাকের ডাক হয়তো একসময় অনেকের কাছে ছিল বিরক্তির, আবার কারও কাছে ছিল শৈশবের পরিচিত শব্দ। আজ সেই ডাক কম শোনা গেলে স্মৃতির পাশাপাশি সামনে আসে পরিবেশের প্রশ্নও। যে শহর একসময় পাখির সঙ্গে নিজের দৈনন্দিন জীবন ভাগ করে নিত, সেখানে পাখিদের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে কি না, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে।

কাকেরা কি সত্যিই শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে, নাকি শহরের ভেতরেই তাদের পরিচিত আবাস ও খাদ্য সংগ্রহের জায়গা বদলে যাচ্ছে? নিশ্চিত উত্তর পেতে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শহরকে শুধু মানুষের বসবাসের উপযোগী করলেই চলবে না, সেখানে অন্য প্রাণীর অস্তিত্বের সুযোগও রাখতে হবে। হয়তো কোনো এক ভোরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আবার শোনা যাবে সেই পরিচিত ‘কা-কা’ ডাক। তখন সেটি শুধু একটি পাখির শব্দ থাকবে না; মনে করিয়ে দেবে, কংক্রিটের শহরেও প্রকৃতির জন্য জায়গা রাখা সম্ভব।

কারণ, শহর শুধু ভবন, সড়ক আর মানুষের সমষ্টি নয়। শহরের প্রাণ আছে তার গাছপালা, পাখি, আলো-বাতাস এবং মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থানে। কাকের অনুপস্থিতি সেই সহাবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবারই একটি উপলক্ষ।

কালের আলো/জেএন/এসএ

পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
পূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী, নিরাপত্তায় বাড়তি নজরদারি

দুর্গাপূজা ও সরকারি ছুটিতে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একদিকে পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার, অন্যদিকে আবাসিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে চলছে নিয়মিত টহল। চুরি, ডাকাতি ও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার চাপ বেড়েছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে পুলিশ অভ্যস্ত।

তিনি বলেন, রমনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান বলেন, প্রতিটি থানাকে এ সময়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত টহল কার্যক্রমও চলছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি ছুটিতে রাজধানীর অনেক বাসিন্দা গ্রামের বাড়িতে গেছেন। এ সুযোগে বাসাবাড়িতে চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ কাজ করছে।

আবাসিক এলাকায় বিশেষ নজরদারি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূজার ছুটিতে রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মগবাজার, মালিবাগ, মিরপুর, বাড্ডা, উত্তরা ও ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেক বাসিন্দা পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় এসব এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর মেরাদিয়া পূজামণ্ডপে টহলরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, পূজার সময়ে তাদের নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একটি ডিউটি শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবার দায়িত্ব শুরু হচ্ছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করতে তারা অভ্যস্ত।

তিনি জানান, খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে।

পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় টহল

পুলিশের পাশাপাশি এসআরবির পক্ষ থেকেও পূজা ও ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তায় টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এসআরবি-৩-এর মিডিয়া অফিসার মেহেদি ইমরান সিদ্দিকী বলেন, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন ও মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম। এ পরিস্থিতিতে পূজামণ্ডপে নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁকা বাসাবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি